ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল (পুনর্বিক্রয়) সাইটে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)।


আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানকার গ্যালারির নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার।


ফিফা তাদের এই রিসেল বা বিনিময় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, অর্থাৎ বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন। 


তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে ফিফা। 


সে হিসাবে, এ চারটি টিকিট যদি নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়, তবে শুধু কমিশন বাবদই ফিফার পকেটে যাবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকার বেশি।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে টিকিটের বাজারে অস্থিরতা গত শুক্রবার সকালেও দেখা গেছে। এদিন গ্যালারির অন্যান্য আসনের টিকিটও বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ পাউন্ডে। এমনকি সবচেয়ে কম দামি টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার ৯২৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ লাখ টাকা।


ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ থেকে আসা আয় তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ২১১টি সদস্যদেশের পেছনে ব্যয় করে। 


গত বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সরাসরি বিক্রির জন্য নতুন ব্লকের কিছু টিকিট ছেড়েছে ফিফা, যেখানে ফাইনাল ম্যাচে টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা)।


এ ছাড়া আগামী ১৪ জুলাই টেক্সাসের আর্লিংটনে সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলারে এবং ১৫ জুলাই আটলান্টার সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট ৯ হাজার ৬৬০ ও ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে বিক্রি করছে ফিফা।


বিশ্বকাপ দেখার এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে গত শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপ মানেই ছিল ফুটবল নিয়ে এক আনন্দ উৎসব। নিজের দেশকে সমর্থন দিতে সারা বিশ্ব থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে যেত এবং সেটা তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।’


গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু সেখানে (ফিফায়) নেই, তাই সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে আশা করব, তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে। ফুটবল মূলত দর্শকদের জন্যই। অবশ্যই স্পনসর বা অন্যান্য বাণিজ্যিক দিকের কথা ভাবতে হবে, নয়তো এটি টিকিয়ে রাখা যাবে না, সবাই সেটা জানে। কিন্তু এই ব্যবসা সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।’


টেলিগ্রাফের মতে, ফাইনালে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান বিশাল এক ‘লুটতরাজ’-এর খণ্ডচিত্র। ফুটবলপ্রেমীদের পকেট কাটার এ মহোৎসবে আরও কী কী ঘটছে, সেসব নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে নেমেছে ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্টস’।


বড় সংকটে ইনফান্তিনো


ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে সংকট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য। বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৬৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।


টিকিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন ফুটবল-সমর্থক গোষ্ঠী। ব্যাপারটা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। 


তারা ঘোষণা করে, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে অতি সীমিতসংখ্যক টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বণ্টন করা হবে, যা কেবল দলগুলোর সবচেয়ে অনুগত বা নিয়মিত সমর্থকেরাই পাবেন।


টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতিকে। মূলত এই পদ্ধতির কারণেই চলতি মাসে ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটগুলোর মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।


ফিফার অনুমোদনেই টিকিটের কালোবাজারি


নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। মূলত সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের নিজস্ব ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় সাইটে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র চারটি টিকিটের দাম (একেকটি ২৩ লাখ ডলার) এত বেড়েছে।


বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ফিফার কমিশন-বাণিজ্য। 


তবে নিজস্ব টিকিটের উচ্চ মূল্য, ডায়নামিক প্রাইসিং এবং এই পুনর্বিক্রয় পদ্ধতি নিয়ে ফিফার আত্মপক্ষ সমর্থনও বেশ জোরালো। তাদের দাবি, এখান থেকে অর্জিত নিট মুনাফা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নেই পুনর্নিয়োগ করা হবে।


হোটেল ভাড়া বেড়েছে চার গুণ


বিশ্বকাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর হোটেলগুলোতে কক্ষভাড়া কয়েক শ ডলার বেড়েছে। দেখা গেছে, আয়োজক ১৬টি শহরে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর দিন আবাসন খরচ গড়ে চার গুণ বেড়েছে। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের সময় একটি হোটেলের কক্ষভাড়া যেখানে গত মে মাসের শেষে ছিল মাত্র ১৫৭ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে (প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা)।


ট্রেনভাড়া ১৩ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০ ডলার


পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম- উড়োজাহাজে নয়, মাত্র ৩০ মিনিটের এই ট্রেনভ্রমণের টিকিটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ ডলারের বেশি। যেখানে যাতায়াতের স্বাভাবিক খরচ ১২ ডলার ৯০ সেন্ট, সেখানে বিশ্বকাপের সময় তা প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় খোদ ফিফাই নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিরুদ্ধে ‘লুটতরাজের’ অভিযোগ তুলেছে। যদিও ফিফার এমন অবস্থানকে ‘স্পর্ধা’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।


নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক চুক্তি পেয়েছি, যেখানে ফিফা বিশ্বকাপের পরিবহন খাতে এক পয়সাও দিচ্ছে না। সমর্থকদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য নিউ জার্সি ট্রানজিটকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিশাল বিল মেটাতে হচ্ছে, সেখানে ফিফা আয় করছে ১১০০ কোটি ডলার। আমাদের সাধারণ যাত্রীদের ওপর আমি এই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারি না। ফিফার উচিত যাতায়াত খরচ বহন করা।’


পরিবহন খরচের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে অন্য শহরগুলোতেও। বোস্টনের উপকণ্ঠে জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে ট্রেনের টিকিটের দাম পড়বে ৮০ ডলার এবং কোচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ ডলার।


স্টেডিয়ামে পার্কিং খরচ ২২৫ ডলার


যাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের পকেটও ভালোই কাটা পড়বে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হবে ২২৫ ডলার (প্রায় ২৭ হাজার টাকা)। পিছিয়ে নেই বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামও, সেখানে একটি গাড়ির পার্কিং খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ ডলার।


ফ্যান জোনে ঢুকতেও খরচ করতে হবে


টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ও যাতায়াত খরচের পর যুক্ত হয়েছে ফ্যান জোনে প্রবেশমূল্য। সাধারণত বিশ্বকাপের ফ্যান জোনগুলো উন্মুক্ত থাকলেও এবার নিউ জার্সিতে তা হচ্ছে না। গত ডিসেম্বরেই এ নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। 


জানা গেছে, সেখানকার ফ্যান জোনে ঢুকতে সাধারণ মানুষকে টিকিট কাটতে হবে। টিকিটমাস্টার ওয়েবসাইটে এ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট।



সর্বশেষ সব খবর

ফর্টিজ এফসি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ পিএম

পিছিয়ে পড়েও তাজিকিস্তানের ক্লাব এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় দিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশের ফর্টিজ এফসি। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই দুর্দান্ত জয়ের পরও টুর্নামেন্টের পরবম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ফর্টিজ। ১২ মিনিটের মাথায় এনদোঙ্গো ফোয়ের বুদ্ধিদীপ্ত বাড়ানো বল থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে সুযোগ নেন শেরজোদ মাখামাদিয়েভ। মুনির আলমকে কাটিয়ে তার নেওয়া শটে পরাস্ত হন ফর্টিজের লঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা। ফর্টিজ অফসাইড ও অবস্ট্যাকলের দাবি জানালেও তাতে সাড়া দেননি রেফারি, ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় তাজিক ক্লাবটি।


তবে ১৭ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। রেগার-তাদাজের মার্টিন আকো আসোমোর দুর্বল ব্যাক পাস ধরে দ্রুত গতিতে এগোতে থাকেন ফর্টিজের নোরিকি আকাদা। বক্সের ঠিক বাইরে তাকে বাজেভাবে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় রেগারের গোলরক্ষক সেভেরিন তাকামকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রেগার বদলি গোলরক্ষক হিসেবে নামায় শাখোবুদ্দিন মাখমুদজোদাকে।


মাঠে নেমেই পা ওমরের নেওয়া বিপজ্জনক বাঁকানো ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এই নতুন গোলরক্ষক।র্তী রাউন্ডে ওঠা সম্ভব হয়নি দলটির; বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্যায় থেকেই। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় ফর্টিজ। ৩৫ মিনিটে অধিনায়ক পা ওমরের পাস বুকে নামিয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন আকাদা, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয়।


দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম থাকা সত্ত্বেও রেগার-তাদাজের প্রধান কোচ আলিশের তুখতায়েভ ডিফেন্সিভ কৌশল না নেওয়ায় দুই পক্ষই আক্রমণাত্মক ফুটবলে মেতে ওঠে। ৬৩ মিনিটে ফর্টিজ কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার মাঠে নামান জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সুকিকে, আর তাতেই যেন বদলে যায় খেলার গতি।  মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন সুকি। তাকে আটকাতে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রেগার গোলরক্ষক, কিন্তু বল চলে যায় পা ওমরের পায়ে। ওমরের বাড়ানো বলে দূর পোস্টে থাকা রাফায়েল টুডু চোখধাঁধানো এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে জড়ান (১-১)।


সমতায় ফিরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ফর্টিজকে এগিয়ে যেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। চার মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ভাসানো ক্রসে অনন্ত তামাং হেডে বল বাড়িয়ে দেন শিয়ান কাওয়াসাকির দিকে। চমৎকার এক ভলিতে ফর্টিজকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কাওয়াসাকি।


ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফর্টিজের জয় সুনিশ্চিত করেন সুকি নিজেই। পা ওমরের সুন্দর পাস ধরে নিখুঁত সাইড-ফুটেড বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, ফলে ৩-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের ক্লাবটি।


এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের পরও শেষ রক্ষা হয়নি ফর্টিজের। তিন ম্যাচ শেষে ফর্টিজ ও তাজিক ক্লাব রেগার—উভয় দলেরই পয়েন্ট ৩ এবং গোল ব্যবধান -২। অন্যদিকে কুয়েতের ক্লাব কাদসিয়ার পয়েন্ট ৬ হওয়ায় আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়ে যায়। অন্য গ্রুপগুলোতে রানার্স-আপ দলগুলোর পয়েন্ট ৩-এর বেশি থাকায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফর্টিজকে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ পিএম

ম্যান সিটি ৫ : ১ এইকে এথেন্স


লিভারপুল ৪ : ৩ ভিয়ারিয়াল


চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। আগে সিটির কথা। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে।


ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সিটি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে।


ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গত সপ্তাহান্তে ডিসেম্বরের পর প্রথম গোল পেয়েছিলেন এই ইংলিশ তারকা। এবার পেলেন একসঙ্গে তিন গোল!


বিরতির পর ব্যবধান কমায় এথেন্স। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি সিটি। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেনের অনবদ্য এক ভলি। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। তিন গোল করার সঙ্গে একটিতে সহায়তা, সব মিলিয়ে ইতিহাদে একেবারে ফোডেনের রাত।


অ্যানফিল্ডের ছবি ছিল একেবারে আলাদা। খেলার আধা ঘণ্টার মধ্যে ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়ে যায় আন্দোনি ইরাওলার দল।


ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে। এর মাশুল দিতে হয় শুরুতেই। রেনাতো ভেইগার লম্বা বল সামলাতে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনকে লক্ষ্য করে বাড়ানো তাঁর দুর্বল হেড কেড়ে নিয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর নাথান সালিবার সহজ পাস ধরে ভিয়ারিয়ালকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন সের্হি কার্দোনা।


দুই গোল হজম করার পর ঘুম ভাঙে লিভারপুলের। ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার চমৎকার চিপে পা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরাউহোর জায়গায় ভির্টৎসকে নামান ইরাওলা। রায়ান গ্রাভেনবার্চকে পাঠান রাইট ব্যাক পজিশনে। এরপর মাঠে কার্যত রাজত্ব করে লিভারপুল।


কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ বানিয়ে দেন এনগুমোহা। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। একটু পর বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পান ভির্টৎস, ৪-২।


শেষ দিকে আইওজে পেরেসের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেই গোল করে আশা জাগিয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের সমর্থকদের। শেষ রক্ষা হয়নি। ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।

সর্বশেষ সব খবর

শারজাহতে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের সঙ্গে পরামর্শ করছেন পেসার হাসান মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর দলের ভেতরে একটা গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনা ছিল চ্যালেঞ্জিং। সোমবার সকালের টিম মিটিংয়ে খোলামেলা কথা বলে তার একটা সমাধান করা গেছে বলে জানান কোচ ফিল সিমন্স। মিটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছিল ক্রিকেটারদের দিক থেকে। এই প্রতিশ্রুতি টিম মিটিংয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। মিডিয়ার সামনে এসে আশার কথা শোনাননি দলীয় প্রতিনিধিদের কেউই। সোমবারের ভিডিও বার্তায় কোচ সিমন্স জোর দেন ছোট ছোট ভুল শুধরে নেওয়ার ওপর। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কোচের মন্ত্র এটি। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচ ভেন্যু শারজাহতে পৌঁছে ওপেনার তানজিদ হাসান সাহস নিয়ে মিডিয়ার সামনে বলতে পারেননি আজ আফগানদের হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চান ত্রিদেশীয় সিরিজের। তবে বাংলাদেশ যে জয়ের জন্যই খেলবে, এতে সন্দেহ নেই। আর সে জয় হতে হবে যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলিয়ে।


সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ১৫৮ রানে জিতে যাওয়ায় কিছু সমীকরণের মুখে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। আর রান তাড়া করতে হলে ৮.৩ ওভার হাতে রেখে জিততে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাট করতে পারলে ৪১ রানে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তাই ফাইনালে উন্নীত হওয়ার স্বপ্নপূরণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে ম্যাচ জিততে টসেও পেতে হবে জয়। যাতে করে শারজাহ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দেন তানজিদ, ‘আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, আমরা যদি একই মানসিকতা নিয়ে, দেশের বাইরেও একই প্রস্তুতি, সবকিছু পুরোপুরি গুছিয়ে নিয়ে যদি খেলতে পারি, একটি দল হিসেবে খেলতে পারি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় খুব ভালো হবে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে দলীয় সভায়। তো ইতিবাচক কিছু হবে সামনে।’ 


বাংলাদেশ সাত বছর পর আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন লিটন দাস। টাইগারদের সে স্বপ্নে প্রথম আঘাত করে জিম্বাবুয়ে। এতে সুতায় ঝুলছে স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা। আফগানিস্তানকে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে হারাতে পারলে স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। আর হেরে গেলে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। অভীষ্ট লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে হলে আজ সামর্থ্যের চূড়ান্ত দিয়ে খেলতে হবে তানজিদদের। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– উজাড় করে দিতে হবে তিন বিভাগে। তাই ব্যাটার তানজিদ জোর দেন ধারাবাহিকতার ওপর, ‘আমার কাছে মনে হয়, ধারাবাহিকতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এখানে। আর মানসিকতা, এই দুটোর সমন্বয় যখন আমাদের ভালো হবে, তখন আমরা চাপের পরিস্থিতিতে ভালো কিছু করতে পারব।’ 


আবুধাবিতে ২৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান তাড়া করতে গিয়ে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পরিচিত কন্ডিশনে ব্যাটিং ব্যর্থতা বড় হয়ে ধরা দেয়। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাই ব্যাটারদের দিকে আঙুল তোলেন পেসার তাসকিন আহমেদ, ‘মুস্তাফিজ ও আমাকে কেন ব্যাটিংয়ে যেতে হবে এতগুলো ব্যাটার থাকতে।’ তাসকিনের দাবির সঙ্গে একমত তানজিদ। তিনি চান ব্যাটাররা ভালো ক্রিকেট খেলে দলের জয় নিশ্চিত করুক। যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা বলের ক্রিকেটে এ মুহূর্তে জয় পাওয়া কঠিন। কারণ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। ২০২৪ সালে শারজাহ স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। গত বছর আবুধাবিতে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে লিটন দাসদের। এ ছাড়া এ দুই দল ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১১টি করে জিতেছে। তাই লিগের শেষ ম্যাচে ফেভারিটের তকমা জয়ের ছন্দে থাকা আফগানিস্তানের। 


বাঁচা-মরার এই ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন আনা হতে পারে। মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। এক দিন অনুশীলনও করেছেন তিনি। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান জুটি বাঁধতে পারেন ওপেনিংয়ে। বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সৌম্য সরকারকে। নাজমুল হোসেন শান্ত, রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী মিরাজকে নিয়ে সাজাতে হত পারে ব্যাটিং লাইনআপ। বাকি চার বোলারের তিনজন পেসার ও একজন বাঁহাতি স্পিনার। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় হাসান মাহমুদ খেলতে পারেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ পিএম

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই পরাশক্তির রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বাজি মাত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে লামিনে ইয়ামালের বার্সেলোনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচে যখন ২-২ সমতা, ঠিক তখনই ৮১তম মিনিটে দৃশ্যপটে আসেন ভিতিনিয়া। বক্সের বাইরে বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার এক শটে বল জালে পাঠান গত বছরের ব্যালন্ ডি'অর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা এই পর্তুগিজ প্লেমেকার।


এরপর শেষ দিকে ফ্যাবিয়ান রুইসের গোলে সহজ জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। এই জয়ে চলতি আসরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল ফরাসি ক্লাবটি।


এর আগে বার্সেলোনা অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এই বছরের ব্যালন্ ডি'অরের অন্যতম দাবিদার লামিনে ইয়ামাল বার্সার হয়ে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরান। 


ম্যাচে পিএসজিকে প্রথম এগিয়ে নিয়েছিলেন দেজিরে দুয়ে। পরে বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার চাভি এস্পার্ত গোল শোধ করলে আবারো এগিয়ে যান স্বাগতিকরা; দ্বিতীয় গোলটি করেন লুকা এরনান্দেস। এই হারে কিছুটা ধাক্কা খেলেও ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে খুব একটা পিছিয়ে পড়বে না বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের উড়ন্ত সূচনা নিয়ে ফরাসি রাজধানীতে পা রেখেছিল কাতালানরা। সেই জয়রথ থামলেও গোল বন্যা থামেনি। ইয়ামালের গোলটি ছিল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে বার্সার ৫০তম গোল।


অন্যদিকে পিএসজি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে। তবে জয়ের আনন্দের মাঝে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে এসেছে উসমান দেম্বেলে ও খিচা কভারাতসখেলিয়ার চোট। ব্যালন্ ডি'অর জয়ী দেম্বেলে ও জর্জিয়ান উইঙ্গার কভারাতসখেলিয়া মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে।


তাদের চোট কতটা মারাত্মক তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুয়ের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স ও পুরো দলের ছন্দে থাকার ওপর ভর করে সহজেই নকআউট পর্বে ওঠার আভাস দিচ্ছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।


গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল দুই দলের ১৪তম সাক্ষাৎ। তবে বার্সেলোনার জন্য চলতি সপ্তাহে এটিই হয়তো সবচেয়ে বড় ম্যাচ নয়; কারণ আগামী রবিবার লিগায় মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে স্প্যানিশ এল ক্লাসিকোয় রিয়ালকে হারাতে পারলে লা লিগায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে বার্সা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ এএম

ভালো শুরুর পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পরে মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। কিন্তু এই অর্ধে সমানতালে লড়লেও ম্যাচ জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১২ গোলের লিডই ব্যবধান গড়ে দেয়। 


তাতে মালদ্বীপকে হারিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি’র ফাইনালে নাম লেখায় স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৩৩-২০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। 


প্রথমার্ধে লাল সবুজের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৭-৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ১৭ গোলের জবাবে মালদ্বীপ করে ১৫টি। ৮ গোল করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের মোসাম্মত সানজিদা আক্তার। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা শুরু করে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ভারতের কাছে মেয়েরা হার মানে ৪৭-১৩ ব্যবধানে। ফাইনালে উঠতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার জিততে হত বাংলাদেশকে। এমন ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে সহজেই হারিয়েছে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল। 


আগামী বৃহস্পতিবার পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী বেলা ৩টায় আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। আর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচটি আগামীকাল দুপুর ২টায় যেখানে মালদ্বীপ খেলবে নেপালের সঙ্গে।


সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

ক্রিকেট মাঠে কতভাবেই না বেঁচে যান ব্যাটসম্যান! তবে এবার যা ঘটল, তা একটু অন্য রকম। স্টাম্প ভেঙে দিয়েও ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠাতে পারলেন না বোলার। আর এর পেছনে দায়ী একটি তোয়ালে! কাল আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ম্যাচে এমনই এক কাণ্ড ঘটেছে।


আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হয়েছিলেন ব্রায়ান বেনেট। কিন্তু সাজঘরে ফেরার বদলে তিনি পেয়েছেন নতুন জীবন। কারণ, বল করার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল!


কী ঘটেছিল?


ঘটনাটি জিম্বাবুয়ের ইনিংসের অষ্টম ওভারের। বল করছিলেন ওমরজাই। তাঁর বল সরাসরি আঘাত হানে বেনেটের স্টাম্পে। বোলার-ফিল্ডারদের উদ্‌যাপনও শুরু হয়ে গিয়েছিল।


কিন্তু বেনেট দাবি করেন, বল খেলার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল। আর এতে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে। নন–স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও বিষয়টি আম্পায়ারের নজরে আনেন।


আম্পায়ার এহসান রাজা লেগ আম্পায়ার ফারুক খানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরই আসে সিদ্ধান্ত-ডেড বল! অর্থাৎ, বোল্ড হয়েও আউট হলেন না বেনেট।


আইনে কী বলা আছে?


আইসিসির ছেলেদের ওয়ানডে খেলার প্লেয়িং কন্ডিশনের ২০.৪.২.৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যাটসম্যান বল খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কিংবা বল খেলার সময় কোনো শব্দ, নড়াচড়া বা অন্য কোনো কারণে বিভ্রান্ত হলে আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করতে পারেন। সেই বিভ্রান্তির উৎস মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরেও হতে পারে।


বেনেটের ক্ষেত্রে ওমরজাইয়ের রানআপের সময় তোয়ালে পড়ে যাওয়াকে ব্যাটসম্যানের মনোযোগে ব্যাঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বোল্ড হওয়ার পরও তাঁকে ফিরে যেতে হয়নি সাজঘরে।


তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে ছিল ভিন্নমত। একজনের মতে, বেনেটের উচিত ছিল বল খেলার আগেই সরে যাওয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার বোঝাপড়া অনুযায়ী, ব্রায়ান বেনেটের স্ট্রোক খেলার আগে সরে যাওয়া উচিত ছিল। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি শট খেলেছেন, বোল্ড হয়েছেন, এরপর বিষয়টি তুলেছেন।’


অন্য ধারাভাষ্যকার অবশ্য সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে তোয়ালে পড়ে গেলে ব্যাটসম্যানের দৃষ্টি ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট যুক্তিসংগত। শেষ কয়েক সেকেন্ডে তোয়ালে পড়ে যাওয়াটা ব্যাটসম্যানের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। বেনেট বিষয়টি আম্পায়ারকে জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয়, বাস্তববুদ্ধির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।’


এভাবে বেঁচে গিয়েও বেনেট কাল ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৩১ রানে ম্যাচের ১৩তম ওভারে আউট হন। তাঁর দল জিম্বাবুয়েও হারে ১৫৮ রানে।

সর্বশেষ সব খবর