দেবীগঞ্জ থানা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৪ মে, ২০২৬, সময় : ২:০৮ এএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া এক কন্যা শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।


গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী পার্শ্ববর্তী মৌমারী শাপলাকুড়ি কিণ্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।


উপজেলার পামুলি ইউনয়নের হাকিমপুর নগরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত আনোয়ার ইসলাম ভুক্তভোগী শিশুর প্রতিবেশী। বাসার পাশেই তার চা এর দোকান রয়েছে। সে একই এলাকার সোবহান ইসলামের ছেলে। আনোয়ার নিজেও এক কন্যা শিশুর বাবা।


ভুক্তভোগী শিশুটির মা শিউলি আক্তার বলেন, ঘটনার দিন মেয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হলে তাকে কিছু দূর এগিয়ে দেই। এরপর স্কুল থেকে ফোনে ঘটনাটি জানানো হয় আমাকে। গতকাল শনিবার (২৩ মে) ওই শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে দেবীগঞ্জ থানায় আসেন শিউলি আক্তার ও তার স্বামী। 


ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার মা এগিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আনোয়ার তার সাইকেলে জোর করে তুলে নেয় তাকে। কিছু দূর যাওয়ার পর সাইকেল থামিয়ে আনোয়ার রাস্তার পাশের একটি কলা বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত চেপে ধরলে মেয়েটি চিৎকার করে। পথচারীরা দেখে ফেলবে এই ভয়ে আনোয়ার হাত ছেড়ে দিলে শিশুটি সেখান থেকে দৌড়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষিকাকে সব খুলে বললে তার মাকে ফোনে সব জানানো হয়।


শিশুটির মা শিউলি আক্তার অভিযোগ করেন প্রায় ২০-২২ দিন আগেও তার মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টা করে আনোয়ার। সেদিন মক্তব ছুটি শেষে বাসার ফেরার সময় আনুমানিক সকাল ১১টার পর আনোয়ারের দোকানের সামনে এলে শিশুটির হাত ধরে রাস্তার পাশের লিচু বাগানে নেয় আনোয়ার। সেদিন শিশুটিকে বিবস্ত্র করা হলেও পথচারীদের জন্য শিশুটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় আনোয়ার। 


তবে ছেড়ে দেওয়ার আগে সেই ঘটনা যেন কাউকে না জানায় এই জন্য শিশুটিকে হুমকিও দেন আনোয়ার। যার কারণে পূর্বের ঘটনা সম্পর্কে শিশুটি তার মাকে কিছু জানায়নি। ওই ঘটনার পর শিশুটি আর মক্তবে যেতে না চাওয়ায় বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরে শিশুটি তার মাকে আগের ঘটনা জানায়।


এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এই বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আসামী গ্রেফাতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ পিএম

রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে  অনিয়ম দুর্নীতি জালিয়াতির এক অভয় অরন্যে পরিনিত হয়েছে। ঘুস দুর্নীতি জালিয়াতি আর সাধারণ মানুষ কে ধোঁকা দেওয়া, আজ নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । অর্থের বিনিময় বালাম বই এর পাতা ছিঁড়ে ফেলা, টাকার বিনিময় রেজি:কৃত দলিলের পাতা পরিবর্তন পরিবর্ধন আজ নিত্য দিনের ব্যাপার । সাধারণ মানুষের নতুন করে দলিল বালাম বইতে লিপিবদ্ধ করতে  ৫/৬ বছর সময় লাগে । 


সেই সুযোগে বুঝে অফিসের অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা যোগ সাজশ করে বিপুল পরিমাণ কালো অর্থৈর বিনিময় দূর্নীতি তে লিপ্ত হচ্ছে । সেবা গ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত দলিলের জাবেদা কপি তুলতে সরকারি ফির পরিবতে  ৪/৫ গুন টাকা আদায় করছে তারা ।  


সাধারণ মানুষ কে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ছেঁড়া পাতা বই নেই ভলিয়ম পোকা খেয়ে ফেলেছে, পাতা ছিঁড়া, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না , ইত্যাদি ইত্যাদি ওজুহাত দেখিয়ে অফিসে চার পাশের সিন্ডিকে দালালরা  ও কর্মচারীগন সাধারণ মানুষ কে জিম্মি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 


এখানে প্রতিদিন গড়ে এখানে ১০০থেকে১৫০ টিরও অধিক দলিল রেজিঃ হলেও সরকারি নির্ধারিত ফি বাদ দিয়েও অফিসের উপরি খরচ বাবদ সাহেব উপরি  সর্বমোট ২/৩ হাজার টাকা প্রতি এক একটি রেজিঃদলিল করে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা । থাম টিপ আজগর দলিলের পাতায় পাতায় ১০০টাকা না পেলে দলিল পার হয় না । অফিসে সরজমিনে গেলেই দেখা গেছে অসংখ্য নতুন দলিল মেঝেতে  অযত্নে পড়ে  আছে । 


অফিসে সরকারি হেফাজত কৃত রেজিঃ দলিলের মূল  পাতা পরিবর্তন করে । নতুন পাতা সংযোজনের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে । তথ্যঅনুসন্ধান ও মামলা সুত্রে জানা যায়। মোঃ নুরুজ্জামান ওরফে শাহীন (৬০) রংপুর মহানগরী মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।উক্ত এজহার ও অন্য ১১৯/২২ বাটোয়ারা মামলা থেকে জানা যায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ২৮৭৫/২০২২ ও ২৮৭৬/২০২২ নম্বর হেবা ঘোষনার দলিলের জাবেদা কপি ২০২৫ সালের  ফেব্রুয়ারী রংপুর সদর সাবরেজিস্টার অফিস থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ২৮৭৫/২০২২ ও ২৮৭৬/২০২২ নম্বর হেবা ঘোষণার দলিলের নতুন করে জাবেদা কপি সংগ্রহ করেন তাঁরা।


অভিযোগকারীর ভাষ্য, আগের সংগ্রহ করা জাবেদা কপির সঙ্গে নতুন কপির তুলনা করে তাঁরা গুরুতর অসংগতি দেখতে পান। উভয় দলিলের তৃতীয় পাতার সপ্তম দফার বক্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরোনো পাতা সরিয়ে সেখানে নতুন করে কম্পিউটারে টাইপ করা পাতা সংযোজন করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। 


এ সময় কয়েকজন সাক্ষীও উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও জানা যায় প্রথমে উক্ত ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ নম্বর হেবা ঘোষণার দলিল দুটি রেজিষ্ট্রেশন করা হয় দুইটি ভূয়া হেবাবিল এওয়াজ দলিলের সূত্রে যাহার নম্বর ১৪৪৩/০৩ ও ১৪৪৪/০৩ এবং  হেবা ঘোষণার দলিল দুটি দাতা ও গৃহীতা হলেন দুই ভাই বোন এ এস এম আতাউজ্জামান ও সৈয়দা রেজিনা জামান এবং পরবর্তীতে দলিলের পাতা ও দফা পরিবর্তন করে ভিন্ন বক্তব্য সংযোজন করা হয়।


এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরিবর্তিত দলিলের ভিত্তিতে অনলাইনে পুনরায় নামজারি ও খাজনা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকি জমি অন্যত্র বিক্রির চেষ্টাও করা হয়েছে। এতে পরিবারের অন্য উত্তরাধিকারীরা তাঁদের ন্যায্য সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

অভিযোগকারীর দাবি সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


দলিলের সততা যাচাইয়ে দুই ধরনের তথ্য, প্রশ্ন সরকারি নথির নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই দলিল নম্বরের বিপরীতে দুই ধরনের তথ্য ও বক্তব্য থাকার দাবি। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরবরাহ করা আগের ও পরের জাবেদা কপির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে দলিলের সত্যতা যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


এ ছাড়া একই জমি নিয়ে একাধিকবার দলিল তৈরি, পৃথক ব্যক্তির নামে নামজারি এবং দলিলের তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ সত্য হলে তা ভূমি নিবন্ধন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

জমির মালিকানা নির্ধারণ, উত্তরাধিকার ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রমাণ। সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত মূল নথির তথ্য নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের জমিজমার কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ৫৭ ধারায় নির্দিষ্ট নিবন্ধন বই পরিদর্শন এবং সেখান থেকে সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে। 


একই আইনের ৬০ ও ৬১ ধারায় নিবন্ধন সনদ এবং নিবন্ধন-পরবর্তী কার্যক্রমের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ৮১ ধারায় ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ভুলভাবে দলিল নকল, অনুলিপি বা নিবন্ধনের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।


প্রতিবেদক জেলা রেজিস্ট্রার শামিমা পারভীন কে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন, উক্ত বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদি‌কে সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ কে  ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ দলিলের  বিষয়ের ৩ নম্বর পাতার সাত দফা পরিবর্তনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন।


এই বিষয় প্রতিবেদক  সদর সাবরেজিস্টার অফিস কর্মচারী দলিল লিপিবদ্ধকারী মোছা: সেলিনা ও উর্মী বেগম কে  ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ দলিলের  ৩ নম্বর পাতার সাত নম্বর দফা পরিবর্তন  সম্পর্কে  জানতে চাইলে তি‌নিও এর সত্যতা স্বীকার করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অযৌক্তিক ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় টঙ্গী স্টেশন রোডের সরকার বাড়ির সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেশন রোডে এসে শেষ হয়।


মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার।


এ সময় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহনুর ইসলাম রনি এবং টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নবীন হোসেন।


পথসভায় বক্তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার আহ্বান জানান।


বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো মহল যেন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।


কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ পিএম

পাবনার আদালতে ৫৪ লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত ওয়াহেদুল ইসলামের রংপুর ও মিঠাপুকুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় কার্যকর এড়াতে সম্পত্তি গোপনে হস্তান্তরের অপচেষ্টা চলায় রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর সাব-রেজিস্ট্রার এবং সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে।


আদালতের নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সুরুজ গত ১১ অক্টোবর রংপুর সদর ও মহানগর সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে এস.সি-১২৮৪/২০২৫ মামলার রায় অনুযায়ী আসামির নামীয় সকল সম্পত্তির হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি মিউটেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়।


এদিকে জাতীয় দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় গত ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত এক সংবাদে ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের সদস্য হিসেবে ওয়াহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে রংপুরে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।


অপরদিকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত পাবনার বিচারক এম. সারওয়ার জাহান স্বাক্ষরিত আদেশের সত্যায়িত অনুলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের রায়ে আসামি ওয়াহেদুল ইসলামকে Negotiable Instruments Act ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬[১][খ] ধারা মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাবনা বরাবর অর্থ আদায়ের জন্য আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।


মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলাটি এস.সি-১২৮৪/২০২৫। বাদী ওমায়ের ইসলাম। বর্তমানে আসামি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। একই আদালতে তার বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকার অপর মামলা এস.সি ১২৮৫/২০২৫ এর রায় আগামী ২১ নভেম্বর ঘোষণার জন্য ধার্য রয়েছে।


আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আদালতের ক্রোকাদেশ চলমান থাকা অবস্থায় ওয়াহেদুল ইসলামের নামীয় কোনো সম্পত্তি কিনলে ক্রেতা চরম আইনি ঝুঁকিতে পড়বেন। দলিল বাতিল ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই রংপুর ও মিঠাপুকুর এলাকায় তার নামীয় কোনো সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৬ পিএম

সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইলে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, শ্রমিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে শ্রমিকরা। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


আহতদের মধ্যে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমসহ সাত পুলিশ সদস্য এবং তিন সাংবাদিক রয়েছেন। আহত সাংবাদিকরা হলেন- ৭১ টেলিভিশনের রায়ইন ও উজ্জল এবং স্টার নিউজের সিরাজি। নিউজ টোয়েন্টিফোর এর সাংবাদিক নাজমুল হুদা ও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


সাভারের হেমায়েতপুরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা দলে দলে এসে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত না করা এবং আগে আটক শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া। 


এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।


বুধবার পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও পদ্মার মোড় এলাকার ১১টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণ চালকরা।


সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশকে সহায়তা করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।


অন্যদিকে, সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও পালটা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।


সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ওসি সাইফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলে আহত হন। তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।


এদিকে, পদ্মার মোড়ে ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।


আহত সাংবাদিকদের বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ফুটেজ নেওয়ার সময় শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

গ্রাম পুলিশ। লোগো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

গ্রাম পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী ‘দফাদার’ পদবি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ করা হয়েছে। এছাড়া ‘মহল্লাদার’ পদ পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে। 


ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন পদবি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।


রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ৪৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে।


সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উপরি-উক্ত বিধিমালার সর্বত্র উল্লিখিত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ পিএম

খুলনার দিঘলিয়ায় পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট খুলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। 


মনিরুল দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। স্থানীয়রা জানান, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তার বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। মুড়ির প‍্যাকেটটি ঘরের ভেতর মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। 


তারা জানান, এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্রে আগুন ধরে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। 


দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে  ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দূর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ সব খবর