• প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০১ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা ও লবণাক্ততার ঝুঁকিতে থাকা নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার ৪৫০ নারীকে দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল শেখানো হচ্ছে। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রান এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহায়তায় গত ২৪ আগস্ট থেকে নোয়াখালী সদর, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ জন করে মোট ৪৫০ নারী এতে অংশ নিচ্ছেন।


‘দুর্জয়ী’ মডিউলের এসব সেশনে দুর্যোগের সময় নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি সহায়তা পাওয়ার উপায় শেখানো হচ্ছে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নারীদের জীবিকা ও আয় বাড়াতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পুষ্টিবাগান, হাঁস-মুরগি ও মাছ চাষ, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।


আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নারীরা তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়াদান কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।


সেশনগুলোতে বিষয়ভিত্তিক রিসোর্স পারসন হিসেবে রয়েছেন প্রান এর ডব্লিউএলসিসি ম্যানেজার শামীমা আক্তার অর্না, স্কিল বিল্ডিং ট্রেইনার শাহিনুর আক্তার, এমএইচপিএসএস ও জিবিভি কেস ওয়ার্কার সুমাইয়া আক্তার ও সিনথিয়া শর্নীল, মিডওয়াইফ জুঁই আক্তার এবং স্বেচ্ছাসেবক আয়েশা আক্তার।




সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মিছিলটি ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


মিছিল থেকে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।


মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ পয়গাম আলি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিক আদনান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান তুহিনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।


বক্তারা বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঈদে মিলাদুন্নবী ও এয়াকুব আলী চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা

বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) এয়াকুবিয়া আলিম মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল


  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) এয়াকুবিয়া আলিম মাদ্রাসার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ মাহফিল ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী, আজীবন দাতা সদস্য, পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ তিন যুগের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব এয়াকুব আলী চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মাদ্রাসার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পরিষদের সদস্য, সাবেক শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা জানে আলম নেজামী। পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী মঞ্জু অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।


প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি ও দাতা সদস্য আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেলিনা কাদের চৌধুরী কলেজের অধ্যাপক ইমতিয়াজ উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, পাহাড়তলী কলেজের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া (রহ.) ফাযিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আরিফ উদ্দীন, হযরত খাজা কালু শাহ (রহ.) ফাযিল মাদ্রাসার সাবেক আরবি প্রভাষক মাওলানা আহমদ হোসাইন, পরিচালনা পরিষদের সদস্য মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী সোহেল, দাতা সদস্য ও ব্যাংকার মেহবুব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, শিক্ষানুরাগী সদস্য অ্যাডভোকেট রাকিব উদ্দীন জালাল চৌধুরী এবং আল্লামা ইকবাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ডি. এম. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যরা।


মাহফিলে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর পবিত্র জীবনাদর্শ, মানবতার প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান, উত্তম চরিত্র, সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।


বক্তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


এ সময় বক্তারা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব এয়াকুব আলী চৌধুরীর শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।


অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল ﷺ, আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব এয়াকুব আলী চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৯ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধের পর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে কয়েক দফায় ভাঙচুর করেছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন ভবন, রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে ভাঙচুর করেন। সোমবার রাত একটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন।


এ সময়  রেল স্টেশনে শিক্ষার্থীরা গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি নিয়ে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েক দফায় স্টেশনের কাচের জানালা, ময়লার ডাস্টবিন, সেখানকার দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, কার্যালয়, সাইনবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেন। 


রেলস্টেশনে বসার সিটসহ প্লাটফর্মের নানা জায়গায় ভাঙচুর করা হয়েছে।


​পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং রেলস্টেশন ত্যাগ করার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা স্থান ত্যাগ করেননি। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। 


এর আগে, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেলস্টেশনে মারধরের শিকার হন আইয়ুব আলী নামের এক শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, রাত ১১টা ২০ মিনিটের মধ্যে হামলায় জড়িত কর্মচারীদের আটক করা না হলে ট্রেন থামিয়ে কর্মকর্তাদের নেমে আসতে বাধ্য করা হবে। এরপর রাত এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেলওয়ে স্টেশনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তখন রাজশাহী রেল স্টেশনের দিকে আসা ধুমকেতু এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের আগে হরিয়ান সংলগ্ন এলাকায় থেমে থাকে। শিক্ষার্থীরা তখন রেললাইন বরাবর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে এগোতে থাকেন। তারা স্টেশনে ঢুকেই ভাঙচুর শুরু করেন।


মারধরের শিকার আইয়ুব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


জানা যায়, আইয়ুব আলী তার চাচাকে আনতে রাজশাহী রেল স্টেশনে গিয়েছিলেন। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আইয়ুব আলী প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান জানান, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেল কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। সেখানে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বলায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 


রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘জড়িতদের রাত ১১টার মধ্যে আটক করতে হবে। এর মধ্যে আটক না করলে ১১টা ২০ মিনিটের ট্রেন থামিয়ে প্রত্যেক ট্রেন থেকে ২ জন করে ট্রেন স্টাফ তুলবো আমি। আমার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এতো প্রতিহিংসা কিসের এটা দেখতে চাই।’


এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘এই ধরনের সহিংস কোনো ঘটনা কাম্য নয়। আমরা এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছি। এর সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই অব্যাহতি দেওয়া হবে।’


সালাহউদ্দিন আম্মারের হুঁশিয়ারি ও শিক্ষার্থীদের অবরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া একদম স্বাভাবিক। আমি তাদের আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানাব। আমরা আইনগতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য সাময়িক বরখাস্ত


এদিকে শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় জড়িত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ​সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরএনবি সদস্যরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন।



ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ এএম

সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার সামনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি লরিতে বিস্ফোরণের পর আগুনে পথচারী ও নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। তাদের স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তায় অবস্থিত এফএন্ডএফ পোশাক কারখানার সীমানার ভেতরে থেমে থাকা লরিতে এ ঘটনা ঘটে।


রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। লরি থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত পাঁচজনের শরীর পুরো ঝলসে যাওয়ার তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া লরিটির পাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। পুড়ে যায় মালবাহী একটি কাভার্ডভ্যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।


আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোতে তল্লাশি করে। এ সময় একটি লরিতে দগ্ধ পাঁচজনের লাশ পাওয়া যায়। এছাড়া গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নজরুল ইসলাম নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় একটি গ্যাসের সিলিন্ডার ছিটকে পোশাক কারখানার পাশের দর্জির দোকানে গিয়ে পড়লে জয়নব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। 


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে ওই পোশাক কারখানা ছুটি হলে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে বাসায় চলে যান। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পোশাক কারখানা বাউন্ডারির ভেতরে থেমে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই লরিটির পাশে থাকা ক্যাভার্ডভ্যানসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। 


এ সময় বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডারের লোহার টুকরোগুলো কারখানার পাশের একটি দর্জি দোকানে থাকা জয়নব বেগমের মাথায় এসে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নিহত জয়নব বেগম (৫৫) গাজীপুরের কাশিমপুরের ইছরকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। জামগড়ায় তার মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। ওই দর্জির দোকানটি তার মেয়ে পরিচালনা করেন। নিহতের মেয়ে জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার মা দর্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ। কোনো কিছু বোঝার আগেই দেখি মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর দেখি কারখানার সামনে আগুন। পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ আশেপাশের লোকজনের   ছোটাছুটি করতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই আমার মা মারা যান।   


প্রত্যক্ষদর্শী সুমন মিয়া জানান, ফায়ার সার্ভিস দেরিতে আসায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ভয়াবহ হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। 


ফায়ার সার্ভিসের আশুলিয়া ডিইপিজেড ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আমাদের স্টেশনে  আগুনের খবর আসে। তবে বাইপাইল সড়কে অনেক যানজট হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পর আমরা পুড়ে যাওয়া কয়েকটি যানবাহনে তল্লাশি করি। এ সময় একটি লরি থেকে দগ্ধ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  


শিল্প পুলিশ- ১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ এবং একটি লরি থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। বিস্ফোরণের সময় গ্যাস সিলিন্ডারের টুকরা ওই নারীর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১০ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে চেতনা নাশক খাইয়ে আমিনুর রহমান (৪২) নামে এক ব্যক্তির ইজিবাইক ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। 


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার শুকানদিঘি পেট্রোল পাম্প ক্যানেলের ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আমিনুর রহমান পুটিমারি ইউনিয়নের মন্থনা এলাকার মৃত কালুয়া মামুদের ছেলে। 


স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে আমিনুর রহমান বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হয়ে আসেন। আজকে রাত ৮ টার দিকে দুর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে তার ইজিবাইকে উঠে মাগুড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এসময়ে শুকানদিঘি এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা আমিনুর রহমানকে খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক খাইয়ে অচেতন করে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। 


ভুক্তভোগী আমিনুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, আমার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল ইজিবাইকটি। সেটি আজকে তারা নিয়ে গেলো। আমরা সেটি কিস্তিতে নিয়েছিলাম এখনো কিস্তি শোধ হয়নি, এখন কিভাবে সংসার চালাব আর কিভাবে কিস্তি পরিশোধ করব।


এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, বিষয়টি জেনেছি আমরা ইজিবাইকটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।


বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা। এখনো আওয়ামীলীগ সিন্ডিকেটের দখলে বাংলাবান্ধা লেবার হ্যান্ডেলিং এটিআই নামের প্রতিষ্ঠানটি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চগড়ে দুর্নীতি-অনিয়মের বড় বড় ঘটনার মধ্যে স্থলবন্দরে লেবার হ্যান্ডেলিং একটি।


আমদানি পণ্যের লোড বাবদ ৭৬ দশমিক ৮৩ টাকা এবং আনলোড বাবদ ৭৬ দশমিক ৮৩ টাকা প্রতিটনে নেওয়া হলেও কোন প্রকার কাজ না করে পুরো টাকা হাতিয়ে নেয় বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট ও লেবার হ্যান্ডেলিং কোম্পানি। লেবার হ্যান্ডেলিং আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর বুড়িমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল হোসেন।




আমদানিকারকদের অভিযোগ, সেবা না দিয়েও অর্থ আদায় করছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। লোড- আনলোড এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতিটনে ১৯১ টাকা আদায় করা হলেও লোড করে দেওয়া হয় না। এতে পুনরায় আরো লোডিং খরচ হয়। তাতে খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়। দিন দিন ব্যবসায় লোকসানে পরে স্থলবন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আমদানিকারকের অনেকে।


জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাতের আধারে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আফতাহী ট্রেড বা এটিআই নামক এই অখ্যাত কোম্পানি টিকে লেবার হ্যান্ডেলিং কাজে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেও কোন ফলাফল আসেনি, কারন এই এটিআই এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা লুটেরাচক্র। ব্যবসায়ীদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও রহস্য জনক কারনে শক্ত অবস্থানে তাদের দেখা যায়নি। বছরের পর বছর এই লুটেরাচক্রকে রাতের আধাঁরে ঠিকাদারি নিয়োগ দিচ্ছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, সিএনএফ সদস্য ও কয়েকজন ব্যবসায়ী এ সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল। এখন নতুন করে বিএনপির নেতাকর্মীরা জরিয়ে পড়েছে এ চক্রে।


বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম বলেন, আমদানীকারকদের কাছে লোড আনলোডের টাকা নিয়ে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে আমাদেরকে আনলোড বাবদ ৪২-৪৩ টাকা দেওয়া হয়। লোড না করেও বাকী টাকা এটিআই ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নেয়।


আমদানিকারক আলাউদ্দিন বাবু বলেন, লোড আনলোডের টাকা নেয় কিন্তু কোন সেবা না দিয়ে কৌশলে প্রতিটনে ৩০ টাকা ফেরত দেয়। এছাড়াও বন্দরে পাথর লোড করতে পেলোডার গাড়ি না থাকায় সময় ও অর্থ বেশি লাগছে। এতে লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়। অনেকে ব্যবসা গুছিয়ে চলে গেছেন। একই কথা বলছিলেন সাইদুর রহমানসহ অনেকে।


লেবার হ্যান্ডেলিং ঠিকাদারি কোম্পানি আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বাবুল হোসেনকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।


বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা লোড করে দিতে চাই কিন্তু ব্যবসায়ীরা নেয়না। গাড়ি আনে লোড করে নিতে তাদের খরচ বেশি হবে। লোডিং বাবদ আমদানিকারকদের ৩২ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে বাকী ৪৪ টাকা ৮৩ পয়সা কোথায় যায় তার হিসাব দিতে নারাজ এ কর্মকর্তা।