ইমরান খান
এক মাস পর, নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আদিয়ালা কারাগারে তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার পর উজমা খান জানিয়েছেন, ইমরান খানের "স্বাস্থ্য ভালো আছে, আল্লাহকে ধন্যবাদ, কিন্তু তিনি খুব রেগে ছিলেন এবং বলছিলেন যে তাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।"
উজমা খানের মতে, ইমরান খানের সাথে তার সাক্ষাৎ ২০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। তার ভাই তাকে আরও বলেছিলেন যে তাকে 'সারা দিন ঘরে আটকে রাখা হয়, কেবল অল্প সময়ের জন্য ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়েছিল।' মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা কারাগারের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই এর বিক্ষোভের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন উজমা খানকে তার ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। সকালে, ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খানম, নওরীন নিয়াজি এবং উজমা খান যখন আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের জন্য পৌঁছান, তখন সেখানে মোতায়েন পুলিশ অফিসাররা তাদেরকে বাধা দেন।
তবে কিছুক্ষণ পরে, কারা কর্তৃপক্ষ একজন অফিসারকে ইমরান খানের বোনদের কাছে পাঠায় এবং বার্তা দেওয়া হয় যে সাক্ষাতের জন্য উজমা খানের নামে অনুমতি রয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার আগে দাবি করেছিল যে প্রায় এক মাস ধরে তাদেরকে ইমরান খানের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, 'সরকারি কর্মকর্তারা চান না ইমরান খানের বার্তা কারাগারের বাইরে আসুক।' সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের বোন নওরীন খান অভিযোগ করেন যে, "তারা (সরকারি কর্মকর্তারা) একমাত্র যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত তা হলো ইমরান খানের কথা বাইরে আসছে, যে কারণে তারা বৈঠক পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।"
ইমরান খানের বোনেরা জানিয়েছেন, আগে আদালতের আদেশ অনুসারে প্রতি মঙ্গলবার তাদের ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি ছিল, কিন্তু ইমরান খানের সাথে তাদের শেষ দেখা হয়েছিল গত চৌঠা নভেম্বর। মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা কারাগারের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দেন পিটিআই-এর সকল সংসদ সদস্য। যে কর্মসূচি ঘিরে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খান জানান, গত চৌঠা নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ নওরীন খানকে ইমরান খানের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে এবং "তারপর, তারা তাকে কারও সাথে দেখা করতে দেয়নি।" ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা খানও সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, ইমরান খান তার ছেলেদের সঙ্গে, "ফোনেও কথা বলতে পারছেন না।" এমনকি তার ছেলেরা "চিঠিও পাঠাতে পারে না," বলে দাবি করেন তিনি।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন নওরিন খান আরও অভিযোগ করেন, "পাকিস্তানি সরকার ইমরান খানকে নয়ই মে যে ঘটনা ঘটেছিল তার দায় স্বীকার করতে বাধ্য করতে চায়।" "তারা চায় ইমরান খান যেন ওই ঘটনার জন্য, ভাঙচুর চালানোর জন্য এবং নিজের লোকদের গুলি করার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চায়। হয়তো তারা এটাই চায়।"
নওরিন খানের মতে, "ইমরান খান কর্তৃপক্ষকে একটাই উত্তর দিয়েছিলেন যে, তোমাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা উচিত, সেনানিবাসের ভেতরে চেকপোস্ট আছে, সেনাবাহিনীর নজরে না পড়ে বা ক্যামেরায় বন্দি না হয়ে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারবে না।" গত বছর নয়ই মে-র ঘটনার আগে, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীকে এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই-এর সাথে সম্ভাব্য আলোচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "কেউই এমন একটি বিশৃঙ্খল গোষ্ঠীর সাথে কথা বলবে না যারা তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করেছে। এই ধরনের বিশৃঙ্খল গোষ্ঠীর জন্য একমাত্র উপায় হল দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ঘৃণার রাজনীতি ত্যাগ করে গঠনমূলক রাজনীতি শুরু করা।"
সরকার কী বলছে? ইমরান খানকে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি কেবল একটি অভিযোগই নয়, সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ বা বার্তা এই অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেই মনে হচ্ছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভির একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেন, "এমন কোনও আইন নেই যা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে কারাগারে থাকাকালীন সরকার বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেয়।"
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিরুদ্ধে কেবল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই প্রতিবাদ করছে তা নয় বরং মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমবার, পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, "ইমরান খানকে তার নিকটাত্মীয়, সহযোগী বা আইনি দলের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি সরকারের স্পষ্ট করা উচিত। কারণ, পরিবার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ একটি মৌলিক সুরক্ষা।"
অবশ্য গত বেশ কয়েকদিন ধরে, ইমরান খানের অসুস্থতা এবং কারাগারে মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে গুজব ছড়িয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
কেমন আছেন: ইমরান খানকে নিয়ে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে তার বোন নওরীন খান বলেন, "আমি জানি না এই খবর কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল।" তিনি অভিযোগ করেন যে, "ইমরান খানকে জেলে নির্যাতন করা হচ্ছে, তাকে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে এবং এই সবই কারাগারের নিয়ম লঙ্ঘন।" ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খানও বলতে পারছেন না যে এই গুজব কোথা থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আলিমা খান বলেন, "এই গুজবগুলো কোথা থেকে এলো, জেলের ভেতর থেকে কীভাবে এলো? গুজব ছড়ানো ব্যক্তিরা অবশ্যই জেলের কর্মী অথবা প্রতিষ্ঠান।" তিনি দাবি করেন যে "কেউ কেউ আমাদেরকে বলেছে যে তারা মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য পরীক্ষা করছে। আমাদের কোন ধারণা নেই।" তবে, চৌঠা নভেম্বর ইমরান খানের সাথে দেখা করা তার বোন নওরীন খান বলেছিলেন যে তার ভাই "সুস্থ আছেন, নিজের খাবার খাচ্ছেন, ব্যায়াম করছেন এবং নিজেকে সুস্থ হিসেবেই সবার সামনে উপস্থাপন করছেন।" "সেখানে (কারাগারে) খাবার ইমরান খানের নির্দেশ অনুসারেই রান্না করা হয় এবং এটি তার টাকা দিয়েই করা হয়।"
কেন পরিবারের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না: পরিবারের সাথে ইমরান খানকে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, ইমরান খান কারাগারে বসেই অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সামা টিভির একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্বীকার করেছেন যে, "আইন একজন বন্দিকে তার পরিবার এবং আইনজীবীদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়। কিন্তু এমন কোনও আইন নেই যা একজন দণ্ডিত বন্দিকে কারাগারে বসেই সরকার বা জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অনুমতি দেয়।" "এমন কোনও আইন নেই যা একজন বন্দিকে সরকারের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য, রাষ্ট্রদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, আন্দোলন বা অগ্নিসংযোগ করার এবং দর্শনার্থীদের মাধ্যমে এই সমস্ত কিছু চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়," বলেন তিনি।
তবে ইমরান খানের সঙ্গে বাইরের কারো সাক্ষাতের ওপর কে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এ বিষয়ে জানেন না বলেই দাবি করেছেন রানা সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, "এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই জেল কর্তৃপক্ষ আরোপ করেছে।" পাঞ্জাব সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এটা সম্পর্কে অবগত নই।" ইমরান খানের বোন নওরীন খান অবশ্য বলছেন, কারাগারে দেখা করতে গেলে, তিনি এবং ইমরান শুধুমাত্র "কী ঘটছে, কী হবে" এসব বিষয় নিয়ে 'সাধারণ আলোচনা' করেন। তিনি দাবি করেন, ইমরান খানের "টিভি বন্ধ, সংবাদপত্র বন্ধ। কারাগারের নিয়ম অনুসারে, আপনি কোনও বন্দিকে চার দিনের বেশি নির্জন কারাগারে রাখতে পারবেন না।" তিনি আরও বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোনও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা চাইছেন না, বরং "তিনি কেবল বই এবং তার সন্তানদের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করছেন।"
দেশটির আইনে কী বলা আছে: বন্দি অধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন- কারা আইন অনুসারে, বন্দিদেরকে তাদের পরিবার এবং আইনজীবীদের সাথে দেখা করার অনুমতি দিতে হবে। সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রিজনার্স এইড এর প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মুদাসসার জাভেদ বিবিসি উর্দুকে বলেন, "কারাগারের ম্যানুয়াল অনুসারে, রাজনৈতিক বন্দি কিংবা সাধারণ বন্দি, তাদেরকে প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া উচিৎ।" পরিবারের সদস্যদের বন্দির সাথে দেখা করার অধিকার আছে এবং বন্দি তার আইনজীবী কিংবা আইনি পরামর্শকের সাথে দেখা করতে পারেন।"
মুহাম্মদ মুদাসসির জাভেদ বলেন, "কারও অধিকার নেই বন্দিদের সাথে দেখা বন্ধ করার।" তিনি বলেন, "নিরাপত্তার কারণে জেল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে প্রতিদিন বন্দিদের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাও তার দায়িত্ব।" ইমরান খানের বোনেরা বলছেন যে, তাদের ভাইকে পরিবারের সাথে দেখা করতে না দিয়ে 'হয়রানি' করা হচ্ছে। নওরীন খান সতর্ক করে বলেন, "যদি তারা ইমরান খানের সাথে কিছু করে, তাহলে মনে রাখবেন যে তারা পাকিস্তানে বা বিশ্বের অন্য কোনও প্রান্তে থাকতে পারবেন না।"
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জামাতা জ্যারেড কুশনার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গোপনে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত।
আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের মুঠোফোনে নজরদারি চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজেদের এজেন্ডা বা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কুশনারের গোপন আর্থিক সমঝোতার তথ্য এতে উন্মোচিত হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন জ্যারেড কুশনার। দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব আপত্তিকর মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’
অভিযোগে যা আছে
ম্যাথু কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে ভ্যানিটি ফেয়ার এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ম্যাথু কোল একজন খ্যাতনামা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোপনীয়তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের ওপর নজর রাখছিলেন। সে সময়ই তাঁরা কুশনারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দেখেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই অ্যাকাউন্টে শত শত মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। কুশনার এ অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন। অ্যাকাউন্টটিতে তাঁর প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি এর মালিক ছিলেন না। আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তথা এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ অ্যাকাউন্টটি দেখভাল করতেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গোপন তহবিল বা স্ল্যাশ ফান্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মূলত তাঁদের মাথা থেকেই এ অ্যাকাউন্টের ধারণা আসে; যদিও গোপন তহবিলের সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জমা করেছিলেন।
এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সেখানে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে এ অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।
এ লেনদেনের বিষয়ে কুশনার তৎকালে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এ পর্যন্ত আইনিভাবে কোনো অপরাধ বা অন্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনকালে। ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের শান্তি আলোচনা–বিষয়ক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।
কুশনারের অস্বীকৃতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জ্যারেড কুশনার এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা ও এমন কিছু কখনোই ঘটেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
কুশনার লিখেছেন, ‘আমরা নথিবদ্ধভাবে বা অন দ্য রেকর্ড প্রতিটি দাবি অস্বীকার করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করার জন্য সামান্যতম প্রমাণও হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই নজিরবিহীন অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের তারিখ বা যাচাইযোগ্য অন্য কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।’
ট্রাম্পের জামাতা উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন। তখন তাঁকে তীব্র গণমাধ্যম কাভারেজ, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং একজন বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
কুশনার আরও বলেন, ‘আমি নিজে থেকে এসব তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। এসব অভিযোগের কোনোটি তখন সামনে আসেনি। কারণ, ঘটনাগুলোর কোনোটিই আসলে ঘটেনি।’
কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এ প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিজেল লেখেন, ‘এটি কোনো ভুল–বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের বিষয় নয়। বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই। এগুলো একদমই অবাস্তব। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন আপত্তিকর এবং মানহানিকর দাবি করা হয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মামলা করবেন?’ জবাবে মিজেল লেখেন, ‘সব পথই খোলা আছে।’
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।