ছবি : সংগৃহীত
মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে এক ধাপ এগিয়ে গেল নাসা। লাল গ্রহটির পুরানো এক বেলেপাথরে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় জটিল জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে মঙ্গলে থাকা নাসার কিউরিওসিটি রোভার।
‘ওয়েট কেমিস্ট্রি’ পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত করা হয়েছে, মঙ্গলের ৩৫০ কোটি বছরের প্রাচীন বেলেপাথরে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে। যার মানে, অতীতে কোনো এক সময় হয়ত গ্রহটি প্রাণের অনুকূলে ছিল।
নাসার কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের বড় আকারের ‘গেল ক্রেটার’ নামের গহ্বরের ‘গ্লেন টরিডন’ অঞ্চল থেকে কাদা মিশ্রিত এসব পাথর সংগ্রহ করেছিল।
রোভারের সঙ্গে থাকা ‘স্যাম্পল অ্যানালাইসিস অ্যাট মার্স’ বা এসএএম নামের ভ্রাম্যমাণ যন্ত্রপাতির সেট এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এ পরীক্ষাটি অনন্য, কারণ পৃথিবীর বাইরে এটিই প্রথম কোনো গবেষণা, যেখানে ‘টেট্রামিথাইল অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড’ বা টিএসএএইচ-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়েছে।
এ বিশেষ রাসায়নিকটি কিউরিওসিটি রোভারকে মঙ্গলের পৃষ্ঠে থাকা বড় বড় বিভিন্ন জৈব অণুকে ভেঙে ছোট করার সুযোগ দিয়েছে, যাতে রোভারের নানা যন্ত্রপাতি সেগুলোকে সহজে শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করতে পারে।
এ পরীক্ষার মাধ্যমে ২০টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন জৈব অণুর খোঁজ মিলেছে। প্রাপ্ত তথ্যে ‘ন্যাপথলিন’ ও ‘বেনজোথিওফিন’ এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা লাল গ্রহটিতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত অন্যতম বড় ও জটিল জৈব যৌগ।
এ ছাড়াও, এ পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো ‘এন-হেটেরোসাইকেল’ এর মতো উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা ডিএনএ ও আরএনএ গঠনের মূল ভিত্তি।
নাসার ঘোষণায় এ গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এমি উইলিয়ামস লিখেছেন, “আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব অণু নাইট্রোজেনওয়ালা জটিল অণুর প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
“এর আগে মঙ্গলের পৃষ্ঠে বা গ্রহটি থেকে আসা উল্কাপিণ্ডেও কখনো ‘নাইট্রোজেন হেটেরোসাইকেল’ এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।”
মঙ্গলে আবিষ্কৃত অন্যান্য জৈব পদার্থের মতো এ গবেষণাটিও এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ নয় যে, গ্রহটিতে প্রাণ ছিলই। তবে মঙ্গলে প্রাণ থাকার জোরালো প্রমাণের তালিকায় এ গবেষণাটি নতুন মাত্রা যোগ করল।
গবেষকরা বলছেন এখন অন্তত বলা যায়, প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদান প্রাচীন মঙ্গলে বিদ্যমান ছিল।
এ গবেষণা আরেকটি বিষয়ও নিশ্চিত করেছে, জৈব পদার্থ মঙ্গলের পরিবেশে কোটি কোটি বছর টিকে থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন পরীক্ষার পথ খুলে দেবে।
গবেষণাপত্রটির লেখকরা বলেছেন, এসব তথ্য নাসাকে কিউরিওসিটি রোভারে তাদের দ্বিতীয় এবং শেষ টিএমএএইচ পরীক্ষাটি আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।
গবেষণাটি ভবিষ্যতে ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ মার্স রোভার ও শনির চাঁদ টাইটানে পাঠানো ‘ড্রাগনফ্লাই’ মিশনেও টিএমএএইচ পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এ দুটি মিশনই ২০২৮ সালের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’ সাময়িকীতে।
ছবি : সংগৃহীত
আইফোন কিনতে গিয়ে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কোন মডেলের ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি বেশি টিকবে কিংবা প্রসেসর কতটা শক্তিশালী। কিন্তু এবার অ্যাপলের নতুন আইফোন ডুও সেই হিসাবটাই বদলে দিয়েছে। কারণ এটি আর সাধারণ স্মার্টফোন নয়। অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, অথচ বন্ধ করলে এটি আবার একটি পকেটসাইজ ফোন।
খুললেই বদলে যাবে ফোনের চেহারা
আইফোন ডুওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর ফোল্ডেবল ডিজাইন। খোলা অবস্থায় রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। অ্যাপল বলছে, এটি এখন পর্যন্ত আইফোনে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। আর ফোনটি ভাঁজ করলে সামনে পাওয়া যাবে ৫.৪ ইঞ্চির কভার স্ক্রিন। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা কাজের সময় বড় স্ক্রিন পাওয়া যাবে।
শুধু বড় স্ক্রিন নয়, কাজেও সুবিধা
ডুওর বড় ডিসপ্লের আসল সুবিধা পাওয়া যাবে মাল্টিটাস্কিংয়ে। একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং কিংবা বড় স্ক্রিনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকটা ছোট ট্যাবলেটের মতো হতে পারে। অ্যাপল পেন্সিলের সমর্থনও রয়েছে, ফলে নোট নেওয়া বা সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও ফোনটি অন্য আইফোনের তুলনায় আলাদা।
ক্যামেরাতেও রয়েছে নতুনত্ব
পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরায় অপটিক্যাল-কোয়ালিটি 2x টেলিফোটো সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা ফ্রেমে থাকা ব্যক্তিদের অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিউ সামঞ্জস্য করতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয়, ডুও-প্রিভিউয়ের মাধ্যমে ফোনের বাইরের ডিসপ্লেতেই ছবির লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। ফলে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার সময়ও ফ্রেম ঠিকভাবে দেখা সম্ভব।
শক্তির দিক থেকেও পিছিয়ে নেই
ফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভারী কাজের সময় পারফরম্যান্স ধরে রাখা যায়। অ্যাপলের দাবি, আইফোন ডুও আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্সে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দিতে পারে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুবিধা। ভেতরে দুই পাশে আলাদা উচ্চ-ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের হিসাবে, ভেতরের বড় স্ক্রিনে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং বাইরের স্ক্রিনে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যেতে পারে। ম্যাগসেফ বা কিউআই২ ওয়্যারলেস চার্জারেও দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে।
তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন?
যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। এর ২টিবি মডেলের দাম প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? সত্যি বলতে, শুধু ফোন করার জন্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য আইফোন ডুও কেনার যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়। একই কাজ অনেক কম দামের আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও করা সম্ভব। কিন্তু যারা ফোল্ডেবল ফোনের নতুন অভিজ্ঞতা, বড় স্ক্রিনে কাজ, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেম সবকিছু একসঙ্গে চান, তাদের কাছে ডুও-র আকর্ষণ আলাদা।
আর সবচেয়ে বড় কারণ? এত দিন অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই দেখা যেত ফোল্ডেবল আইফোন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে অ্যাপল। তাই প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপলের নতুন প্রযুক্তি সবার আগে ব্যবহার করতে চান এমন ক্রেতাদের কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকার এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী বড় আকর্ষণ।
ছবি : সংগৃহীত
‘গুগলে সার্চ করতে, ইউটিউবে ভিডিও দেখতে কিংবা অফিসের জরুরি মেইলটা জিমেইলে পাঠাতে আপনি কত টাকা খরচ করেন? আমি খরচ করি শূন্য টাকা। অর্থাৎ, একটি পয়সাও খরচ না করে আমি-আপনি গুগলের দারুণ সব সেবা ব্যবহার করছি। অথচ গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে! সঠিক অঙ্কটা হলো ৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার। একই বছরে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১৩২.১৭ বিলিয়ন ডলার।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, যে কোম্পানির এত জনপ্রিয় সব সেবার জন্য আমরা কোনো টাকাই দিই না, তাদের রাজকোষে এত এত টাকা ঢোকে কীভাবে?
পণ্য যখন আপনি নিজেই
ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি বহুল আলোচিত কথা আছে—যেখানে আপনি কোনো সেবার জন্য টাকা দিচ্ছেন না, সেখানে অনেক সময় আপনি নিজেই মূল পণ্য! গুগলের ব্যবসার দিকে তাকালে কথাটি বেশ পরিষ্কার হয়ে যায়।
একদিকে দাঁড়িয়ে আছি আমি, আপনি আর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। আমরা বিনা পয়সায় গুগলে সার্চ করছি, গুগল ম্যাপসে রাস্তা খুঁজছি, জিমেইলে মেইল পাঠাচ্ছি কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখছি। অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে লাখ লাখ বিজ্ঞাপনদাতা। তারা তাদের পণ্য বা সেবা এমন মানুষের সামনে হাজির করতে চায়, যাদের কাছে ওই বিজ্ঞাপনের মূল্য আছে। এই দুই পক্ষের ঠিক মাঝখানে গুগল তৈরি করেছে বিশাল এক ডিজিটাল বাজার।
আমরা গুগলের সেবা ব্যবহার করার সময় নিজেদের অজান্তেই গুগলকে নানা তথ্য দিই। আপনি কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোন বিষয়ে আগ্রহী—এসব তথ্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করে গুগল। এরপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। অর্থাৎ, আমাদের কখন কোন জিনিস ভালো লাগবে, সেটা গুগল আগেই অনুমান করতে পারে। বিজ্ঞাপনের বাজারে এই তথ্যের মূল্য অনেক। এতটাই বেশি যে বলা হয় ডিজিটাল এই দুনিয়ায় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের নামই হলো তথ্য।
আপনি যত বেশি সময় ধরে কোনো ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করবেন, তত বেশি তথ্য তৈরি হবে। আর সেই তথ্য থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার আচরণ ও আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাবে। ফলে একই বিজ্ঞাপন সবাইকে না দেখিয়ে, যার আগ্রহ আছে তাকেই শুধু দেখানো যায়। এতে বিজ্ঞাপনদাতার সময় যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি পণ্য বিক্রি বাড়ে বহুগুণ। এ কারণেই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে মানুষ এখন আর খুব একটা ভাবে না। অর্থাৎ, আপনি টাকা না দিলেও গুগলের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা বিনিময়হীন নয়।
সংখ্যায় অ্যালফাবেট
নিচের ছকটা একনজর দেখুন
| আর্থিক বছর | মোট রাজস্ব | নিট মুনাফা | রাজস্ব প্রবৃদ্ধি | মুনাফা প্রবৃদ্ধি |
| ২০২৩ | ৩০৭.৩৯৪ বিলিয়ন ডলার | ৭৩.৭৯৫ বিলিয়ন ডলার | — | — |
| ২০২৪ | ৩৫০.০১৮ বিলিয়ন ডলার | ১০০.১১৮ বিলিয়ন ডলার | ১৩.৯% | ৩৫.৭% |
| ২০২৫ | ৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার | ১৩২.১৭০ বিলিয়ন ডলার | ১৫.১% | ৩২.০% |
কোথা থেকে এল ৪০০ বিলিয়ন
অ্যালফাবেটের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৭৩ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে, যার পরিমাণ ২৯৪.৬৯১ বিলিয়ন ডলার! এর মধ্যে শুধু গুগল সার্চ ও অন্যান্য থেকেই এসেছে ২২৪.৫৩২ বিলিয়ন ডলার।
ধরুন, আপনি গুগলে লিখলেন—‘ঢাকা টু কক্সবাজার বিমান টিকিট’ কিংবা ‘সেরা বাজেট ল্যাপটপ’। খেয়াল করলে দেখবেন, সার্চ ফলাফলের ওপরে 'Sponsored' বা 'Ad' লেখা কয়েকটি লিংক দেখা যায়? এগুলো এমনি এমনি সেখানে আসে না। বিজ্ঞাপনদাতারা নির্দিষ্ট সার্চের সামনে নিজেদের বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অর্থ দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আপনি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে সেই ক্লিকের জন্যও বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে গুগল রাজস্ব পায়। ২০২৫ সালে ‘গুগল সার্চ ও অন্যান্য’ বিভাগের পেইড ক্লিক বেড়েছে ৬ শতাংশ, আর কস্ট-পার-ক্লিক বেড়েছে ৭ শতাংশ।
ইউটিউবও কম যায় না!
ভিডিও শুরু হওয়ার আগে বা মাঝখানে যেসব বিজ্ঞাপন আমাদের বিরক্তির কারণ হয়, সেগুলোই কিন্তু গুগলের বড় আয়ের উৎস! ২০২৫ সালে শুধু ইউটিউব অ্যাডস থেকেই এসেছে ৪০.৩৬৭ বিলিয়ন ডলার। আর গুগল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এসেছে আরও ২৯.৭৯২ বিলিয়ন ডলার।
ফ্রি থেকে পেইড
গুগলের ব্যবসা অবশ্য শুধু বিজ্ঞাপনেই আটকে নেই। ‘সাবস্ক্রিপশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইসেস’ বিভাগ থেকে ২০২৫ সালে গুগলের আয় হয়েছে ৪৮.০৩০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে গুগল ওয়ান, ইউটিউব প্রিমিয়াম, গুগল প্লে ও পিক্সেল স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের আয় রয়েছে।
আপনি হয়তো গুগলের কোনো ফ্রি স্টোরেজ ব্যবহার করছেন। বছরের পর বছর ছবি, ভিডিও আর ফাইল জমতে জমতে একসময় সেই জায়গা ফুরিয়ে যাবে। তখন ঠিকই আপনার সামনে আসবে আরও বেশি স্টোরেজ কেনার পেইড প্ল্যান। অর্থাৎ, ফ্রি সেবা অনেক সময় শেষ গন্তব্য নয়; বরং এটি বড় একটি ব্যবসায়িক ব্যবস্থার প্রবেশদ্বার মাত্র।
আছে গুগল ক্লাউড
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের অনেক সেবা ফ্রি হলেও করপোরেট দুনিয়ায় গল্পটা আলাদা। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান নিজেদের সফটওয়্যার, ডেটাবেস ও এআই অবকাঠামো চালাতে গুগল ক্লাউড ব্যবহার করে। ২০২৫ সালে গুগল ক্লাউডের রাজস্ব বেড়ে হয়েছে ৫৮.৭০৫ বিলিয়ন ডলার, আর অপারেটিং ইনকাম দাঁড়িয়েছে ১৩.৯১০ বিলিয়ন ডলার।
এবার খেলায় এআই
চ্যাটজিপিটি আসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের সাম্রাজ্য হয়তো বিপদে পড়বে। কিন্তু গুগল সহজে মাঠ ছেড়ে দেয়নি। বরং জেমিনির মতো এআই মডেলকে তারা সার্চ, ক্লাউড এবং অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা একই প্ল্যাটফর্মে এআইসহ পুরোনো সেবাগুলো উপভোগ করতে পারছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে জেমিনি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ৭৫০ মিলিয়নেরও বেশি। একই সময়ে অ্যালফাবেট জানায়, তাদের বিভিন্ন ভোক্তা সেবায় মোট পেইড সাবস্ক্রিপশন ৩২৫ মিলিয়নের বেশি।
চমৎকার এই অগ্রযাত্রার জন্য গুগল খরচও করছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২০২৫ সালে অ্যালফাবেটের মূলধনি ব্যয় ছিল প্রায় ৯১.৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জন্য তারা ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনি ব্যয়ের বিশাল এক পরিকল্পনা জানিয়েছে।
আমরা টাকা না দিলেই কোনো কিছুকে ‘ফ্রি’ বলে ধরে নিই। কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ায় বিষয়টা এত সহজ নয়। গুগল আপনাকে সার্চ করতে টাকা নিচ্ছে না, ইউটিউব দেখতে টাকা নিচ্ছে না, জিমেইল ব্যবহার করতেও টাকা নিচ্ছে না। কিন্তু এসব সেবা ব্যবহার করার সময় আপনি আপনার মনোযোগ, সময় এবং তথ্য দিয়ে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করছেন, যেখান থেকে বিজ্ঞাপনদাতা টাকা দিচ্ছে, গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন কিনছে আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড ও এআই সেবার জন্য অর্থ খরচ করছে।
ডিজিটাল এই দুনিয়ায় তথ্য তাই শুধু ‘তথ্য’ নয়, এটি মহামূল্যবান সম্পদ। আর গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান সেই সম্পদ ও ব্যবহারকারীর আচরণ থেকে তৈরি হওয়া মূল্যকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে অর্থে রূপান্তর করছে।
ছবি : সংগৃহীত
অচেনা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা। আসল অ্যাপের আদলে ভুয়া টিকটক বা গুগল ক্রোম ইনস্টল করলে ফোনে ঢুকে পড়তে পারে ‘রকারোলা’ নামের ম্যালওয়্যার। এরপর নকল ব্যাংক লগইন পেজের মাধ্যমে তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ফোনের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, এমনকি ব্যাংক হিসাব ফাঁকা করার সুযোগও পেতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্লিপিং কম্পিউটারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনে ইনস্টল হওয়ার পর ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। শুধু ব্যাংক হিসাবের তথ্য নয়, এটি ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে সক্ষম।
যেভাবে ফোনে ঢোকে
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের গুগল ক্রোম বা টিকটক ডাউনলোডে আগ্রহী করে তোলে। এসব ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে ব্যবহারকারীর সামনে গুগল প্লে প্রোটেক্টের মতো দেখতে একটি সতর্কবার্তা দেখানো হয়।
অনেকেই এটিকে গুগলের আসল নিরাপত্তা সতর্কবার্তা মনে করেন। ফলে কোনো সন্দেহ ছাড়াই পরবর্তী ডাউনলোডের অনুমতি দেন। আর তখনই ফোনে প্রবেশ করে ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার।
যেভাবে তথ্য চুরি করে
ফোনে ঢুকে পড়ার পর ম্যালওয়্যারটি ২১৭টি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপের নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারী মনে করেন, তিনি নিজের ব্যাংক অ্যাপেই প্রবেশ করছেন। বাস্তবে নিজের ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে তুলে দেন।
এ ছাড়া ফোনের লকস্ক্রিনের তথ্য চুরি ও কনট্যাক্ট তালিকা হাতিয়ে নিতে পারে ম্যালওয়্যারটি। কী-লগারের মাধ্যমে ফোনে টাইপ করা তথ্যও রেকর্ড করতে সক্ষম এটি।
শুধু তাই নয়, ব্যাংক থেকে আসা প্রতারণাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা আটকে দিতে পারে। সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করতে আসা ফোনকলও বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম। ফলে ব্যবহারকারী বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টলের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা। গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোর ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই নিরাপদ।
সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল সম্পদকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
আইফোন
জন টার্নাস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব শুরু করার দ্বিতীয় সপ্তাই গত ২০ বছরের মধ্যে আইফোনের প্রথম বড় পরিবর্তনটি প্রকাশ করেছে। টিম কুকের পদত্যাগের পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া টার্নাস, বুধবার কোম্পানির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন এনেছেন। বইয়ের মতো আকৃতির নতুন আইফোন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ডুও, এটি এই পণ্যের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সংস্করণ। যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রাথমিক মূল্য ১,৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০০ ডলার। শুধু আইফোনের তো বটেই, বর্তমানে প্রচলিত ফোনগুলোর মধ্যে এটা সবচেয়ে দামি ফোন বলা যেতে পারে।
টার্নাস বলেছেন যে ডুও "আইপ্যাড দ্বারা অনুপ্রাণিত", তবে এর ভাঁজ করার বৈশিষ্ট্যগুলোকে "সাবলীল এবং সম্পূর্ণ স্বজ্ঞামূলক" বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাপলের ভেতরে ফোল্ডেবল ফোন তৈরির কাজ বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। খোলা অবস্থায় নতুন ডুও-টিকে দেখতে একটি ছোট আইপ্যাডের মতো লাগে। অর্ধেক ভাঁজ করলে, এটিকে একটি চওড়া আইফোনের মতো দেখায়।
টার্নাস বলেন যে, অ্যাপল বাজারে থাকা অন্যান্য ফোল্ডেবল স্মার্টফোনগুলোর চেহারা ও অনুভূতি এড়াতে চায়, যেগুলোকে তার মতে "দুটো ফোন একসাথে জুড়ে দেওয়ার মতো মনে হয়... যার ফলে বড় স্ক্রিনটিকে অনেক ছোট দেখায়।" তিনি বলেন, ডুও হলো "ধারাবাহিক কিছু অসাধারণ উদ্ভাবনের ফল, যা আমাদের বিশ্বাস, ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।" টার্নাস ফোল্ডেবল আইফোন তৈরিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন, কারণ এই বছরের শুরুতে কুকের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগে বহু বছর শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন।
প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা এফডিএম সিসিএস ইনসাইট-এর প্রধান বিশ্লেষক বেন উড বলেছেন, সম্ভবত টার্নাসের পদোন্নতির সময়টি বিশেষভাবে এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, "যা সম্ভবত বিগত বহু বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম আইফোন উন্মোচনের সাথে মিলে যায়"। "অ্যাপলে কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না," উড যোগ করেন।
ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি, যিনি বুধবারের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলেন, টার্নাসের ওপর আলোকপাত দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি নিজেই একটি পণ্য। বহুদিন ধরে অ্যাপল নিয়ে সমালোচনা ছিল যে ২০০৭ সালে প্রথম আইফোনটি বাজারে আসার পর থেকে অ্যাপল এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সাফল্য বা সত্যিকারের আকর্ষণীয় উদ্ভাবন আনতে পারেনি। আইফোনের নকশা পরিবর্তন করার ফলে ওই সমালোচনার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেন, "ফোল্ডেবল ফোনটি পোর্টফোলিওতে একটি চড়া দামের অলঙ্কারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা কেবল ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়ালেও অর্থপূর্ণ প্রবৃদ্ধি আনতে নাও পারে।" এর আগে, নতুনতম আইফোনের সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৯০০ ডলার (৬৬৪ পাউন্ড)। অ্যাপল বুধবার নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে, যেগুলোর দাম যুক্তরাষ্ট্রে যথাক্রমে ১,১৯৯ ডলার (৮৫৫ পাউন্ড) এবং ১,২৯৯ ডলার (৯৫৯ পাউন্ড) থেকে শুরু।
দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেছেন, ফোল্ডেবল আইফোনের পরিণতিও অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেটের মতো হতে পারে, যেটির দাম কোম্পানিটি ৩,৬৯৯ ডলার (২,৭২৯ পাউন্ড) নির্ধারণ করেছিল এবং যা ক্রেতাদের কাছে তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। অথবা, তিনি বলেন, এটি হতে পারে কোম্পানির পরবর্তী অ্যাপল ওয়াচ, যা আইফোনের মতো জনপ্রিয় না হলেও প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ কেনেন। আইফোনের কার্যপদ্ধতির সাথে মানুষ যেভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা অ্যাপলের নতুন ডিজাইনের ব্যাপক বিক্রির পথে আরেকটি সম্ভাব্য বাধা। "ফোল্ডেবল ফোনগুলো আকর্ষণীয় ডিভাইস," মিলানেসি উল্লেখ করেছেন। "অনেকেই এর প্রতি আগ্রহী, কিন্তু একটি প্রচলিত ফোন থেকে ফোল্ডেবল ফোনে স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার এবং শেখার প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন।"
বেন উড উল্লেখ করেন, স্যামসাং এবং হুয়াওয়ের মতো কোম্পানির ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বর্তমান বাজার স্মার্টফোন বিক্রির মাত্র ২ শতাংশ। ডেটা ও অ্যানালিটিক্স ফার্ম এফডিএম সিসিএম ইনসাইটের মতে, অ্যাপলের সংস্করণটি আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ালেও, আগামী দশকে এর বিক্রি মোট বাজারের মাত্র ৪ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন অ্যাপলের সর্বাধিক বিক্রিত পণ্য এবং এটি প্রতি বছর কোম্পানিটির মোট বিক্রয়ের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে।
সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলোতে কোম্পানিটি গর্ব করে বলেছে যে, আইফোনের চাহিদা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং ডিভাইসটির সর্বশেষ সংস্করণটি তাদের সবচেয়ে সফল পণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে । কোম্পানিটি তাদের অডিও এবং চ্যাট অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র আসন্ন পুনঃপ্রবর্তন সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রকাশ করেছে, যাকে তারা এখন সিরি এআই নামে অভিহিত করছে। আইফোন ১৮ থেকে শুরু করে, সিরি এখন কোনো ব্যক্তির ফোনের মেসেজ এবং ইমেলের মতো তথ্য ঘেঁটে তথ্য খুঁজে বের করতে, প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং তার পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
নতুন অ্যাপল ওয়াচেও সিরি এআই-এর কিছু ফিচার পাওয়া যাবে, যার মধ্যে রয়েছে কথোপকথনের নোট নেওয়া এবং তা লিখে ফেলার ক্ষমতা, যদি ব্যবহারকারী সেই ফিচারটি চালু করেন। টার্নাস আইফোনের নতুন এআই-সক্ষম বৈশিষ্ট্যগুলোকে একটি "বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র" হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে অ্যাপল "আপনার দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বিবরণ" ব্যবহার করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এর সবকিছুই গোপন থাকবে এবং এআই ফিচারগুলো প্রায়শই 'ডিভাইসে' চলবে, অর্থাৎ কোনো তৃতীয় পক্ষের কোম্পানির মাধ্যমে নয়। আর যখন কোনো কাজের জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হবে, টার্নাস বলেছেন যে সেটি একটি রিমোট সার্ভার বা ক্লাউডে গোপন থাকবে। "অন্যরা সেই ডেটাকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার বস্তু হিসেবে দেখে," টার্নাস বললেন। "কিন্তু এখানে, এমনকি অ্যাপলও আপনার ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করতে পারে না।"
জিওফ্রে হিন্টন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতির পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, এমনকি মানবজাতির বিলুপ্তিও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এআই প্রযুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ জিওফ্রি হিন্টন।
এআইয়ের গডফাদার হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনের মতে, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এআই প্রযুক্তি তৈরির বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। তাই এখনই অতিবুদ্ধিমান এআই বা অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই তৈরির পথে এগোনো উচিত নয়।
জিওফ্রি হিন্টন কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এআই প্রযুক্তির বর্তমান বিকাশে তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাঁকে এআইয়ের গডফাদার বলা হয়। তবে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তিনি।
অতিবুদ্ধিমান এআই বলতে এমন একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝানো হয়, যা বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতার দিক থেকে যেকোনো মানুষ, প্রতিষ্ঠান; এমনকি একটি দেশের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। হিন্টনের আশঙ্কা, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআইয়ের ওপর একবার নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটিকে আবার নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
হিন্টনের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাজ্যে অতিবুদ্ধিমান এআইয়ের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংগঠন কন্ট্রোলএআইয়ের সহায়তায় তৈরি ‘ইউকে আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স সিকিউরিটি’ নামের বিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যালেক্স সোবার। কন্ট্রোলএআইয়ের তথ্যমতে, এআইয়ের সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে হলে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন।
অবশ্য এআই খাতের সবাই এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নন। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন। যদিও এআই প্রযুক্তির বিকাশের শুরুর দিকে তিনি এই খাতের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।
সূত্র: ডেইলি মেইল
ফোন হাত দিয়ে ধরে না রেখে কল থেকে শুরু করে তারবিহীর হেডফোনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরামদায়ক করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তির জুড়ি মেলা ভার। তবে আধুনিক প্রযুক্তির এ সুবিধার যেমন কমতি নেই তেমনই এর কিছু নেতিবাচক দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।
বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য মূল্যবান উপাদান হয়ে উঠেছে তখন সচেতন থাকা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে পেয়ারিং বা যুক্ত হওয়ার আগে ব্লুটুথের ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এর মানে এই নয় যে, হ্যাকাররা ফাঁকফোকর গলে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে না।
ফিটবিট ও এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী অন্যান্য হার্ডওয়্যারে এক বিশেষ ব্লুটুথ ত্রুটি ধরা পড়েছিল। ওপেন-সোর্স অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব ত্রুটির মাধ্যমে ক্ষতিকর চক্র ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডিকোড করা যায়, যা বড় বিপদের কেবল ছোট একটি ইঙ্গিত।
এ ছাড়া, ‘ইনসিনুয়াটর’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ‘আইরোহা’ভিত্তিক হার্ডওয়্যারে এমন এক ত্রুটির সন্ধান মিলেছে, যা ব্লুটুথ রেঞ্জের মধ্যে থাকা সাইবার আক্রমণকারীদের গোপনে আলাপ আড়ি পেতে শোনা ও ফোন নম্বর, কনট্যাক্ট ও কল হিস্ট্রির মতো ব্যক্তিগত ডেটা চুরির সুযোগ পায়।
ব্লুটুথ নিরাপত্তার কিছু সেরা উপায়
কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে পারেন। যার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে ব্যবহার শেষে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা। এর ফলে ব্যবহারকারীর ডিভাইস হ্যাকারদের নজরদারিতে থাকার সময়সীমা কমে যায় ও ‘ব্লুব্যাগিং’ বা ‘ব্লুস্নারফিং’-এর মতো কাছাকাছি সংযোগের সুযোগ নিয়ে ডিভাইস হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
পাশাপাশি, ব্লুটুথ মোড ‘ডিসকভারিবল’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে ‘হিডেন’ বা লুকানো মোডে সেট করে রাখা উচিত, যা অপরিচিত বিভিন্ন ডিভাইসকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
যারা রেন্টাল কার বা ভাড়ায় চালিত গাড়িতে ফোন কানেক্ট করেন বা বর্তমান গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের অবশ্যই গাড়ি হস্তান্তরের আগে ফোন আনপেয়ার করা ও গাড়ি থেকে সব ব্যক্তিগত ডেটা মুছে ফেলার কাজটি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো’র মতো ভেহিকুলার সিস্টেমে ব্লুটুথ ব্যবহারের জন্য ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই উভয় সংযোগেরই প্রয়োজন, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে।
এ তারবিহীন সুবিধা এড়িয়ে চলা এর একটি সমাধান হতে পারে ও ফোনের অ্যান্ড্রয়েড অটো সেটিংস থেকে ‘স্টার্ট অ্যান্ড্রয়েড অটো অটোমেটিক্যালি’ অপশনটি ‘নেভার’ করে দিয়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া ঠেকানো সম্ভব।
আইফোন ব্যবহারকারীদেরও ফোনের ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারের দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। ফিচারটি ফোনের মাইক্রোফোন থেকে এয়ারপডস, হিয়ারিং এইড বা সমর্থিত হেডফোনে অডিও স্ট্রিম করতে সাহায্য করে।
এ সেটিংটি ব্লুটুথ ব্যবহার করে ফলে তা ব্লুব্যাগিং আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফিচারটি বন্ধ রাখতে ফোনের ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ সেটিংসে গিয়ে ‘লাইভ লিসেন’ অপশনটি অফ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্লুটুথ প্রযুক্তির নতুন ত্রুটি ও সুরক্ষার উপায়
দৈনন্দিন জীবনে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতাও সামনে আসছে। ব্লুটুথ নির্ভর বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা রিপোর্টগুলোর ওপর নজর রাখা জরুরি।
কারণ, বিভিন্ন নির্দিষ্ট ডিভাইসে আলাদা ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে। ওয়্যার্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, বেলজিয়ামের ‘কেইউ লিউভেন ইউনভার্সিটি’র গবেষকরা ১৭টি ‘গুগল ফাস্ট পেয়ার’ অডিও ডিভাইসে বড় ধরনের ত্রুটির সন্ধান পেয়েছিলেন।
গবেষকদের ভাষ্য, হ্যাকাররা কেবল ডিভাইসের মডেল নম্বর জানা মাত্রই ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডেটা ট্র্যাক করতে ও তাদের গোপন আলাপে আড়ি পেতে শুনতে পেরেছিল।
এ ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা ‘হইস্পারপেয়ারডটইইউ’ টুলটি প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইসটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা যাচাই করে নিতে পারেন।
ব্যক্তিগত তথ্যের প্রাইভেসি রক্ষায় ও ব্লুটুথ হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা।
এ ছাড়া, ‘ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট’ বা এফসিসি’র প্রস্তাবিত বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চললে ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটার সুরক্ষা বহুলাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে টেক প্রাইভেসি নিয়ে সচেতনতা ও এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পরিষেবার পরিধি যেভাবে দ্রুত বাড়ছে তাতে এসব সাধারণ পদক্ষেপ অনুসরণ করা মানসিক শান্তি ও উন্নত সুরক্ষার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।