আইসিসির অনুরোধেও বাংলাদেশ খেলতে যাবে না ভারতে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ এএম

আইসিসির অনুরোধ সত্ত্বেও টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে গিয়ে না খেলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আবারও জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড। 


বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে আবার অনুরোধ করা হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে। আজ দুপুরে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় বিসিবির পক্ষে সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নাজমূল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অংশ নেন।


বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে দল না পাঠানোর ব্যাপারে বোর্ড আগের সিদ্ধান্তেই অটল আছে। আইসিসি অবশ্য সভায় বিসিবিকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। 


বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের সূচি এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিসিবি তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনেনি।


বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব আইসিসিকে পুনরায় দিয়েছে বিসিবি। বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও অফিশিয়ালদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।


আইসিসি ও বিসিবি আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খুঁজতে সম্মত হয়েছে। সামনের দিনগুলোয় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




সর্বশেষ সব খবর

জো রুট

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস দিয়ে শুরু সিরিজ। পরের তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ২৪। শেষটা আবার ফিফটি দিয়েই করতে পারলেন জো রুট। তাতে একটি রেকর্ডের তালিকায় তিনি চূড়ায় উঠে গেলেন এককভাবে। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ডে রুট পেছনে ফেলে দিয়েছেন কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারকে।


পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে রান তাড়ায় অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে তার ৬৯তম ফিফটি এটি।


সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির (৫১) রেকর্ডধারী টেন্ডুলকার ২০০ ম্যাচে ৬৮টি ফিফটি নিয়ে শেষ করেন ক্যারিয়ার। তার চেয়ে ৩১ ম্যাচ কম খেলে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন রুট। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ৬৬ রানের ইনিংসে টেন্ডুলকারের পাশে বসেছিলেন তিনি।


এই তালিকায় তাদের পরে আছেন শিবনারাইন চান্দারপল (৬৬), অ্যালান বোর্ডার (৬৩), রাহুল দ্রাবিড় (৬৩) ও রিকি পন্টিং (৬২)।


টেস্টে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসের রেকর্ড এখনও টেন্ডুলকারের, ১১৯টি (৫১টি সেঞ্চুরি ও ৬৮টি ফিফটি)। এখানে দুই নম্বরে আছেন রুট, ১১০টি (৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬৯টি ফিফটি)। জ্যাক ক্যালিস ও পন্টিংয়ের আছে ১০৩টি করে, দ্রাবিড়ের ৯৯টি।


এ দিন প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এজবাস্টনে এক হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন রুট। এই মাঠে ১১ টেস্টে তার রান এখন এক হাজার ১৮। এখানে ১০ টেস্টে ৮৬৯ রান নিয়ে দুইয়ে আছেন অ্যালেস্টার কুক।


ইংল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান রুট এখন দেশের ভিন্ন চারটি ভেন্যুতে টেস্টে অন্তত হাজার রান করলেন। লর্ডসে তার রান দুই হাজার ২০৩, ম্যানচেস্টারে এক হাজার ১২৮, ওভালে এক হাজার ৫০।


ভিন্ন চারটি ভেন্যুতে হাজার রান আছে আর কেবল ক্যালিস ও পন্টিংয়ের।


এই সংস্করণে রুটের মোট রান এখন ১৪ হাজার ২৭৮। টেন্ডুলকারের রেকর্ড ১৫ হাজার ৯২১ রানের পেছনে ছুটছেন ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

সর্বশেষ সব খবর

জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৬ পিএম

উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোড়ো রাজ্যের সিংহাসনে বসার দারুণ সুযোগ এসেছিল জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসির সামনে।  কিন্তু রাজমুকুটের চেয়ে নিজের বর্তমান জীবন এবং ফুটবল মাঠকেই বেছে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের নবম স্তরের ফুটবল ক্লাব এসই ডনসের ৩৬ বছর বয়সী এই গোলকিপার ও অধিনায়ক।


রয়টার্স ও উগান্ডার সংবাদমাধ্যম পালস উগান্ডা জানিয়েছে, তোড়ো রাজ্যের পরবর্তী রাজা হওয়ার জন্য রয়্যাল সাকসেশন কমিটির প্রথম পছন্দ ছিলেন জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। রয়্যাল সাকসেশন কমিটির সদস্য ফাদার ড. চার্লস ওয়ো জানিয়েছেন, কামুরাসি বলেছেন, তার অন্য দায়িত্ব রয়েছে এবং তিনি রাজা হওয়ার দায়িত্ব নিতে পারবেন না। 


কামুরাসি ছিলেন প্রয়াত রাজা ওয়ো নাইমবা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থের চাচাতো ভাই। গত ২৭ আগস্ট ৩৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মারা যান ওয়ো। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পরই নতুন রাজা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।


প্রথমে কামুরাসিকেই বেছে নিয়েছিল উত্তরাধিকার কমিটি। তবে তিনি সরে দাঁড়ানোর পর নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সাবেক টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক প্রিন্স এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানাঙ্গোমাকে তোড়োর নতুন রাজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।


৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার কামুরাসি ইংল্যান্ডের নন-লিগ ফুটবলে ‘বিগ জি’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয় ক্লাব এসই ডনসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। রাজকীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি ক্লাবের হয়েই মাঠে মনোযোগ দিচ্ছেন।


এসই ডনস এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এফএ কাপে অংশ নিচ্ছে। গত শনিবার এরিথ টাউনকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা দ্বিতীয় বাছাইপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চিচেস্টার সিটির বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ। সিংহাসন প্রত্যাখ্যান করে কামুরাসির সমস্ত লক্ষ্য এখন এই ম্যাচসহ ইংল্যান্ডের ফুটবলের দিকেই। 

সর্বশেষ সব খবর

এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

একবার, দুবার নয়, চার চারবার জীবন পেলেন শেফালি ভার্মা। এরপর যা হওয়ার, হলো তা-ই। ভারতের ওপেনার খেললেন ঝড়ো ইনিংস। দল পৌঁছে গেল দেড়শর কাছে। সেই স্কোর তাড়া করার শক্তি তো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নেই। অভাবনীয় কিছু তারা করতেও পারেনি। 


অনুমিতভাবেই ভারতের কাছে পাত্তা না পেয়ে আবারও সেমি-ফাইনালেও শেষ নিগার সুলতানার দলের পথচলা।


দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছিলেন, সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়াতে চান তারা। গ্রুপে রানার্স হওয়ায় সেই এড়ানো হয়ে ওঠেনি। নিগারের দল পারেনি চমকপ্রদ কোনো গল্প লিখতে। ৪০ রানের জয়ের উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।


দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের ১৪৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ আটকে যায় ১০৯ রানে। গত এশিয়া কাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।


৬ ও ১১ রানে জীবন পেয়ে শেফালি ফিফটি করেন ৩৫ বলে। এরপর রান আউটের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি, ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান আবার। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৪০ বলে ৬৪ রান করে। ২২ বছর বয়সেই তার টি-টোয়েন্টি ফিফটি হয়ে গেল ২০টি! ৭ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসের পর চার ওভার আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।


টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারেই শুরু করে ক্যাচ ছাড়ার পালা। সুলতানা খাতুনের বলে শেফালির ক্যাচ ফেলে দেন ফাহিমা খাতুন।


ওই ওভারেই অবশ্য ধরা দেয় প্রথম উইকেট। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় স্বর্ণা আক্তারের হাতে ধরা পড়েন ভারতের সেরা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা।


ভারতকে আরও চাপে ফেলা যেত পরের ওভারেই। কিন্তু মারুফা আক্তারের বলে এবার শেফালির ক্যাচ ছাড়েন নাহিদা আক্তার। আগ্রাসী ব্যাটার এর খেসারত বুঝিয়ে দেন পুরোপুরি। পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি সুলতানাকে। আরেক পাশে প্রাতিকা রাওয়াল একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও খুব গতিময় হতে পারেননি। 


পাওয়ার প্লে শেষে নাহিদা, ফাহিমা, রাবেয়াদের স্পিনে ভারতের রানের গতি যায় কমে। টানা চার ওভারে আসেনি বাউন্ডারি। এর মধ্যেই প্রাতিকা (৪ বলে ২০) ফেরেন রাবেয়ার বলে।


১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৫৯। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মারুফার বলে টানা দুটি বাউন্ডারিতে রানের গতিতে আবার দম দেন শেফালি। অধিনায় হারমানপ্রিত নেমেও ভুগছিলেন রান করতে। 


তবে শেফালির ব্যাটে ছুটতে থাকে ভারত। সুলতানাকে টানা তিন বলে এক ছক্কা দুই চার মেরে পরের বলে আবার বড় শটের চেষ্টায় শেষ হয় তার ইনিংস।


এরপরও ভারতকে আবার চেপে ধরতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ নিতে পারলে তো! রিচা ঘোষের ক্যাচ নিতে না পেরে ছক্কা বানিয়ে দেন ফাহিমা। এই কিপার-ব্যাটার পরে ছক্কা মারেন আরেকটি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান।


হারমানপ্রিতের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৮ বলে ৬। পরে দুটি ছক্কা মেরে অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ করে। শেষ দিকে দীপ্তি শার্মার ব্যাট থেকেও আসে ছক্কা ও চার। শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে ৯০ রান।


দেড়শ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। ম্যাচ জমিয়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ছিল শুরুতে দ্রুত রান। কিন্তু হয় উল্টো। পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মোটে ২৬।


পাওয়ার প্লের শেষ ওভারটি উইকেট মেডেন নেন ভারতের এই সময়ের সবচেয়ে ধারাাহিক বোলার শ্রী চারনি। টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসকে আউট করে। ১৮ বল খেলে বাংলাদেশের ওপেনার করতে পারেন কেবল ১৪ রান।


আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার ২৬ বলে করেন মোটে ২১ রান।


ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াইয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় সেখানেই। পরের ব্যাটাররাও পারেননি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে। তিনে নেমে সোবহানা মোস্তারি ১৮ রান করতে বল খেলেন ২৪টি। একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও অধিনায়ক নিগার ১৭ বলে করেন ১৯।


স্বর্ণার ১৮ বলে অপরাজিত ২২ রান দলকে কোনোরকমে একশ পার করায়। কিন্তু রান তাড়ায় একবারও মনে হয়নি, জয়ের ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে শুক্রবার লড়বে পাকিস্তান ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:


ভারত: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (মান্ধানা ২, শেফালি ৬৪, প্রাতিকা ২০, হারমানপ্রিত ২৪*, চিরা ২১, দীপ্তি ১৩, ফুলমালি ০; মারুফা ৪-০-৪০-১, সুলতানা ৩-০-৩০-২, নাহিদা ৪-০-২৫-১, রাবেয়া ৪-০-২২-১, ফাহিমা ৪-০-২১-০, স্বর্ণা ১-০-১০-০)


বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৭ (জুয়ায়রিয়া ১৪, দিলারা ২১, সোবহানা ১৮, নিগার ১৯, স্বর্ণা ২২*, শারমিন ১, ফাহিমা ১৪, রাবেয়া ০; ক্রান্তি ২-০-১৩-০, নান্দিনি ২-০-১০-২, শ্রী চারনি ৪-১-১৪-১, শেফালি ৪-০-২৫-০, প্রেমা ৪-০-২১-১, দীপ্তি ৪-০-২৬-৩ )।


ফল: ভারত ৪০ রানে জয়ী।


প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।

সর্বশেষ সব খবর

বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ এএম

বার্সেলোনায় ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে নতুন ভূমিকায় খেলিয়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন কোচ হানসি ফ্লিক। প্রথাগত সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ঘাটতি পূরণে রাফিনিয়াকে আক্রমণের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন জার্মান এই কোচ। আর তাতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।


লা লিগার প্রথম চার ম্যাচেই ছয় গোল করেছেন রাফিনিয়া। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনোর্ডের বিপক্ষে করেছেন আরও দুই গোল। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে তিনি উঠে এসেছেন লা লিগার গোলদাতাদের শীর্ষে।


রাফিনিয়ার এমন পরিবর্তনে অবাক হননি তার সাবেক কোচ ভিটর কাম্পেলোস। ইউরোপে রাফিনিয়ার প্রথম কোচদের একজন এই পর্তুগিজ কৌশলবিদের অধীনে ভিক্টোরিয়া গিমারেজের রিজার্ভ দলে খেলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।


কাম্পেলোসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ মৌসুমে পোর্তো বি দলের বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে রাফিনিয়াকে প্রথমবারের মতো মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো হয়েছিল। তখনই তাঁর মধ্যে এই পজিশনে খেলার প্রয়োজনীয় গুণাবলি দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।


বিশেষ করে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলে রাফিনিয়ার দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। একের পর এক ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গোল করার ক্ষমতা তখনই নজরে এসেছিল কাম্পেলোসের।


এক দশক পর বার্সেলোনায় রাফিনিয়ার দুর্দান্ত সূচনা দেখে সেই পুরোনো কোচ মনে করছেন, সেন্ট্রাল-ফরোয়ার্ড পজিশনটি স্থায়ীভাবে নিজের করে নেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর।


রাফিনিয়ার এই সম্ভাব্য রূপান্তরকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের সঙ্গে তুলনা করেছেন কাম্পেলোস। রোনালদোও ক্যারিয়ারের শুরুতে মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেললেও পরবর্তীতে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার-ফরোয়ার্ড ও আক্রমণের প্রধান অস্ত্রে পরিণত করেছিলেন।


তাঁর মতে, রাফিনিয়াও একই ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন। উইংয়ে খেললেও কিংবা আক্রমণের কেন্দ্রে থাকলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনার হাই-প্রেসিংয়েও নেতৃত্ব দেন এই ব্রাজিলিয়ান।


ফ্লিকের কৌশলগত সিদ্ধান্তে রাফিনিয়া এখন শুধু একজন উইঙ্গার নন; বরং বার্সেলোনার আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। গোল করার পাশাপাশি তাঁর গতি, পরিশ্রম ও প্রেসিং দক্ষতা দলটির আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।


ফলে সময়ের সঙ্গে রাফিনিয়া যদি স্থায়ীভাবে সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তাহলে বার্সেলোনায় তাঁর ক্যারিয়ারে এটি হতে পারে বড় এক পরিবর্তন যেমনটি একসময় হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ এএম


মেহেদী হাসান মিরাজ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ পিএম

ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএলে) নিজের অভিষেক দারুণভাবে রাঙিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা আমাজন ওয়ারির্সের হয়ে বৃহস্পতিবার বল হাতে মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাটিংয়ে ভালো করতে না পারলেও বোলিং দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। 


এদিকে মিরাজের পাশাপাশি জ্বলে উঠেছেন দলটির অধিনায়ক ইমরান তাহির। ৪৭ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার তুলে নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। এই দুই স্পিনারের বোলিং ঘূর্ণিতে সেন্ট লুসিয়া কিংস ১১৯ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে ব্যাটিংটা ভালো হয়নি গায়ানার। তবুও জয় পেতে সমস্যা হয়নি তাদের। 


কোয়েন্টিন স্যাম্পসনের ১১ বলে ৩৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ৪ উইকেটে ম্যাচ জেতে গায়ানা। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ইমরান তাহির। ৮ ম্যাচে এটি তাদের সপ্তম জয়। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের শীর্ষে।


মিরাজ দ্বিতীয়বার গেছেন সিপিএল খেলতে। এর আগে তাকে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স দলভুক্ত করেছিল। কিন্তু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এবার গায়ানা তাকে মোহাম্মদ নবীর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দলে নেয়। প্রথম সুযোগেই নিজের সামর্থ্যের জানান ভালোমতো দিয়েছেন। 


বল হাতে নিজের প্রথম ওভারে জন ক্যাম্পেবেলের উইকেট নেন মিরাজ। এগিয়ে এসে অফস্পিনারের বল উড়াতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন ক্যাম্পবেল। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে মিরাজ ফেরান কেমল সেভরি ও চারিথ আসালাঙ্কাকে। এরপর আর কোনো উইকেট না পেলেও সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছিলেন মিরাজ। তার ৪ ওভার শেষ হয় ১৩ রান দিয়ে। উইকেট পেয়েছেন ৩টি। যেখানে ১৩ বল ছিল ডট। 


এদিকে ইমরান তাহির ৪৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন। ১৭ রানে ৫ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত আসরে এটি তার ষষ্ঠ ফাইফার। টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ৫ উইকেট বা তার বেশি উইকেট নেয়ার তালিকায় ইমরান আছেন দুই নম্বরে। ৭ বার ৫ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন ডেভিড ভিসে। 


গায়ানার বোলিং যতটা আলো ছড়িয়েছে, ব্যাটিং ততটাই হতাশ করেছে। ওপেনিংয়ে গ্লেন ফিলিপসের ৩৭ ও শেষ দিকে স্যাম্পসনের ১ চার ও ৫ ছক্কায় সাজানো ৩৭ ইনিংসে গানায়া শুরুরু ধাক্কা সামলে অনায়েস জয় তুলে নেয়। মিরাজ পাঁচে নেমে ৪ বলে ১ রান করেন। স্পিনের চেজের বল সুইপ করে স্কয়ার লেগে আসালাঙ্কার হাতে ক্যাচ দেন। 


আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মিরাজদের পরবর্তী ম্যাচ ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে। 

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ এএম


বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা আর রাবেয়া খান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের ওপর ভরসা করেছিল টাইগ্রেসরা। সেই ভরসার প্রতিদান দিলেন দুজনই। একজন দায়িত্ব নিলেন ব্যাটিংয়ে। আরেকজন ছড়ি ঘুরালেন বলহাতে। তাদের দারুণ নেপূণ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।


মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) নারী এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান করেছিল। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে মোটে ৬৯ রান করতে পেরেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। টাইগ্রেসরা জয় পেয়েছে ৩৪ রানের।


‘বি’ গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। আর সমান ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে গেল বাংলাদেশ। যেখানে আগে থেকেই নিগার সুলতানা জ্যোতিদের জন্য অপেক্ষা করছে ভারত।


আগের দুই ম্যাচের মতো আরব আমিরাতের বিপক্ষেও ব্যাটিংটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ব্যর্থ হয়েছেন টপঅর্ডার ব্যাটাররা। এরপর নিজের কাধে দায়িত্ব তুলে নেন চলমান এশিয়া কাপে প্রথমবার একাদশে জায়গা পাওয়া শারমিন আক্তার সুপ্তা। তার ৩১ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।


স্বল্প রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরব আমিরাতের শুরুটা ভালো হয়নি। টাইগ্রেস পেসার মারুফা আক্তারের তোপের মুখে পড়ে স্বাতিকরা। ১৩ রানের মধ্যেই টপঅর্ডারের দুই ব্যাটারকে ফেরত পাঠান তিনি। ওপেনার ঈশা ওজা (৪ বলে ২) আর তিন নম্বরে নামা সামাইরা ধারনিধারকা (১৯ বলে ৮) ফিরে যান মারুফার শিকার হয়ে।


এরপরই নিজের স্পিন ঘূর্ণিতে স্বাগতিক ব্যাটারদের চোখে সরষে ফুল দেখান প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া রাবেয়া খান। এই লেগস্পিনারের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আরব আমিরাতের কোনো ব্যাটার। মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার রিনিথা রাজিথ (১২ বলে ৫) আর হেনা হটচান্দানিকে (১৯ বলে ১৮) ফিরিয়ে কোমড় ভেঙে দেন আরব আমিরাতের ব্যাটিং লাইনের। পরে ধরেন আরও এক শিকার।


আরবে আমিরাতের পুরো ইনিংসে মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পোঁছাতে পেরেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে বাকিরা সবাই ফিরেছেন সিঙ্গেল ডিজিটেই। থেমেছে ৬৯ রানেই।


বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পেয়েছেন রাবেয়া খান। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মারুফা আক্তার আর নাহিদা আক্তার। একটি করে উইকেট গেছে সুলতানা খাতুন আর ফাহিমা খাতুনের ঝুঁলিতে।


এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুরুটা প্রত্যাশা মতো না হলেও শেষদিকে শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে একশ পেরোয় বাংলাদেশ।


বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটিং করেছেন শারমিন আক্তার। ৩১ বলে ৩৮ রান করে দলের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তিনি। শারমিন আক্তার ১৮.৫ ওভারে ৯৭ রানের মাথায় আউট হন। তার বিদায়ের পর শেষ দিকে নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান মিলে ইনিংস শেষ করেন। নাহিদা আক্তার অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ১৬ রান করে। অন্য প্রান্তে রাবেয়া খান ৪ বলে করেন ৩ রান।


শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৩৩ রান, যেখানে হারিয়েছে মাত্র একটি উইকেট। ফলে শেষ দিকে কিছুটা গতি পেয়ে ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৩ রান।


আমিরাতের বোলারদের মধ্যে জানানি থিরুক্কুমারান সবচেয়ে সফল। ১ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট। হিনা হটচান্দানির ৪ ওভারে এসেছে ১৯ রান, তবে কোনো উইকেট পাননি।

সর্বশেষ সব খবর