ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দীর্ঘ প্রচারণা শেষ হয়। এবার শুরু হিসেব নিকেশ। দীর্ঘ প্রচারণা শেষে এবার হিসেবে বসছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সিলেট জেলার মোট ছয়টি আসন রয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে আছেন তাদের প্রার্থীরা।
তবে জামায়াতের নেতাদের দাবি, কেবল সিলেট-২ আসন ছাড়া আর কোথাও এগিয়ে নেই বিএনপি। একটিতে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। আর বাকীগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে সব আসনে নীরব ভোট বেশি। তারাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজনৈতিক নেতারা তাদের জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন।
প্রচার প্রচারণায় ভোটের মাঠ অনেকাংশেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক ও তাদের নেতা-কর্মীদের দখলে ছিল। এই দুই দলের প্রার্থীরাই ৫ অগাস্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনসংযোগ, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
সিলেট -১ঃ ‘মিথ ও মর্যাদার’ লড়াই
সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিকে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে সবসময় ‘মর্যাদার’ মনে করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেন, সেই দলই সরকার গঠন করে- এটা মিথে পরিণত হয়েছে।
এই আসনে আট প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাবিবুর রহমানের মধ্যে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া খন্দকার মুক্তাদির দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে প্রচারে থাকায় এগিয়ে থাকলেও ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে হাবিবুর রহমানও লড়াইয়ের আলোচনায় রয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক সিলেট বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম।
তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। তার কনিষ্ঠ ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০১৮ সালেও বিএনপির হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন।
এদিকে, বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির হাবিবুর রহমান। তাকে নিয়ে দলে কোনো কোন্দল নেই, নেই কোনো অসন্তোষ। ইসলামী ছাত্রশিবির দিয়ে রাজনীতির পথ চলা শুরু হাবিবুরের। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি সিলেট জেলা শাখার আমির থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে হাবিবুর রহমান সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া (আ্যাপেল), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্তি দাস (কাঁচি)।
সিলেট-২ঃ ‘ইলিয়াস-স্মৃতিতে নির্ভার’ লুনা
বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। এবার তিনি ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করছেন। তার সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা।
তারা মনে করেন, ইলিয়াস আলীর কারণে এখানে ব্যাপক জনপ্রিয় তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি ভোটের প্রচারে ইলিয়াস আলীর সময়ে হওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। এদিকে, এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এ নিয়ে দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।অবশেষে হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব (পররাষ্ট্র) হিসেবে মনোনীত করায় লুনা ‘ঝামেলা মুক্ত’ হন বলে মনে করেন সমর্থকরা।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন-গণফোরামের মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল)।
সিলেট-৩ঃ জোটের সুবিধা-অসুবিধা
ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মালিক। তার সঙ্গে মূল লড়াইয়ে থাকবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে মুসলেহ উদ্দিন রাজু তার বাবা ইসলামি পণ্ডিত মাওলানা নুরুদ্দিন গহরপুরীর পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারলে ফল এম এ মালিকের পক্ষে যেতে পারে।
তবে মালিকের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ দলের ঐক্য। আর এই আসনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন; তারাও ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। তবে তাদের অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেন তার উপরই নির্ভর করবে রাজুর ভাগ্য। এ ছাড়া এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। জোটের সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী লোকমান আহমদ থাকলে নির্বাচনি লড়াই হত হাড্ডাহাড্ডি। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তবে মূল লড়াইয়ে থাকবেন রিকশা প্রতীকের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনওয়ারুল হক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা (ফুটবল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইনুল বাকর (কম্পিউটার)।
সিলেট-৪ঃ ‘মেয়র-চেয়ারম্যানের’ লড়াই
কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এখানে ধানের শীষের প্রার্থী। আর জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। আরিফ ও জয়নালের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। আরিফুল হক সিলেট-১ আসনে মনোনয়র প্রত্যাশী ছিলেন। আর জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন আরিফুল হককে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার চালান।
তবে সিলেট-৪ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েচেনন আরিফুল। এদিকে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান। এলাকায় তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছেন। এই আসন থেকে জামায়াত কখনও নির্বাচিত হতে পারেনি।
আর নির্বাচনের ‘ম্যাজিক ম্যান’ হিসেবে আরিফুলের খ্যাতি রয়েছে। তার সমর্থকদের ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয়, বহিরাগত কোনো বিষয় নয়। এখানে উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক)।
সিলেট-৫ঃ ‘ফুলতলী হুজুর ফ্যাক্টর’
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মামুনুর রশিদ; যিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। ভোটের মাঠে তার ‘ফুটবল’ হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা। দলের শৃঙ্খলা না মানায় এরই মধ্যে তাকে সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করছেন এমন আরও কয়েক নেতা বহিষ্কার হয়েছেন।
বিএনপি এই আসনটি তার জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে লড়ছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপি জোট থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এখানে প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল হাসান। তিনি দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে লড়ছেন।তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে এসেছেন আরেক আলোচিত রাজনীতিক ‘চাকসু মামুন’।
তার গুরুত্ব অনুধাবন করে জেলা বিএনপির নেতারা ঘন ঘন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সফর করছেন। জোট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। সবশেষ এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন ‘ফুলতলী হুজুর’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী। ভোটারদের অভিমত, এই আসনে ‘ফুলতলী হুজুরের’ ব্যাপক সমর্থক রয়েছেন। অতীতের নির্বাচনে দেখা গেছে, ফুলতলী হুজুরের সংগঠন ‘আনজুমানে আল ইসলাহের’ ভোট যেদিকে গেছে সেদিকেই ভোটের বাতাস তৈরি হয়েছে।
এই ‘ভোট ব্যাংক’ সবসময় জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখে। ভোটারদের ধারণা, ‘ফুলতলী মসলকের’ একটা বড় ভোট ‘চাকসু মামুনের’ বাক্সে যেতে পারে। সেটা হয়ত মামুনের ব্যক্তি ইমেজ, দলীয় একাংশের সমর্থনের সঙ্গে বাড়তি শক্তি দেবে। এ আসনে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একবার করে এবং দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
সিলেট-৬ঃ
ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া এই আসনে নিজস্ব ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাওলানা ফখরুল ইসলামের। তিনি লড়াইয়ের ময়দানে জোরেশোরে ছুটছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এখানে বিএনপির মূল সমস্যা দলীয় বিভক্তি।
২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিশেষ করে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছিলেন। পরে দলের চূড়ান্ত টিকেট পান এমরান আহমদ চৌধুরী। ভোটের মাঠে এরা কেউ হয়ত প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ হননি। আর জামায়াতে ইসলামীর দুই উপজেলাতেই শক্ত ভিত্তি রয়েছে।
দলে কোনো কোন্দল নেই, সেটি সেলিম উদ্দিনকে সুবিধা দিচ্ছে।তবে কেউ কেউ এই আসনের এলাকাভিত্তিক ভোটের প্রভাবকে একেবারে নাকচ করে দিতে চান না। কারণ, জামায়াতের সেলিম উদ্দিন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী ফখরুল ইসলামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলাতে। এটা কাজে লাগলে বিএনপির প্রার্থী গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভালো অবস্থানে থাকবেন বলেও মনে করছেন তার নেতাকর্মীরা।
নেতারা যা বলছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ করছেন। আমাদের নির্বাচনি এলাকায় কিছু ছোটখাটো সমস্যা ছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, সিলেটের সব আসনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আশা করছি, সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেখতেছি, মানুষজন একটা পরিবর্তন চাচ্ছে, পুরাতন বন্দোবস্ত আর চাচ্ছে না। বিশেষ করে সমাজের তরুণ ভোটারদের একটা বড় আকাঙ্ক্ষা হল পুরাতন বন্দোবস্ত যেন আর ফিরে না আসে।”
গ্রাম পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী ‘দফাদার’ পদবি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ করা হয়েছে। এছাড়া ‘মহল্লাদার’ পদ পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন পদবি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ৪৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উপরি-উক্ত বিধিমালার সর্বত্র উল্লিখিত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট খুলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মনিরুল দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। স্থানীয়রা জানান, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তার বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। মুড়ির প্যাকেটটি ঘরের ভেতর মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।
তারা জানান, এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্রে আগুন ধরে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দূর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ অভিমুখে এলজিইডির বাস্তবায়নে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে।
দীর্ঘদিন থেকে খানাখন্দে ভরপুর রাস্তা যেন যৌবন ফিরে পেল এমনটা মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্ষাকালে এই পথ দিয়ে প্রায় হাঁটু পরিমাণ কাঁদা হতো৷ ইদিলপুর থেকে ধাপের হাট যেতে ঘুরতে হতো ১০ কিলোমিটার রাস্তা। এতে করে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থের পাশাপাশি নষ্ট হতো পণ্যও৷ সেইসাথে শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হতো চরম বিপাকে। এমনকি রাস্তা খারাপ থাকায় বিয়ে পর্যন্ত ভেঙ্গে যেত।
বর্তমানে এলজিইডি সাদুল্লাপুরের নিবিড় তদারকিতে রাস্তার কাজ স্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
রাস্তা উন্নয়নের বিষয়ে ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান জানান, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত সকল মালামাল মানসম্মত দেখেছি। তবে আমার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।
ধান,হলুদ,মরিচ,পেঁয়াজসহ বহু কৃষিজাত পণ্যের সমাহার ধাপেরহাট ও ইদিলপুর এলাকায়। উর্বর মাটিতে যেন সোনা ফলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নীতকরণের ফলে এখানকার কৃষি একধাপ এগিয়ে যাবে এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।
রাস্তা নির্মাণ নিয়ে কথা হয় সাদুল্লাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মেনাজ এর সাথে তিনি জানান, ইদিলপুরে আমাদের ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তায় প্রতিটা লেয়ারে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভালোভাবে করা হয়েছে। আমাদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট সকলে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
রাস্তা উন্নয়ন মানেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে কাজের মান ভালো হলেই স্থায়িত্ব ভালো হবে। ভালো কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এমনটা প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার( ৩ নভেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি- ২ আসনের সাংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ,নলছিটি পাবলিক লাইব্রেরি এন্ড সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাহার,নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল খান,ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলার সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হায়দার বাদল। এসময় উপজেলার ১০৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সড়কের পাশে অবস্থান নিতে এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম খান রাজু, ভালুকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তারা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে থাকা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।