প্লাস্টিকের ইলেকট্রিক কেটলি
সকালে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গরম চা বা কফি ছাড়া অনেকেরই দিন শুরু হয় না। তাই দ্রুত পানি গরম করার জন্য প্লাস্টিকের ইলেকট্রিক কেটলি নিয়মিত ব্যবহার করেন অনেকে। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা সকালের এই অভ্যাসের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিকের কেটলিতে পানি ফোটানোর সময় বিপুল পরিমাণে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পানির সঙ্গে মিশে যায়।
গবেষকদের দাবি, একটি সম্পূর্ণ নতুন প্লাস্টিকের কেটলি প্রথমবার ব্যবহার করার সময় প্রতি মিলিলিটার পানিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ন্যানোপ্লাস্টিক কণা নির্গত হয়। সেই হিসাবে, সাধারণ ২৫০ মিলিলিটারের এক কাপ চায়ের পানিতে প্রায় ৩০০ কোটি প্লাস্টিকের কণা মিশে যেতে পারে!
গবেষণার প্রধান লেখক এলভিস ওকোফো বলেন, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের প্রতিদিনের রুটিন হলো প্লাস্টিকের কেটলিতে পানি ফোটানো। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, অত্যন্ত সাধারণ এই অভ্যাসের কারণে প্রতিদিন আমাদের শরীরে ঢুকে যাচ্ছে সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা। এই গবেষণা প্রমাণ করে, ঘরের প্লাস্টিক কেটলিগুলো মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ানোর অন্যতম প্রধান উৎস।
বিভিন্ন গবেষণায় ফুটন্ত পানিতে টি-ব্যাগ ডোবানোর ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও প্লাস্টিকের ইলেকট্রিক কেটলি থেকে ঠিক কী পরিমাণ প্লাস্টিক ছড়ায়, তা এত দিন স্পষ্ট ছিল না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে গবেষকেরা একটি প্লাস্টিকের কেটলিতে টানা ১৫০ বার পানি ফুটিয়ে পরীক্ষা করেন। দেখা গেছে, নতুন অবস্থায় কেটলি থেকে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় প্লাস্টিক কণা নির্গত হয়। তবে কেটলিটি পুরোনো হওয়ার পরও এই ধারা পুরোপুরি বন্ধ হয় না। টানা ১৫০ বার পানি ফোটানোর পরও প্রতি মিলিলিটারে ৮ লাখ ২০ হাজার ন্যানোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। কেটলি পুরোনো হওয়ার পরেও প্রতি কাপ চায়ে প্রায় ২০ কোটি ৫০ লাখ প্লাস্টিক কণা রয়েই যায়। তবে পানিতে খনিজ উপাদান বেশি থাকলে প্লাস্টিক কণা কম ছড়ায়।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, পানিতে থাকা খনিজ উপাদানগুলো কেটলির ভেতরের দেয়ালে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। ফলে পানি ফোটানোর সময় প্লাস্টিক কণা নির্গত হওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিকের এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো মানুষের শরীরে নিয়মিত প্রবেশ করার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই কণাগুলো মানবদেহের কোষের ভেতরে প্রবেশ করে কোষের স্বাভাবিক কার্যকলাপে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী, যা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সের সিনিয়র লেকচারার রাচেল অ্যাডামসের মতে, এই কণাগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বিভ্রান্ত করে টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। তা ছাড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক পানিকে প্রতিহত করে কিন্তু পারদ বা কীটনাশকের মতো অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিককে নিজের গায়ে আটকে ফেলে। ফলে এই প্লাস্টিক কণা যখন শরীরে ঢোকে, তখন তা অন্যান্য মারাত্মক বিষাক্ত উপাদানকে চর্বিযুক্ত টিস্যুতে জমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে গবেষকেরা নতুন কেটলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। বিজ্ঞানী ওকোফো বলেন, ‘সাধারণত নতুন কেটলি কিনে আমরা কেবল পানি দিয়ে একবার ধুয়ে নিই; কিন্তু তাতে প্লাস্টিক কণা দূর হয় না। নতুন কেটলি ব্যবহারের আগে তাই কয়েকবার পানি ফুটিয়ে ফেলে দিতে হবে।’
প্রতীকী ছবি
কদিন থেকে বেশ গরম আবহ চলছে। অনেকে ফোন চার্জ করার সময় নিজের অজান্তে কিছু বিষয়ে বিভ্রান্ত হন। ফলে অতিরিক্ত গরমে পুরোনো ফোনের চার্জার ফুলে যেতে পারে। আর তাতে ভেতরের সার্কিট গলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ঘটতে পারে যে কোনো ধরনের বিপত্তি। স্মার্টফোনের জন্য সব সময় গুণগত মান বা ভালো ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার করতে হবে।
সাশ্রয়ী বা অপরিচিত মানের চার্জারে চার্জ যেমন ধীরে হয়, ঠিক তেমনি বাড়তি গরম হওয়ার শঙ্কা প্রবল। তাই যে ফোনটি ব্যবহার করছেন, চেষ্টা করবেন ওই ব্র্যান্ডের নিজস্ব চার্জার ব্যবহার করতে। এতে ফোনে কোনো রকম বাড়তি উত্তাপ ছড়াবে না। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ফোন শাটডাউন হতে যেতে পারে। ফলে ফোন নিজে থেকেই স্বয়ংক্রিয় রিস্টার্ট হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকবার এমনটি ঘটতে পারে।
চার্জারে যদি কোনো রকম সমস্যা দৃশ্যমান হয়, যেমন– আলগা কানেকশন, প্লাগে ফাটল বা তার ফেটে যাওয়া, তাহলে দ্রুত ও প্রথমে তা ঠিক করতে হবে। শেষমেশ চার্জার অতিরিক্ত গরম হয়ে ডিভাইসের ভেতরের সার্কিট পুড়ে যেতে পারে। এমনটি ঘটছে হরদম। তাপমাত্রা বেশি থাকলে আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বাইরে থাকলে নিশ্চিতভাবে চার্জের সময় হ্যান্ডসেটে বাড়তি গরম অনুভূত হবে। শতভাগ চার্জ হওয়ার আগেই চার্জার থেকে ডিভাইসকে আলাদা করতে হবে।
অনেক সময় ফোন চার্জ হওয়ার পরও বেখেয়ালে চার্জারটি প্লাগ-ইন রয়ে যায়। যদি এমন অভ্যাস থাকে, তবে এখনই নজরদারি বাড়াতে হবে। পুরোনো ফোনে শতভাগ চার্জ হওয়ার আগেই চার্জার আনপ্লাগ করতে হবে। ফলে ফোনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াবে না।
হঠাৎ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম বন্ধ
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অন্যতম। আর এবারে এই দুই সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ হয়ে বেশ বিপাকে পড়েন ব্যবহারকারীরা।
গালফ বিজনেজের প্রতিবেদনে জানা যায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে হঠাৎই যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিভ্রাট দেখা দেয় বিভ্রাট। কয়েক হাজার ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্ম দুটিতে ঢুকতে না পারায় তৈরি হয় ভোগান্তি। পরে অবশ্য ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায় সেবাগুলো।
মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ হলে একপর্যায়ে ফেসবুক নিয়ে ১৭ হাজারের বেশি এবং ইনস্টাগ্রাম নিয়ে ৫ হাজারের বেশি সমস্যার রিপোর্ট জমা পড়ে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোতেও ব্যবহারকারীরা বিভ্রাটের কথা জানান। সিঙ্গাপুরে স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিয়ে অভিযোগের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারেও। হোয়াটসঅ্যাপেও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি সমস্যার রিপোর্ট পাওয়া যায়।
তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন ব্যবহারকারী এই সমস্যায় পড়েছেন, তা নিশ্চিত নয়। কারণ ডাউনডিটেক্টর ব্যবহারকারীদের জমা দেয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে; এটি মোট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীর সংখ্যা নির্দেশ করে না।
এদিকে, কেন এই বিভ্রাট ঘটেছে সে বিষয়ে মেটা এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে জুলাইয়েও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে একই ধরনের বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ফের দুই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমস্যা দেখা দেয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
বর্তমানে মানুষের নিত্যসঙ্গী স্মার্টফোনের মতোই হেডফোন বা ইয়ারফোনগুলোও পরিচিত ডিভাইস। কর্মক্ষেত্রে, বাসে, ঘরে বা শরীরচর্চার সময় সবখানেই এর ব্যবহার দেখা যায়। ‘ওভার-ইয়ার’ বা ‘ইন-ইয়ার’ যে কোনো ধরনেই হোক না কেন হেডফোন এখন কেবল গান শোনার স্পিকারের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠেছে।
‘এয়ারপডস প্রো ৩’-এর মতো আধুনিক ও উন্নত মডেলগুলোতে রয়েছে ‘অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন’ বা এএনসি প্রযুক্তি, যা আশপাশের কোলাহল বা বিরক্তিকর শব্দ ঠেকিয়ে কানে আসা শব্দে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে দারুণ কার্যকর বলে প্রতিবেদনে লিখেছৈ প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই সেরা হেডফোনের ক্ষেত্রে এএনসি এখন জরুরি ফিচার। কফি শপের গুঞ্জন বা বাইরের যন্ত্রপাতির কোলাহল থামিয়ে দেওয়ার সুবিধাটি স্পষ্ট হলেও এএনসির কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যা হয়ত অনেকের অজানা।
নয়েজ ক্যানসেলেশন যেভাবে কাজ করে
এএনসি প্রযুক্তিটিকে জাদুকরী মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ। প্রযুক্তিটি কয়েক দশক ধরে থাকলেও ভোক্তা পর্যায়ের হেডফোন ও ইয়ারবাডে এর জনপ্রিয়তা বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ছে।
ইয়ারফোনে থাকা একাধিক মাইক্রোফোনের সাহায্যে এটা চালিত হয়। এসব মাইক্রোফোন সবসময় আশপাশের পরিবেশের শব্দ, যেমন গাড়ির আওয়াজ, মানুষের কথা বা শিশুর কান্নার শব্দ পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।
বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি শব্দই কম্পনের মাধ্যমে তৈরি তরঙ্গ ও সেই কম্পনের নির্দিষ্ট মান বা ফ্রিকোয়েন্সি রয়েছে। যখন দুটি বিপরীতমুখী তরঙ্গ একে অপরের মুখোমুখি হয় তখন এরা একে অপরকে বাতিল করে, যাকে বলে ‘ডেস্ট্রাকটিভ ইন্টারফিয়ারেন্স’।
এএনসি প্রযুক্তিটি মাইক্রোফোনের মাধ্যমে আশপাশের অডিও ধারণ করে তা বিশ্লেষণ করে ও এরপর বিপরীতমুখী সিগনাল বা তরঙ্গ তৈরি করে। ফলে মূল শব্দ ও বিপরীত তরঙ্গটি মিলে বাইরের বেশিরভাগ শব্দকে আটকে দেয়।
তবে এ পুরো প্রক্রিয়াটি মিলি সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব করার জন্য হেডফোনে শক্তিশালী এক চিপের প্রয়োজন। কারণ সামান্য বিলম্ব বা দেরি পুরো অভিজ্ঞতাই নষ্ট করে দিতে পারে।
এ কারণে এএনসিওয়ালা হেডফোন ও ইয়ারবাডের দাম কিছুটা বেশি এবং ‘প্যাসিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন’ ডিভাইস থেকে এগুলো আলাদা। প্যাসিভ ক্যানসেলেশন কেবল ইয়ারকাপ বা ইয়ারবাডের মাধ্যমে কানের শারীরিক বিচ্ছিন্নতার ওপর নির্ভর করে।
অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশনের সুফল ও কুফল
অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন বা এএনসি প্রযুক্তিওয়ালা হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দৈনন্দিন জীবনে এর যেমন রয়েছে নানাবিধ সুফল তেমনই রয়েছে কিছু কুফলও।
সুফল
● প্লেনের দীর্ঘ যাত্রায় বা আশপাশের বিরক্তিকর কোলাহল দূর করতে এএনসি প্রযুক্তি কার্যকর।
● বাইরের শব্দ ভেদ করে শুনতে হয় না বলে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছাড়াই গানে বা মুভিতে আরও বেশি নিখুঁত সুর ও শব্দ উপভোগ করা যায়।
● বাইরের শোরগোল এড়াতে কানের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে উচ্চ শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
● ফোন কলে অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে স্পষ্ট শোনা যায়। গান না শুনেও কেবল নীরবতা ধরে রেখে পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটা সহায়ক।
● অতিরিক্ত বাহ্যিক উদ্দীপনায় বিরক্ত হন এমন ব্যক্তিদের জন্য এএনসি বেশ উপকারী। অনেকে ঘুমানোর সময়ও এএনসি ইয়ারবাড ব্যবহার করেন।
কুফল
● এএনসি প্রযুক্তি প্লেন বা এয়ারপন্ডিশনারের মতো নিচু ও অবিরাম শব্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে হর্ন বা মানুষের চিৎকারের মতো হঠাৎ জোরালো শব্দের ক্ষেত্রে এটা ততটা কার্যকর নয়।
● নির্দিষ্ট কিছু মডেলের ক্ষেত্রে এএনসি চালুর ফলে অডিও কোয়ালিটি কিছুটা কমে যেতে পারে। আবার অনেক ব্যবহারকারী কান ব্যথার অভিযোগও করেন।
● আশপাশের জগৎ থেকে অতিরিক্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে রাস্তা পার হওয়া বা সাইকেল চালানোর মতো অতিরিক্ত মনোযোগের পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
● এএনসি চালু রেখে আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলা বেশ কঠিন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটা মস্তিষ্কের ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ফিল্টার করার সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যার সমাধানে অনেক হেডফোনে ট্রান্সপারেন্সি মোডের মতো হাইব্রিড মোড রাখা হয়।
● এএনসি ফিচারটি চালু রাখলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। সারাদিন ব্যাকআপ পেতে অনেকে ফিচারটি বন্ধ রাখলেও নীরবতার বিনিময়ে ব্যাটারি খরচ মেনে নেন।
গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জেমিনাই
সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষার সময় গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জেমিনাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষিত ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছে। গুগলের দাবি, তাদের কোনো এআই সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার এটিই প্রথম ঘটনা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই ঘটনাটি প্রকাশ করে।
গুগলের বরাত দিয়ে বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, গত মে মাসে একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইরেগুলারের পরিচালিত পরীক্ষার সময় ঘটনাগুলো ঘটে। জুলাইয়ে বিষয়টি শনাক্ত করে গুগল।
গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিনস জানান, একটি সাধারণ পরীক্ষার অংশ হিসেবে জেমিনাই ইন্টারনেটে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে এবং পরীক্ষার আওতাভুক্ত মনে করা কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য লগইন তথ্য অনুমান করে।
তিনি বলেন, তিনটি ঘটনার প্রতিটিতেই জেমিনাই শেষ পর্যন্ত নিজে থেকেই ওই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় জেমিনাই প্রবেশ করেছিল, তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ অংশীদারের সঙ্গে কাজ করেছে গুগল।
পাসওয়ার্ড অনুমান করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ঘটনার একটিতে জেমিনাই পাসওয়ার্ড অনুমান করতে করতে শেষ পর্যন্ত একটি সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
অন্য দুটি ঘটনায় মডেলটি একটি উন্মুক্ত রিপোজিটরিতে থাকা লগইন তথ্য খুঁজে পায়। পরে ওই তথ্য ব্যবহার করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। তবে গুগল আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেনি।
গুগলের অ্যাডকিনস বলেন, এসব ঘটনা শক্তিশালী এআই মডেলকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।
ইরেগুলারের এক মুখপাত্র জানান, ঘটনাটি এআই খাতের অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা একই ধরনের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাদের পক্ষের জানা সমস্যাগুলো কয়েক সপ্তাহ আগেই সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্য এআই মডেলেও একই ধরনের ঘটনা
জেমিনাইয়ের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের মডেল নিয়েও একই ধরনের সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরেগুলারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই ধরনের ঘটনায় মেটা, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মডেলগুলোর নামও এসেছে।
অ্যানথ্রপিকের ক্লড জুলাইয়ে পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে। একই মাসে ওপেনএআইও জানিয়েছিল, তাদের দুটি মডেল নির্ধারিত বন্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে এবং এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে।
ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো কয়েকটি ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অনলাইন সেবায় সাইবার হামলা চালিয়েছিল বলেও ওই সময় জানানো হয়।
মেটা আগস্টে জানিয়েছিল, তাদের সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্যান্ডবক্স থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা অত্যাধুনিক কোনো সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন উদ্বেগ
এআই মডেলগুলোকে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
জেমিনাইয়ের ক্ষেত্রে মডেলটি শুধু পরীক্ষার নির্দেশনাই অনুসরণ করেনি, বরং ইন্টারনেটে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে লগইন তথ্য অনুমান বা সংগ্রহ করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। যদিও তিনটি ঘটনাতেই মডেলটি নিজে থেকেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ইরেগুলার জানিয়েছে, এ ধরনের সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন কীভাবে নিরাপদভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে তারা সর্বোত্তম পদ্ধতি তৈরিতে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এআই মডেলের সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন, সে প্রশ্নও সামনে এনেছে।
এদিকে এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে জনপরিসরে বিতর্কও বাড়ছে। কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সবাই একই অবস্থানে নেই।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার সিবিএস নিউজকে হুয়াং বলেন, এআই উন্নয়নে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এগিয়ে যাওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অবশ্য এআই ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা, স্বায়ত্তশাসন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
একটি স্মার্টফোনের জন্য এতটা আগ্রহ কেন? প্রশ্নটি নতুন নয়। আইফোনকে ঘিরে একের পর এক ঘটনা সেই প্রশ্নটিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে লাশ হয়ে ফেরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম।
২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের মহারাষ্ট্রে ১৮ বছরের এক তরুণ নতুন আইফোন চাওয়া ও পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যে দ্বন্দ্বের পর পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তাকে থামাতে গিয়ে তার বাবা-মায়েরও মৃত্যু হয়। পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অবশ্য ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে আসে। অর্থাৎ পুরো ঘটনাকে শুধু একটি ফোন কেনার বিরোধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
তবু প্রশ্ন থেকে যায় আইফোন কেন মানুষের কাছে এতটা আকর্ষণীয়? বাজারে তো স্যামসাং, গুগল, শাওমি, ভিভো, অপ্পো-সহ আরও অনেক স্মার্টফোন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর হার্ডওয়্যারও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাহলে আইফোনের বিশেষত্ব কোথায়?
শুধু ফোন নয়, একটা অভিজ্ঞতা
আইফোনের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত শুধু ক্যামেরা, প্রসেসর বা ডিজাইন নয়; বরং পুরো ব্যবহার-অভিজ্ঞতা। অ্যাপল হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার দুটিই নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ফোন, অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ ও বিভিন্ন সেবার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়। একজন ব্যবহারকারী যদি আইফোনের পাশাপাশি ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ বা এয়ারপডস ব্যবহার করেন, তাহলে ডিভাইসগুলোর মধ্যে কাজ ভাগ করে নেওয়া সহজ হয়। গবেষণাতেও অ্যাপলের এই আন্তঃসংযুক্ত বাস্তুতন্ত্র বা পরস্পর-সংযুক্ত পণ্যব্যবস্থাকে ব্যবহারকারীর আনুগত্য তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ব্র্যান্ডের আলাদা একটা পরিচয়
আইফোন শুধু প্রযুক্তিপণ্য নয়, অনেকের কাছে এটি একটি ব্র্যান্ড-পরিচয়ের অংশ। নতুন মডেল বাজারে আসার আগে থেকেই কেন এত আলোচনা শুরু হয়, তার পেছনে এই ব্র্যান্ড-ইমেজের বড় ভূমিকা রয়েছে। ডিজাইন, বিজ্ঞাপন, অ্যাপল স্টোরে অভিজ্ঞতা, পণ্যের উপস্থাপন সব মিলিয়ে অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে আইফোনকে একটি প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে কারও কাছে নতুন আইফোন কেনা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে ওঠে একটি অর্জন বা সামাজিক পরিচয়ের বিষয়।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ফোনের ছবি, আনবক্সিং ভিডিও এবং ক্যামেরা পরীক্ষার মতো কনটেন্ট এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। একটি নতুন আইফোন তাই শুধু একজনের কেনাকাটা থাকে না; সেটি দ্রুত সামাজিক আলোচনার অংশ হয়ে যায়।
দাম বেশি, তাই চাহিদাও আলাদা?
এখানেও মানুষের মনস্তত্ত্ব কাজ করে। কোনো পণ্য যখন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল, তখন সেটি অনেকের কাছে ‘প্রিমিয়াম’ বা বিশেষ পণ্য হিসেবে ধরা পড়ে। ভারতে ২০২৬ সালের নতুন আইফোনগুলোর দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনা হয়েছে। কিছু মডেলে মূল্যবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে দাম বেশি হলেই পণ্যটি ভালো এমন সরল সমীকরণ করা যায় না। একই দামের মধ্যে অন্য ব্র্যান্ডের ফোনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি র্যাম, দ্রুত চার্জিং, বড় ব্যাটারি বা উন্নত জুম ক্যামেরা পাওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ব্যবহার করার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ
আইফোনের প্রতি আনুগত্যের আরেকটি কারণ হলো দীর্ঘদিন একই প্ল্যাটফর্মে থাকার অভ্যাস। ২০২৬ সালের একটি মার্কিন জরিপে ৯৬.৪ শতাংশ আইফোন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, পরবর্তী ফোন কেনার সময়ও তারা আইফোন বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের মধ্যে আইওএস পছন্দ এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগ দুই কারণই উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে এই জরিপটি ৫ হাজার মার্কিন উত্তরদাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই পুরো বিশ্বের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে একই হার ধরে নেওয়া যায় না।
একবার কেউ আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস, আইক্লাউড এবং অন্যান্য অ্যাপল সেবার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়া কিছুটা ঝামেলার মনে হতে পারে। গবেষণাতেও এই প্ল্যাটফর্ম বদলের খরচকে অ্যাপল ইকোসিস্টেমের আনুগত্যের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে।
তাহলে কি আইফোন অন্য ফোনের চেয়ে অনেক বেশি ভালো?
এর উত্তর এক কথায় দেওয়া যায় না। স্মার্টফোন বেছে নেওয়া নির্ভর করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, বাজেট এবং পছন্দের ওপর। কেউ ক্যামেরাকে গুরুত্ব দেন, কেউ গেমিং, কেউ ব্যাটারি, আবার কারো কাছে সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইফোনের আকর্ষণ তাই একটি মাত্র ফিচারে আটকে নেই। এর পেছনে আছে ব্র্যান্ডের দীর্ঘদিনের পরিচিতি, ডিজাইন, সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা, ইকোসিস্টেম, সামাজিক প্রভাব এবং নতুন মডেল ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা।
কিন্তু এই আকর্ষণ যেন অন্ধ আবেগে পরিণত না হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্মার্টফোন প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হতে পারে, কিন্তু সেটি কখনোই মানুষের জীবন, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বা সম্পর্কের চেয়ে বড় নয়। আইফোনের প্রতি মানুষের আগ্রহ হয়তো আরও বাড়বে। নতুন মডেল আসবে, নতুন ফিচার যোগ হবে, আবার নতুন করে শুরু হবে আলোচনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি একটি স্মার্টফোনই মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি একটি যন্ত্র। তার মূল্য যতই হোক, মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি।
মহাকাশ অভিযান
বিশাল মহাকাশের অন্তহীন অন্ধকারে লুকিয়ে আছে নানা ধরনের রহস্য। সেই রহস্য উন্মোচনে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার মহাকাশে আমাদের নিকটবর্তী গ্যালাক্সিগুলো পর্যালোচনা করে ৮৪টি রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের একদল বিজ্ঞানী।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে রহস্যময় বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এত দিন মানুষের চোখের আড়ালে ছিল। নতুন এই আবিষ্কারের বিষয়ে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুস্তফা মুহিবুল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো শনাক্ত করা কঠিন হলেও এগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে।’
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, বস্তুগুলো সূর্য থেকে লাখ লাখ গুণ বেশি শক্তি নির্গমন করতে পারে। কিন্তু এত দিন বস্তুগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়নি। অদ্ভুত বস্তুগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাইপারসফট এক্স-রে সোর্স’। বস্তুগুলো থেকে নির্গত এক্স-রে রশ্মির শক্তির পরিমাণ খুবই কম। এগুলোর বেশির ভাগ বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্তনাক্ষত্রিক গ্যাস এই অতিবেগুনি রশ্মিকে শুষে নেয়। ফলে টেলিস্কোপে কেবল কম শক্তির এক্স-রে রশ্মি পৌঁছাতে পারে।
এ বিষয়ে মুস্তফা মুহিবুল্লাহ জানান, এই হাইপারসফট জনসংখ্যার একটি অংশ যদি গ্যাস সংগ্রহকারী শ্বেত বামন হয়, তবে তা নিখোঁজ পর্যবেক্ষণের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বস্তুগুলোর তাপমাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব হবে। এক্স-রে ও অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে যুগপৎ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এদের আসল রূপ স্পষ্ট হবে। মহাকাশের কোলজুড়ে লুকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত বস্তুগুলো গ্যালাক্সির অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করবে।
অ্যান্ড্রোমিডা ও এম১০১-সহ ছয়টি গ্যালাক্সির প্রতিটিতে ৭ থেকে ২১টি এমন উৎস পাওয়া গেছে। এই ঝাপসা বিন্দুগুলো টেলিস্কোপের কোনো ত্রুটি নয়, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। বারবার একই অবস্থানে এই বস্তুগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেমস ওয়েব কিংবা অন্যান্য টেলিস্কোপেও এদের কিছু সংকেত ধরা পড়েছে। আর তাই বস্তুগুলো আসলে কী, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা কৌতূহল কাজ করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শনাক্ত করা বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ বা শ্বেত বামন থাকতে পারে। আবার কিছু বস্তু হতে পারে নিউট্রন তারা কিংবা ব্ল্যাক হোল। শ্বেত বামন তারা আশপাশের অন্য নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিজের ওজন বাড়াতে থাকে। একসময় বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই নক্ষত্রগুলোর ধ্বংস ঘটেছে। এই মহাজাগতিক বিস্ফোরণগুলোর আগের অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এত দিন অন্ধকারে ছিলেন। হাইপারসফট উৎসগুলোর আবিষ্কার সেই হারানো যোগসূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট