ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। 


তবে এই হিসাবটি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) এবং মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণকে একসঙ্গে ধরে করা হয়েছে। ফলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে উঠে আসে না।


মার্কিন জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।


অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হিসাব অনুযায়ী, এসপিআরে রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও ব্যবহার হয়। এই দুটি সংখ্যা ভাগ করে প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো, এসপিআরে থাকা অপরিশোধিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিদিনের ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের হিসাবের মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রয়েছে। এগুলো সরাসরি এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়।


যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ কেবল কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে না। দেশটির নিজস্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত, আমদানি, শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত-সব মিলিয়ে একটি বড় সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দেশটির বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। 


একই সময়ে শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। অর্থাৎ দেশটির তেল সরবরাহ একটি চলমান ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন, আমদানি, বাণিজ্যিক মজুত, শোধন ও রপ্তানি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।


এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রধান ভাণ্ডার নয়; এটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ব্যাকআপ ব্যবস্থা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবরোধ বা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।


১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস এসপিআর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। দেশের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে লবণের গুহায় এই মজুত গড়ে তোলা হয়।


২০২০ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল জমা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ এই পরিমাণ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এ সময় বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়।


পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত তেল ছাড়ার ফলে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমতে সহায়তা করেছিল। তবে এর ফলে কৌশলগত মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর মজুত পুনরায় পূরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।


২০২৬ সালে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যে আবারও কৌশলগত মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়। আইইএর ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।


ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল ২০২৬ এসপিআরে ৪১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। অর্থাৎ পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এসপিআরের মজুত প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে এই কমে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহ থেকে একই পরিমাণ তেল শেষ হয়ে গেছে-এমন নয়। একই সময়ে দেশটিতে তেল উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বাণিজ্যিক মজুত ও শোধনাগারের কার্যক্রম চলমান ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উৎপাদন, আমদানি ও বাণিজ্যিক মজুত। দেশটির শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলকে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে।


সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র।


গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর অর্থ, এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার বিকল্প নয়।


এসপিআরের মজুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে বাজারে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে।


তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বরং কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সরকার আগের মতো বড় পরিমাণে জরুরি তেল বাজারে ছাড়তে পারবে না-এটাই মূল ঝুঁকি।


বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়তে পারে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক। 


যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদন থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির জ্বালানি দামের ওপর তার প্রভাব পড়ে।


জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একপর্যায়ে এসপিআর থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন বাজারকে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো, রপ্তানি কমানো, বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার, শোধনাগারের কার্যক্রম পরিবর্তন অথবা জ্বালানির চাহিদা কমানোর মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।


এ ছাড়া বর্তমান এসপিআর কর্মসূচির একটি অংশ তেল বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এসপিআর থেকে অপরিশোধিত তেল নেয় এবং পরে সমপরিমাণ তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ব্যারেল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমানে নেওয়া কিছু তেল ভবিষ্যতে সরকারি মজুতে ফেরত আসতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কত দিনের তেল রয়েছে- এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য এক জিনিস নয়। এগুলোর উৎপাদন, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহারের হিসাবও আলাদা।


শুধু এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ভাগ করে ১৪ দিনের হিসাব করা তাই বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র দেয় না।


যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল এসপিআর মজুতের পাশাপাশি প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।


তবে এসপিআরের মজুত ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে জরুরি তেলের মজুত আগের তুলনায় কম থাকবে। 


তাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘১৪ দিনের তেল’ অবশিষ্ট থাকার দাবিটি সঠিক না হলেও, এসপিআরের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য বাস্তব উদ্বেগের কারণ।




বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। ছবি: পেক্সেলস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৩ এএম

বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নাগরিকদের তিন দিনের প্রস্তুতি নিতে বলছে। সুইডেন ও নরওয়েতে এক সপ্তাহ এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।


যুক্তরাজ্যে সরকারের আহ্বানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে টিনজাত খাবার, রেডিও, টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রিও বেড়েছে। কেন এত দেশ নাগরিকদের জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলছে? এর পেছনে কি আসন্ন কোনো যুদ্ধ বা বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা আছে?


বিভিন্ন দেশের সরকারি নির্দেশনা এবং বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তুতির পেছনে আছে একাধিক ঝুঁকি।


এর মধ্যে আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চরম আবহাওয়া, সাইবার হামলা এবং বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। ইউরোপের কিছু দেশের প্রস্তুতিতে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বিবেচনায় আছে।


তবে এসব নির্দেশনা থেকে নির্দিষ্ট কোনো যুদ্ধ বা বিপর্যয় আসন্ন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি নেই।


যুক্তরাজ্যে কী হচ্ছে

গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামের একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। এর উদ্দেশ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকেরা যেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারে।


ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় একজনের জন্য প্রতিদিন তিন লিটার খাবার পানি, সহজে নষ্ট হয় না এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাটারিচালিত বা হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সরকার বলছে, ঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎবিভ্রাট কিংবা সাইবার হামলার কারণে জরুরি পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো কিছুদিন নিজেরা চলতে পারলে উদ্ধার ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বেশি বিপদে থাকা মানুষদের আগে সাহায্য করতে পারবে।


টিনজাত খাবার ও রেডিওর বিক্রি বেড়েছে

সরকারের আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ছবি: পেক্সেলস

সরকারের এই আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।


বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে এক সপ্তাহান্তে টিনজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বোতলজাত পানির বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


যুক্তরাজ্যের গৃহস্থালির ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রবার্ট ডায়াস জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় তাদের রেডিও বিক্রি বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।


যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাপলিনের হিসাবে, সরকারি ঘোষণার পর রেডিওর বিক্রি ৯২ শতাংশ, টর্চলাইটের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি ১০৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগের মাসের একই সময়ের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের তুলনা করেছে।


জরুরি পরিস্থিতির সরঞ্জাম বিক্রি করে এমন কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানও চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।


তবে এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট কয়েকটি বিক্রেতার। এ থেকে গোটা যুক্তরাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বা খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।


সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের টিনজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।


অন্য দেশগুলো কী বলছে


২৮ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের জরুরি প্রস্তুতিবিষয়ক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো কানাডা, জাপান, মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসেও তিন দিনের জরুরি সামগ্রী রাখার পরামর্শ আছে। সুইডেন ও নরওয়ে প্রায় এক সপ্তাহ এবং জার্মানি দিয়েছে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ।


ভারতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে বললেও সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট ‘রেডি ডট গভ’-এও কয়েক দিন চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার নির্দেশনা আছে।


তবে সব দেশের নির্দেশনার কারণ এক নয়। জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে স্থানীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা নির্দেশনা আছে।


এ ছাড়া এসব নির্দেশনার সবই নতুন নয়। অনেক দেশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ প্রস্তুতির কর্মসূচি চালু আছে।


ইউরোপে কেন বাড়তি গুরুত্ব


ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে। এতে সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।


সুইডেনের সরকারি নির্দেশিকায় সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধের পরিস্থিতির কথাও আছে। দেশটির নাগরিকদের এক সপ্তাহ চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।


তবে সুইডেনে যুদ্ধকালীন নাগরিক প্রস্তুতির নির্দেশনা নতুন নয়। দেশটির এমন নির্দেশিকা প্রকাশের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সাম্প্রতিক সংস্করণে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ৯০ দিনের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে। ছবি: আনস্প্ল্যাশ

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।


২ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বাইরে থেকে সহায়তা না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন অন্তত ৯০ দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।


এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির স্বনির্ভরতা, সরবরাহব্যবস্থা, জরুরি মজুত এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা আছে।


তবে এই ৯০ দিনের প্রস্তুতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য দেওয়া কোনো নির্দেশনা নয়। এটি সামরিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার পরিকল্পনা।


তাহলে কি বড় কোনো বিপর্যয় আসছে

আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগ বা সাইবার হামলায় একটি পরিষেবা বন্ধ হলে অন্য পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস


বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির উদ্যোগকে একই ধরনের আসন্ন হুমকির সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগ বা সাইবার হামলায় একটি পরিষেবা বন্ধ হলে অন্য পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারে। সরকারি নির্দেশনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ কমানো।


ব্রিটিশ সরকারও স্পষ্ট করেছে, জরুরি প্রস্তুতি মানে একবারে বিপুল পরিমাণ খাবার বা পানি কিনে রাখা নয়। ঘরে আগে থেকেই থাকা সামগ্রী দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে কিছু জিনিস যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সরকারের নির্দেশনায় প্রতিবেশীদের খোঁজ রাখা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর লিখে রাখা এবং যাঁদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের কথা বিবেচনা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের এই উদ্যোগের মূল বার্তা হলো সম্ভাব্য সংকটের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা। এসব আসন্ন যুদ্ধ বা খাদ্যসংকটের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।


সূত্র: বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, ইউরোপীয় কমিশন, সুইডিশ সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের রেডি ডট গভ।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক উত্তেজনা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক আভাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বিঘ্নিত হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় সোমবার এক দিনেই পণ্যটির দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বেলা ২টার বাজারদর অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ দশমিক ৯০ ডলার বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানা গেছে, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।


সোমবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সরাসরি কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছাতে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বর্তমানে দোহা সফর করছেন। মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন সামরিক ও নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করার শর্তের সঙ্গেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রস্তাবকে যুক্ত করেছে তেহরান।এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।


এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছিলেন, রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের চেয়ে ওয়াশিংটন একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধানকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও নতুন কোনো সামরিক হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।


আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের এই নাটকীয় ওঠানামার মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ রোববার ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বর মাসেও নতুন করে তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে বর্তমান উত্তোলন হারই অপরিবর্তিত রাখার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে গত অক্টোবর থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার গৃহীত পদক্ষেপটি আরও এক মাসের জন্য কার্যকর বহাল থাকল।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ব্যস্ত সড়কে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আছড়ে পড়েছে একটি উড়োজাহাজ। এতে থাকা ৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। খবর এনবিসি মিয়ামির।


দুর্ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গাড়িতে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শীর রেকর্ডকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, বাহামাসগামী উড়োজাহাজটি আকাশ থেকে খাড়া নিচে নেমে এসে সড়কের কাছে আছড়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলের সৃষ্ট গর্তের চারপাশে ছিটকে পড়া পিচ ও ইট-পাথরের টুকরোগুলোতে আগুন জ্বলছিল।


ঘটনাস্থলে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রলয়ংকরী এক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা। মনে হচ্ছিল একটি ক্ষেপণাস্ত্র নেমে আসছে। রাস্তার পাশে বিশাল এক গর্ত তৈরি হয়েছে।’


রোববার ওই অঞ্চলে তুমুল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে বন্যা সতর্কবার্তা কার্যকর ছিল।


ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্যমতে, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তবে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ কিংবা আরোহীদের পরিচয় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।


উড়োজাহাজটি ৩৫ জাহাজ ফুট উচ্চতায় উড়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই পাইলটরা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি, বরফ জমা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়ে উচ্চতা ২ হাজার ফুট বাড়ানোর অনুরোধ জানান।


এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এর কিছুক্ষণ পরই উড়োজাহাজটি দ্রুত গতিতে নিচে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, তারপর প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট এবং শেষ পর্যন্ত প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ফুট গতিতে খাড়াভাবে নিচে নেমে আসে।

 এ সময় পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সাহায্যের জন্য বিপদসংকেত পাঠান। খাড়াভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক পূর্বে উড়োজাহাজটি মারাত্মকভাবে ডানদিকে বাঁক নেয়।


লাইভএটিসি ডট নেট-এর সংরক্ষিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পাইলট উড়োজাহাজে বরফ জমা এবং তীব্র ঝাঁকুনির কথা রিপোর্ট করেছিলেন। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলকে পাইলট বলেন, ‘আমাদের উড়োজাহাজে হালকা ও স্বচ্ছ বরফ জমেছে যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য, তবে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি হচ্ছে।’


রেডিও বার্তায় পাইলটকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছি, প্রতি মিনিটে ৮,০০০ ফুট—মে ডে, মে ডে—আমরা প্রতি মিনিটে ১০,০০০ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি।’


বিপদ আরও চরম রূপ নিলে পাইলট আসন্ন বিপর্যয়ের ভয়াবহতা জানিয়ে শেষ রেডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা ওভারস্পিডে আছি এবং প্রতি মিনিটে ২০,০০০ ফুট নিচে নামছি। আমরা মাটিতে বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি।’


উল্লেখ্য, ফ্লোরিডার যে এলাকায় উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়েছে, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রাসাদ মার-এ-লাগো দূরত্ব মাত্র ১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার (৯ মাইল)।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ শহরের কাছে একটি ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৯ আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোর দূরত্ব প্রায় ৯ মাইল বা ১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার।


শনিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন শহরের বার্গস্ট্রম বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।


এফএএর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচ শহরের ক্রেস্টহেভেন এলাকার কাছে একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এফএএ ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। তদন্তের নেতৃত্ব দেবে এনটিএসবি।


এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্যও সংস্থাটি জানাবে।


দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ড ও টেনথ অ্যাভিনিউ নর্থের মধ্যবর্তী মিলিটারি ট্রেইল সড়ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।


পাম বিচ কাউন্টি ফায়ার সার্ভিস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, এলাকায় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত নিচে নেমে আসতে দেখা যায়। এরপর বিস্ফোরণের মতো একটি ঘটনা ঘটে এবং আকাশে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে।


বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লিয়ারজেট মডেলের উড়োজাহাজটি শনিবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এটি ৪১ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল বলে ওয়েবসাইটটির তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।


দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।


সূত্র : ফক্স নিউজ


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৩ এএম

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের একটি শিল্প কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রোববার (১ নভেম্বর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে।


সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইরনা বলেছে, “ইয়েমেন থেকে চালানো হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দাম্মামের একটি শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। এতে স্থাপনাটিতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।”


ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেয়া সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। গত জুলাইয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিরা জানিয়েছিল, পশ্চিম ইয়েমেনের আবাসিক এলাকায় সৌদি হামলায় ১২ জন নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গোষ্ঠীটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, মাকবানা জেলার আল-বারাহ এলাকায় দুই পরিবারের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।


তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এর আগে গত বুধবার একটি পেট্রল স্টেশন ও বাজারে সৌদি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল হুতিরা। অন্যদিকে, গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এডেনের বিমানবন্দরেও হামলা চালায়। এতে বেসামরিক লোকজন আহত হন।


২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘাতের সর্বশেষ এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা অমান্য করে হুতিরা ইরানের একটি বিমানকে সানায় অবতরণের অনুমতি দেয়। এর জেরে নতুন করে হামলা শুরু হয়। পরে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ড, নৌযান ও তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।


সংঘাতের জেরে সৌদি আরবে হামলা আরও জোরদার করেছে হুতিরা। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার কারণে গত অক্টোবরে দুই সপ্তাহ সেটি বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং বড় কয়েকটি সম্মেলনও বাতিল করা হয়। এতে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়েছে।


২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরের বছর সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


এদিকে রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল দুটি ডিক্রি জারি করে দেশটির মধ্যাঞ্চলের আল-বাইদা এবং উত্তরাঞ্চলের আল-জাওফ প্রদেশে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে। প্রদেশ দুটি আংশিকভাবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


সরকার-পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মেজর জেনারেল হুসেইন আল-আজি আলী আল-আওয়াধিকে আল-বাইদার গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেজর জেনারেল আমিন আলী আল-আকিমিকে আল-জাওফের গভর্নর এবং ওই অঞ্চলের সামরিক কমান্ডের প্রধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


আল-বাইদার সাবেক গভর্নর নাসের আল-সাওয়াদির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল-আওয়াধি। আর আল-জাওফের গভর্নর হিসেবে আল-আওয়াধির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল-আকিমি।


দুই প্রদেশেই জটিল সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে এ নিয়োগ দেয়া হলো। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।


মূলত আল-বাইদার বেশির ভাগ এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, আল-জাওফের নিয়ন্ত্রণ হুতি গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে বিভক্ত।


ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত আল-বাইদা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রদেশটির সীমান্ত রয়েছে আরও আটটি প্রদেশের সঙ্গে—এর মধ্যে চারটি উত্তরে এবং চারটি দক্ষিণে।


আল-জাওফও সামরিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রদেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের স্থলসীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাদা, আমরান ও সানা প্রদেশের কাছাকাছি এর অবস্থান। সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশের সঙ্গেও এর সীমান্ত রয়েছে।

পল ওয়াকারের সেই ক্যামারো নতুন রূপে, ফিরছে রাস্তায়

'টু ফাস্ট টু ফিউরিয়াস’ সিনেমার বিখ্যাত গাড়ি


  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমায় ইয়টে ধাক্কা দেওয়া সেই বিধ্বস্ত গাড়িটি ২৫ হাজার ডলারে কিনে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছেন ইউটিউবার স্যাম হার্ড।


হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা সিরিজ ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘টু ফাস্ট টু ফিউরিয়াস’-এ ব্যবহৃত একটি গাড়ি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সিনেমায় অভিনেতা পল ওয়াকারের চালানো সেই ইয়েনকো ক্যামারো গাড়িটি একসময় ইয়টে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অবহেলায় পড়ে ছিল গাড়িটি। অবশেষে গাড়িটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছেন ব্রিটিশ ইউটিউবার ও গাড়িপ্রেমী স্যাম হার্ড। গাড়িটি কেনার অর্থ জোগাড় করতে নিজের দুটি গাড়িও বিক্রি করেছেন তিনি।




স্যাম হার্ড নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘হার্ড আপ গ্যারেজ’-এ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ তুলে ধরেন। এর আগে টয়োটা ক্রাউন গাড়িতে ব্যতিক্রমী পরিবর্তন আনা এবং ইউটিউবার কেএসআইয়ের পুরোনো ভক্সওয়াগন লুপোকে অফ-রোড গাড়িতে রূপান্তর করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।


যেভাবে পেলেন পল ওয়াকারের গাড়িটি


২০১৯ সালে নিজের ডজ চার্জার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে সেমা (SEMA) প্রদর্শনীতে যাওয়ার পথে জর্জিয়ার গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইয়ারওয়ানে (YEARONE) থামেন স্যাম হার্ড। সেখানে ঘুরতে গিয়ে তাঁর চোখে পড়ে ‘টু ফাস্ট টু ফিউরিয়াস’ সিনেমায় ব্যবহৃত সেই বিধ্বস্ত ইয়েনকো ক্যামারো।


গাড়িটি দেখেই কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গাড়িটি বিক্রির জন্য নয়।


গাড়িটি সম্পর্কে সুপারকার ব্লন্ডিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ড বলেন, তিনি প্রথম দেখাতেই বুঝতে পেরেছিলেন এটি সেই গাড়ি, যা সিনেমায় পল ওয়াকার চালিয়েছিলেন।


তিনি জানান, এরপর প্রায় ছয় থেকে সাত বছর ধরে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে গেলে প্রতিষ্ঠানটিতে যেতেন। সঙ্গে নিয়ে যেতেন ইংলিশ চায়ের ব্যাগ ও বিস্কুট। এভাবে গাড়িটির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন তিনি।


অবশেষে গত বছর সেমা প্রদর্শনীর ঠিক আগে গাড়িটি কেনার প্রস্তাব পান। দাম চাওয়া হয়েছিল ২৫ হাজার ডলার। প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে নিজের আলটিমা ও ডজ চার্জার বিক্রি করে দেন হার্ড। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গাড়িটি কিনে নেন।


গাড়িটির প্রতি তাঁর বিশেষ আবেগের কারণও রয়েছে। হার্ডের ভাষ্য, ১৫ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে দেখা প্রথম সিনেমা ছিল ‘টু ফাস্ট টু ফিউরিয়াস’। তাই গাড়িটি দেখামাত্রই চিনতে পেরেছিলেন তিনি।




১০ দিনের পরিশ্রমে সচল হলো বিধ্বস্ত গাড়ি


২০২৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গিয়ে গাড়িটি মেরামতের কাজ শুরু করেন হার্ড। এ কাজে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্রিস উইগলি ও ডেভ টার্নার।


টানা ১০ দিনের পরিশ্রমে তাঁরা গাড়িটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করেন। একপর্যায়ে গাড়িটি আবার চালু ও চলাচলের উপযোগী করে তোলেন।


কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হার্ড বলেন, শুরুতে গাড়িটি দেখতে জোড়াতালি দেওয়া কাপড়ের মতো লাগছিল। কাজ অসম্পূর্ণ থাকলেও দীর্ঘ সময় পর প্রথমবারের মতো সেটিকে আবার একটি গাড়ির মতো দেখাচ্ছিল।


পরবর্তী সময়ে ফোর্ট লডারডেলের ‘গ্লাস স্কিলস’ নামের একটি বডি শপে গাড়িটি পাঠানো হয়। সেখানে রং করা, ওয়েল্ডিং ও বিভিন্ন প্যানেলের কাজ সম্পন্ন করা হয়।


গাড়িটি পুনরুদ্ধারের কাজে প্রায় সব ধরনের যন্ত্রাংশ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উপহার হিসেবে দিয়েছে। এর মধ্যে ডব্লিউসিএইচ রেসিং ইঞ্জিনস থেকে দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিন।


এই পুরো প্রক্রিয়ায় হার্ডকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থেকে কাজ করাও তাঁর জন্য ছিল কঠিন। তবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কাজটি এগিয়ে নিতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।


হার্ড বলেন, বিনা মূল্যে যন্ত্রাংশ চাওয়া এবং অন্যরা সেগুলো পাঠাবেন—এমন বিশ্বাস রাখাটা ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর একটি।




সেমা প্রদর্শনীতে উন্মোচন হবে গাড়িটি


গাড়িটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের সেমা শোতে প্রদর্শনের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে এসেস ফুয়েল ইনজেকশনের বুথে (বুথ নম্বর ২৩৫৯১) গাড়িটি প্রদর্শন করা হবে।


পল ওয়াকারের স্মৃতি এবং সিনেমার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গাড়িটি পুনরুদ্ধারের কাজ নিয়ে বেশ চাপের মধ্যেও রয়েছেন হার্ড। কারণ, গাড়িটি উন্মোচনের সময় অটোমোবাইল ও চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


হার্ড বলেন, গাড়িটির সঙ্গে সিনেমার ইতিহাস জড়িয়ে থাকায় কাজটি তাঁর কাছে অনেক বেশি দায়িত্বের ছিল। এ বিষয়ে তিনি গাড়ি নির্মাতা ও ডিজাইনার চিপ ফুজের পরামর্শও নিয়েছেন। ফুজ তাঁকে গাড়িটি শুধু বিধ্বস্ত অবস্থায় ফেলে না রেখে সচল করে আবার রাস্তায় ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন।


এদিকে গাড়িটি মেরামতের সময় খুলে রাখা কোনো যন্ত্রাংশ বা ঐতিহাসিক উপাদান ফেলে দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন হার্ড। তাঁর ভাষ্য, গাড়ির হেডরেস্ট থেকে শুরু করে ধাতব অংশ পর্যন্ত প্রতিটি খুলে রাখা যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামী বছর শুরু হতে যাওয়া তাঁর আরেকটি প্রকল্পে এসব যন্ত্রাংশ পুনরায় ব্যবহার করা হবে।


সুত্রঃ সুপারকার ব্লন্ডি ডট কম।