ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৬ পিএম

শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও ১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তিন নেতা। তারা হলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জিএস ওবায়দুল্লাহ মাসুদ।


গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন মির্জা ফয়সল আমীন। এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মির্জা ফয়সল আমীন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। এর আগে মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর তার পক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।


এদিকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং ওবায়দুল্লাহ মাসুদও দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর তা জমা দিয়েছেন।


সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


অন্যদিকে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জিএস। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনিও জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


তিন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের তৃণমূল পর্যায়েও এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মির্জা ফয়সল আমীন দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১৫ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০১৭ সালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রায় আট বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন।


রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মির্জা ফয়সল আমীনের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমীন ছিলেন আইনজীবী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। তার চাচা মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ। বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও ১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এখন বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকেরা।



সর্বশেষ সব খবর

শিবগঞ্জের সীমান্তে ৩ কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ

ট্রাকে পাথরের নিচে ট্রাকের যন্ত্রাংশ, উদ্ধার ১৩৫ ভারতীয় মোবাইল


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ এএম

শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তে পৃথক অভিযানে তিন  কোটি ছয় লাখ ৯৪ হাজার টাকা সিজার মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এর মধ্যে পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক থেকে ৭০৮ পিস ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও পাঁচটি বেনারসি শাড়ি এবং ভোলাহাট থেকে ১৩৫টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।


বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি  সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায় ৫৯ বিজিবি। এ সময় পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় মালিকবিহীন ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে ট্রাকটি তল্লাশি করে  বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৭০৮ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও পাঁচটি বেনারসি শাড়ি উদ্ধার করা হয় যার  মূল্য দুই  কোটি ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।



অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলাহাট উপজেলার আলীমোড় এলাকায় খড়কপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা  অভিযান চালিয়ে ১৩৫টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে । এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে ইজিবাইকের চালক পালিয়ে যায়। এ অভিযানে জব্দ করা পণ্যের  মূল্য ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।




দুটি অভিযানে সব মিলিয়ে জব্দ করা চোরাচালানী পণ্যের মূল্য প্রায়  তিন কোটি সাত লাখ টাকা।


৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জব্দকৃত চোরাচালানী পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

দিনাজপুর

বাড়ীর ছাদেই চলছিলো গাঁজার চাষ!

পৃথক অভিযানে ৩ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৯ এএম

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও আনুমানিক ১০ কেজি ওজনের কাঁচা গাঁজার গাছ উদ্ধারের দাবী করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর জেলা পুলিশের দেওয়া প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।




পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরামপুর থানার একটি দল রাত্রিকালীন হাইওয়ে ডিউটি ও গ্রেপ্তারী পরোয়ানা তামিলের সময় উপজেলার ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মোঃ মোরছালিন (২৬) ও মোঃ ময়নুল ইসলাম (২৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের দাবী করেছে পুলিশ।


গ্রেপ্তার মোরছালিন ধানঘরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সকিনুরের ছেলে এবং ময়নুল ইসলাম একই এলাকার ধানঘরা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ মোক্তার হোসেনের ছেলে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, নবাবগঞ্জ থানার দাউদপুর ইউনিয়নের হালুয়াঘাট গ্রামে মাদকবিরোধী আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই গ্রামের মোঃ রাজু মিয়ার (২৫) বসতবাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবী, বাড়ীর ছাদে লোকচক্ষুর আড়ালে চাষ করা আনুমানিক ১০ কেজি ওজনের কাঁচা গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।


এ ঘটনায় রাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রাজু মিয়া হালুয়াঘাট গ্রামের মোঃ মজমুলের ছেলে।


দিনাজপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

সিলেটের পুরোনো কারাগার।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০০ এএম

সিলেট নগরীর পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক ও রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য কারাগারের জমি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


সভায় শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এবং কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সভা সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো কারাগারের জমি পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরে পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটি সিসিকের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,পুরোনো কারাগারের জায়গায় কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে না সিটি করপোরেশন। জায়গাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেখে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যবহার করা হবে।


এদিকে,পুরোনো কারাগারে থাকা বন্দীদের বাদাঘাটে অবস্থিত কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’ নামে আরেকটি কারাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।পুরোনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচেষ্টার কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রও দেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পার্কের পাশাপাশি একই জায়গায় রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জায়গাটি বিনোদনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের একটি স্থান হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।


সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, “নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পুরোনো কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক হবে। এক পাশে হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।”


তিনি বলেন, অচিরেই পার্ক ও জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কারাগারের বন্দীদের বিদ্যমান কারাগারে স্থানান্তরের পর জায়গাটি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ পার্কে রূপ দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ এএম

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনেকদিন ধরেই অর্ন্তদ্বন্দ্ব চলে আসছে। তবে রাষ্ট্রপতির সফরে এসে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। গত মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওইদিন সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এই নাগরিক সংবর্ধনা ঘোষণা দিয়ে বর্জন করে সিলেট মহানগর বিএনপি। 


এছাড়া বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা এই অনুষ্ঠানে যাননি।সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, একক সিদ্ধান্তে সংবর্ধনা আয়োজন ও অন্য নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ এনেছেন বর্জনকারী নেতারা। তবে বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই বর্জনের নেপথ্যেও রয়েছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন।


সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, ২২ ফেব্রুয়ারি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সিসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি সিলেট বিএনপির অনেক নেতা। বিশেষত মহানগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা বিএনপি নেতারা এতে মনক্ষুন্ন হন। জেলা বিএনপির সভাপতিকে সিসিকের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি তারা ইতিবাচক ভাবে নেননি। এরমধ্যে কাইয়ুম চৌধুরী আগামী সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর বিএনপি নেতাদের সাথে আরও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যা রাষ্ট্রপতির সফরে প্রকাশ্যে রূপ নেয়।


মঙ্গলবারের সফরে সিলেটের দুই ওলির মাজার জিয়ারত ছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দেওয়ার সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তিনি। এতো দিন বিএনপির হয়ে এই পদে লড়েছেন বর্তমান শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ আমলেও তিনি দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচন হন। এবার তিনি মেয়র পদে মাঠে থাকার সম্ভাবনা না থাকায় স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। তবে রাষ্ট্রপতির সফরে সেই স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে অপ্রীতিকর পরিবেশ। বিএনপি মহাসচিব থেকে সদ্য রাষ্ট্রপতি হওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখালেও মঙ্গলবার তার সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয় সিলেট মহানগর বিএনপি।


এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগরভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোন নেতা অংশ নেননি। সংবর্ধনা বর্জকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। এদের মধ্যে অন্তত ৪ জন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।


এ প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়া নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। এ কারণেও সিটি করপোরেশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির কয়েকজন নেতা যাননি।


যা বলছেন বর্জনকারী নেতারা


রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়া প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সিসিক প্রশাসক যেভাবে নাগরিক কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন, তা না করে খামখেয়ালিভাবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে আমাদের অপদস্থ করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এলে আমাদের গাড়ি শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহী ঈদগাহ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিল। এবার সেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এমনকি শাহজালাল মাজারেও আমাদের গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এসব সার্বিক কারণেই আমরা নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছি।


সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, গত দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা নির্যাতিত, নিপীড়িত, কারাবরণ ও অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। দুঃসময়ে এসব নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ানো একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে আমি এটিকে আমার মানবিক দায়িত্ব মনে করেছি। সে কারণেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার বিবেক আমাকে বাধা দিয়েছে। 


এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনার জন্য বিভিন্ন সমন্বয় সভায় নাগরিক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সিলেট সিটি করপোরেশনর প্রশাসক (আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী) নাগরিক কমিটি গঠন না করে তিনি একক সিদ্ধান্তে সিসিক প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি (সিসিক প্রশাসক) পরিকল্পিতভাবে আমাদের সকল কর্মসূচীর বাইরে রাখতে চেষ্টা করেছেন।তিনি বলেন, সিসিক প্রশাসক কোনদিন মহানগরে রাজনীতি করেননি। মহানগরের নেতাকর্মীদেরও তিনি চিনেন না। তাই আমরা তাকে সহযোগীতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উল্টো পরিকল্পিতভাবে আমাদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন।


সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কেউ বর্জন করেছেন বলে আমার জানা নেই। আমরা ১২শ’ লোককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমন্ত্রিতদের প্রায় সকলেই এসেছেন। এর মধ্যে ২/৪ জন নানা কারণেই বাদ পড়তে পারেন।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কোন রাজনৈতিক দলের নয়, তিনি কোন রাজনৈতিক ব্যত্ত্বিত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি সবার, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান। উনার সংবর্ধনায় কেউ না এলে এটা তার ব্যাপার।


সিসিক প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকে নিয়ে অরাজনৈতিকভাবে সংবর্ধনা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি তার নির্দেশ অনুসারে কাজ করেছি। অরাজনৈতিকভাবে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেছি। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দাওয়াত করেছি। আর এই আয়োজনে আমি সভাপতিত্ব করেছি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে, বিএনপির সভাপতি হিসেবে নয়। এতে কে কোন কারণে আসেননি তা আমার জানা নেই।


কাইয়ূম চৌধুরী আরও বলেন, তবে আমাদের আয়োজনে রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি আমিসহ সিসিকের সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।


সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলীয় বিরোধের কারণে এমনটি ঘটেছে কী না- এই প্রশ্নের জবাবে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমার জানা নেই। তবে এরকম হওয়ার কথা নয়। কারণ রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা দলীয় কোন অনুষ্ঠান নয়। এখানে রাজনীতির সম্পৃক্ততা নেই।তবে প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রধান করেন তখনই মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। আমি তার নির্দেশ অনুসারে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যুক্ত করেন সিলেট জেলা বিএনপির এই সভাপতি।

সর্বশেষ সব খবর

সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম জয়।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৩ এএম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম জয়।


​বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।  


রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব ড. গোলাম মোর্শেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম জয়কে (যিনি পূর্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বদলির আদেশাধীন ছিলেন) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।


​উল্লেখ্য, ইয়োফাস এর সেক্রেটারি এবং ৩৪তম বিসিএস অল ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. সাইফুল ইসলাম জয়। এর আগে রূপগঞ্জের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


সর্বশেষ সব খবর

দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা স্মারক

জামালপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি দেওয়ানগঞ্জ থানার আনোয়ার হোসেন


অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৭ পিএম

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবায় দায়িত্বশীল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।


দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে থানার সার্বিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সম্মাননা পাওয়ায় দেওয়ানগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনোয়ার হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তিনি নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


এ সম্মাননা তার কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের প্রতি আরও উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর