• প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩১ পিএম

একসময় হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টিকাদানে ঘাটতি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কারণে এখন দেশটি হাম রোগের ভয়াবহতম প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে। 


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের এমন তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। দেখা দিয়েছে শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। একই সঙ্গে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আসার সংখ্যা বাড়ছে।


এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। 


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের পর থেকেই শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ওই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ।


যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে।


স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং টিকা সরবরাহে সমস্যার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই বয়সে নিয়মিত হাম টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকে না।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৫। 


হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯, যার মধ্যে ১০০টি মৃত্যু পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


টিকাদানে বড় ঘাটতি


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পেছনে দুর্বল কর্মসূচি তদারকি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে টিকা সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।


সোমবার সংসদে তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছে।


প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। গত এক দশকে হাম প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সাময়িকভাবে টিকাদানের হার কমে যাওয়া ছাড়া বেশির ভাগ সময়ই দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল।


রোগতত্ত্ববিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানে ঘাটতির কারণেই বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।


তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগে কখনো এত বেশি সংখ্যক শিশুর হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায়নি। একই বছরে এত বেশি রোগীও কখনো দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশই শিশু।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, টিকার আওতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।


রোগীর চাপে বিপর্যস্ত হাসপাতাল


হামের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। ফলে একসঙ্গে দুটি সংক্রামক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার একদিনেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন-চলতি বছরের এক দিনে যা সর্বোচ্চ।


ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা রাখা হয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ এত বেশি যে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।


হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক চিকিৎসক নন্দদুলাল সাহা বলেন, রোগী এত বেশি আসছে যে সবাইকে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


১ হাজার ৩৫০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা থাকা হাসপাতালটিতে বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। হাম রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শিশুদের স্যালাইনেরও সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।


টিকা না পাওয়ার অভিযোগ


হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা। পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। বাড়ছে চিকিৎসার খরচও।


৩৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী নাসিমা বেগমের ১৩ মাস বয়সী ছেলে প্রায় দুই মাস আগে হাম আক্রান্ত হয়। চারটি হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ দিন পর ছাড়পত্র পেলেও এখনো তার জ্বর ফিরে আসছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।


নাসিমা জানান, অসুস্থ থাকার কারণে সময়মতো তার ছেলেকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টিকাদান কেন্দ্রে গেলে সেখানে টিকা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। তার আগের চার সন্তান নিয়মিত টিকা পেয়েছিল।


আরেক পরিবারও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে।


কারখানাশ্রমিক মোহাম্মদ রিপনের আট মাস বয়সী মেয়ের শরীরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার কয়েক দিন পর আবারও ফুসকুড়ি ও হামের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত বিশেষায়িত হাম হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।


রিপন বলেন, তারা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন, কিন্তু সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না।


জরুরি টিকাদানেও পুরোপুরি কাটছে না সংকট


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জরুরি কর্মসূচি দিয়ে সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে না। নিয়মিত টিকাদান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেসব শিশু আগে টিকা পায়নি, তাদের জন্য বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচিও প্রয়োজন।


হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। সাধারণত জ্বর ও শরীরে বিশেষ ধরনের লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তবে দুটি ডোজ টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।


নাসিমার ভাষায়, আমি শুধু চাই আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠুক। আর কোনো মাকে যেন নিজের সন্তানকে এই রোগে কষ্ট পেতে বা মারা যেতে না হয়।



সর্বশেষ সব খবর

পারমাণবিক বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে। এতে বিস্ফোরণের সময় কীভাবে আশ্রয় নিতে হবে, তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে এলে কী করতে হবে এবং কখন আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য প্রচারিত নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা, আশ্রয় গ্রহণ এবং তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্দেশনাগুলো হলো:


বিস্ফোরণের ঝলকের দিকে তাকাবেন না, আশ্রয় নিন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটলে দ্রুত শক্ত কোনো প্রতিবন্ধকের আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে। বিস্ফোরণের তরঙ্গ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।



বিস্ফোরণের পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করুন


বিস্ফোরণের তরঙ্গ চলে যাওয়ার পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করতে হবে। জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। বিস্ফোরণের পর বাইরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়েছে।


তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলুন


তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কন্ডিশনার ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। গোসল করা সম্ভব না হলে পানি বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ, হাত ও শরীরের অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।


অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলে থাকুন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।


সরে যাওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন


২৪ ঘণ্টা পার হলেই আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ হয়ে গেছে, এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। কোনো ভবনের ভেতরে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।


নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক সতর্কতা, উপযুক্ত আশ্রয় গ্রহণ এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শান্তি আলোচনায় কোনো ধরনের সমঝোতা বা অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। এমন অবস্থায় মার্কিনিরা যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায় তাহলে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানি আলোচক দলের মুখপাত্র ঈসমাইল বাঘেই এমন তথ্য জানান। তবে এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।    

বাঘেই বলেন, “কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে অতীত অভিজ্ঞতা আছে, সেই হিসাবে আশার দরজা বন্ধ। তবে তারা যদি কোনো হামলা চালায় তাহলে আমরা আমাদের নিজেদের রক্ষা করব এবং বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালাব।”

“একই সময়ে, ইরান তার বৈধ স্বার্থ এবং দাবি আদায়, শত্রুদের আগ্রাসন রুখে দিতে এবং এই অঞ্চলে নিরাপত্তা স্থাপনে কূটনৈতিক উপায় বা সুযোগকে হাতছাড়া করবে না।”- যোগ করেন বাঘেই। 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আজ দেশটিতে চলছে ভোটগ্রহণ। যা বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৭টা পর্যন্ত চলবে।

এরমধ্যে গতকাল রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যদিও তারা এটিকে বড় হামলা হিসেবে জাহির করতে চাইছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন কেশম দ্বীপের হামলা যুদ্ধ শুরু নয়; এটি একটি ছোট হামলা। 

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম

স্থগিত থাকা ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে আবার নিয়মিত ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। শনিবার (৭ নভেম্বর) থেকে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ রুটে স্থগিত রাখা হয় বিমানের ফ্লাইট। 


মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এ বিমান সংস্থার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭ নভেম্বর থেকে এ রুটে প্রতিদিন দিনের বেলায় ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। 


আপাতত চালু হচ্ছে না ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট 

অন্যদিকে, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট আপাতত চালু হচ্ছে না। বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রিয়াদগামী যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাতায়াত করায় এ রুটে বর্তমানে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা নেই। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


টিকিট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

সৌদি আরব থেকে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল (এক লাখ ২৫ হাজার ৭০০ বাংলাদেশি টাকা) জরিমানা করেছেন দেশটির শুল্ক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে পানির পুরো চালান।


সোমবার (২ নভেম্বর) খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্বিতীয় প্রাথমিক শুল্ক কমিটির এক রায়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।


সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে কিং ফাহদ কজওয়ে শুল্ক চেকপোস্টে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এর পেছনের ডিকিতে লুকিয়ে রাখা ৩৮০ লিটার জমজমের পানি উদ্ধার করেন শুল্ক কর্মকর্তারা।


শুল্ক কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সৌদি আরবের বিধি অনুযায়ী জমজমের পানি দেশটির বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। যথাযথ ঘোষণা ছাড়াই এসব পানি বহনের চেষ্টা করায় ঘটনাটিকে শুল্ক পণ্য পাচার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।


রায়ে ওই ব্যক্তিকে জব্দ পানির সমমূল্য ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা পানির চালান বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলির পক্ষ থেকে জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড এবং জব্দ করা পণ্য বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির আগে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড না থাকায় কারাদণ্ডের আবেদন নাকচ করেন কমিটি। তাদের মতে, আরোপিত অন্যান্য শাস্তিই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।


উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর অভিন্ন শুল্ক আইনের ১৪২, ১৪৪ ও ১৪৫ নম্বর ধারার আওতায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় শুল্ক পণ্য পাচারের সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে।


সূত্র: খালিজ টাইমস


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

ইসলামি বক্তা ও ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে মালয়েশিয়া। তাকে দিল্লির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণ না করার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদনও পায়নি তারা।


পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, ভারতের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক আবেদন কবে এসেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না এসব বিষয়েও স্পষ্ট করেছেন।


ভারত প্রথমবার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। এরপর ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিরোধী দলের নেতারা ব্যাখ্যা দাবি করেন। পাসের মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান জানতে চান, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এবং কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে ভারতের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইনের শর্ত পূরণ করে কি না, তাও স্পষ্ট করার দাবি তোলেন তিনি।


অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভারত জাকির নায়েককে ফেরত চায়। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে ভারতের অবস্থান এবং মালয়েশিয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করা হয়।


সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

সর্বশেষ সব খবর

টমাস ন্যাস্টের ব্যঙ্গচিত্র যেখানে গাধা চরিত্রে একজন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যানকে দেখা যাচ্ছে (বামে) আরেকটি কার্টনে রিপাবলিকান পার্টিকে হাতির রূপে দেখানো হয় (ডানে ওপরে) এবং হাতি ও গাধার লড়াই (প্রতীকী ছবি)

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে 'হাতি' ও 'গাধা' ব্যবহার করে আসছে। কেন রিপাবলিকানদের প্রতীক হাতি? ডেমোক্র্যাটরাই বা কেন গাধাকে বেছে নিল দলের প্রতীক হিসেবে? এ প্রশ্নের জবাব পেতে আমাদের বেশ পেছনে যেতে হবে। প্রতিবার যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক কার্টুন, ভোটের প্রচারের ব্যাজ, ইন্টারনেটের মিম কিংবা ফ্যাশন বাজারেও দেখা যায় গাধা ও হাতির ছবি। এর অন্যথা হওয়ার যেন উপায় নেই।


দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পরিচায়ক এ দুই প্রাণী দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সান্তা ক্লজ কিংবা আঙ্কেল স্যামের মতই এরা সবার কাছে পরিচিত। তবে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই হয়ত জেনে অবাক হবেন, এই দুটি রাজনৈতিক প্রতীকই জনপ্রিয় হয়েছিল একজন স্বাধীনচেতা কার্টুনিস্টের হাত ধরে। তিনিই এগুলোকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন। 


শুধু তাই নয়, আধুনিক সান্তা ক্লজ এবং আঙ্কেল স্যামের রূপকারও তিনি। তার নাম টমাস নাস্ট। ১৮৬২ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত ‘হার্পারস উইকলি’ পত্রিকায় কাজ করার সময় তিনি হয়ে ওঠেন আমেরিকার প্রথম প্রভাবশালী রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট।একই সঙ্গে তিনি ছিলেন দেশটির অন্যতম তীক্ষ্ণধী ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী।


চিত্রশিল্পী টমাস নাস্টের ব্যঙ্গচিত্রে সূচনা


কাঠের ব্লকে খোদাই করে তৈরি করা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত চিত্রকর্মের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন নাস্ট। গৃহযুদ্ধ, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার নানা অসংগতি, অভিবাসন এবং সবচেয়ে বেশি আলোচিত নিউ ইয়র্কের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘ট্যামানি হল’ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছেন তিনি।


ইতিহাসবিদদের মতে, ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে নিউ ইয়র্ক শহরে বেড়ে ওঠার সময় শৈশবে প্রচণ্ড নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন নাস্ট। তার পুরো কর্মজীবনে দুটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে। একদিকে সব ধরনের ক্ষমতাবান ও নিপীড়কের প্রতি তার তীব্র বিদ্রূপ, অন্যদিকে নিপীড়নের শিকার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা।


নাস্টের ১৮৭৪ সালে আঁকা তার বিখ্যাত একটি কার্টুনের নাম ‘ওয়ার্স দ্যান স্লেভারি’ (দাসত্বের চেয়েও ভয়াবহ)। এতে দেখা যায়, নিরস্ত্র একটি কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার হাস্যোজ্জ্বল কু ক্লাক্স ক্ল্যানের (কেকেকে) এক সদস্যের সামনে ভয়ে জড়সড় হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ‘দে আর সোয়ালোয়িং ইচ আদার’ (তারা একে অন্যকে গিলে খাচ্ছে) শিরোনামের আরেকটি কার্টুনে নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে কেকেকের আঁতাতকে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন নাস্ট। সেখানে কোনো নিপীড়িত মানুষ নেই। বরং অস্বাভাবিকভাবে স্থূলকায় ও বিস্ফারিত চোখের দুই ব্যক্তিকে এমনভাবে আঁকা হয়েছে, যেন তারা নিজেদেরই গিলে খাচ্ছে।


মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিসিএনএন লিখেছে, বর্তমানে ‘সম্পাদকীয় কার্টুন’ বলতে সাধারণত অল্প কয়েকটি রেখায় আঁকা সহজবোধ্য ছবি বোঝায়, যা খবর পড়ার সময় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দেখে নেওয়া যায়। কিন্তু নাস্টের কার্টুন ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ঘনবিন্যস্ত, অত্যন্ত বিস্তারিত এবং নানা পরিচিতি-চিহ্নে ভরা এসব কার্টুন ছিল একেকটি সংবাদ। শুধু ছবি নয়, প্রতিটি কার্টুন ছিল এক একটি যুক্তি বা বক্তব্য, যা বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করার জন্য তৈরি করা হতো। এর একটি উদাহরণ ১৮৭৪ সালে আঁকা ‘থার্ড টার্ম প্যানিক’ (তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আতঙ্ক)। রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হিসেবে হাতির পরিচিতি জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব প্রায়ই এই কার্টুনকে দেওয়া হয়।


কীভাবে ‘হাতি’ হলো রিপাবলিকানরা


ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উত্থানের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যায় ডেমোক্র্যাটিক-রিপাবলিকান পার্টি। 'হুইগ পার্টি' নামের আরেকটি দল জাতীয় রাজনীতিতে তাদের জায়গা নেয়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বিরোধিতা করা এই দলের সদস্য ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। তবে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দাসপ্রথা বিলুপ্তির প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে যায় এই পার্টি। 


লিংকন এবং দাসপ্রথা-বিরোধী হুইগরা মিলে গড়েন নতুন একটি রাজনৈতিক দল—রিপাবলিকান পার্টি। ১৮৭৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক মাস আগে নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড পত্রিকা একটি গুজব ছড়ায়। তখন পত্রিকাটি ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তারা প্রচার করে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস গ্র্যান্ট ১৮৭৬ সালে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন।


মার্কিন সংবিধানে ২২তম সংশোধনী যুক্ত হওয়ার আগের ঘটনা এটি। ফলে তখন প্রেসিডেন্টের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পথে আইনি বাধা ছিল না। তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ভালো চোখে দেখা হত না। নাস্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকনের দল রিপাবলিকান পার্টির একনিষ্ঠ সমর্থক। তার কার্টুনে তিনি নিউ ইয়র্ক হেরাল্ডকে দেখান সিংহের চামড়া পরা একটি গাধা হিসেবে। গ্র্যান্টের স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা নিয়ে নানা গল্প ছড়িয়ে অন্য প্রাণীদের ভয় দেখাচ্ছে সেই গাধা।


ওই কার্টুনে থাকা প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিশালদেহী, কিছুটা বোকাসোকা চেহারার একটি হাতি। তার গায়ে লেখা ‘দ্য রিপাবলিকান ভোট’। দেখে মনে হয়, হাতিটি যেন যে কোনো মুহূর্তে পাহাড়ের কিনারা থেকে নিচে পড়ে যাবে। অবশ্য মানুষের সঙ্গে প্রাণীর তুলনা করে ব্যঙ্গ করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। সিংহের চামড়া পরা গাধার গল্পটি প্রাচীন গ্রিক কথাসাহিত্যিক ঈশপের সময় থেকেই প্রচলিত। আর রিপাবলিকানদের হাতি হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রেও নাস্ট প্রথম শিল্পী নন। তারও অন্তত এক দশক আগে থেকেই বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকান পার্টির প্রচারে ‘সি দ্য এলিফ্যান্ট’ স্লোগান ব্যবহার করা হতো। এটি ছিল গৃহযুদ্ধের সময়কার একটি কথ্য অভিব্যক্তি, যার মোটামুটি অর্থ ছিল ‘সাহসের সঙ্গে লড়াই করা’।


‘গাধা’ যেভাবে হলো ডেমোক্র্যাটরা 


চিত্রশিল্পী নাস্ট তার কার্টুনে বহুবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে গাধা হিসেবে চিত্রিত করেছেন। যদিও ‘থার্ড টার্ম প্যানিক’ কার্টুনে প্রাণীটি আসলে গাধা নয়, শিয়ালের রূপ নিয়েছিল। তবে এই দলটির সঙ্গে গাধার সম্পর্ক আরও পুরোনো। নাস্টের আঁকার অন্তত অর্ধশতাব্দী আগে, প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের আমল থেকেই ডেমোক্র্যাটদের গাধা হিসেবে চিত্রিত করা হত।


যুক্তরাষ্ট্রে ১৮২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জ্যাকসনকে তার বিরোধীরা অপমান করে ‘জ্যাকঅ্যাস’ বা গাধা বলে ডাকত, যা তিনি পরে নিজেই নিজের প্রচারের কৌশল হিসেবে লুফে নেন। নাস্টের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে তিনি একটি বিশৃঙ্খল চিড়িয়াখানা বা সার্কাস হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। নিউ ইয়র্কে বার্নাম অ্যান্ড বেইলি সার্কাসের যাত্রা শুরুর তিন বছর পর তার এই ভাবনার প্রকাশ ঘটে। সেরা ব্যঙ্গশিল্পীদের মত নাস্ট প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক শিবিরকেও বিদ্রূপ করতেন সমান উৎসাহ নিয়ে।


তিনি রিপাবলিকান পার্টিকে এমন একটি দুর্বল ও আতঙ্কিত প্রাণী হিসেবে এঁকেছেন, যা প্রায়ই দিশাহারা হয়ে ভুল পথে এগিয়ে যায়। তার বিশাল আকৃতিও এখানে কোনো সুবিধা নয়, বরং দুর্বলতার কারণ। নাস্টের আঁকা গাধার অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। ১৮৭৯ সালের একটি কার্টুনে দেখা যায়, একগুঁয়ে গাধাটি লেজ ধরে ঝুলে রয়েছে। নিচে ‘আর্থিক বিশৃঙ্খলা’ নামের অতল গহ্বর। যে কোনো মুহূর্তে সেখানে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। আসলে, তার বেশিরভাগ কার্টুনেই হাতি এবং গাধাকে চরম বিশৃঙ্খলার একেবারে দ্বারপ্রান্তে দেখানো হত, যা উনিশ শতকের শেষভাগে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের বেশ নিখুঁত একটি মূল্যায়ন ছিল। নাস্টের সেই বিখ্যাত কার্টুন, যেখানে সিংহের চামড়া গায়ে জড়ানো একটি গাধাকে হাতিসহ অন্য প্রাণীদের ভয় দেখাতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: লাইব্রেরি অব কংগ্রেস


ভাগ্যের নির্মম পরিহাস থেকে জন্ম নিলো প্রতীক


১৮৮০-এর দশকে নাস্ট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভীতিকর কার্টুনশিল্পী। ডান ও বাম—দুই রাজনৈতিক শিবিরের দুর্নীতিবাজ ও প্রতারকদের কাছে তিনি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, নিজের কার্টুনের মতই এক ঘটনায় সর্বস্ব হারান তিনি। ‘পঞ্জি স্কিম’ বা বিনিয়োগ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তার সব অর্থ শেষ হয়ে যায়। অথচ জীবনের পুরোটা সময় তিনি এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেই মানুষকে সতর্ক করে এসেছিলেন। ১৮৯০ সালে তিনি বড়দিনের ইলাস্ট্রেশনের একটি বই প্রকাশ করে নিজের ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততদিনে তিনি তার সৃজনশীল ধারার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন।


জীবনের শেষ দশকটি তার কেটেছে অসুস্থতা ও আর্থিক দুরবস্থায়। নিজের সেরা কাজগুলো যে অনেক আগেই করে ফেলেছেন, সেই উপলব্ধিও তাকে কষ্ট দিত। তবে নাস্টের সেই অসাধারণ উদ্ভাবনী ক্ষমতার কল্যাণে হাতি এবং গাধা আজও মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে সগৌরবে বেঁচে আছে। রিপাবলিকান পার্টি হাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে। ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে গাধাকে স্বীকৃতি না দিলেও, তাদের যে কোনো সমাবেশে গেলে গাধার ছবি বা প্রতীকের দেখা মিলবেই।


সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমেরিকার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের এই প্রতীকগুলোকে এত উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে, অথচ নাস্টের মূল কার্টুনে এই দুই প্রাণীকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। হয়তো কোনো দলই ব্যাজ আর ব্যাগে এই প্রতীক ছাপানোর আগে এর পেছনের ইতিহাস যাচাই করার প্রয়োজন মনে করেনি! অথবা তারা নাস্টের বিদ্রূপের বিষয়টি জানত। আর নিজেদের নিয়ে সেই ঠাট্টায় যোগ দেওয়াকেই যথাযথ জবাব বলে মনে করেছে।


সর্বশেষ সব খবর