ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন জটিলতা বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠানও নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব প্রতারণা রোধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফেসবুক।
সম্প্রতি এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করার জন্য বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তবে এই ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে অবশ্যই সেলফি ভিডিও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এ ব্যাপারে টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, ফেসবুকের এই ভেরিফায়েড বেজ দেখাবে যে- ফেসবুক প্রোফাইলের ব্যবহারকারী প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষ কিনা। কিন্তু মেটার সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস এই মেটা ভেরিফায়েডের থেকে ভিন্ন। এটি চালু করা হচ্ছে শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য।
ফ্রিতে ফেসবুক আইডি ভেরিফায়েড করার নিয়ম:
মেটার এই নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ভিডিওটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট মালিকের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
কারা পাবেন এই ভেরিফায়েড ব্যাজ:
ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে ন্যূনতম কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব হলো―ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের রেকর্ড বা ইতিহাস থাকা যাবে না। এসব প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সফল হতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন- প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিংয়ে।
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআইয়ের মাধ্যমে এখন সহজেই ভুয়া ছবি-ভিডিও, ভুয়া পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ফলে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু হলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন, তিনি যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, ওই ব্যক্তি বাস্তবে মানুষ কি না।
তবে মেটা এটি স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। পরিষেবাটি কেবল ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণস্বরূপ। এ জন্য অনলাইনে কোনো ধরনের লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এছাড়াও মেটা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে চালু করা হবে এই ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে চালুর পর ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চালু করা হবে পরিষেবাটি। তবে প্রথমে কোন দেশে চালু হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি।
মহাকাশ অভিযান
বিশাল মহাকাশের অন্তহীন অন্ধকারে লুকিয়ে আছে নানা ধরনের রহস্য। সেই রহস্য উন্মোচনে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার মহাকাশে আমাদের নিকটবর্তী গ্যালাক্সিগুলো পর্যালোচনা করে ৮৪টি রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের একদল বিজ্ঞানী।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে রহস্যময় বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এত দিন মানুষের চোখের আড়ালে ছিল। নতুন এই আবিষ্কারের বিষয়ে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুস্তফা মুহিবুল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো শনাক্ত করা কঠিন হলেও এগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে।’
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, বস্তুগুলো সূর্য থেকে লাখ লাখ গুণ বেশি শক্তি নির্গমন করতে পারে। কিন্তু এত দিন বস্তুগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়নি। অদ্ভুত বস্তুগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাইপারসফট এক্স-রে সোর্স’। বস্তুগুলো থেকে নির্গত এক্স-রে রশ্মির শক্তির পরিমাণ খুবই কম। এগুলোর বেশির ভাগ বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্তনাক্ষত্রিক গ্যাস এই অতিবেগুনি রশ্মিকে শুষে নেয়। ফলে টেলিস্কোপে কেবল কম শক্তির এক্স-রে রশ্মি পৌঁছাতে পারে।
এ বিষয়ে মুস্তফা মুহিবুল্লাহ জানান, এই হাইপারসফট জনসংখ্যার একটি অংশ যদি গ্যাস সংগ্রহকারী শ্বেত বামন হয়, তবে তা নিখোঁজ পর্যবেক্ষণের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বস্তুগুলোর তাপমাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব হবে। এক্স-রে ও অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে যুগপৎ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এদের আসল রূপ স্পষ্ট হবে। মহাকাশের কোলজুড়ে লুকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত বস্তুগুলো গ্যালাক্সির অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করবে।
অ্যান্ড্রোমিডা ও এম১০১-সহ ছয়টি গ্যালাক্সির প্রতিটিতে ৭ থেকে ২১টি এমন উৎস পাওয়া গেছে। এই ঝাপসা বিন্দুগুলো টেলিস্কোপের কোনো ত্রুটি নয়, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। বারবার একই অবস্থানে এই বস্তুগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেমস ওয়েব কিংবা অন্যান্য টেলিস্কোপেও এদের কিছু সংকেত ধরা পড়েছে। আর তাই বস্তুগুলো আসলে কী, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা কৌতূহল কাজ করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শনাক্ত করা বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ বা শ্বেত বামন থাকতে পারে। আবার কিছু বস্তু হতে পারে নিউট্রন তারা কিংবা ব্ল্যাক হোল। শ্বেত বামন তারা আশপাশের অন্য নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিজের ওজন বাড়াতে থাকে। একসময় বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই নক্ষত্রগুলোর ধ্বংস ঘটেছে। এই মহাজাগতিক বিস্ফোরণগুলোর আগের অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এত দিন অন্ধকারে ছিলেন। হাইপারসফট উৎসগুলোর আবিষ্কার সেই হারানো যোগসূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
গুগল
উইন্ডোজ ১০ ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অফিশিয়াল জেমিনাই অ্যাপ চালু করেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল। এ বছরের শুরুতে ম্যাকওএস সংস্করণের জন্য সফল উন্মোচনের ধারাবাহিকতায় এবার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্যও এআইভিত্তিক চ্যাটবটটি ব্যবহারের পথ সুগম হল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নতুন অ্যাপটির মাধ্যমে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা পিসিতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুততার সঙ্গে গুগলের বিভিন্ন এআই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
পিসিতে অ্যাপটি ইনস্টলের পর নির্ধারিত কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে যে কোনো সময় তা চালু করা যাবে, যা ম্যাকের জেমিনাই অ্যাপের কার্যপদ্ধতির মতোই।
গুগল বলেছে, ব্যবহারকারীরা যখন ‘কোনো নথিতে দ্রুত তথ্য যাচাই বা উপস্থাপনার জন্য কিছু আকর্ষণীয় শিরোনামের আইডিয়ার প্রয়োজন হয়’ তখন টুলটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, জেমিনাই যেহেতু জেনারেটিভ এআই মডেল ফলে এআই প্রদত্ত তথ্যের শতভাগ নির্ভরতার বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং ম্যানুয়ালি তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাপটি গুগলের অন্যান্য এআই পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে, যার ফলে বিভিন্ন টাস্ক বা কাজ এজেন্টিক অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনাই স্পার্ক’-এর কাছে পাঠানো সম্ভব।
স্মার্টফোন থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও করার সময় শুধু বেশি মেগাপিক্সেল হলেই চলে না; আলো-স্বল্পতার ছবি কেমন হবে, ব্যাকগ্রাউন্ড কতটুকু ব্লার হবে, ভিডিওর শব্দ কতটা নিখুঁত শোনা যাবে– এসব জরুরি শর্ত। ঠিক এই জায়গাতে বড় ধরনের আপডেট করল অ্যাপল, যার দেখা মিলবে সদ্য ঘোষিত আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেলে। বিশেষ করে ক্যামেরার ক্ষেত্রে এবার এমন কিছু ফিচার আসছে, যা স্মার্টফোনে ছবি তোলা ও ভিডিওচিত্র ধারণের অমূল পরিবর্তন আনবে।
প্রথমবার ভেরিয়েবল অ্যাপারচার
নতুন সিরিজের প্রো মডেলে আকর্ষণীয় ক্যামেরা আপডেট হলো ভেরিয়েবল অ্যাপারচার। এটি আইফোনে নতুন সংযোজন। ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশনপ্রধান ক্যামেরাতে প্রথমবার অ্যাপারচার কন্ট্রোল করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সহজ ভাষায় বললে, ক্যামেরার লেন্সে কতটা আলো প্রবেশ করবে, তা তার পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলানো যাবে। ফলে দিনের উজ্জ্বল আলো থেকে কম আলো– সব আলোতে ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব। শুধু স্বয়ংক্রিয় নয়, চাইলে যে কেউ নিজে চারটি আলাদা অ্যাপারচার সেটিং নির্বাচন করতে পারবেন। এর অর্থ, ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ আনা যাবে।
কম আলোতে স্বচ্ছ ছবি
নতুন সেন্সর ও কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি ফিচারের মাধ্যমে ছবির ডিটেইলিং বাড়ানো যাবে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম আলোতে ও একসঙ্গে অনেক মানুষের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ছবির মানোন্নত সংস্করণ মিলবে। এ ক্ষেত্রে রাতে ছবি তুললে, ইনডোর শট বা কোনো আয়োজনে একসঙ্গে অনেকের ছবি তুললেও তা হবে পরিষ্কার। ক্যামেরাতে জুড়ে থাকা এআই ফিচার এতটা উন্নত হবে যে ছবির ডায়নামিক রেঞ্জ হাই হবে। এর অর্থ, আলো-ছায়া পরিবেশে নিজস্ব ব্যাকগ্রাউন্ডে আলো যত কম থাকুক না কেন, তা দৃষ্টিনন্দন হয়ে অ্যাডজাস্ট করে মিরর লেস ক্যামেরার মতো ছবিতে ইফেক্ট দিতে পারবে।
গতির প্রসেসর
অনেক অ্যাপল গ্যাজেট বিশ্লেষক বলছেন, আগে আইফোন ১৭ ও ১৭ প্রো মডেলে ব্যবহার হতো নাইন্টিন্থ প্রো প্রসেসর। নতুন সিরিজে ব্যবহৃত হয়েছে টুয়েন্টিন্থ প্রো প্রসেসর। এতে ক্যামেরার গুণগত মান অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ
অ্যাপে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন প্রো কন্ট্রোলস সুবিধা। সেখানে নিজে অ্যাপারচার, শাটার স্পিড ও হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সঙ্গে রয়েছে হিস্টোগ্রাম। যার সহায়তায় ছবি তোলার আগে আলো ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, তা সুস্পষ্ট বোঝা যাবে। ফলে যারা স্মার্টফোনে ফটোগ্রাফি করেন বা রিল তৈরি করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ সুখবর।
কতটা এআইবান্ধব
অ্য়াপলের এবারের সিরিজের ক্যামেরার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এআই প্রযুক্তি। অনেকে বলছেন, এই আপগ্রেডেড এআই টেক দিয়ে ছবি তোলার পর তার ডেফথ অন ফিলড নিয়ন্ত্রণ করানো যাবে। ছবির ব্লার ইফেক্ট কেমন হবে, এটি দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফলে মিরর লেস ক্যামেরায় ছবি তুললে যেমন ইফেক্ট পাওয়া যায়, অনেকটা তেমন ইফেক্ট দেবে।
ভিডিওতে বড় ধাক্কা
ভিডিও ধারণে মিলবে বেশ কিছু নতুন সুবিধা। ভিডিও রেকর্ড করার পর সিনেম্যাটিক ইফেক্ট দেওয়া যাবে। ফলে শুট করার সময় কোনো কিছু মিস হয়ে গেলে পরে এডিট করার পূর্ণ সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে ফোরকে ডলবি ভিশন এইচডিআর টাইম-ল্যাপস ও শ্রুতিমধুর অডিও সংযোগ করা যাবে। নতুন অ্যালগরিদমের সহায়তায় ভিডিওর কথা বলার সময়ে কণ্ঠস্বরকে নিখুঁত করার সঙ্গে চারপাশের মিউজিক বা অন্য শব্দ অডিওকে মানোন্নত করা যাবে।
প্রতীকী ছবি
উইন্ডোজ ১০ ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অফিশিয়াল জেমিনাই অ্যাপ চালু করেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল। এ বছরের শুরুতে ম্যাকওএস সংস্করণের জন্য সফল উন্মোচনের ধারাবাহিকতায় এবার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্যও এআইভিত্তিক চ্যাটবটটি ব্যবহারের পথ সুগম হল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নতুন অ্যাপটির মাধ্যমে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা পিসিতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুততার সঙ্গে গুগলের বিভিন্ন এআই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
পিসিতে অ্যাপটি ইনস্টলের পর নির্ধারিত কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে যে কোনো সময় তা চালু করা যাবে, যা ম্যাকের জেমিনাই অ্যাপের কার্যপদ্ধতির মতোই।
গুগল বলেছে, ব্যবহারকারীরা যখন ‘কোনো নথিতে দ্রুত তথ্য যাচাই বা উপস্থাপনার জন্য কিছু আকর্ষণীয় শিরোনামের আইডিয়ার প্রয়োজন হয়’ তখন টুলটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, জেমিনাই যেহেতু জেনারেটিভ এআই মডেল ফলে এআই প্রদত্ত তথ্যের শতভাগ নির্ভরতার বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং ম্যানুয়ালি তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাপটি গুগলের অন্যান্য এআই পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে, যার ফলে বিভিন্ন টাস্ক বা কাজ এজেন্টিক অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনাই স্পার্ক’-এর কাছে পাঠানো সম্ভব।
এটা জিমেইল ও গুগল ড্রাইভের মতো গুগলের অন্যান্য সেবার সঙ্গেও কাজ করবে। ব্যবহারকারীর পছন্দ হলে তা ‘ন্যানো ব্যানানা’ ও ‘জেমিনাই ওমনি’র মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও তৈরি করে দেবে।
গুগল বলেছে, অ্যাপটি ‘হালকা ও নিঃশব্দ’ হওয়ায় তা উইন্ডোজ পিসির গতি কমিয়ে দেবে না। এটা এখনই ডাউনলোডের জন্য পাওয়া যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এতে আরও নতুন ডেস্কটপ ফিচার যোগ হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আইফোন কিনতে গিয়ে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কোন মডেলের ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি বেশি টিকবে কিংবা প্রসেসর কতটা শক্তিশালী। কিন্তু এবার অ্যাপলের নতুন আইফোন ডুও সেই হিসাবটাই বদলে দিয়েছে। কারণ এটি আর সাধারণ স্মার্টফোন নয়। অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, অথচ বন্ধ করলে এটি আবার একটি পকেটসাইজ ফোন।
খুললেই বদলে যাবে ফোনের চেহারা
আইফোন ডুওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর ফোল্ডেবল ডিজাইন। খোলা অবস্থায় রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। অ্যাপল বলছে, এটি এখন পর্যন্ত আইফোনে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। আর ফোনটি ভাঁজ করলে সামনে পাওয়া যাবে ৫.৪ ইঞ্চির কভার স্ক্রিন। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা কাজের সময় বড় স্ক্রিন পাওয়া যাবে।
শুধু বড় স্ক্রিন নয়, কাজেও সুবিধা
ডুওর বড় ডিসপ্লের আসল সুবিধা পাওয়া যাবে মাল্টিটাস্কিংয়ে। একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং কিংবা বড় স্ক্রিনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকটা ছোট ট্যাবলেটের মতো হতে পারে। অ্যাপল পেন্সিলের সমর্থনও রয়েছে, ফলে নোট নেওয়া বা সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও ফোনটি অন্য আইফোনের তুলনায় আলাদা।
ক্যামেরাতেও রয়েছে নতুনত্ব
পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরায় অপটিক্যাল-কোয়ালিটি 2x টেলিফোটো সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা ফ্রেমে থাকা ব্যক্তিদের অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিউ সামঞ্জস্য করতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয়, ডুও-প্রিভিউয়ের মাধ্যমে ফোনের বাইরের ডিসপ্লেতেই ছবির লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। ফলে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার সময়ও ফ্রেম ঠিকভাবে দেখা সম্ভব।
শক্তির দিক থেকেও পিছিয়ে নেই
ফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভারী কাজের সময় পারফরম্যান্স ধরে রাখা যায়। অ্যাপলের দাবি, আইফোন ডুও আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্সে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দিতে পারে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুবিধা। ভেতরে দুই পাশে আলাদা উচ্চ-ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের হিসাবে, ভেতরের বড় স্ক্রিনে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং বাইরের স্ক্রিনে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যেতে পারে। ম্যাগসেফ বা কিউআই২ ওয়্যারলেস চার্জারেও দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে।
তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন?
যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। এর ২টিবি মডেলের দাম প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? সত্যি বলতে, শুধু ফোন করার জন্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য আইফোন ডুও কেনার যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়। একই কাজ অনেক কম দামের আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও করা সম্ভব। কিন্তু যারা ফোল্ডেবল ফোনের নতুন অভিজ্ঞতা, বড় স্ক্রিনে কাজ, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেম সবকিছু একসঙ্গে চান, তাদের কাছে ডুও-র আকর্ষণ আলাদা।
আর সবচেয়ে বড় কারণ? এত দিন অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই দেখা যেত ফোল্ডেবল আইফোন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে অ্যাপল। তাই প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপলের নতুন প্রযুক্তি সবার আগে ব্যবহার করতে চান এমন ক্রেতাদের কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকার এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী বড় আকর্ষণ।
ছবি : সংগৃহীত
‘গুগলে সার্চ করতে, ইউটিউবে ভিডিও দেখতে কিংবা অফিসের জরুরি মেইলটা জিমেইলে পাঠাতে আপনি কত টাকা খরচ করেন? আমি খরচ করি শূন্য টাকা। অর্থাৎ, একটি পয়সাও খরচ না করে আমি-আপনি গুগলের দারুণ সব সেবা ব্যবহার করছি। অথচ গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে! সঠিক অঙ্কটা হলো ৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার। একই বছরে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১৩২.১৭ বিলিয়ন ডলার।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, যে কোম্পানির এত জনপ্রিয় সব সেবার জন্য আমরা কোনো টাকাই দিই না, তাদের রাজকোষে এত এত টাকা ঢোকে কীভাবে?
পণ্য যখন আপনি নিজেই
ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি বহুল আলোচিত কথা আছে—যেখানে আপনি কোনো সেবার জন্য টাকা দিচ্ছেন না, সেখানে অনেক সময় আপনি নিজেই মূল পণ্য! গুগলের ব্যবসার দিকে তাকালে কথাটি বেশ পরিষ্কার হয়ে যায়।
একদিকে দাঁড়িয়ে আছি আমি, আপনি আর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। আমরা বিনা পয়সায় গুগলে সার্চ করছি, গুগল ম্যাপসে রাস্তা খুঁজছি, জিমেইলে মেইল পাঠাচ্ছি কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখছি। অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে লাখ লাখ বিজ্ঞাপনদাতা। তারা তাদের পণ্য বা সেবা এমন মানুষের সামনে হাজির করতে চায়, যাদের কাছে ওই বিজ্ঞাপনের মূল্য আছে। এই দুই পক্ষের ঠিক মাঝখানে গুগল তৈরি করেছে বিশাল এক ডিজিটাল বাজার।
আমরা গুগলের সেবা ব্যবহার করার সময় নিজেদের অজান্তেই গুগলকে নানা তথ্য দিই। আপনি কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোন বিষয়ে আগ্রহী—এসব তথ্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করে গুগল। এরপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। অর্থাৎ, আমাদের কখন কোন জিনিস ভালো লাগবে, সেটা গুগল আগেই অনুমান করতে পারে। বিজ্ঞাপনের বাজারে এই তথ্যের মূল্য অনেক। এতটাই বেশি যে বলা হয় ডিজিটাল এই দুনিয়ায় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের নামই হলো তথ্য।
আপনি যত বেশি সময় ধরে কোনো ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করবেন, তত বেশি তথ্য তৈরি হবে। আর সেই তথ্য থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার আচরণ ও আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাবে। ফলে একই বিজ্ঞাপন সবাইকে না দেখিয়ে, যার আগ্রহ আছে তাকেই শুধু দেখানো যায়। এতে বিজ্ঞাপনদাতার সময় যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি পণ্য বিক্রি বাড়ে বহুগুণ। এ কারণেই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে মানুষ এখন আর খুব একটা ভাবে না। অর্থাৎ, আপনি টাকা না দিলেও গুগলের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা বিনিময়হীন নয়।
সংখ্যায় অ্যালফাবেট
নিচের ছকটা একনজর দেখুন
| আর্থিক বছর | মোট রাজস্ব | নিট মুনাফা | রাজস্ব প্রবৃদ্ধি | মুনাফা প্রবৃদ্ধি |
| ২০২৩ | ৩০৭.৩৯৪ বিলিয়ন ডলার | ৭৩.৭৯৫ বিলিয়ন ডলার | — | — |
| ২০২৪ | ৩৫০.০১৮ বিলিয়ন ডলার | ১০০.১১৮ বিলিয়ন ডলার | ১৩.৯% | ৩৫.৭% |
| ২০২৫ | ৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার | ১৩২.১৭০ বিলিয়ন ডলার | ১৫.১% | ৩২.০% |
কোথা থেকে এল ৪০০ বিলিয়ন
অ্যালফাবেটের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৭৩ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে, যার পরিমাণ ২৯৪.৬৯১ বিলিয়ন ডলার! এর মধ্যে শুধু গুগল সার্চ ও অন্যান্য থেকেই এসেছে ২২৪.৫৩২ বিলিয়ন ডলার।
ধরুন, আপনি গুগলে লিখলেন—‘ঢাকা টু কক্সবাজার বিমান টিকিট’ কিংবা ‘সেরা বাজেট ল্যাপটপ’। খেয়াল করলে দেখবেন, সার্চ ফলাফলের ওপরে 'Sponsored' বা 'Ad' লেখা কয়েকটি লিংক দেখা যায়? এগুলো এমনি এমনি সেখানে আসে না। বিজ্ঞাপনদাতারা নির্দিষ্ট সার্চের সামনে নিজেদের বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অর্থ দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আপনি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে সেই ক্লিকের জন্যও বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে গুগল রাজস্ব পায়। ২০২৫ সালে ‘গুগল সার্চ ও অন্যান্য’ বিভাগের পেইড ক্লিক বেড়েছে ৬ শতাংশ, আর কস্ট-পার-ক্লিক বেড়েছে ৭ শতাংশ।
ইউটিউবও কম যায় না!
ভিডিও শুরু হওয়ার আগে বা মাঝখানে যেসব বিজ্ঞাপন আমাদের বিরক্তির কারণ হয়, সেগুলোই কিন্তু গুগলের বড় আয়ের উৎস! ২০২৫ সালে শুধু ইউটিউব অ্যাডস থেকেই এসেছে ৪০.৩৬৭ বিলিয়ন ডলার। আর গুগল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এসেছে আরও ২৯.৭৯২ বিলিয়ন ডলার।
ফ্রি থেকে পেইড
গুগলের ব্যবসা অবশ্য শুধু বিজ্ঞাপনেই আটকে নেই। ‘সাবস্ক্রিপশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইসেস’ বিভাগ থেকে ২০২৫ সালে গুগলের আয় হয়েছে ৪৮.০৩০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে গুগল ওয়ান, ইউটিউব প্রিমিয়াম, গুগল প্লে ও পিক্সেল স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের আয় রয়েছে।
আপনি হয়তো গুগলের কোনো ফ্রি স্টোরেজ ব্যবহার করছেন। বছরের পর বছর ছবি, ভিডিও আর ফাইল জমতে জমতে একসময় সেই জায়গা ফুরিয়ে যাবে। তখন ঠিকই আপনার সামনে আসবে আরও বেশি স্টোরেজ কেনার পেইড প্ল্যান। অর্থাৎ, ফ্রি সেবা অনেক সময় শেষ গন্তব্য নয়; বরং এটি বড় একটি ব্যবসায়িক ব্যবস্থার প্রবেশদ্বার মাত্র।
আছে গুগল ক্লাউড
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের অনেক সেবা ফ্রি হলেও করপোরেট দুনিয়ায় গল্পটা আলাদা। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান নিজেদের সফটওয়্যার, ডেটাবেস ও এআই অবকাঠামো চালাতে গুগল ক্লাউড ব্যবহার করে। ২০২৫ সালে গুগল ক্লাউডের রাজস্ব বেড়ে হয়েছে ৫৮.৭০৫ বিলিয়ন ডলার, আর অপারেটিং ইনকাম দাঁড়িয়েছে ১৩.৯১০ বিলিয়ন ডলার।
এবার খেলায় এআই
চ্যাটজিপিটি আসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের সাম্রাজ্য হয়তো বিপদে পড়বে। কিন্তু গুগল সহজে মাঠ ছেড়ে দেয়নি। বরং জেমিনির মতো এআই মডেলকে তারা সার্চ, ক্লাউড এবং অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা একই প্ল্যাটফর্মে এআইসহ পুরোনো সেবাগুলো উপভোগ করতে পারছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে জেমিনি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ৭৫০ মিলিয়নেরও বেশি। একই সময়ে অ্যালফাবেট জানায়, তাদের বিভিন্ন ভোক্তা সেবায় মোট পেইড সাবস্ক্রিপশন ৩২৫ মিলিয়নের বেশি।
চমৎকার এই অগ্রযাত্রার জন্য গুগল খরচও করছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২০২৫ সালে অ্যালফাবেটের মূলধনি ব্যয় ছিল প্রায় ৯১.৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জন্য তারা ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনি ব্যয়ের বিশাল এক পরিকল্পনা জানিয়েছে।
আমরা টাকা না দিলেই কোনো কিছুকে ‘ফ্রি’ বলে ধরে নিই। কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ায় বিষয়টা এত সহজ নয়। গুগল আপনাকে সার্চ করতে টাকা নিচ্ছে না, ইউটিউব দেখতে টাকা নিচ্ছে না, জিমেইল ব্যবহার করতেও টাকা নিচ্ছে না। কিন্তু এসব সেবা ব্যবহার করার সময় আপনি আপনার মনোযোগ, সময় এবং তথ্য দিয়ে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করছেন, যেখান থেকে বিজ্ঞাপনদাতা টাকা দিচ্ছে, গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন কিনছে আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড ও এআই সেবার জন্য অর্থ খরচ করছে।
ডিজিটাল এই দুনিয়ায় তথ্য তাই শুধু ‘তথ্য’ নয়, এটি মহামূল্যবান সম্পদ। আর গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান সেই সম্পদ ও ব্যবহারকারীর আচরণ থেকে তৈরি হওয়া মূল্যকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে অর্থে রূপান্তর করছে।