ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক আধিপত্য স্থাপনের মাধ্যমে রংপুরে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির দুর্গকে বিলীন করে
এবার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ১১ দলীয় জামায়াত
জোট।
শুক্রবার
(১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক
মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
ঘোষিত
ফলাফলে ছয়টি আসনের পাঁচটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী
এনসিপি।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক)
জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ২৮
হাজার ৪৫৭। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৩১৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬০ দশমিক ৮৯
শতাংশ।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ)
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। দুটি উপজেলার ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬১
হাজার ৮৩৯। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ৫৬ হাজার ২০৩
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৬৪৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৭৪
শতাংশ।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন)
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। এখানে ১৬৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৪
হাজার ৭৯৫। এর মধ্যে বৈধ ৩
লাখ ১৭ হাজার ৫৯২
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৭ হাজার ২০৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৯১
শতাংশ।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটসমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিকে ৯ হাজার ৪০২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। দুই উপজেলার ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮
হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ
৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৮ হাজার ২৬৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৬ দশমিক ৩৫
শতাংশ।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)
জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।
মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এখানে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৯
হাজার ৪৮৯। এর মধ্যে বৈধ
৩ লাখ ১২ হাজার ৮৪
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৮ হাজার ৪০৫। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৩১
শতাংশ।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ টি।
এ
আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৫
হাজার ৭৩৫ জন। এখানকার ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭
হাজার ৪২৭। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৪৫২। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৫৫
শতাংশ।
জেলা
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে ২৫ লাখ ৯৯
হাজার ২০২ জন ভোটার ৮৭৩টি
ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৮৮টি
বুথে ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতি দল ও স্বতন্ত্র
মিলে ৪৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এদিকে,
রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন
রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয়
আর জাতীয় পার্টি আসনশুন্য অবস্থান আগামীতে রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেউ
কেউ মনে করছেন, এবার রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। তবে উন্নয়ন বৈষম্য থেকে বের হতে না পারলে আবারো
পিছিয়ে যাবে তিস্তা নদী বেষ্টিত কৃষিনির্ভর রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা।
ভোটের
দিন সকাল থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে
কোথাও দেখা যায়নি। মাঠে ছিলেন না জাতীয় পার্টির
কেন্দ্রীয় নেতারাও। অনেকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি বক্তব্য। জিএম কাদের নিজেও বের হননি রংপুরের সেনপাড়ার স্কাই ভিউ নিবাস থেকে। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরা তার বাসার সামনে কয়েক দফায় জড়ো হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি।
বাঞ্ছারামপুরে ঐতিহাসিক সড়কের উদ্বোধন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির উদ্বোধন করেন।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নিয়ামতুল্লাহ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব কবির উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বাবুল মিয়া, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এবং পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. ওয়ালিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা এবং গণসংহতি আন্দোলনের বাঞ্ছারামপুর সমন্বয়ক শামীম শিবলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
‘ভূলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২০৩, কড়ইকান্দি হতে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর পর্যন্ত) ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২২০, সরাইল হতে বলভদ্র সেতু পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় সড়কটির উন্নয়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলাকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনা। পাশাপাশি নিরাপদ, দ্রুত ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
প্রকল্পের আওতায় ২৬ দশমিক ৭০৮ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট এবং ৪ দশমিক ৫৪৮ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি ৬টি সেতু, ৪৬টি কালভার্ট, ২১ দশমিক ৪৫৮ কিলোমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ, ১৪ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৮টি বাস-বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রকল্পে ৭৮ দশমিক ৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়েছে। প্রকল্পের বিবরণী অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ৪৯ হাজার ৫৪২ দশমিক ৪৩ লাখ টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯৬১ দশমিক ০৩ লাখ টাকা এবং নির্মাণ ও পূর্তকাজে ৫৩ হাজার ৯৬৫ দশমিক ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
সড়কটি চালু হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর, নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হওয়ায় যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নতুন এ সড়ক চালুর ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় মানুষের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
সিলেটের ওসমানীনগরে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি কালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের কাশিকাপন তেরমাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপর ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ওসমানীনগর থানা পুলিশের তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন- টুকের বাজারের সাব্বির আহমেদ বিপ্লব (২৬), শেখাটের নাহিদ হাসান (২১) ও পৈতপাড়া (শিববাড়ী) এলাকার হৃদয় পাল (২০)।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমন উপলক্ষে ২০ বছর পর সচল হয়েছিল সিলেট নগরের সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারা। তবে চালুর প্রায় ২০ ঘন্টা পরই আবার তা বন্ধ হয়ে গেছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুরমা পাড়ে ঘুরতে যাওয়া নগরের বাসিন্দারা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফোয়ারটি আগের মতো অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা যায়, রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পরদিনই ফোয়ারায় লাগানো জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়। এরপর এটি বন্ধ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রতির আগমনে সিলেটজুড়ে কয়েকদিন ধরেই চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সেই কাজের অংশ হিসেবে সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে একদম ঝকঝকে করা হয়। এরই সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পর সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারায় পানি আসে। সিলেট সিটিকেরপোরেশন ফোয়ারাটি সচল করে। শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে আছে। ফোয়ারার পাশে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন তরুণ।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াক ওয়ে থেকে অপসারণ করা ভ্রাম্যমান টং দোকানগুলো আবার ওই এলাকা দখল করে বসেছে। পুরো ওয়াকওয়ে চটপটি ও ফুচকার দোকান এবং তাদের বসানো চেয়ারের দখলে।
একইসঙ্গে চাঁদনীঘাট ও কিনব্রিজ দখল করে যত্রতত্র গাড়িও পার্কিং করে রাখা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় ঘুরতে আসা সরকারি চাকরিজীবী রোকশানা বেগম খাদিজা জানান, রাষ্ট্রপতি আসায় এই ফোয়ারাটি চালু করা হয়েছিল। আমি এর আগে কোনদিন এই ফোয়ারাটি চালু অবস্থায় দেখিনি। ফোয়ারা চালু হওয়ায় দেখতে ভালো লাগছিলো। কিন্তু পরদিন থেকেই ফোয়ারাটি অচল হয়ে যায়।
ঘুরতে আসা আরেক তরুণ কাওছর আহমদ জানান, টং দোকান আর গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এই এলকায় হাঁটাচলার কোন সুযোগ নেই। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই জায়গাটি নির্বিঘ্নে হাঁটাাাহাটি ও পর্যটকদের জন্য একটি আর্ষনীয় স্থান হতে পারতো। এখন এটি ঘিঞ্জি বাজারে পরিণত হয়েছে।
সংশ্নিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে (চাঁদনীঘাট এলাকায়) সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রকল্পের কাজ শেষে ২০০৫ সালে তিনি সুরমা নদীর পাড় এলাকার উদ্বোধন করেন।
মূলত সিলেটের সুরমা নদীর পাড়কে নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল এটি। এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় আধুনিক নকশার পাকা ওয়াকওয়ে এবং নদী ঘেঁষে সুরক্ষামূলক দৃষ্টিনন্দন স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে সুরমার তীরের এই উন্মুক্ত স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা সুরমা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর দেখে যান। তবে উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেটি চালু হতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি আসায় গত মঙ্গলবার এটি কয়েকন্টার জন্য সচল করেছিল সিটি করপোরেশন।
সিসিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আসায় জেনারেটর দিয়ে এটি অস্থায়ী ভাবে চালু করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পরদিন জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১২১ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বসুরহাটের নির্ঝর কনভেনশন হল মিলনায়তনে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১২১ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে অতিথিরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদ, শিক্ষা উপকরণ ও নগদ অর্থ তুলে দেন। সম্মাননা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ বি এস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নূর উদ্দিন রুবেল, বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সাইফুল প্রমূখ।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিষে তিন শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের বাবা। ধারণা করা হচ্ছে সন্তানদের বিষ খাইয়ে তিনি নিজেও বিষপান করেছেন। আজ শনিবার ভোরে উপজেলার উত্তরবড়দল ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম রজনী লাইনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত।
ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, রজনী লাইন গ্রামের শরাফত আলী দিনমজুরের কাজ করেন। তার স্ত্রী চারদিন আগে শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য গেছেন।
১০ বছর বয়সি মেয়ে মাওয়া আক্তার, ৭ বছর বয়সি ছেলে শামীম মিয়া, দেড় বছর বয়সি ছেলে তামিম মিয়াকে নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন শরাফত আলী। বাড়িতে আর কেউ না থাকায় বের হতে পারতেন না তিনি।
জামাল মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতের শেষ দিকে তাদের গোঙ্গানি শুনতে পেরে প্রতিবেশিসহ স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে বাদাঘাট বাজারে ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
সেখানকার চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং শরাফতকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষপানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শরাফত আলীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন স্বজনরা। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, “শরাফতের বউ প্রবাসে থাকে। সে তিন বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে থাকে। স্বজনদের ধারণা মোবাইলে বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে বা বউয়ের শুন্যতায় অভিমানে তিন সন্তানসহ বিষপান করেছে সে। তিন সন্তানই মারা গেছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।”
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, “শনিবার ভোরে খবর পেয়ে বাদাঘাট ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখতে পাই তিনটি শিশু মেঝেতে অচেতন অবস্থায় আছে। পরে চিকিৎসক জানালেন শিশুরা মারা গেছেন। ”
“তাদের বাবাকে স্বজনরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে এখনো প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। ”
শিশুদের লাশ তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের সাগরের পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া আটটার দিকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কলাতলী ও সুগন্ধা সৈকতের মধ্যবর্তী স্থানে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। ওই পর্যটকের নাম মোফাজ্জল ইমাম ওরফে সীমান্ত (২০)। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়ায়। তিনি স্থানীয় ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফ গার্ড। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, মোফাজ্জলসহ পর্যটকদের ৯ জনের একটি দল ১৬ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসে। তারা কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে উঠেছিল।
গতকাল সন্ধ্যায় সাগরে গোসল করতে নামেন এসব পর্যটক। তবে গোসলের এক পর্যায়ে স্রোতের টানে মোফাজ্জলসহ তিন পর্যটক ভেসে যান। বিষয়টি নজরে আসার পর সি-সেফ লাইফ গার্ড এবং জেলা প্রশাসন নিয়োজিত বিচকর্মীরা সাগরে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এ সময় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সৈকতে কর্মরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম বলেন, দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মোফাজ্জলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রাত সোয়া আটটার দিকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় সাগর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মোফাজ্জল ইমামের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে তাঁদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
লাইফগার্ড কর্মীরা জানান, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় ১০-১২টি গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে। গোসলের সময় ঢেউয়ের তোড়ে কেউ এসব গুপ্তখালে আটকে পড়লে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসলে নামতে নিষেধ করে একাধিক লাল নিশানা ওড়ানো হয়।
তবে তা না মেনে পর্যটকদের অনেকেই সেখানে গোসল করতে নামেন। হোটেলমালিক ও লাইফগার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারের দুই দিনে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন প্রায় আড়াই লাখ পর্যটক।