ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দীর্ঘ প্রচারণা শেষ হয়। এবার শুরু হিসেব নিকেশ। দীর্ঘ প্রচারণা শেষে এবার হিসেবে বসছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সিলেট জেলার মোট ছয়টি আসন রয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে আছেন তাদের প্রার্থীরা।
তবে জামায়াতের নেতাদের দাবি, কেবল সিলেট-২ আসন ছাড়া আর কোথাও এগিয়ে নেই বিএনপি। একটিতে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। আর বাকীগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে সব আসনে নীরব ভোট বেশি। তারাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজনৈতিক নেতারা তাদের জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন।
প্রচার প্রচারণায় ভোটের মাঠ অনেকাংশেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক ও তাদের নেতা-কর্মীদের দখলে ছিল। এই দুই দলের প্রার্থীরাই ৫ অগাস্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনসংযোগ, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
সিলেট -১ঃ ‘মিথ ও মর্যাদার’ লড়াই
সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিকে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে সবসময় ‘মর্যাদার’ মনে করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেন, সেই দলই সরকার গঠন করে- এটা মিথে পরিণত হয়েছে।
এই আসনে আট প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাবিবুর রহমানের মধ্যে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া খন্দকার মুক্তাদির দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে প্রচারে থাকায় এগিয়ে থাকলেও ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে হাবিবুর রহমানও লড়াইয়ের আলোচনায় রয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক সিলেট বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম।
তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। তার কনিষ্ঠ ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০১৮ সালেও বিএনপির হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন।
এদিকে, বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির হাবিবুর রহমান। তাকে নিয়ে দলে কোনো কোন্দল নেই, নেই কোনো অসন্তোষ। ইসলামী ছাত্রশিবির দিয়ে রাজনীতির পথ চলা শুরু হাবিবুরের। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি সিলেট জেলা শাখার আমির থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে হাবিবুর রহমান সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া (আ্যাপেল), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্তি দাস (কাঁচি)।
সিলেট-২ঃ ‘ইলিয়াস-স্মৃতিতে নির্ভার’ লুনা
বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। এবার তিনি ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করছেন। তার সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা।
তারা মনে করেন, ইলিয়াস আলীর কারণে এখানে ব্যাপক জনপ্রিয় তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি ভোটের প্রচারে ইলিয়াস আলীর সময়ে হওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। এদিকে, এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এ নিয়ে দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।অবশেষে হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব (পররাষ্ট্র) হিসেবে মনোনীত করায় লুনা ‘ঝামেলা মুক্ত’ হন বলে মনে করেন সমর্থকরা।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন-গণফোরামের মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল)।
সিলেট-৩ঃ জোটের সুবিধা-অসুবিধা
ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মালিক। তার সঙ্গে মূল লড়াইয়ে থাকবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে মুসলেহ উদ্দিন রাজু তার বাবা ইসলামি পণ্ডিত মাওলানা নুরুদ্দিন গহরপুরীর পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারলে ফল এম এ মালিকের পক্ষে যেতে পারে।
তবে মালিকের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ দলের ঐক্য। আর এই আসনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন; তারাও ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। তবে তাদের অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেন তার উপরই নির্ভর করবে রাজুর ভাগ্য। এ ছাড়া এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। জোটের সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী লোকমান আহমদ থাকলে নির্বাচনি লড়াই হত হাড্ডাহাড্ডি। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তবে মূল লড়াইয়ে থাকবেন রিকশা প্রতীকের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনওয়ারুল হক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা (ফুটবল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইনুল বাকর (কম্পিউটার)।
সিলেট-৪ঃ ‘মেয়র-চেয়ারম্যানের’ লড়াই
কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এখানে ধানের শীষের প্রার্থী। আর জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। আরিফ ও জয়নালের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। আরিফুল হক সিলেট-১ আসনে মনোনয়র প্রত্যাশী ছিলেন। আর জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন আরিফুল হককে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার চালান।
তবে সিলেট-৪ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েচেনন আরিফুল। এদিকে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান। এলাকায় তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছেন। এই আসন থেকে জামায়াত কখনও নির্বাচিত হতে পারেনি।
আর নির্বাচনের ‘ম্যাজিক ম্যান’ হিসেবে আরিফুলের খ্যাতি রয়েছে। তার সমর্থকদের ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয়, বহিরাগত কোনো বিষয় নয়। এখানে উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক)।
সিলেট-৫ঃ ‘ফুলতলী হুজুর ফ্যাক্টর’
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মামুনুর রশিদ; যিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। ভোটের মাঠে তার ‘ফুটবল’ হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা। দলের শৃঙ্খলা না মানায় এরই মধ্যে তাকে সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করছেন এমন আরও কয়েক নেতা বহিষ্কার হয়েছেন।
বিএনপি এই আসনটি তার জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে লড়ছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপি জোট থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এখানে প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল হাসান। তিনি দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে লড়ছেন।তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে এসেছেন আরেক আলোচিত রাজনীতিক ‘চাকসু মামুন’।
তার গুরুত্ব অনুধাবন করে জেলা বিএনপির নেতারা ঘন ঘন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সফর করছেন। জোট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। সবশেষ এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন ‘ফুলতলী হুজুর’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী। ভোটারদের অভিমত, এই আসনে ‘ফুলতলী হুজুরের’ ব্যাপক সমর্থক রয়েছেন। অতীতের নির্বাচনে দেখা গেছে, ফুলতলী হুজুরের সংগঠন ‘আনজুমানে আল ইসলাহের’ ভোট যেদিকে গেছে সেদিকেই ভোটের বাতাস তৈরি হয়েছে।
এই ‘ভোট ব্যাংক’ সবসময় জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখে। ভোটারদের ধারণা, ‘ফুলতলী মসলকের’ একটা বড় ভোট ‘চাকসু মামুনের’ বাক্সে যেতে পারে। সেটা হয়ত মামুনের ব্যক্তি ইমেজ, দলীয় একাংশের সমর্থনের সঙ্গে বাড়তি শক্তি দেবে। এ আসনে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একবার করে এবং দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
সিলেট-৬ঃ
ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া এই আসনে নিজস্ব ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাওলানা ফখরুল ইসলামের। তিনি লড়াইয়ের ময়দানে জোরেশোরে ছুটছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এখানে বিএনপির মূল সমস্যা দলীয় বিভক্তি।
২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিশেষ করে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছিলেন। পরে দলের চূড়ান্ত টিকেট পান এমরান আহমদ চৌধুরী। ভোটের মাঠে এরা কেউ হয়ত প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ হননি। আর জামায়াতে ইসলামীর দুই উপজেলাতেই শক্ত ভিত্তি রয়েছে।
দলে কোনো কোন্দল নেই, সেটি সেলিম উদ্দিনকে সুবিধা দিচ্ছে।তবে কেউ কেউ এই আসনের এলাকাভিত্তিক ভোটের প্রভাবকে একেবারে নাকচ করে দিতে চান না। কারণ, জামায়াতের সেলিম উদ্দিন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী ফখরুল ইসলামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলাতে। এটা কাজে লাগলে বিএনপির প্রার্থী গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভালো অবস্থানে থাকবেন বলেও মনে করছেন তার নেতাকর্মীরা।
নেতারা যা বলছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ করছেন। আমাদের নির্বাচনি এলাকায় কিছু ছোটখাটো সমস্যা ছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, সিলেটের সব আসনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আশা করছি, সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেখতেছি, মানুষজন একটা পরিবর্তন চাচ্ছে, পুরাতন বন্দোবস্ত আর চাচ্ছে না। বিশেষ করে সমাজের তরুণ ভোটারদের একটা বড় আকাঙ্ক্ষা হল পুরাতন বন্দোবস্ত যেন আর ফিরে না আসে।”
বাঞ্ছারামপুরে ঐতিহাসিক সড়কের উদ্বোধন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির উদ্বোধন করেন।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নিয়ামতুল্লাহ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব কবির উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বাবুল মিয়া, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এবং পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. ওয়ালিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা এবং গণসংহতি আন্দোলনের বাঞ্ছারামপুর সমন্বয়ক শামীম শিবলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
‘ভূলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২০৩, কড়ইকান্দি হতে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর পর্যন্ত) ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২২০, সরাইল হতে বলভদ্র সেতু পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় সড়কটির উন্নয়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলাকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনা। পাশাপাশি নিরাপদ, দ্রুত ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
প্রকল্পের আওতায় ২৬ দশমিক ৭০৮ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট এবং ৪ দশমিক ৫৪৮ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি ৬টি সেতু, ৪৬টি কালভার্ট, ২১ দশমিক ৪৫৮ কিলোমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ, ১৪ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৮টি বাস-বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রকল্পে ৭৮ দশমিক ৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়েছে। প্রকল্পের বিবরণী অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ৪৯ হাজার ৫৪২ দশমিক ৪৩ লাখ টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯৬১ দশমিক ০৩ লাখ টাকা এবং নির্মাণ ও পূর্তকাজে ৫৩ হাজার ৯৬৫ দশমিক ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
সড়কটি চালু হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর, নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হওয়ায় যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নতুন এ সড়ক চালুর ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় মানুষের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
সিলেটের ওসমানীনগরে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি কালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের কাশিকাপন তেরমাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপর ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ওসমানীনগর থানা পুলিশের তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন- টুকের বাজারের সাব্বির আহমেদ বিপ্লব (২৬), শেখাটের নাহিদ হাসান (২১) ও পৈতপাড়া (শিববাড়ী) এলাকার হৃদয় পাল (২০)।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমন উপলক্ষে ২০ বছর পর সচল হয়েছিল সিলেট নগরের সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারা। তবে চালুর প্রায় ২০ ঘন্টা পরই আবার তা বন্ধ হয়ে গেছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুরমা পাড়ে ঘুরতে যাওয়া নগরের বাসিন্দারা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফোয়ারটি আগের মতো অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা যায়, রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পরদিনই ফোয়ারায় লাগানো জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়। এরপর এটি বন্ধ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রতির আগমনে সিলেটজুড়ে কয়েকদিন ধরেই চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সেই কাজের অংশ হিসেবে সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে একদম ঝকঝকে করা হয়। এরই সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পর সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারায় পানি আসে। সিলেট সিটিকেরপোরেশন ফোয়ারাটি সচল করে। শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে আছে। ফোয়ারার পাশে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন তরুণ।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াক ওয়ে থেকে অপসারণ করা ভ্রাম্যমান টং দোকানগুলো আবার ওই এলাকা দখল করে বসেছে। পুরো ওয়াকওয়ে চটপটি ও ফুচকার দোকান এবং তাদের বসানো চেয়ারের দখলে।
একইসঙ্গে চাঁদনীঘাট ও কিনব্রিজ দখল করে যত্রতত্র গাড়িও পার্কিং করে রাখা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় ঘুরতে আসা সরকারি চাকরিজীবী রোকশানা বেগম খাদিজা জানান, রাষ্ট্রপতি আসায় এই ফোয়ারাটি চালু করা হয়েছিল। আমি এর আগে কোনদিন এই ফোয়ারাটি চালু অবস্থায় দেখিনি। ফোয়ারা চালু হওয়ায় দেখতে ভালো লাগছিলো। কিন্তু পরদিন থেকেই ফোয়ারাটি অচল হয়ে যায়।
ঘুরতে আসা আরেক তরুণ কাওছর আহমদ জানান, টং দোকান আর গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এই এলকায় হাঁটাচলার কোন সুযোগ নেই। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই জায়গাটি নির্বিঘ্নে হাঁটাাাহাটি ও পর্যটকদের জন্য একটি আর্ষনীয় স্থান হতে পারতো। এখন এটি ঘিঞ্জি বাজারে পরিণত হয়েছে।
সংশ্নিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে (চাঁদনীঘাট এলাকায়) সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রকল্পের কাজ শেষে ২০০৫ সালে তিনি সুরমা নদীর পাড় এলাকার উদ্বোধন করেন।
মূলত সিলেটের সুরমা নদীর পাড়কে নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল এটি। এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় আধুনিক নকশার পাকা ওয়াকওয়ে এবং নদী ঘেঁষে সুরক্ষামূলক দৃষ্টিনন্দন স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে সুরমার তীরের এই উন্মুক্ত স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা সুরমা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর দেখে যান। তবে উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেটি চালু হতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি আসায় গত মঙ্গলবার এটি কয়েকন্টার জন্য সচল করেছিল সিটি করপোরেশন।
সিসিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আসায় জেনারেটর দিয়ে এটি অস্থায়ী ভাবে চালু করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পরদিন জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১২১ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বসুরহাটের নির্ঝর কনভেনশন হল মিলনায়তনে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১২১ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে অতিথিরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদ, শিক্ষা উপকরণ ও নগদ অর্থ তুলে দেন। সম্মাননা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ বি এস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নূর উদ্দিন রুবেল, বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সাইফুল প্রমূখ।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিষে তিন শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের বাবা। ধারণা করা হচ্ছে সন্তানদের বিষ খাইয়ে তিনি নিজেও বিষপান করেছেন। আজ শনিবার ভোরে উপজেলার উত্তরবড়দল ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম রজনী লাইনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত।
ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, রজনী লাইন গ্রামের শরাফত আলী দিনমজুরের কাজ করেন। তার স্ত্রী চারদিন আগে শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য গেছেন।
১০ বছর বয়সি মেয়ে মাওয়া আক্তার, ৭ বছর বয়সি ছেলে শামীম মিয়া, দেড় বছর বয়সি ছেলে তামিম মিয়াকে নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন শরাফত আলী। বাড়িতে আর কেউ না থাকায় বের হতে পারতেন না তিনি।
জামাল মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতের শেষ দিকে তাদের গোঙ্গানি শুনতে পেরে প্রতিবেশিসহ স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে বাদাঘাট বাজারে ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
সেখানকার চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং শরাফতকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষপানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শরাফত আলীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন স্বজনরা। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, “শরাফতের বউ প্রবাসে থাকে। সে তিন বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে থাকে। স্বজনদের ধারণা মোবাইলে বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে বা বউয়ের শুন্যতায় অভিমানে তিন সন্তানসহ বিষপান করেছে সে। তিন সন্তানই মারা গেছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।”
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, “শনিবার ভোরে খবর পেয়ে বাদাঘাট ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখতে পাই তিনটি শিশু মেঝেতে অচেতন অবস্থায় আছে। পরে চিকিৎসক জানালেন শিশুরা মারা গেছেন। ”
“তাদের বাবাকে স্বজনরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে এখনো প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। ”
শিশুদের লাশ তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের সাগরের পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া আটটার দিকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কলাতলী ও সুগন্ধা সৈকতের মধ্যবর্তী স্থানে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। ওই পর্যটকের নাম মোফাজ্জল ইমাম ওরফে সীমান্ত (২০)। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়ায়। তিনি স্থানীয় ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফ গার্ড। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, মোফাজ্জলসহ পর্যটকদের ৯ জনের একটি দল ১৬ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসে। তারা কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে উঠেছিল।
গতকাল সন্ধ্যায় সাগরে গোসল করতে নামেন এসব পর্যটক। তবে গোসলের এক পর্যায়ে স্রোতের টানে মোফাজ্জলসহ তিন পর্যটক ভেসে যান। বিষয়টি নজরে আসার পর সি-সেফ লাইফ গার্ড এবং জেলা প্রশাসন নিয়োজিত বিচকর্মীরা সাগরে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এ সময় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সৈকতে কর্মরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম বলেন, দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মোফাজ্জলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রাত সোয়া আটটার দিকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় সাগর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মোফাজ্জল ইমামের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে তাঁদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
লাইফগার্ড কর্মীরা জানান, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় ১০-১২টি গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে। গোসলের সময় ঢেউয়ের তোড়ে কেউ এসব গুপ্তখালে আটকে পড়লে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসলে নামতে নিষেধ করে একাধিক লাল নিশানা ওড়ানো হয়।
তবে তা না মেনে পর্যটকদের অনেকেই সেখানে গোসল করতে নামেন। হোটেলমালিক ও লাইফগার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারের দুই দিনে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন প্রায় আড়াই লাখ পর্যটক।