ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল (পুনর্বিক্রয়) সাইটে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানকার গ্যালারির নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার।
ফিফা তাদের এই রিসেল বা বিনিময় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, অর্থাৎ বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন।
তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে ফিফা।
সে হিসাবে, এ চারটি টিকিট যদি নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়, তবে শুধু কমিশন বাবদই ফিফার পকেটে যাবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকার বেশি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে টিকিটের বাজারে অস্থিরতা গত শুক্রবার সকালেও দেখা গেছে। এদিন গ্যালারির অন্যান্য আসনের টিকিটও বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ পাউন্ডে। এমনকি সবচেয়ে কম দামি টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার ৯২৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ থেকে আসা আয় তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ২১১টি সদস্যদেশের পেছনে ব্যয় করে।
গত বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সরাসরি বিক্রির জন্য নতুন ব্লকের কিছু টিকিট ছেড়েছে ফিফা, যেখানে ফাইনাল ম্যাচে টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা)।
এ ছাড়া আগামী ১৪ জুলাই টেক্সাসের আর্লিংটনে সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলারে এবং ১৫ জুলাই আটলান্টার সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট ৯ হাজার ৬৬০ ও ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে বিক্রি করছে ফিফা।
বিশ্বকাপ দেখার এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে গত শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপ মানেই ছিল ফুটবল নিয়ে এক আনন্দ উৎসব। নিজের দেশকে সমর্থন দিতে সারা বিশ্ব থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে যেত এবং সেটা তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।’
গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু সেখানে (ফিফায়) নেই, তাই সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে আশা করব, তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে। ফুটবল মূলত দর্শকদের জন্যই। অবশ্যই স্পনসর বা অন্যান্য বাণিজ্যিক দিকের কথা ভাবতে হবে, নয়তো এটি টিকিয়ে রাখা যাবে না, সবাই সেটা জানে। কিন্তু এই ব্যবসা সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।’
টেলিগ্রাফের মতে, ফাইনালে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান বিশাল এক ‘লুটতরাজ’-এর খণ্ডচিত্র। ফুটবলপ্রেমীদের পকেট কাটার এ মহোৎসবে আরও কী কী ঘটছে, সেসব নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে নেমেছে ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্টস’।
বড় সংকটে ইনফান্তিনো
ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে সংকট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য। বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৬৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
টিকিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন ফুটবল-সমর্থক গোষ্ঠী। ব্যাপারটা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা।
তারা ঘোষণা করে, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে অতি সীমিতসংখ্যক টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বণ্টন করা হবে, যা কেবল দলগুলোর সবচেয়ে অনুগত বা নিয়মিত সমর্থকেরাই পাবেন।
টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতিকে। মূলত এই পদ্ধতির কারণেই চলতি মাসে ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটগুলোর মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
ফিফার অনুমোদনেই টিকিটের কালোবাজারি
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। মূলত সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের নিজস্ব ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় সাইটে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র চারটি টিকিটের দাম (একেকটি ২৩ লাখ ডলার) এত বেড়েছে।
বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ফিফার কমিশন-বাণিজ্য।
তবে নিজস্ব টিকিটের উচ্চ মূল্য, ডায়নামিক প্রাইসিং এবং এই পুনর্বিক্রয় পদ্ধতি নিয়ে ফিফার আত্মপক্ষ সমর্থনও বেশ জোরালো। তাদের দাবি, এখান থেকে অর্জিত নিট মুনাফা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নেই পুনর্নিয়োগ করা হবে।
হোটেল ভাড়া বেড়েছে চার গুণ
বিশ্বকাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর হোটেলগুলোতে কক্ষভাড়া কয়েক শ ডলার বেড়েছে। দেখা গেছে, আয়োজক ১৬টি শহরে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর দিন আবাসন খরচ গড়ে চার গুণ বেড়েছে। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের সময় একটি হোটেলের কক্ষভাড়া যেখানে গত মে মাসের শেষে ছিল মাত্র ১৫৭ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে (প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা)।
ট্রেনভাড়া ১৩ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০ ডলার
পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম- উড়োজাহাজে নয়, মাত্র ৩০ মিনিটের এই ট্রেনভ্রমণের টিকিটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ ডলারের বেশি। যেখানে যাতায়াতের স্বাভাবিক খরচ ১২ ডলার ৯০ সেন্ট, সেখানে বিশ্বকাপের সময় তা প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় খোদ ফিফাই নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিরুদ্ধে ‘লুটতরাজের’ অভিযোগ তুলেছে। যদিও ফিফার এমন অবস্থানকে ‘স্পর্ধা’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক চুক্তি পেয়েছি, যেখানে ফিফা বিশ্বকাপের পরিবহন খাতে এক পয়সাও দিচ্ছে না। সমর্থকদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য নিউ জার্সি ট্রানজিটকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিশাল বিল মেটাতে হচ্ছে, সেখানে ফিফা আয় করছে ১১০০ কোটি ডলার। আমাদের সাধারণ যাত্রীদের ওপর আমি এই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারি না। ফিফার উচিত যাতায়াত খরচ বহন করা।’
পরিবহন খরচের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে অন্য শহরগুলোতেও। বোস্টনের উপকণ্ঠে জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে ট্রেনের টিকিটের দাম পড়বে ৮০ ডলার এবং কোচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ ডলার।
স্টেডিয়ামে পার্কিং খরচ ২২৫ ডলার
যাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের পকেটও ভালোই কাটা পড়বে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হবে ২২৫ ডলার (প্রায় ২৭ হাজার টাকা)। পিছিয়ে নেই বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামও, সেখানে একটি গাড়ির পার্কিং খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ ডলার।
ফ্যান জোনে ঢুকতেও খরচ করতে হবে
টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ও যাতায়াত খরচের পর যুক্ত হয়েছে ফ্যান জোনে প্রবেশমূল্য। সাধারণত বিশ্বকাপের ফ্যান জোনগুলো উন্মুক্ত থাকলেও এবার নিউ জার্সিতে তা হচ্ছে না। গত ডিসেম্বরেই এ নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
জানা গেছে, সেখানকার ফ্যান জোনে ঢুকতে সাধারণ মানুষকে টিকিট কাটতে হবে। টিকিটমাস্টার ওয়েবসাইটে এ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট।
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির মা ইউলালিয়া মারজেত্তি মারা গেছেন। বুধবার দেশটির পুজাতো শহরে নিজের বাড়িতে ৭৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ইউলালিয়া। আর্জেন্টিনার ক্রীড়ামাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এ খবর জানিয়েছে।
রোজারিওর রেডিও টু জানিয়েছে, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্বামী অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে পুজাতোতেই বসবাস করতেন ইউলালিয়া। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
তিন সন্তানের জননী ইউলালিয়াদ। তার তিন সন্তান লিওনেল, মাউরো ও কোরিনা। তাদের মধ্যে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করান। আর কোরিনা রোজারিওর কাছের ফুনেস এলাকায় ‘স্কালা বেকারি’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন।মায়ের সঙ্গে স্কালোনির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি থেকে সময় পেলেই মাকে দেখতে পুজাতোতে ছুটে যেতেন তিনি। মায়ের অসুস্থতা নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার এই কোচ।
২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন স্কালোনি। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তার সেই বক্তব্যে মায়ের অসুস্থতার বিষয়টিও সামনে এসেছিল।
ব্যক্তিগত কঠিন সময়ের মধ্যেও দায়িত্ব চালিয়ে যান স্কালোনি। পরের বছর তার অধীনেই কাতার বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়ের পরও মাকে স্মরণ করেছিলেন তিনি।সেই সময় আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেছিলেন, কোপা আমেরিকার শিরোপা তিনি মাকে উৎসর্গ করতে চান। কয়েক দিন আগে মায়ের গুরুতর শারীরিক সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তার মা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন স্কালোনি। এবার সেই মাকে হারানোর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও জন্মশহর পুজাতোতে।
নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা
বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের পর এবার নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে সিশেলসকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের প্লেট-পর্বের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
আজারবাইজানের বাকুতে আজ বুধবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে সিশেলসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৪০ মিনিটের খেলায় ২৮তম মিনিটে রাতুলের গোলে এগিয়ে যায় দল।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে সমতায় ফেরে সিশেলস। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের যুবারা।
এই জয়ে প্রতিযোগিতায় ছয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল দলটি। পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। এরপর বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দল।
বাছাইপর্বের সেই জয়ের ধারাবাহিকতা নকআউটেও ধরে রাখল বায়েজিদ-রাতুলরা। সিশেলসকে হারানোর পর এবার শেষ ষোলোতে নতুন প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
লিওনেল মেসি
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় এই আয়োজনে আর্জেন্টাইন মহাতারকার অনুপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও এর পেছনে বড় কোনো বিতর্কের খবর নেই।
বরং সাম্প্রতিক ব্যস্ত সফরসূচি ও বিশ্রামের প্রয়োজনেই লন্ডনের অনুষ্ঠানে যাননি ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।
ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর আয়োজনে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল ব্যালন ডি’অরের এবারের আসর। তবে পুরস্কারটির ৭০তম বার্ষিকীর এই আয়োজনেও দেখা যায়নি মেসিকে।
সম্প্রতি স্পেনে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে যান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-০ গোলের হারেও মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
পরপর ভ্রমণের ধকলের পর আবার ইংল্যান্ডে যাওয়ার বদলে বিশ্রাম ও দলের ব্যস্ত সূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন মেসি। তাই এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল না।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় মেসি। ক্যারিয়ারে ১৭ বার মনোনয়ন পেয়ে আটবার জিতেছেন এই পুরস্কার। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে তার হাতে উঠেছে সোনালি বল। এই পুরস্কার জয়ের সংখ্যায় তার ধারেকাছে নেই আর কেউ।
হ্যারি কেইন
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার।
অন্যদিকে, মেয়েদের বিভাগে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস।
সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে এবার ব্যালন ডি’অর তুলে দেন দুইবারের এই পুরস্কারজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো।
কেইনের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়। এর আগে সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন।
সব মিলিয়ে কেইন হলেন ব্যালন ডি’অরজয়ী পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার। এর আগে ১৯৫৬ সালে পুরস্কারটির প্রথম আসরে বিজয়ী হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। এরপর ১৯৬৬ সালে স্যার ববি চার্লটন এবং ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এই সম্মান অর্জন করেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো হ্যারি কেইনের নাম।
মেয়েদের ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। অনুষ্ঠানে তার নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন। পুতেয়াসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠানস্থল।
বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো পুরস্কারটি জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করলেন তিনি।
এক রাতে ফুটবল তারকাদের মিলনমেলা, আর পুরস্কারের মঞ্চে একের পর এক চমক। পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। নারীদের বিভাগে তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস। তবে মূল পুরস্কারের বাইরেও ছিল একাধিক তারকার সাফল্যের গল্প। কে জিতলেন কোন পুরস্কার, জেনে নেওয়া যাক একনজরে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকারের হাতে উঠেছে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও।
২০২৫-২৬ মৌসুমে গোলের সামনে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতাই কেইনকে এনে দিয়েছে এই স্বীকৃতি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৬১ গোল করেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে তার গোল ১৯টি বেশি। এক মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো খেলোয়াড়ের ৬১ গোলের কীর্তি এর আগে দেখা গিয়েছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকে।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে কেইনের গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তার গোল করার অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও উঠেছে তার হাতে।
পুরস্কার ঘোষণার আগে ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে কেইন, এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে আলাদা নিবন্ধ প্রকাশ করা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আয়োজনে পুরুষদের মূল পুরস্কার জেতেন কেইন।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি, আর পঞ্চম স্থানে ছিলেন লিওনেল মেসি।
মূল পুরস্কার না জিতলেও ইয়ামালের হাতে উঠেছে কোপা ট্রফি। টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেন স্পেনের এই তরুণ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৭টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। বার্সেলোনার লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
পুরস্কার গ্রহণের পর ইয়ামাল সতীর্থ পাউ কুবারসির প্রশংসা করেন। তার মতে, এই পুরস্কারটি কুবারসিরও প্রাপ্য ছিল। বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন স্পেনের এই ডিফেন্ডার।
পুরুষদের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার অধীনেই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। জাতীয় দলের সাফল্যে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগের সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি জিতেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে স্পেনের আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন এই গোলরক্ষক।
নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতলেন স্পেনের এই তারকা। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন তিনি। পরে আইতানা বোনমাতিও তিনবার এই পুরস্কার জেতেন।
বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক পুতেয়াস বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসের হয়ে খেলছেন। দীর্ঘদিনের সাফল্য ও ব্যক্তিগত অর্জনের ধারাবাহিকতায় তৃতীয়বারের মতো নারী ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।
নারীদের বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। তার অধীনে লিগে ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২৯টিতে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। দলটির গোল ব্যবধান ছিল ১২১। নারী গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার কাতা কোল। লিগে ১৭ ম্যাচে মাত্র ছয় গোল হজম করার পাশাপাশি ১১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন তিনি।
নারী বিভাগে বর্ষসেরা ক্লাবের পুরস্কারও জিতেছে বার্সেলোনা। পুরুষ বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের পর ফরাসি ক্লাবটির হাতে উঠেছে পুরস্কারটি।
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি জিতে কেইন নিজের সাফল্যের ঝুলিতে যোগ করেছেন আরও একটি পুরস্কার। নারীদের বিভাগে এই ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকো ও পাচুকার স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জেতা প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড় তিনি।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের তালিকা
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের ব্যালন ডি’অর: আলেক্সিয়া পুতেয়াস (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
নারীদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
পুরুষদের কোপা ট্রফি: লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন)
নারীদের কোপা ট্রফি: ভিকি লোপেজ (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি: উনাই সিমন (অ্যাথলেটিক ক্লাব/স্পেন)
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি: চার্লিন কোরাল (পাচুকা/মেক্সিকো)
ছবি: সংগৃহীত