সিটির জয়ে দুটি গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৯ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম। নতুন কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিরও নতুন শুরু। তবে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নায়ক সেই পুরোনো একজনই। আর্লিং হলান্ড।


নতুন মৌসুমে সিটির দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ অধ্যায়ের পর তাঁর সামনে কাজটা কঠিনই। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে সেই চাপের ছাপ খুব একটা দেখা গেল না। পোর্তোর মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে সিটি। আর শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন হলান্ড। তবে প্রথমার্ধে তাঁকে আটকে রেখেছিলেন পোর্তো গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। একবার দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে হলান্ডের শক্তিশালী হেড ফিরিয়েছেন । পরে আবারও নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে হতাশ করেছেন জোড়া সেভে। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল না পেলেও সিটি তখনই বুঝিয়ে দিয়েছিল, পোর্তোর দুর্গে ধাক্কা আসছে।


বিরতির পর আর অপেক্ষা করতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হলান্ডের হেড। খুব জোরালো ছিল না শটটি, কিন্তু কস্তাকে ভুল পায়ে ফেলে বল গড়িয়ে গেল নিচের কোণায়। ১-০।


গোল খেয়ে যেন ঘুম ভাঙল পোর্তোর। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে স্বাগতিকেরা। উল্টো সিটির রক্ষণেও দেখা দেয় অস্বস্তি। একবার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পেপেকে ফেলে দিয়েছিলেন। অফসাইড না থাকলে সেটি পোর্তোর পেনাল্টি হতে পারত। পরে তাঁর একটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোল হয়নি।


তবু শেষ পর্যন্ত পোর্তোর সব চেষ্টা ব্যর্থ। কারণ রাতটা ছিল হলান্ডের।


যোগ করা সময়ের গভীরে রায়ান আইত নুরির ক্রস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠালেন তিনি। ২-০। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে হলান্ডের গোলও হয়ে গেল ৫৯টি।


চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ ও ৫০ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। যে জায়গায় পৌঁছাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির লেগেছিল অনেক বেশি ম্যাচ, সেখানে হলান্ড ছুটছেন নিজের গতিতে।


সিটির হয়ে এটিই ছিল তাঁর ১৬৭তম গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে গেলেন তৃতীয় স্থানে।


ম্যাচ শেষে হলান্ড বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেটা সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি।’


আর চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর উপলব্ধি, ‘এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে। না হলে হঠাৎ করেই সব চাপ আপনার ওপর চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’




লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

লিওনেল মেসির গোল ও অ্যাসিস্টের নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মিয়ামি। রোববার রাতে নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেয় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমে সতীর্থের গোলে অবদান রাখেন মেসি, পরে নিজেই করেন জয়সূচক গোল। এই জয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মিয়ামি। এক ম্যাচ হাতে রেখে নিউ ইংল্যান্ডকে এক পয়েন্টে পেছনে ফেলেছে দলটি। চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে এটি মিয়ামির দশম জয়, যা লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে তিনটি বেশি।


জয়ের সুবাদে আগামী বছরের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপেও জায়গা নিশ্চিত করেছে মিয়ামি।


প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। বিরতির পর ৫৩ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ইলাই ফেইনগোল্ড ও পেটন মিলারের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারকে পরাস্ত করেন তিনি। চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে এটি গাজদাগের দ্বিতীয় গোল।


এই গোলে অবদান রাখা ফেইনগোল্ডের এটি মৌসুমের পঞ্চম অ্যাসিস্ট। ১৮ বছর বয়সী মিলারের অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯টিতে। দুজনের জন্যই এটি ক্যারিয়ারসেরা অর্জন।


পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় মায়ামি। ৬৯ মিনিটে সেই প্রচেষ্টায় সফল হয় তারা। মেসি ও তেলাসকো সেগোভিয়ার সমন্বয়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন জার্মান বের্তেরামে। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে মায়ামি।


তিন ম্যাচ পর গোল বা অ্যাসিস্টের খাতায় নাম লেখালেন মেসি। অন্যদিকে এমএলএসে নিজের প্রথম মৌসুমেই ১০টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন বের্তেরামে।


সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মায়ামি। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটি এনে দেন মেসি। সেগোভিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এটি চলতি লিগে তার ২৬তম গোল, যা এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ।


সেগোভিয়ার জন্যও এই অ্যাসিস্ট বিশেষ অর্জন। চলতি মৌসুমে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে, যা তার ক্যারিয়ারসেরা। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে ১৬টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন মেসি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার অবদান ৪২টি, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের চেয়ে নয়টি বেশি।


মায়ামির হয়ে গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার তিনটি সেভ করেন। প্রতিপক্ষের মাঠে চলতি মৌসুমে দলটির রেকর্ড এখন ১০ জয়, ৪ হার ও ৩ ড্র। নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারও তিনটি শট ঠেকান।


এই হারে নিউ ইংল্যান্ডের টানা চার জয়ের ধারা থেমেছে। নিজেদের মাঠে চলতি মৌসুমে তাদের রেকর্ড এখন ১১ জয়, ৪ হার ও ২ ড্র। প্রথমার্ধে সেন্ট ক্লেয়ার দুটি এবং টার্নার একটি সেভ করেন। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। এর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে মায়ামির মাঠে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করেছিল।


নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে আগামী ৭ নভেম্বর শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে ইন্টার মিয়ামি। এমএলএসের ‘ডিসিশন ডে’তে নিউ ইংল্যান্ড খেলবে অরল্যান্ডো সিটির মাঠে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ পিএম

স্থায়ী খেলার মাঠের দীর্ঘদিনের অভাব দূর করতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ জমিয়ে তারা ৬০ শতাংশ জমি কিনে তৈরি করেছেন স্থায়ী খেলার মাঠ।


গ্রামের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নজর কেড়েছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলেরও। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্রয় করে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দেলদুয়ারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাবুপুর গ্রামের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে এবং গ্রামবাসীকে সংবর্ধিত করা হবে।


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সবসময় এমন ইতিবাচক ও স্ব-উদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু।’


তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি মাঠ তৈরি নয়, বরং সারাদেশের জন্য জনসম্পৃক্ততার এক দারুণ অনুপ্রেরণামূলক মডেল।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বাস বাবুপুর গ্রামে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে খেলাধুলার জন্য কোনো স্থায়ী মাঠ ছিল না। বর্ষা শেষে ধান কাটার পর সাময়িকভাবে ফাঁকা জমিতে শিশুরা খেলার সুযোগ পেলেও চাষাবাদ শুরু হলেই তা বন্ধ হয়ে যেত। এই সংকট মেটাতে গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি মতবিনিময় সভা করেন গ্রামবাসী।


সেই সভাতেই জমি কিনে মাঠ করার সিদ্ধান্ত হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিত্তবানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে একটি তহবিল। যার যার সাধ্যমতো ২০০, ৫০০, ১,০০০ থেকে শুরু করে ৫,০০০ ও ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন।


সব মিলিয়ে সংগৃহীত টাকা দিয়ে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় ৫৯ শতাংশ জমি কেনা হয়। আর এক শতাংশ জমি বিনা মূল্যে দান করেন জমির মালিক ইকবাল হোসেন। গত ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে গ্রামবাসীর কাছে এই মাঠ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।


ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ার্ল্ড কাপের টায়ার ‘ই’-এর রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ পিএম

ফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছিলেন তরুণ ফুটবলাররা। তবে শেষ বাধায় আর পেরে ওঠেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার আজারবাইজানের বাকুতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলে হেরে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালের টায়ার ‘ই’-এর রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ।


শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। ১৪ মিনিটে মোইর গোলে এগিয়ে যায় তারা। চার মিনিট পর পেনেলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।


২৩তম মিনিটে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান তাকিব। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিককে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোই। ৩৯তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাতে প্রথমার্ধেই ৪-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।


দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশের কিশোরেরা। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে টায়ার ‘ই’-এর শিরোপা জিতে নেয় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।


১৮৯টি দেশ অংশ নেওয়া এই প্রতিযোগিতায় টায়ার ‘ই’-এর ফাইনালে ওঠার সুবাদে সামগ্রিকভাবে ১৩০তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা জিততে না পারলেও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পথচলা ছিল উল্লেখযোগ্য।


কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম হয়ে টায়ার ‘ই’-তে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এই পর্বে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল দলটি। এরপর ৩২ দলের নকআউট পর্বে সেশেলসকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে বাংলাদেশ। পরের রাউন্ডে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় তারা।


কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনিগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের কিশোরেরা। সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনাল। তবে শেষ ম্যাচে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে হারায় রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দলটিকে।


প্রথমবার আয়োজিত এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের এমন পথচলা ভবিষ্যতের জন্য অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের পুঁজি হয়ে থাকবে।


সাদমান ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

সাদমান ইসলামের প্রত্যাশিত সেঞ্চুরিটি হয়ে গেল দ্রুতই। এরপরই প্রত্যাশিত ধসের পালা। শুরুটা করলেন জশুয়া বিশপ। জোড়া ধাক্কায় নাড়িয়ে দিলেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার। এরপর দৃশ্যপটে জোমেল ওয়ারিক্যান। তার বাঁহাতি স্পিনে ধসে পড়ল বাংলাদেশের ইনিংস।


মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। দিনের খেলা শেষে ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বরেছিলেন, অন্তত ৪০০ রান করতে চান তারা। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনেই সেই আশার মৃত্যু্। ৪০০ তো দূরের কথা, ৩০০ রানের কাছেও যেতে পারেনি তারা। ওয়ারিকানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভুল লাইনে খেলার মাশুল দিয়ে একের পর এক উইকেট দিয়ে আসেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এ দিন আর মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ বাকি ৭ উইকেট। বড় সম্ভাবনা জাগিয়েও ইনিংস থেমে যায় মোটে ২৭২ রানে।


বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়ে ৫৩ রানে ৫ উইকেট পান ওয়ারিক্যান। ২৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ ৫ উইকেট, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম।সকালে শুরুটা ছিল আনন্দময়। সেঞ্চুরির জন্য এক রানের অপেক্ষায় থাকা সাদমান দ্বিতীয় বলে পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। এরপরই হারিয়ে ফেলেন মনোযোগ। বিশপের বলের লেংথ পড়তে ভুল করে ১০৫ রানে এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ওপেনার।


পরের ওভারে তাওহিদ হৃদয়কে বোল্ড করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন বিশপ। এতে অবশ্য বোলারের কৃতিত্বের চেয়ে ব্যাটসম্যানের দায়ই বেশি। ফুল লেংথ ডেলিভারিতে অহেতুক স্লগ করার চেষ্টায় স্টাম্প এলোমেলো হতে দেখেন আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান।


ততক্ষণ পর্যন্ত বিশপকে সঙ্গ দেওয়ার ভূমিকা পালন করেন ওয়ারিক্যান। ৮৩তম ওভারের শুরুতে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ওভার শুধু দুই প্রান্তে পেস আক্রমণ চালায় তারা। এরপর বল তুলে দেওয়া হয় ওয়ারিক্যানের হাতে।


নতুন স্পেলে ফিরে সাফল্যের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ওয়ারিকানের। তার তার ফ্লাইট ও ড্রিফটে বিভ্রান্ত হয়ে ভুল লাইনে ব্যাট পেতে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বল চলে যায় স্টাম্পে। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না নিজের পরিণতি।


মিরাজের বিদায়ে শুরু হয়ে শেষের ধস। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এতে ওয়ারিক্যানের সঙ্গে অবদান রাখেন দুই পেসার জেডেন সিলস ও শামার জোসেফ। শর্ট বলের পরিকল্পনায় শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের কঠিন পরীক্ষা নেন পেসাররা। আঙুলে চোটও পান এই কিপার-ব্যাটার।


পরপর দুই ওভারে নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদকে ফিরিয়ে দেন জোসেফ। বাকি থাকা দুই উইকেট নিতে সময় নষ্ট করেননি ওয়ারিক্যান। পরপর দুই বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। ৫ উইকেট পূর্ণ হয় ওয়ারিকানের। দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা নিয়ে বোলিং শুরু করবেন ৩৪ বছর বয়সী স্পিনার।


লিটন অপরাজিত রয়ে যান ৩৪ রানে।


ওয়ারিক্যানের ৫ উইকেটের ৪ জনই ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সব মিলিয়ে ৭ উইকেট নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই বাঁহাতি স্পিনার। এ নিয়ে চারবার বাঁহাতি স্পিনারদের কাছে ইনিংসে ৭ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। সবগুলোই ২০২২ সালের পর।


হামজা চৌধুরী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

ইসরায়েলের আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজায় মানবেতর জীবনযাপন করা শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ ফুটবলার সেখানকার শিশুদের জন্য ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন।


নিজের ফেইসবুক পেইজে এ নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন হামজা। ভালোবাসার ইমোজি ব্যবহার করে প্রথম লাইনে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, গাজার শিশুদের জন্য আমরা ১০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।”


এই তহবিল সংগ্রহে সাহায্য করা নুজুম স্পোর্টসকে আলাদাভাবে প্রশংসা করেছেন হামজা।


“যারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দান করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন এবং অবদান রেখে এটিকে সফল করে তুলেছেন, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ নুজুম স্পোর্টসকে, যারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিয়ে এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।”


এই অর্থ গাজার শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় কাজে লাগানো হবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেছেন হামজা।


“সংগৃহীত এই অর্থ 'চিলড্রেন নট নাম্বারস'-এর অবিশ্বাস্য কাজে সহায়তা করবে, যারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গাজার শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। এই শিশুদের অনেকের জন্যই বেঁচে থাকার একমাত্র আশা হলো চিকিৎসার জন্য তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) করা। সংগৃহীত সমস্ত অর্থ সেইসব শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরে ব্যবহৃত হবে, যাদের এটি অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।”


“খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি, তার জন্য আমি অত্যন্ত বিনীত ও কৃতজ্ঞ; তবে আমি জানি যে এত বিশাল কষ্টের সামনে এটি একটি সামান্য অবদান মাত্র। এখনও অনেক কিছু করা বাকি, তবে প্রতিটি প্রচেষ্টা-তা যতই ছোট হোক না কেন-একটি পরিবর্তন আনতে পারে।”


“আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, ফিলিস্তিনে আমাদের ভাই-বোনদের কষ্ট দূর করে দিন, তাদের শক্তি ও ধৈর্য দান করুন এবং তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসুন।”


আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টে লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার জন্য এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের আসার কথা রয়েছে ৮ বা ৯ নভেম্বর। ক্লাবের ব্যস্ততা থাকায় ভুটানের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির মা ইউলালিয়া মারজেত্তি মারা গেছেন। বুধবার দেশটির পুজাতো শহরে নিজের বাড়িতে ৭৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ইউলালিয়া। আর্জেন্টিনার ক্রীড়ামাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এ খবর জানিয়েছে।


রোজারিওর রেডিও টু জানিয়েছে, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্বামী অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে পুজাতোতেই বসবাস করতেন ইউলালিয়া। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।


তিন সন্তানের জননী ইউলালিয়াদ। তার তিন সন্তান লিওনেল, মাউরো ও কোরিনা। তাদের মধ্যে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করান। আর কোরিনা রোজারিওর কাছের ফুনেস এলাকায় ‘স্কালা বেকারি’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন।মায়ের সঙ্গে স্কালোনির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি থেকে সময় পেলেই মাকে দেখতে পুজাতোতে ছুটে যেতেন তিনি। মায়ের অসুস্থতা নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার এই কোচ।


২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন স্কালোনি। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তার সেই বক্তব্যে মায়ের অসুস্থতার বিষয়টিও সামনে এসেছিল।


ব্যক্তিগত কঠিন সময়ের মধ্যেও দায়িত্ব চালিয়ে যান স্কালোনি। পরের বছর তার অধীনেই কাতার বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়ের পরও মাকে স্মরণ করেছিলেন তিনি।সেই সময় আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেছিলেন, কোপা আমেরিকার শিরোপা তিনি মাকে উৎসর্গ করতে চান। কয়েক দিন আগে মায়ের গুরুতর শারীরিক সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তার মা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন স্কালোনি। এবার সেই মাকে হারানোর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও জন্মশহর পুজাতোতে।