ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল (পুনর্বিক্রয়) সাইটে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)।


আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানকার গ্যালারির নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার।


ফিফা তাদের এই রিসেল বা বিনিময় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, অর্থাৎ বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন। 


তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে ফিফা। 


সে হিসাবে, এ চারটি টিকিট যদি নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়, তবে শুধু কমিশন বাবদই ফিফার পকেটে যাবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকার বেশি।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে টিকিটের বাজারে অস্থিরতা গত শুক্রবার সকালেও দেখা গেছে। এদিন গ্যালারির অন্যান্য আসনের টিকিটও বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ পাউন্ডে। এমনকি সবচেয়ে কম দামি টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার ৯২৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ লাখ টাকা।


ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ থেকে আসা আয় তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ২১১টি সদস্যদেশের পেছনে ব্যয় করে। 


গত বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সরাসরি বিক্রির জন্য নতুন ব্লকের কিছু টিকিট ছেড়েছে ফিফা, যেখানে ফাইনাল ম্যাচে টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা)।


এ ছাড়া আগামী ১৪ জুলাই টেক্সাসের আর্লিংটনে সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলারে এবং ১৫ জুলাই আটলান্টার সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট ৯ হাজার ৬৬০ ও ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে বিক্রি করছে ফিফা।


বিশ্বকাপ দেখার এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে গত শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপ মানেই ছিল ফুটবল নিয়ে এক আনন্দ উৎসব। নিজের দেশকে সমর্থন দিতে সারা বিশ্ব থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে যেত এবং সেটা তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।’


গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু সেখানে (ফিফায়) নেই, তাই সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে আশা করব, তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে। ফুটবল মূলত দর্শকদের জন্যই। অবশ্যই স্পনসর বা অন্যান্য বাণিজ্যিক দিকের কথা ভাবতে হবে, নয়তো এটি টিকিয়ে রাখা যাবে না, সবাই সেটা জানে। কিন্তু এই ব্যবসা সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।’


টেলিগ্রাফের মতে, ফাইনালে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান বিশাল এক ‘লুটতরাজ’-এর খণ্ডচিত্র। ফুটবলপ্রেমীদের পকেট কাটার এ মহোৎসবে আরও কী কী ঘটছে, সেসব নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে নেমেছে ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্টস’।


বড় সংকটে ইনফান্তিনো


ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে সংকট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য। বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৬৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।


টিকিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন ফুটবল-সমর্থক গোষ্ঠী। ব্যাপারটা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। 


তারা ঘোষণা করে, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে অতি সীমিতসংখ্যক টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বণ্টন করা হবে, যা কেবল দলগুলোর সবচেয়ে অনুগত বা নিয়মিত সমর্থকেরাই পাবেন।


টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতিকে। মূলত এই পদ্ধতির কারণেই চলতি মাসে ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটগুলোর মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।


ফিফার অনুমোদনেই টিকিটের কালোবাজারি


নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। মূলত সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের নিজস্ব ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় সাইটে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র চারটি টিকিটের দাম (একেকটি ২৩ লাখ ডলার) এত বেড়েছে।


বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ফিফার কমিশন-বাণিজ্য। 


তবে নিজস্ব টিকিটের উচ্চ মূল্য, ডায়নামিক প্রাইসিং এবং এই পুনর্বিক্রয় পদ্ধতি নিয়ে ফিফার আত্মপক্ষ সমর্থনও বেশ জোরালো। তাদের দাবি, এখান থেকে অর্জিত নিট মুনাফা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নেই পুনর্নিয়োগ করা হবে।


হোটেল ভাড়া বেড়েছে চার গুণ


বিশ্বকাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর হোটেলগুলোতে কক্ষভাড়া কয়েক শ ডলার বেড়েছে। দেখা গেছে, আয়োজক ১৬টি শহরে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর দিন আবাসন খরচ গড়ে চার গুণ বেড়েছে। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের সময় একটি হোটেলের কক্ষভাড়া যেখানে গত মে মাসের শেষে ছিল মাত্র ১৫৭ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে (প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা)।


ট্রেনভাড়া ১৩ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০ ডলার


পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম- উড়োজাহাজে নয়, মাত্র ৩০ মিনিটের এই ট্রেনভ্রমণের টিকিটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ ডলারের বেশি। যেখানে যাতায়াতের স্বাভাবিক খরচ ১২ ডলার ৯০ সেন্ট, সেখানে বিশ্বকাপের সময় তা প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় খোদ ফিফাই নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিরুদ্ধে ‘লুটতরাজের’ অভিযোগ তুলেছে। যদিও ফিফার এমন অবস্থানকে ‘স্পর্ধা’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।


নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক চুক্তি পেয়েছি, যেখানে ফিফা বিশ্বকাপের পরিবহন খাতে এক পয়সাও দিচ্ছে না। সমর্থকদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য নিউ জার্সি ট্রানজিটকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিশাল বিল মেটাতে হচ্ছে, সেখানে ফিফা আয় করছে ১১০০ কোটি ডলার। আমাদের সাধারণ যাত্রীদের ওপর আমি এই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারি না। ফিফার উচিত যাতায়াত খরচ বহন করা।’


পরিবহন খরচের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে অন্য শহরগুলোতেও। বোস্টনের উপকণ্ঠে জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে ট্রেনের টিকিটের দাম পড়বে ৮০ ডলার এবং কোচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ ডলার।


স্টেডিয়ামে পার্কিং খরচ ২২৫ ডলার


যাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের পকেটও ভালোই কাটা পড়বে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হবে ২২৫ ডলার (প্রায় ২৭ হাজার টাকা)। পিছিয়ে নেই বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামও, সেখানে একটি গাড়ির পার্কিং খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ ডলার।


ফ্যান জোনে ঢুকতেও খরচ করতে হবে


টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ও যাতায়াত খরচের পর যুক্ত হয়েছে ফ্যান জোনে প্রবেশমূল্য। সাধারণত বিশ্বকাপের ফ্যান জোনগুলো উন্মুক্ত থাকলেও এবার নিউ জার্সিতে তা হচ্ছে না। গত ডিসেম্বরেই এ নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। 


জানা গেছে, সেখানকার ফ্যান জোনে ঢুকতে সাধারণ মানুষকে টিকিট কাটতে হবে। টিকিটমাস্টার ওয়েবসাইটে এ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ পিএম

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের দল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মনজ্যোৎ কালরা। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিজের দলের একজন ক্রিকেটারকে টাকা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এই অভিযোগে শ্রীলঙ্কার জেলে বন্দি আছেন তিনি। এবার তার জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। 


কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জামিনের আবেদন করেছিলেন কালরা এবং তার সহকারী যুবরাজ পুষ্প। তাদের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, দুজনেরই শরীর খারাপ। তাই মানবিক কারণে তাদের জামিন দেওয়া উচিত। 


তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবি মেনে নিয়ে দুজনকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট।


কালরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার ভানুকা রাজাপক্ষ, আবিষ্কা ফের্নান্দো এবং দুনিথ ওয়েল্লালাগে। এ ছাড়া আরও দুজন ঘরোয়া ক্রিকেটারও কালরার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।


২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। পৃথ্বী শ'র নেতৃত্বাধীন সেই দলে ওপেনার ছিলেন কালরা। তিনি পৃথ্বীর সঙ্গে ইনিংস শুরু করতেন। তিন নম্বরে ব্যাট করতেন শুভমান গিল। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রান করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন কালরা।


তবে পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি কালরা। ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ গড়তে না পেরে স্পোর্টস কমিউন নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি। এই সংস্থাই ছিল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক। 


তবে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে নাম জড়ানোর পর এই সংস্থার সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। সব মিলিয়ে ক্রমেই বাড়ছে কালরার সমস্যা।



জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের নতুন কোচ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:১৩ পিএম

বিশ্বকাপ শেষে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়া নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা-ই এবার সত্য হলো। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক এই বিশ্বজয়ী তারকাকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ২৫ সেপ্টেম্বর নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে পারে জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়।


ফরাসি ফেডারেশনের সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে সই করেছেন জিদান। সেই অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এমবাপ্পে-গ্রিজম্যানদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন এই কিংবদন্তি। দীর্ঘ দিন ধরে কোনো ক্লাবের কোচিংয়ে ছিলেন না জিদান। 


সবশেষ ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে কাজ করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও ডাগআউটে প্রত্যাবর্তন ঘটল এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের।


দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৪ বছর বয়সী জিদান বলেছেন, ‘আমি অনেকবারই বলেছি, ফ্রান্স জাতীয় দলের চেয়ে বড় আর কিছু নেই। তাই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াটা আনন্দের পাশাপাশি অনেক বড় একটা গর্বের ব্যাপার। একই সঙ্গে এটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট, নির্বাহী কমিটি ও ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতীয় দলের হয়ে আমার অনেক উচ্চাকাঙ্খা আছে।’


খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি কোচিং ক্যারিয়ারেও গড়েছেন ইতিহাস। ২০১৬ থেকে ২০১৮, টানা তিন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন। 


এছাড়া দুই মেয়াদে রিয়ালের হয়ে দুটি করে লা লিগা, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জেতেন তিনি। জিদানের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল দীর্ঘ ১৪ বছরের দিদিয়ের দেশম যুগের। তার হাত ধরেই ২০১৮ বিশ্বকাপ, ইউরো এবং উয়েফা নেশন্স লিগ জেতে ফরাসিরা। 


সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা।


জিদানের সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাস গড়ার অনন্য এক সুযোগ। বিশ্বের চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ, দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়ার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। 


ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এই দুর্লভ কীর্তি গড়েছেন কেবল ব্রাজিলের মারিও জাগালো, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এবং ফ্রান্সেরই বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশম।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা, ভিসা জটিলতা, শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্ত ও টিকিটের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ ছিল নিরাপদ এবং সফল। সমালোচকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, টুর্নামেন্টে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন করে ফিফা। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ইরান দলের ভ্রমণ জটিলতা, সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আর্তানের ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনা হয়।


এসব অভিযোগের জবাবে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ইনফান্তিনো লেখেন, ‘যারা ফুটবলের মাধ্যমে শিশু, বাবা-মা ও দাদা-দাদিদের একসঙ্গে হওয়ার এই সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারেননি, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। সমালোচনা ও ঘৃণায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে এই সৌন্দর্য দেখতে পাননি।’


সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা যখন পর্দার আড়ালে বসে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছিলেন, তখন আমরা মাঠে ছিলাম। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং বিশ্বের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছি।’


ইনফান্তিনোর দাবি, ফিফার কর্মকর্তারা কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ‘আপনারা যেখানে বিভাজনের কথা বলেছেন, আমরা সেখানে মানুষকে এক করেছি। পরিবার, সমর্থক এবং বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করেছে।’


ইরান দলের ভ্রমণ ও ভিসা জটিলতা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ফিফা সভাপতি। তার দাবি, ইরান কোনো ধরনের সংঘাত বা বড় সমস্যা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা না পাওয়ায় ইরানের কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্য বিশ্বকাপে যেতে পারেননি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের কারণে দলটি মেক্সিকোকে অনুশীলন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এবং শুধু ম্যাচের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায়। ইনফান্তিনোর ভাষ্য, কয়েকজনের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনুমোদন পাওয়া লাখো দর্শনার্থীর তুলনায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা।


ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ইনফান্তিনো। তার মতে, বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত বা শৃঙ্খলাবিষয়ক রায় পর্যালোচনা করা বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি লেখেন, ‘বিতর্কিত হলুদ বা লাল কার্ড, কিংবা পরে শাস্তি পুনর্বিবেচনার মতো ঘটনা বিশ্বের অনেক বড় লিগেই নিয়মিত ঘটে। তাই এ বিষয় নিয়ে এত সমালোচনা করা বিস্ময়কর।’


পোস্টের শেষ দিকে ইনফান্তিনো বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে সমালোচকদের প্রতি ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

ফুটবল ক্যারিয়ারে সাফল্যের কমতি নেই। এবার অভিনয় জগতে পা রাখছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে সেখানেও বিষয় ফুটবল। 


এক ফুটবল এজেন্টের জীবন নিয়ে নতুন ওয়েব সিরিজ আসতে চলেছে। তার কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসেবে নাম থাকছে পর্তুগীজ সুপারস্টার রোনালদোর। সেইসঙ্গে বিশেষ অতিথি চরিত্রেও অভিনয় করবেন আল নাসরের এই তারকা ফুটবলার। তার পাশাপাশি এই ওয়েব সিরিজে থাকবেন ফ্রান্সের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার থিয়েরি অঁরিও। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন।


জানা গেছে, ওয়েব সিরিজটির নাম ‘ডে ওয়ানস’। আধুনিক ফুটবল দুনিয়ার আভ্যন্তরীণ কাহিনি তুলে ধরা হবে এখানে। 


একজন ফুটবলার, এজেন্ট, বাজারের চাহিদা ও বিভিন্ন ক্লাবের অন্দরমহলের গল্প দিয়ে সাজানো হবে ওয়েব সিরিজটি। যেখানে এক এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘হোমল্যান্ড’ খ্যাত ডামিয়ান লুইস। ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বার্নেট এফসির স্টেডিয়াম ‘দ্য হাইভ’-এ সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে।


রোনালদো নিজেও এই সিরিজটি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী। আল নাসর তারকা বলছেন, ‘এটা আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায় হতে চলেছে। ফুটবলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি।’


এই সিরিজে রোনালদোর সঙ্গে সহ-প্রযোজক হিসেবে থাকছেন হলিউড পরিচালক ম্যাথু ভনের প্রতিষ্ঠিত ইউআর-মার্ভ স্টুডিওস। যারা ‘কিংসম্যান’-এর মতো সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। এই ওয়েব সিরিজে থাকছেন রোনালদোর একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী থিয়েরি অঁরি। যেহেতু রোনালদো আর অঁরি আছেন, তাই সিরিজটির সম্প্রচারস্বত্ব পেতে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।


এর আগে আলোচনায় উঠে এসেছিল, রোনালেদোকে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজে দেখা যেতে পারে। ভিন ডিজেলের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে যার আলোচনার শুরু। সেটা নিয়ে অবশ্য এখনও কোন সবুজ সংকেত আসেনি। 


তবে এর মধ্যে নতুন অভিযান শুরু করে দিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।


নেইমার

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

বিশ্বকাপে ব্যর্থ অভিযান শেষে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন নেইমার, করেছেন জোড়া গোলও। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকদের তিনি উচ্ছ্বসিত রাখতে পারলেন অল্প কিছুক্ষণই। ড্রেসিংরুমে সতীর্থের সঙ্গে বিতর্কের খবর, অনুশীলন মাঠে গিয়ে কিছু না করেই কাউকে না জানিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা।


শনিবার রাতে শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচের পরদিনই অনুশীলন ছিল সান্তোসের। রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিতও হন নেইমার। ছবি তোলেন, কফি পানও করেন। তবে মূল দলের অনুশীলন শুরুর আগেই বেরিয়ে যান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম বলছে, কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই নেইমার অনুশীলন মাঠ ছেড়েছেন।


অনুশীলন না করার এ ঘটনা ঘটে শাপেকোয়েন্স ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে হওয়া আরেকটি বিতর্কের রেশ কাটার আগেই। ও’গ্লোবোর প্রতিবেদন বলছে, নেইমার সান্তোসের মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে তিরস্কার করতে গিয়ে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।


বন্তেম্পোকে ‘বাজে লোক’ গালি দেওয়ার পাশাপাশি পরের মৌসুমে তাঁকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে আবার খেলতে হবে বলে বিদ্রূপ করেন নেইমার। শাপেকোয়েন্স এখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ২০ দলের মধ্যে সবার শেষে অবস্থান করছে। আগামী মৌসুমে দলটি নিচের লিগে নেমে যাওয়ার পথে। এ ছাড়া ম্যাচের ৬২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করা ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেইমার। এ নিয়ে তর্কাতর্কিও হয় দুজনের মধ্যে।


ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বলছে, ড্রেসিংরুমের ঘটনার পর পুরো পরিস্থিতি বুঝতে ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক রোববার ট্রেনিং সেন্টারে যান। তবে নেইমারই সেখানে অল্প কিছুক্ষণের বেশি ছিলেন না।


অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, এটি আমাদের প্রত্যাশিত দিন ছিল না। তবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি! এমন কিছু খবর দেখছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’


আরেকটি ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘যিনি এসব কথা ছড়িয়েছেন, তাঁকে বলছি, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। চাইলে যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা পুরো দলকে নিয়েই কথা বলেছি। আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাও—আমরা সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি কিছু দাবি করেছি। কারণ, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি, আমরা জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণ খেলোয়াড়দের আলাদা করে ধমক দেওয়া বা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা আমি মেনে নেব না।’


সান্তোসে নেইমারের সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক নিয়ে এটি নতুন কোনো বিতর্ক নয়। ক্লাবের ভেতরের সূত্রগুলোর দাবি, ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি নেইমারের মাঠের কিছু আচরণও তাঁর সতীর্থদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আক্রমণ সফল না হলে বা কোনো খেলায় ভুল হলে নেইমার প্রকাশ্যেই বারবার সতীর্থদের সমালোচনা করেন। এতে দলের কিছু খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল হলে নেইমার সমর্থকদের সামনেই তা তুলে ধরবেন।


তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নেইমারের বিরোধের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে এ বছরের জানুয়ারিতে রবসন জুনিয়রকে ঘিরে। অনুশীলনের সময় রবসন তাঁকে কাটিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে অসম্মানিত মনে করে নেইমার তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রবসন বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ ঘটনার পর নেইমার প্রকাশ্যে সতীর্থের কাছে ক্ষমাও চান।


লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ পিএম

উত্তর আমেরিকার ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ এমএলএস অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আগামী ২৯ জুলাই উত্তর ক্যারোলাইনার শার্লটের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকান লিগ লিগা এমএক্স-এর অল-স্টার দলের মুখোমুখি হবে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার দল। 


তবে এবারের ম্যাচে থাকছেন না ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসি।


বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও ধকলপূর্ণ মৌসুমের পর ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের নীতিমালার আওতায় মেসি ও তার আর্জেন্টাইন সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলকে অল-স্টার ম্যাচের দল থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।


মেসি ও ডি পলের অনুপস্থিতিতে এবং ইনজুরি ও ক্লাব পরিবর্তনের কারণে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের জায়গায় অল-স্টার স্কোয়াডে ৪ জন নতুন ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এমএলএস কর্তৃপক্ষ। দলে নতুন ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে হিউস্টন ডায়নামোর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গুইলহার্মে নিজের অভিষেক মৌসুমে আটটি গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে সবার নজর কেড়েছেন। 


এছাড়া শিকাগো ফায়ারের ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল চলতি মৌসুমে পাঁচটি গোল ও সাতটি অ্যাসিস্ট করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের আন্দ্রেস কুবাসও মাঝমাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে এই অল-স্টার দলে ডাক পেয়েছেন।


মেসি ও ডি পল ছাড়াও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন আরও দুজন ফুটবলার। মেক্সিকান ক্লাব সিএফ মনতেরেতে যোগ দেওয়ায় দলে নেই হুগো কুইপার্স। আর শরীরের নিচের অংশের চোটের কারণে খেলতে পারবেন না তরুণ ডিফেন্ডার এমবেকেজেলি এমবোকাজি।


এমএলএস অল-স্টার ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোয়াড:


গোলরক্ষক: ম্যাক্সিম ক্রাপো, ম্যাট ফ্রিজ, ব্রায়ান শোয়াক


ডিফেন্ডার: ম্যাক্স আরফস্টেন, লুকাস হেরিংটন, রিচি লারিয়া, অ্যান্থনি মারকানিচ, স্টিভেন মোরেইরা, ড্যানিয়েল মুনি, অ্যান্ডি নাজার, জ্যাকসন রেগান, টিম রিম.


মিডফিল্ডার: সেবাস্টিয়ান বারহাল্টার, পেপ বিয়েল, ইয়ানিক ব্রাইট, আন্দ্রেস কুবাস, এভান্দার, কার্লেস গিল, জেভিয়ার গোজো, হানি মুখতার, থমাস মুলার, অ্যাশলে ওয়েস্টউ। 


ফরোওয়ার্ড: অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার, গুইলহার্মে, জুলিয়ান হল, সন হিউং-মিন, পিটার মুসা, স্যাম সুরিডজ, ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল।