ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ এএম

সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার সামনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি লরিতে বিস্ফোরণের পর আগুনে পথচারী ও নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। তাদের স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তায় অবস্থিত এফএন্ডএফ পোশাক কারখানার সীমানার ভেতরে থেমে থাকা লরিতে এ ঘটনা ঘটে।


রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। লরি থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত পাঁচজনের শরীর পুরো ঝলসে যাওয়ার তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া লরিটির পাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। পুড়ে যায় মালবাহী একটি কাভার্ডভ্যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।


আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোতে তল্লাশি করে। এ সময় একটি লরিতে দগ্ধ পাঁচজনের লাশ পাওয়া যায়। এছাড়া গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নজরুল ইসলাম নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় একটি গ্যাসের সিলিন্ডার ছিটকে পোশাক কারখানার পাশের দর্জির দোকানে গিয়ে পড়লে জয়নব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। 


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে ওই পোশাক কারখানা ছুটি হলে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে বাসায় চলে যান। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পোশাক কারখানা বাউন্ডারির ভেতরে থেমে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই লরিটির পাশে থাকা ক্যাভার্ডভ্যানসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। 


এ সময় বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডারের লোহার টুকরোগুলো কারখানার পাশের একটি দর্জি দোকানে থাকা জয়নব বেগমের মাথায় এসে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নিহত জয়নব বেগম (৫৫) গাজীপুরের কাশিমপুরের ইছরকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। জামগড়ায় তার মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। ওই দর্জির দোকানটি তার মেয়ে পরিচালনা করেন। নিহতের মেয়ে জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার মা দর্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ। কোনো কিছু বোঝার আগেই দেখি মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর দেখি কারখানার সামনে আগুন। পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ আশেপাশের লোকজনের   ছোটাছুটি করতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই আমার মা মারা যান।   


প্রত্যক্ষদর্শী সুমন মিয়া জানান, ফায়ার সার্ভিস দেরিতে আসায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ভয়াবহ হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। 


ফায়ার সার্ভিসের আশুলিয়া ডিইপিজেড ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আমাদের স্টেশনে  আগুনের খবর আসে। তবে বাইপাইল সড়কে অনেক যানজট হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পর আমরা পুড়ে যাওয়া কয়েকটি যানবাহনে তল্লাশি করি। এ সময় একটি লরি থেকে দগ্ধ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  


শিল্প পুলিশ- ১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ এবং একটি লরি থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। বিস্ফোরণের সময় গ্যাস সিলিন্ডারের টুকরা ওই নারীর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।




পিরোজপুর জামায়াতের আমির হলেন আব্দুর রব

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৫ পিএম

দীর্ঘ ৩৫ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা আব্দুর রব। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান মাওলানা আব্দুর রব। এবার রুকনদের ভোটে তিনি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলেন।


গত ৯ অক্টোবর পিরোজপুর শহরের টাউন স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা রুকন সম্মেলনে নতুন আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৬৭২ জন নারী ও পুরুষ রুকন গোপন ব্যালটে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।


বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে নতুন আমিরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করেন।


দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক রুকনদের প্রত্যক্ষ গোপন ভোটের ভিত্তিতেই এসব শাখার আমির নির্বাচিত হয়েছেন।


ভালুকায় জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

 ‘নির্ভীক প্রত্যয়ে উজ্জীবিত’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকায় উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সেভেন স্টার চাইনিজ রেস্টুরেন্টে পত্রিকাটির ভালুকা উপজেলা প্রতিনিধি হৃদয় আহমেদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


নাগরিক টেলিভিশনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং দি এশিয়ান এইজের সাংবাদিক হুমায়ুন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন, উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি সোহাগ সরকার, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পলাশ সাহা, উপজেলা যুবদল নেতা মাজাহারুল ইসলাম আপন, ভালুকা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব কায়েস হাসান।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাই টিভির ভালুকা প্রতিনিধি মরজিনা আক্তার মনি, প্রাইম টিভির প্রতিনিধি লিমা আক্তার, বিজয় টিভির প্রতিনিধি তাপস কুমার দেবনাথ, চ্যানেল এসের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক, ফাল্গুনী টিভির প্রতিনিধি আল-আমিন, নিউজ ২১-এর প্রতিনিধি মো. রাসেল, মুভি বাংলা টিভির প্রতিনিধি সারোয়ার আহাম্মেদ এবং জাতীয় দৈনিক নওরোজ পত্রিকার প্রতিনিধি ইমন সরকারসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।


আলোচনা সভায় বক্তারা দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তাঁরা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার মাধ্যমে একটি সংবাদমাধ্যম মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে। তাঁরা পত্রিকাটির আগামী দিনের পথচলা আরও সমৃদ্ধ ও সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৪২ বিজিবির অভিযান

১০ মাসে ৪৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) প্রধান কার্যালয়।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০০ পিএম

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।


চলতি বছরের অক্টোবর মাসে পরিচালিত বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে প্রায় ৯৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দসহ তিনজনকে আটক করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ব্যাটালিয়নটির অভিযানে সর্বমোট ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির মিডিয়া সেল থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের প্রায় ৯৯ কিলোমিটার এলাকায় ২১টি বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়ীত্ব পালন করছে। সীমান্তের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ব্যাটালিয়নটি।


বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পরিচালিত অভিযানে ৫৩৬ বোতল মদ, ১০৭ বোতল ফেনসিডিল, ৭ হাজার ২৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৭১০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৬৪১ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ৩৭৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া চোরাচালানসংশ্লিষ্ট একটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।


এদিকে, ১০ মাসে ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দের পরিসংখ্যান সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানের ব্যাপকতা তুলে ধরে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মাদকের অবৈধ প্রবেশ ও বিস্তার রোধে এ ধরনের নজরদারী ও অভিযান অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান আপসহীন। অপরাধী চক্রের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪২ বিজিবির অভিযান ও নজরদারী অব্যাহত থাকবে।


সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং চোরাচালানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্থানীয় জনগণের দায়ীত্বশীল সহযোগীতাও গুরুত্বপূর্ণ।


গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪১ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়,বরং প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে কী শিখছে, তার মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি কতটা মজবুত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকার শিখনফল, পুষ্টি, শিক্ষক উন্নয়ন, কার্যকর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।


প্রতিমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের বাহুবলে "সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি" শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 


প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কি আমাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ও যথাযথ শিক্ষা দিতে পারছি? আমার মনে হয়, এখনো আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন না কিংবা তাঁদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের দেখতে হবে, কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে কীভাবে সেগুলো দূর করা যায়। তিনি শিক্ষকদের তাঁদের বিদ্যালয়ের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব সরাসরি তুলে ধরার আহ্বান জানান।


শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিকে যাওয়ার পথে এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তাদের ধরে রাখা এবং নিয়মিত শিখন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।


বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পুষ্টিমান বিবেচনায় রেখে খাবারের মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়গুলোতে খাবার সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের পরিবর্তে যথাযথ পরীক্ষা ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা অনিয়মের কারণে যেন নতুন অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।


বিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিদ্যালয়কে সুরক্ষিত ও কার্যকর রাখতে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রধান শিক্ষকদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মসজিদ ও মন্দির কমিটি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রতি স্থানীয় মানুষের মালিকানাবোধ তৈরি হলে অবকাঠামো রক্ষা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সহজ হবে।


স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মা সমিতির কার্যকর অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মায়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত মায়েরা নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ডিম সিদ্ধ, সংরক্ষণ ও বিদ্যালয়ে সরবরাহের কাজে অংশ নিতে পারেন। এতে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের অংশগ্রহণও বাড়বে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের মতামত ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব আহ্বান করেন তিনি।


প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ২০২৭ সালে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এত বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।


হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী ও প্রাথমিক শিক্ষার সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক এ.কে.এম সাইফুল হাসান, বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সভায়


বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসি উড, বাহুবল উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পরে প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয় দুটিতে চলমান স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ ও খাবারের গুণগত মান, সংরক্ষণ এবং পরিবেশন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২৫ পিএম


দীর্ঘ নয় মাসের বিরতি শেষে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে। পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছে এমভি বার আউলিয়া। ছয় ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে জাহাজটি সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে ভেড়ে। দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দ্বীপের পথঘাট, সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে ঘাটে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আগমনে দ্বীপবাসীর মধ্যেও ফিরেছে স্বস্তি ও আনন্দ।


বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮৩৭ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এমভি বার আউলিয়া। প্রায় ছয় ঘণ্টার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছায়। দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস।


সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ৮০০ জনের বেশি পর্যটক নিয়ে এমভি বার আউলিয়া জাহাজটি ঘাটে ভিড়েছে। তাঁদের স্বাগত জানিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। এ সময় দ্বীপে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। ঘাটে স্থানীয় কোস্টগার্ড, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, প্রথমবার সেন্টমার্টিনে পা রেখে তিনি আবেগাপ্লুত। নৌযাত্রা ছিল দারুণ। দ্বীপে নামার পর তাঁর মনে হয়েছে, যেন স্বর্গে চলে এসেছেন। এত দিন অপেক্ষার পর আসতে পেরে তিনি আনন্দিত। দ্বীপে প্রবেশের সময় কিউআর কোড স্ক্যান ও তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও তাঁর ভালো লেগেছে। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

২২ বছর পর এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এইচ এস সি পরীক্ষায় ফল বিপর্য়য় হয়েছে। ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৯৩জন শিক্ষার্থী। সে বছরের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এবছর এসে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাদের প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪জন। সে হিসেবে, ৪ হাজার ২৮৯ শিক্ষার্থী তাদের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। অর্থাৎ ২০২৪ সালে যারা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল তারা এইচএসসিতে এসে কাঙ্খিত ফল অর্জন করতে পারেনি। কেবল তারাই যে খারাপ ফল অর্জন করেছে, তা নয়। তাদের থেকে তুলনামূলক কম মেধাবীরাও ফল খারাপ করেছে।যার প্রভাব পড়েছে এ বছরের গড় ফলাফলে।

এবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের দুই দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল। এবছর সিলেটে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছরও ছিল প্রায় কাছাকাছি ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।


শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী ছিল। এর বাইরে ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল, রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক কম পাস করেছেন পরীক্ষার্থীরা। যার ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। কিন্তু শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিকতা ও পাঠগ্রহণের মাত্রা অনুধাবন না করেই প্রশ্নপত্র তৈরি করায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ফলাফলে। এছাড়াও সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এর বাইরে শ্রেণি কক্ষে পাঠবিমুখতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবেই শিক্ষার্থীরা তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি বলেও মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

তবে শিক্ষকরা বলছেন, এবারের ফলাফলই সঠিক চিত্র। বিগত ১৫–১৬ বছরের ঢালাওভাবে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে গেছে। এবার কোনো কৃত্রিম নম্বর না দিয়ে প্রকৃত ও সঠিক মূল্যায়ন করার কারণে ফলাফলে এই বিপর্যয় ঘটেছে। শুধু সিলেট বোর্ড নয়। সারা দেশের গড় ফলাফল খারাপ হয়েছে। দেশের ১১ টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে।


সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়ে ২০১০ সালে ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাসের হার কিছুটা কমে। তবে করোনা মহামারির সময় পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। যার কারণে ২০২০ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল শতভাগ। পরবর্তী বছরগুলোতেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিশেষ মূল্যায়নের প্রভাবে পাসের হার তুলনামূলক বেশি ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশের মধ্যে ছিল।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে ২০২৫ সালে। ওই বছর পাসের হার নেমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে। সেই ক্ষতকে আরও গভীর করেছে এবছরের ফলাফল। গত বছরের তুলনায় পাসের হার আরও কমে হয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ টানা দুই বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।


ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছেন এবং কোন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফলের এই অবনতির কারণ চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।


বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। এর বাইরে ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল, রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক কম পাস করেছেন পরীক্ষার্থীরা। যার ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট নগরীর কলেজের শিক্ষক ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক বলেন, বর্তমান ফলাফলটিই মূলত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। বিগত বছরগুলোতে পাসের হার ছিল মূলত লোক দেখানো এবং কারসাজিপূর্ণ।


তিনি বলেন, বিগত সময়ে খাতা মূল্যায়নের সময় কোনো শিক্ষার্থী কম নম্বর পেলেও তাকে বাড়িয়ে ৩৩ নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ছিল। যার কারণে বছরের পর বছর ধরে পরীক্ষা দিলেই পাস করা যায়-এমন ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি এবং পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে গেছে। এই দীর্ঘদিনের ‘ওভারমার্কিং’ অনুশীলনেরই একটি বহিঃপ্রকাশ হলো এই ফল বিপর্যয়। তিনি বলেন, চলতি বছর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো কৃত্রিম নম্বর যোগ করা হয়নি, শিক্ষার্থী যা পেয়েছে তা-ই রাখা হয়েছে। যার কারণে প্রকৃত মূল্যায়নের ধারায় ফেরায় ফলাফলে এই পরিবর্তন এসেছে।


সিলেটের মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সামগ্রিক সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার ঘাটতির কারণে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ‘শ্রেণীবিমুখ সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে। ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠবিমুখ হয়ে পড়ছে এবং পরীক্ষার খাতায় লিখতে ব্যর্থ হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে সঠিক পাঠদান, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ ও নিষ্ঠার সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কিছু শিক্ষকের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। কিছু শিক্ষকের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে না পড়িয়ে নিজেদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পড়ানোর এক ধরনের বাণিজ্যিক প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করছে।


প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রশ্ন তোলে আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, ‘কিছু প্রশ্ন প্রণেতা অতি কঠিন প্রশ্ন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদেরকে আমি ‘তৃতীয় শ্রেণীর প্রশ্ন প্রণেতা’ হিসেবে আখ্যা দিতে চাই। কারণ একজন উত্তম প্রশ্ন প্রণেতা তিনি, যার প্রশ্নের উত্তর অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী দিতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসিকতা ও পাঠগ্রহণের মাত্রা অনুধাবন না করেই প্রশ্ন তৈরি করায় এই সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।


সিলেটের এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ জানান, সিলেটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশমুখী প্রবণতা ও আরও কিছু কারণে পাঠবিমুখতা রয়েছে। এছাড়াও মানসম্মত শিক্ষকের অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তাছাড়াও এ বছর উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।


তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে বিশেষ করে অভিভাবকরা অন্যদের বিদেশে যাওয়া বা সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে নিজেদের সন্তানদের সঙ্গে তুলনা করেন। যা শিক্ষার্থীদের মানসিক বল ভেঙে দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ ও হতাশায় ভোগে। ফলাফলে এসবের প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।