বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানো নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে

  • প্রকাশ : বুধবার ১৩ মে, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ এএম

১৮ ডিসেম্বর, ২০২২। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) আঙিনায় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। 


হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে চিৎকার বলে উঠলেন, ‘গোল’। ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশে এই উন্মাদনা পুরোনো। 


তবে ২০২২ সালে তা নজরে পড়েছিল বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফিফারও। ঢাকায় ফুটবল উন্মাদনার কয়েকটি ছবি ফিফা নিজেদের ফেসবুক পেজে দিয়ে লিখেছিল, ‘ফুটবলের মতো আর কোনো কিছুই মানুষকে একত্রে নিয়ে আসে না।’


চার বছর পর আগামী ১১ জুন তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বাংলাদেশে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে এবার এ দেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারবে কি না।


রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব এখনো কিনতে পারেনি। বেসরকারি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল অথবা ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যম ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রচার স্বত্ব এখনো কেনেনি। ফলে খেলা দেখানো অনিশ্চিত।


২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখিয়েছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভি। এই চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু প্রথম আলোকে বলেন, দেশে টিভি চ্যানেল বা ওটিটি খেলা না দেখালে মানুষ খেলা দেখতে পারবে না। 


কারণ, বিদেশি চ্যানেলগুলো অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশের বাইরে খেলা সম্প্রচার করতে পারবে না বলে নিয়ম করে দিয়েছে ফিফা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে খেলা দেখানোর জন্য কেউ সম্প্রচার স্বত্ব কেনেনি।


বাংলাদেশে এবার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড’। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করতে হবে।


রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি প্রতি আসরের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার করে। বিটিভির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলেছে, সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছে। করসহ তা দাঁড়াবে ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। 


শর্ত অনুযায়ী এই অর্থের ৫০ শতাংশ ১০ মের মধ্যে এবং বাকিটা ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ রয়েছে।


বাংলাদেশে সাধারণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব কেনে। তারপর তারা টেলিভিশনের মাধ্যমে তা প্রচার করে। বিজ্ঞাপন থেকে তারা আয় করে।


বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’ (যারা সম্প্রচার স্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি। তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে অর্থ বরাদ্দ পায় বিটিভি। তখন ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল তারা।


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবক বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জন্য প্রথমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাব বিটিভির কাছে পাঠায়। গত এপ্রিলে বিটিভি স্প্রিংবকের কাছে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য জানতে চায়। তখন স্প্রিংবকের পক্ষ থেকে ১৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়।


বিটিভি সূত্রের দাবি, এত বেশি খরচ দেখে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিভিকে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়, যাতে বিনা মূল্যে দেখানোর সুযোগ পাওয়া যায়। 


এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ফিফাকে দুটি ই-মেইল পাঠিয়েছে বিটিভি। এর কোনোটিরই জবাব দেয়নি ফিফা। ফলে বিটিভিতে খেলা দেখানো অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিটিভির ই-মেইলের বিষয়টি নিয়ে জানতে ফিফার মিডিয়া বিভাগের কাছে মঙ্গলবার ই-মেইল করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি। 


তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৪ মের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের মতো চীন ও ভারতেও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দুটি দেশেই সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।


প্রতিবেদনে ফিফার একটি বিবৃতিও উদ্ধৃত করা হয়েছে। সেখানে ফিফা বলছে, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এ পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা প্রয়োজন।’


বেসরকারি খাতে অনাগ্রহ


বাংলাদেশে ২০২২ সালে সম্প্রচার ও স্বত্ব কেনার সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা এবার উদ্যোগ নিচ্ছে না। এমনকি তাদের জানামতে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের কেউ স্বত্ব কেনার জোরালো চেষ্টা করছে না। তাদের যুক্তি হলো, এবার খেলা হবে গভীর রাতে ও ভোরে। সে সময় দর্শক কম থাকবে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয় যে বিপুল বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে।


২০২২ সালের বিশ্বকাপে ডিজিটাল স্ট্রিমিং করেছিল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বত্ব কেনা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন তাঁরা।


তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারবে না-এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে। তিনি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক রয়েছে। বৈঠকের অ্যাজেন্ডায় এই বিষয়টি রয়েছে।’


মূল্য নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী স্প্রিংবক


ফিফার কাছ থেকে নেওয়া স্প্রিংবকের প্যাকেজে টেলিভিশন, রেডিও, মুঠোফোন ও ইন্টারনেটে সম্প্রচারের স্বত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে, প্রতিষ্ঠানটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা নিজেরাও ফিফার কাছ থেকে উচ্চমূল্যে এই স্বত্ব কিনেছেন। সেখানে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় ছিল।


বিটিভির বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা বিটিভিকে মূল্যের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিটিভি কোনো পাল্টা প্রস্তাব দেয়নি। তিনি বলেন, এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে তারা গ্রহণযোগ্য হারে মুনাফা রেখে এই স্বত্ব দিতে রাজি।


বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়াতে বাকি আর এক মাস। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলা দেখাতে চাইলে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে হবে। সময় নষ্ট করলে বঞ্চিত হবে মানুষ। এ ক্ষেত্রে এখন সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।


বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমরা ফুটবল লাভিং নেশন (ফুটবলপ্রেমী জাতি)। এখানে বিশ্বকাপ দেখানো হবে না, এটা তো চিন্তাই করা যায় না।’ 

তিনি বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা অবশ্যই আশা করব, যেকোনো মাধ্যমে হোক বিশ্বকাপ বাংলাদেশে দেখানো হবে। সেটা সরকার হোক, বেসরকারি হোক, যেভাবেই হোক না কেন; বিশ্বকাপ দেখাতেই হবে বাংলাদেশে।’




ফর্টিজ এফসি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ পিএম

পিছিয়ে পড়েও তাজিকিস্তানের ক্লাব এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় দিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশের ফর্টিজ এফসি। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই দুর্দান্ত জয়ের পরও টুর্নামেন্টের পরবম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ফর্টিজ। ১২ মিনিটের মাথায় এনদোঙ্গো ফোয়ের বুদ্ধিদীপ্ত বাড়ানো বল থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে সুযোগ নেন শেরজোদ মাখামাদিয়েভ। মুনির আলমকে কাটিয়ে তার নেওয়া শটে পরাস্ত হন ফর্টিজের লঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা। ফর্টিজ অফসাইড ও অবস্ট্যাকলের দাবি জানালেও তাতে সাড়া দেননি রেফারি, ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় তাজিক ক্লাবটি।


তবে ১৭ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। রেগার-তাদাজের মার্টিন আকো আসোমোর দুর্বল ব্যাক পাস ধরে দ্রুত গতিতে এগোতে থাকেন ফর্টিজের নোরিকি আকাদা। বক্সের ঠিক বাইরে তাকে বাজেভাবে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় রেগারের গোলরক্ষক সেভেরিন তাকামকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রেগার বদলি গোলরক্ষক হিসেবে নামায় শাখোবুদ্দিন মাখমুদজোদাকে।


মাঠে নেমেই পা ওমরের নেওয়া বিপজ্জনক বাঁকানো ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এই নতুন গোলরক্ষক।র্তী রাউন্ডে ওঠা সম্ভব হয়নি দলটির; বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্যায় থেকেই। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় ফর্টিজ। ৩৫ মিনিটে অধিনায়ক পা ওমরের পাস বুকে নামিয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন আকাদা, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয়।


দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম থাকা সত্ত্বেও রেগার-তাদাজের প্রধান কোচ আলিশের তুখতায়েভ ডিফেন্সিভ কৌশল না নেওয়ায় দুই পক্ষই আক্রমণাত্মক ফুটবলে মেতে ওঠে। ৬৩ মিনিটে ফর্টিজ কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার মাঠে নামান জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সুকিকে, আর তাতেই যেন বদলে যায় খেলার গতি।  মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন সুকি। তাকে আটকাতে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রেগার গোলরক্ষক, কিন্তু বল চলে যায় পা ওমরের পায়ে। ওমরের বাড়ানো বলে দূর পোস্টে থাকা রাফায়েল টুডু চোখধাঁধানো এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে জড়ান (১-১)।


সমতায় ফিরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ফর্টিজকে এগিয়ে যেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। চার মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ভাসানো ক্রসে অনন্ত তামাং হেডে বল বাড়িয়ে দেন শিয়ান কাওয়াসাকির দিকে। চমৎকার এক ভলিতে ফর্টিজকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কাওয়াসাকি।


ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফর্টিজের জয় সুনিশ্চিত করেন সুকি নিজেই। পা ওমরের সুন্দর পাস ধরে নিখুঁত সাইড-ফুটেড বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, ফলে ৩-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের ক্লাবটি।


এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের পরও শেষ রক্ষা হয়নি ফর্টিজের। তিন ম্যাচ শেষে ফর্টিজ ও তাজিক ক্লাব রেগার—উভয় দলেরই পয়েন্ট ৩ এবং গোল ব্যবধান -২। অন্যদিকে কুয়েতের ক্লাব কাদসিয়ার পয়েন্ট ৬ হওয়ায় আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়ে যায়। অন্য গ্রুপগুলোতে রানার্স-আপ দলগুলোর পয়েন্ট ৩-এর বেশি থাকায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফর্টিজকে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ পিএম

ম্যান সিটি ৫ : ১ এইকে এথেন্স


লিভারপুল ৪ : ৩ ভিয়ারিয়াল


চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। আগে সিটির কথা। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে।


ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সিটি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে।


ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গত সপ্তাহান্তে ডিসেম্বরের পর প্রথম গোল পেয়েছিলেন এই ইংলিশ তারকা। এবার পেলেন একসঙ্গে তিন গোল!


বিরতির পর ব্যবধান কমায় এথেন্স। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি সিটি। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেনের অনবদ্য এক ভলি। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। তিন গোল করার সঙ্গে একটিতে সহায়তা, সব মিলিয়ে ইতিহাদে একেবারে ফোডেনের রাত।


অ্যানফিল্ডের ছবি ছিল একেবারে আলাদা। খেলার আধা ঘণ্টার মধ্যে ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়ে যায় আন্দোনি ইরাওলার দল।


ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে। এর মাশুল দিতে হয় শুরুতেই। রেনাতো ভেইগার লম্বা বল সামলাতে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনকে লক্ষ্য করে বাড়ানো তাঁর দুর্বল হেড কেড়ে নিয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর নাথান সালিবার সহজ পাস ধরে ভিয়ারিয়ালকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন সের্হি কার্দোনা।


দুই গোল হজম করার পর ঘুম ভাঙে লিভারপুলের। ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার চমৎকার চিপে পা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরাউহোর জায়গায় ভির্টৎসকে নামান ইরাওলা। রায়ান গ্রাভেনবার্চকে পাঠান রাইট ব্যাক পজিশনে। এরপর মাঠে কার্যত রাজত্ব করে লিভারপুল।


কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ বানিয়ে দেন এনগুমোহা। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। একটু পর বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পান ভির্টৎস, ৪-২।


শেষ দিকে আইওজে পেরেসের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেই গোল করে আশা জাগিয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের সমর্থকদের। শেষ রক্ষা হয়নি। ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।


শারজাহতে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের সঙ্গে পরামর্শ করছেন পেসার হাসান মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর দলের ভেতরে একটা গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনা ছিল চ্যালেঞ্জিং। সোমবার সকালের টিম মিটিংয়ে খোলামেলা কথা বলে তার একটা সমাধান করা গেছে বলে জানান কোচ ফিল সিমন্স। মিটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছিল ক্রিকেটারদের দিক থেকে। এই প্রতিশ্রুতি টিম মিটিংয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। মিডিয়ার সামনে এসে আশার কথা শোনাননি দলীয় প্রতিনিধিদের কেউই। সোমবারের ভিডিও বার্তায় কোচ সিমন্স জোর দেন ছোট ছোট ভুল শুধরে নেওয়ার ওপর। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কোচের মন্ত্র এটি। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচ ভেন্যু শারজাহতে পৌঁছে ওপেনার তানজিদ হাসান সাহস নিয়ে মিডিয়ার সামনে বলতে পারেননি আজ আফগানদের হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চান ত্রিদেশীয় সিরিজের। তবে বাংলাদেশ যে জয়ের জন্যই খেলবে, এতে সন্দেহ নেই। আর সে জয় হতে হবে যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলিয়ে।


সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ১৫৮ রানে জিতে যাওয়ায় কিছু সমীকরণের মুখে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। আর রান তাড়া করতে হলে ৮.৩ ওভার হাতে রেখে জিততে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাট করতে পারলে ৪১ রানে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তাই ফাইনালে উন্নীত হওয়ার স্বপ্নপূরণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে ম্যাচ জিততে টসেও পেতে হবে জয়। যাতে করে শারজাহ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দেন তানজিদ, ‘আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, আমরা যদি একই মানসিকতা নিয়ে, দেশের বাইরেও একই প্রস্তুতি, সবকিছু পুরোপুরি গুছিয়ে নিয়ে যদি খেলতে পারি, একটি দল হিসেবে খেলতে পারি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় খুব ভালো হবে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে দলীয় সভায়। তো ইতিবাচক কিছু হবে সামনে।’ 


বাংলাদেশ সাত বছর পর আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন লিটন দাস। টাইগারদের সে স্বপ্নে প্রথম আঘাত করে জিম্বাবুয়ে। এতে সুতায় ঝুলছে স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা। আফগানিস্তানকে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে হারাতে পারলে স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। আর হেরে গেলে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। অভীষ্ট লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে হলে আজ সামর্থ্যের চূড়ান্ত দিয়ে খেলতে হবে তানজিদদের। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– উজাড় করে দিতে হবে তিন বিভাগে। তাই ব্যাটার তানজিদ জোর দেন ধারাবাহিকতার ওপর, ‘আমার কাছে মনে হয়, ধারাবাহিকতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এখানে। আর মানসিকতা, এই দুটোর সমন্বয় যখন আমাদের ভালো হবে, তখন আমরা চাপের পরিস্থিতিতে ভালো কিছু করতে পারব।’ 


আবুধাবিতে ২৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান তাড়া করতে গিয়ে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পরিচিত কন্ডিশনে ব্যাটিং ব্যর্থতা বড় হয়ে ধরা দেয়। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাই ব্যাটারদের দিকে আঙুল তোলেন পেসার তাসকিন আহমেদ, ‘মুস্তাফিজ ও আমাকে কেন ব্যাটিংয়ে যেতে হবে এতগুলো ব্যাটার থাকতে।’ তাসকিনের দাবির সঙ্গে একমত তানজিদ। তিনি চান ব্যাটাররা ভালো ক্রিকেট খেলে দলের জয় নিশ্চিত করুক। যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা বলের ক্রিকেটে এ মুহূর্তে জয় পাওয়া কঠিন। কারণ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। ২০২৪ সালে শারজাহ স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। গত বছর আবুধাবিতে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে লিটন দাসদের। এ ছাড়া এ দুই দল ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১১টি করে জিতেছে। তাই লিগের শেষ ম্যাচে ফেভারিটের তকমা জয়ের ছন্দে থাকা আফগানিস্তানের। 


বাঁচা-মরার এই ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন আনা হতে পারে। মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। এক দিন অনুশীলনও করেছেন তিনি। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান জুটি বাঁধতে পারেন ওপেনিংয়ে। বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সৌম্য সরকারকে। নাজমুল হোসেন শান্ত, রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী মিরাজকে নিয়ে সাজাতে হত পারে ব্যাটিং লাইনআপ। বাকি চার বোলারের তিনজন পেসার ও একজন বাঁহাতি স্পিনার। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় হাসান মাহমুদ খেলতে পারেন।

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ পিএম

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই পরাশক্তির রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বাজি মাত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে লামিনে ইয়ামালের বার্সেলোনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচে যখন ২-২ সমতা, ঠিক তখনই ৮১তম মিনিটে দৃশ্যপটে আসেন ভিতিনিয়া। বক্সের বাইরে বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার এক শটে বল জালে পাঠান গত বছরের ব্যালন্ ডি'অর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা এই পর্তুগিজ প্লেমেকার।


এরপর শেষ দিকে ফ্যাবিয়ান রুইসের গোলে সহজ জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। এই জয়ে চলতি আসরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল ফরাসি ক্লাবটি।


এর আগে বার্সেলোনা অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এই বছরের ব্যালন্ ডি'অরের অন্যতম দাবিদার লামিনে ইয়ামাল বার্সার হয়ে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরান। 


ম্যাচে পিএসজিকে প্রথম এগিয়ে নিয়েছিলেন দেজিরে দুয়ে। পরে বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার চাভি এস্পার্ত গোল শোধ করলে আবারো এগিয়ে যান স্বাগতিকরা; দ্বিতীয় গোলটি করেন লুকা এরনান্দেস। এই হারে কিছুটা ধাক্কা খেলেও ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে খুব একটা পিছিয়ে পড়বে না বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের উড়ন্ত সূচনা নিয়ে ফরাসি রাজধানীতে পা রেখেছিল কাতালানরা। সেই জয়রথ থামলেও গোল বন্যা থামেনি। ইয়ামালের গোলটি ছিল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে বার্সার ৫০তম গোল।


অন্যদিকে পিএসজি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে। তবে জয়ের আনন্দের মাঝে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে এসেছে উসমান দেম্বেলে ও খিচা কভারাতসখেলিয়ার চোট। ব্যালন্ ডি'অর জয়ী দেম্বেলে ও জর্জিয়ান উইঙ্গার কভারাতসখেলিয়া মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে।


তাদের চোট কতটা মারাত্মক তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুয়ের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স ও পুরো দলের ছন্দে থাকার ওপর ভর করে সহজেই নকআউট পর্বে ওঠার আভাস দিচ্ছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।


গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল দুই দলের ১৪তম সাক্ষাৎ। তবে বার্সেলোনার জন্য চলতি সপ্তাহে এটিই হয়তো সবচেয়ে বড় ম্যাচ নয়; কারণ আগামী রবিবার লিগায় মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে স্প্যানিশ এল ক্লাসিকোয় রিয়ালকে হারাতে পারলে লা লিগায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে বার্সা।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ এএম

ভালো শুরুর পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পরে মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। কিন্তু এই অর্ধে সমানতালে লড়লেও ম্যাচ জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১২ গোলের লিডই ব্যবধান গড়ে দেয়। 


তাতে মালদ্বীপকে হারিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি’র ফাইনালে নাম লেখায় স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৩৩-২০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। 


প্রথমার্ধে লাল সবুজের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৭-৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ১৭ গোলের জবাবে মালদ্বীপ করে ১৫টি। ৮ গোল করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের মোসাম্মত সানজিদা আক্তার। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা শুরু করে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ভারতের কাছে মেয়েরা হার মানে ৪৭-১৩ ব্যবধানে। ফাইনালে উঠতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার জিততে হত বাংলাদেশকে। এমন ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে সহজেই হারিয়েছে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল। 


আগামী বৃহস্পতিবার পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী বেলা ৩টায় আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। আর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচটি আগামীকাল দুপুর ২টায় যেখানে মালদ্বীপ খেলবে নেপালের সঙ্গে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

ক্রিকেট মাঠে কতভাবেই না বেঁচে যান ব্যাটসম্যান! তবে এবার যা ঘটল, তা একটু অন্য রকম। স্টাম্প ভেঙে দিয়েও ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠাতে পারলেন না বোলার। আর এর পেছনে দায়ী একটি তোয়ালে! কাল আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ম্যাচে এমনই এক কাণ্ড ঘটেছে।


আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হয়েছিলেন ব্রায়ান বেনেট। কিন্তু সাজঘরে ফেরার বদলে তিনি পেয়েছেন নতুন জীবন। কারণ, বল করার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল!


কী ঘটেছিল?


ঘটনাটি জিম্বাবুয়ের ইনিংসের অষ্টম ওভারের। বল করছিলেন ওমরজাই। তাঁর বল সরাসরি আঘাত হানে বেনেটের স্টাম্পে। বোলার-ফিল্ডারদের উদ্‌যাপনও শুরু হয়ে গিয়েছিল।


কিন্তু বেনেট দাবি করেন, বল খেলার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল। আর এতে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে। নন–স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও বিষয়টি আম্পায়ারের নজরে আনেন।


আম্পায়ার এহসান রাজা লেগ আম্পায়ার ফারুক খানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরই আসে সিদ্ধান্ত-ডেড বল! অর্থাৎ, বোল্ড হয়েও আউট হলেন না বেনেট।


আইনে কী বলা আছে?


আইসিসির ছেলেদের ওয়ানডে খেলার প্লেয়িং কন্ডিশনের ২০.৪.২.৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যাটসম্যান বল খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কিংবা বল খেলার সময় কোনো শব্দ, নড়াচড়া বা অন্য কোনো কারণে বিভ্রান্ত হলে আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করতে পারেন। সেই বিভ্রান্তির উৎস মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরেও হতে পারে।


বেনেটের ক্ষেত্রে ওমরজাইয়ের রানআপের সময় তোয়ালে পড়ে যাওয়াকে ব্যাটসম্যানের মনোযোগে ব্যাঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বোল্ড হওয়ার পরও তাঁকে ফিরে যেতে হয়নি সাজঘরে।


তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে ছিল ভিন্নমত। একজনের মতে, বেনেটের উচিত ছিল বল খেলার আগেই সরে যাওয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার বোঝাপড়া অনুযায়ী, ব্রায়ান বেনেটের স্ট্রোক খেলার আগে সরে যাওয়া উচিত ছিল। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি শট খেলেছেন, বোল্ড হয়েছেন, এরপর বিষয়টি তুলেছেন।’


অন্য ধারাভাষ্যকার অবশ্য সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে তোয়ালে পড়ে গেলে ব্যাটসম্যানের দৃষ্টি ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট যুক্তিসংগত। শেষ কয়েক সেকেন্ডে তোয়ালে পড়ে যাওয়াটা ব্যাটসম্যানের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। বেনেট বিষয়টি আম্পায়ারকে জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয়, বাস্তববুদ্ধির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।’


এভাবে বেঁচে গিয়েও বেনেট কাল ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৩১ রানে ম্যাচের ১৩তম ওভারে আউট হন। তাঁর দল জিম্বাবুয়েও হারে ১৫৮ রানে।