প্রতীকী ছবি
ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের নীল আলো ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু নয়, বরং দিনের আলো কম পাওয়া ও রাতের অভ্যাসই বেশি প্রভাব ফেলে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
এক দশকের বেশি সময় ধরে ফোনের পর্দা, টিভি, কম্পিউটার ও এলইডি বাতির নীল আলো ঘুম নষ্ট করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোনের আলো ঘুমে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটিই মূল কারণ নয়।
এ নিয়ে ২০১৪ সালের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেছে বিবিসি। সেখানে ১২ জন অংশগ্রহণকারীর অর্ধেক সংখ্যক ঘুমানোর আগে আইপ্যাডে পড়েন, বাকিরা কাগজের বই পড়েন। গবেষণায় দেখা গেছে, আইপ্যাড ব্যবহারকারীরা ঘুমাতে বেশি সময় নিয়েছেন, পরদিন বেশি ঝিমুনি অনুভব করেছেন এবং তাদের শরীরে মেলাটোনিন কম তৈরি হয়েছে।
তখন গবেষকরা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, আইপ্যাডের এলইডি পর্দা থেকে আসা নীলাভ আলোই এর কারণ। কারণ, নীল আলো শরীরের দৈনন্দিন চক্রে প্রভাব ফেলে, আর এই চক্রই মানুষের কখন ঘুম পাবে তা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ ও আচরণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেমি জেইৎজার বলেন, “এটি ছিল ভীষণ বিভ্রান্তিকর এক গবেষণা।”
তার ভাষ্যে, গবেষণাটির বিজ্ঞানভিত্তি দুর্বল ছিল না, কিন্তু তা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়।
জেইৎজার বলেন, “মেলানোপসিন এমন একটি প্রোটিন, যা নীল আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল।”
তিনি বলেন, মানুষের চোখে থাকা মেলানোপসিন নামের আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন নীল আলোতে বেশি সাড়া দেয়। অন্য আলোর রঙেও এটি প্রতিক্রিয়া দেখায়, তবে, নীল আলোর প্রভাব কেবল কিছুটা বেশি।
“আমাদের স্ক্রিন থেকে যে পরিমাণ আলো বের হয়, তা আসলে খুবই সামান্য।”
তার ব্যাখ্যায়, পরীক্ষাগারে মানুষকে সারাদিন খুব কম আলোতে রেখে পরে হঠাৎ উজ্জ্বল আলো দেখানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে নীল আলো বেশি প্রভাব ফেলে, কিন্তু এটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চিত্র নয়।
সাম্প্রতিক ১১টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্ক্রিনের আলো সবচেয়ে খারাপ অবস্থাতেও ঘুম বিলম্বিত করে গড়ে মাত্র নয় মিনিট।
আরেকটি গবেষণার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট থেকে ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ নীল আলো পাওয়া যায়, তা বাইরে সূর্যালোকে এক মিনিট থাকার চেয়েও কম। এ বিষয়ে ২০২৩ সালে লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পরিচালিত গবেষণার নাম ছিল “ব্লু লাইট অফ দ্য ডিজিটাল এরা: এ কম্পারেটিভ স্টাডি অফ ডিভাইসেস”। এই গবেষণার ফলও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের জন্য আসল বিষয় হলো সারাদিন মোট কতটা আলো পাওয়া যাচ্ছে। ভালো ঘুমের জন্য সকালে বেশি আলো এবং রাতে কম আলো দরকার। নীল আলোর ভূমিকা থাকলেও দিনের মোট আলোক-সংস্পর্শই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ঘুম ও ক্রোনোবায়োলজি গবেষণা দলের পরিচালক হোভার্ড ক্যালেস্টাড বলেন, “আপনার এমন চশমা পরা উচিত, যাতে খুব বেশি নীল আলো দেখা না যায়।”
তার মতে, নীল আলো ঠেকাতে কার্যকর চশমা থাকলেও সেটি অধিকাংশ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।
ক্যালেস্টাড বলেন, “সম্ভব হলে বাইরে যান, না হলে আলো দেওয়ার বাতি ব্যবহার করুন।”
তিনি বলেন, সকালে অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে হাঁটা ঘুমের জন্য কার্যকর হতে পারে।
জেইৎজার বলেন, “দিনের বেলা যত বেশি আলো পাবেন, সন্ধ্যার আলো তত কম প্রভাব ফেলবে।”
তার মতে, দিনের আলো শরীরের ঘড়িকে স্থিতিশীল রাখে এবং রাতে আলোতে সংবেদনশীলতা কমায়।
ঘরে বসে কাজ করলে দিনের বেলা উজ্জ্বল আলো ব্যবহার এবং সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
জেইৎজার বলেন, “আলোর সংস্পর্শে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পার্থক্য।”
তার মতে, দিন ও রাতের আলোর পার্থক্যই শরীরকে সময় বুঝতে সাহায্য করে।
স্ক্রিনের নীল আলোর চেয়ে ফোন বা ল্যাপটপে ঘুমের আগে কী দেখা হচ্ছে, সেটিও বড় বিষয় বলে মনে করেন জেইৎজার।
তিনি বলেন, “এই যন্ত্রগুলো থেকে আলো নয়, বরং এগুলোর বিষয়বস্তুই মানুষকে বেশি জাগিয়ে রাখে।”
তার মতে, আলো নয়, বরং ঘুমের আগে দেখা বিষয়বস্তুই অনেক সময় মানুষকে জাগিয়ে রাখে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীল আলো ঠেকাতে চশমা, মোমবাতির আলো ও অন্ধকার ঘর ব্যবহার করে করা ব্যক্তিগত পরীক্ষায় ঘুমের মোট সময় খুব বেশি বদলায়নি। তবে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার সময় কিছুটা নিয়মিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের আগে নির্দিষ্ট রুটিনও ঘুমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পর্দার আলো কমে যাওয়া বা বিশেষ চশমা পরা অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রস্তুতির মানসিক সংকেত হিসেবেও কাজ করতে পারে।
ফেসবুক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স পরিমাপে প্রচলিত ‘রিচ’ মেট্রিকের পরিবর্তে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের নোটিশ দেখা গেছে মেটার বিজনেস স্যুটে।
এর ফলে ফেসবুক পেজের কনটেন্ট কতজনের কাছে পৌঁছেছে, তা পরিমাপ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নতুন হিসাবপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে কনটেন্ট নির্মাতা, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল বিপণনকর্মীদের।
ডিজিটাল বিপণনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কেশন ল্যাব প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- তাদের পর্যবেক্ষণে মেটা বিজনেস স্যুটের ‘পোস্ট ও রিলস’ ব্যবস্থাপনা অংশে ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুকের ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হওয়ার নোটিশ দেখা গেছে। সেখানে কনটেন্ট কতটি অ্যাকাউন্ট দেখেছে, তা বোঝার প্রধান পরিমাপক হিসেবে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
তবে এ পরিবর্তনসংক্রান্ত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা মেটার প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে তারিখটি আপাতত বিজনেস স্যুটে দেখা নোটিশের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রিচ ও ভিউয়ারসের পার্থক্য কী
এত দিন ফেসবুক পেজের কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নে ‘রিচ’ বহুল ব্যবহৃত একটি মেট্রিক। এর মাধ্যমে কোনো পোস্ট বা কনটেন্ট কতজন স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়। নতুন ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিকের লক্ষ্য হলো কনটেন্ট দেখেছেন এমন স্বতন্ত্র দর্শক বা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা তুলে ধরা।
অন্যদিকে, ‘ভিউস’ বলতে কনটেন্ট কতবার দেখা হয়েছে সেই হিসাব বোঝানো হয়। একজন ব্যবহারকারী একই কনটেন্ট একাধিকবার দেখলে ভিউসের হিসাবে একাধিকবার গণনা হতে পারে। তাই ভিউয়ারস ও ভিউস একই বিষয় নয়।
মেটার এপিআই ও বিভিন্ন বিশ্লেষণী সেবার নথিতেও ২০২৬ সালে ফেসবুকের পুরোনো রিচ ও ইমপ্রেশন-সংক্রান্ত কিছু মেট্রিক পরিবর্তন এবং নতুন মিডিয়া ভিউ ও ভিউয়ারস-ভিত্তিক হিসাব চালুর কথা উঠে এসেছে।
তবে সব মেট্রিক, সব ফেসবুক সেবা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে- এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে
রিচ ও ভিউয়ারসের হিসাবের ভিত্তি এক না হলে পুরোনো ও নতুন প্রতিবেদনের সংখ্যা সরাসরি তুলনা করা কঠিন হতে পারে। কোনো পেজের ভিউয়ারস বেড়ে গেলে বা কমে গেলে সেটিকে কেবল কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। আগে বুঝতে হবে, পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে কি না।
বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল বিপণন সংস্থাগুলো মাসিক বা বার্ষিক পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। পুরোনো রিচের তথ্যের সঙ্গে নতুন ভিউয়ারসের তথ্য তুলনা করলে প্রতিবেদনে মেট্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া রিচের ভিত্তিতে হিসাব করা এনগেজমেন্ট রেট বা কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নের কিছু সূচকেও প্রভাব পড়তে পারে। তৃতীয় পক্ষের বিশ্লেষণী টুল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন মেট্রিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবেদন ও ড্যাশবোর্ড হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।
এখন কী করবেন পেজ পরিচালকেরা
ডিজিটাল বিপণন বিশ্লেষকেরা পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ, নতুন মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই এবং প্রতিবেদনে পরিবর্তনের তারিখ উল্লেখ করার পরামর্শ দেন। এতে ভবিষ্যতে কনটেন্টের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সময়ের তথ্য তুলনা করা সহজ হবে।
তবে রিচের মেট্রিক পরিবর্তন মানেই ফেসবুকের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অ্যালগরিদম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। এটি মূলত কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপ ও প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়।
একইভাবে, ফেসবুক বিজ্ঞাপনের সব রিচ সূচকও ৩১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তাই পেজ পরিচালকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মেটা বিজনেস স্যুটে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দেখানো নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করা।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, অবৈধ ও চোরাই হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থা চালু হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিটিআরসির কমিশন সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হ্যান্ডসেট ট্র্যাকিংয়ের এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকরে এটি হবে বিটিআরসির তৃতীয় উদ্যোগ। এর আগে ২০২১ সালে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল।
বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল সুবিধাগুলো চালু হবে।
এতে অবৈধ ফোন শনাক্ত করে সেগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একই আইএমইআই নম্বর একাধিক ফোনে ব্যবহার করে চালানো ক্লোন সেট বন্ধ হবে না এই ধাপে। দ্বিতীয় ধাপে ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ সহজ হবে।
এ ধাপের জন্য এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানান, আমরা অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চাই। তবে তাড়াহুড়া করব না। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর একটা সমাধান বের করা হবে, যাতে বরাবরের মতো এই উদ্যোগ ব্যর্থ না হয়।
নতুন মোবাইল ফোন কেনার আগে বৈধতা যাচাই
বিটিআরসি জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে যেকোনো মাধ্যম থেকে (বিক্রয়কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্র, ই-কমার্স সাইট ইত্যাদি) মোবাইল ফোন কেনার আগে অবশ্যই তার বৈধতা যাচাই করতে হবে। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন কেনার রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। মোবাইল ফোন বৈধ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়ে যাবে।
যেভাবে জানবেন মোবাইল ফোনটি বৈধ কি না
ধাপ-১ : মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD<space> ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখুন। উদাহরণস্বরূপ KYD 123456789012345।
ধাপ-২ : আইএমইআই নম্বরটি লেখার পর ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিন।
ধাপ-৩ : ফিরতি বার্তার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের বৈধতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
প্রতীকী ছবি
বহুল ব্যবহৃত গুগল প্লে-স্টোরে ক্রোমের নাম ও লোগো নকল করে ফেক অ্যাপ শনাক্ত হয়েছে। লক্ষাধিক ডাউনলোড দেখানো এই অ্যাপ আদতে বিভ্রান্ত করে লাখের বেশি ডাউনলোড হওয়ার কারণে। স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গুগল ক্রোম সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার। কিন্তু এই ব্রাউজারের নাম ও লোগো নকল করে গুগল প্লে-স্টোরে ফেক এক অ্যাপ দৃশ্যমান হয়। এসব তথ্য দিয়েছে গুগল।
শুধু তাই নয়, ওই অ্যাপটি লক্ষাধিক আগ্রহী ডাউনলোড করেছেন। এমনকি প্লে-স্টোরে সার্চ করলে বিজ্ঞাপনেও অ্যাপটি আসল ক্রোমের ওপরে দৃশ্যমান হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গুগল অ্যাপটি সরিয়ে দিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ।
কদিন আগে এক রেডিট গ্রাহক গুগল প্লে-স্টোরের পাশেই দুটি দেখতে একই রকম ক্রোম অ্যাপের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ওপরে থাকা অ্যাপটি ছিল আদতে ফেক। সেখানে প্রকাশকের নাম ছিল হিজবার্টেক। অন্যদিকে, প্রকৃত গুগল ক্রোম অ্যাপের প্রকাশক সংস্থার এলএলসি বিভাগ। শনাক্ত ফেক অ্যাপে ক্রোমের লোগো, নাম ও ছবি সবকিছু নকল করা হয়। এর কারণ, সাধারণ গ্রাহক যেন সহজে বিভ্রান্ত হন। অনেকে বিজ্ঞাপন বা অনেক বেশি ডাউনলোড হয়েছে– এমনটি বিবেচনা করে এই অ্যাপকে আসল বলে ধারণা করেন। এটিই ছিল ফেক অ্যাপ নির্মাতার উদ্দেশ্য।
অ্যাপটি প্রথমে ক্রোম হিসেবে সামনে আসেনি। চলতি বছরের আগস্টে প্রথম এটি বল বাউন্স নামে আরেকটি মোবাইল গেম হিসেবে প্লে স্টোরে দৃশ্যমান হয়। পরে সেপ্টেম্বরের শেষে এর ছবি, নাম ও বিবরণ বদলে ক্রোমের মতো করা হয়।
যে কোনো অ্যাপের লাখের বেশি ডাউনলোড হওয়ার মানে এটি নয়, অনেকে শুধু ফেক ক্রোম ইনস্টল করেছিলেন। গেম হিসেবে থাকার সময়ের ডাউনলোড হওয়ার সংখ্যাও এর মধ্যে ছিল। এই অ্যাপে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অ্যাপটি ব্রাউজারের বদলে বিশেষ চ্যাট পরিষেবার কথা বলেছে।
প্রকৃত ক্রোম অ্যাপের নিচের অংশে গুগল ‘এলএলসি’ মার্ক রয়েছে কিনা, তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে। নাম, লোগো বা ডাউনলোডের সংখ্যা বিবেচনা করে যে কোনো অ্যাপে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। প্লে স্টোরে পৃষ্ঠপোষক বিজ্ঞাপন থাকার পরও সেটি নিরাপদ হবে– এমন নিশ্চয়তা নেই।
এরই মধ্যে ফেক অ্যাপটি ফোনে ঢুকে থাকলে দ্রুত তা আনইনস্টল করতে হবে। এরপর গুগল প্লে স্টোরের প্লে-প্রটেক্ট বিভাগে গিয়ে ফোন স্ক্যান করতে হবে। নতুন অ্যাপ ডাউনলোডের আগে প্রকাশকের নাম ও বিবরণ ঠিকঠাক যাচাই করতে হবে। সামান্য সতর্কতাই ফেক অ্যাপের ফাঁদ থেকে দিতে পারে সুরক্ষা।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের তারুণ্যের চাহিদা পূরণে নতুন মডেলের অলরাউন্ড ডিউরেবল সি-সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করা হয়েছে। নতুন সি১০০ মডেলের নির্মাতা রিয়েলমি। জানা গেছে, মডেলে রয়েছে আট হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের টাইটান ব্যাটারি, ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, ১০ ওয়াট রিভার্স চার্জিং ও সাত বছরের ব্যাটারি হেলথ প্রতিশ্রুতি।
দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ নিশ্চিত করবে এআই-পাওয়ার্ড অপ্টিমাইজেশন। মডেলটি পূর্ণ চার্জে প্রায় দুদিন সক্রিয় থাকা ছাড়াও ১১ ঘণ্টার বেশি অনলাইন গেমিং (ফ্রি ফায়ার, মোবাইল লিজেন্ডস ব্যাং ব্যাং), ২৪ ঘণ্টার বেশি অনলাইন স্ট্রিমিং, ২০ ঘণ্টার বেশি অনলাইন নেভিগেশন ও ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করতে সক্ষম। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স ও আর্মরশেল প্রটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।
আইপি৬৯ প্রো প্রযুক্তি, দুই মিটার ড্রপ রেজিস্ট্যান্স ও ছয় মিটার ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ডিভাইসের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। যার মাধ্যমে পকেট থেকে ফোন বের করার সময় বা ছবি তোলার সময় সুইমিংপুলে ফোন পড়ে যাওয়ার মতো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে ডিভাইসের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। রয়েছে ৮-কোর চিপসেট।
কনটেন্ট তৈরি ও ফটোগ্রাফির জন্য সহায়ক হবে ৫০ মেগাপিক্সেল রেয়ার ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফ্রন্ট ও রেয়ার– দুই ক্ষেত্রে ক্যামেরাই ডুয়েল ভিডিও শুটিং করা যাবে। স্মুথ স্ক্রলিং নিশ্চিতে কাজ করবে ৯০ শতাংশ স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ও ৬.৮ ইঞ্চির এইচডি+ ডিসপ্লে। রঙের বৈচিত্র্য দেবে ভিক্টরি পার্পেল, গ্লোরি হোয়াইট ও এনড্যুরেন্স ব্রাউন। মডেলের দুটি স্টোরেজ রয়েছে। ১২৮ জিবি র্যামের সঙ্গে মিলবে ৬ ও ৮ জিবি র্যাম।
ভিডিওর ভয়েস ওভার তৈরি, বিভিন্ন কনটেন্টে কণ্ঠ যোগ করা কিংবা যেকোনো লিখিত বক্তব্য অডিওতে রূপান্তর করতে এখন আর নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করার প্রয়োজন নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে লিখিত টেক্সট থেকেই এখন হুবহু মানুষের মতো কণ্ঠ তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য ব্যবহার করতে পারেন ElevenLabs: AI Voice Generator অ্যাপটি। স্মার্টফোনে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করেই লিখিত কনটেন্ট থেকে নিখুঁত অডিও তৈরি করা যায়।
যেভাবে তৈরি করবেন এআই ভয়েস
ধাপ ১: অ্যাপ ইনস্টল করুন
প্রথমে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লে স্টোর খুলুন। সার্চ বারে ‘ElevenLabs: AI Voice Generator’ লিখে অ্যাপটি খুঁজে ইনস্টল করে নিন। ইনস্টল সম্পন্ন হলে অ্যাপটি চালু করুন এবং প্রয়োজনীয় পারমিশন চাইলে তা দিন।
ধাপ ২: টেক্সট টু স্পিচ অপশনে যান
অ্যাপে প্রবেশ করার পর ‘Text to Speech’ (টেক্সট টু স্পিচ) অপশনটি নির্বাচন করুন। এই ফিচারটির মাধ্যমেই মূলত লিখিত লেখা থেকে ভয়েস বা কণ্ঠ তৈরি করা হয়।
ধাপ ৩: ভয়েস মডেল নির্বাচন করুন
‘Text to Speech’ পেজের নিচের দিকে বামপাশে একটি সেটিংস (গিয়ার/চাবি) আইকন দেখতে পাবেন, সেটিতে ক্লিক করুন। এরপর ‘মডেল’ অপশন থেকে যদি আগে থেকেই ‘v2’ বা ‘v2.5’ নির্বাচিত থাকে, তবে তা পরিবর্তন করে ‘v3’ (বা অ্যাপের সর্বাধুনিক মডেল) বেছে নিন। নির্বাচন শেষে নিচে থাকা ‘এপ্লাই’ বাটনে ক্লিক করে সেটিংস সেভ করুন।
ধাপ ৪: পছন্দের ভয়েস বা কণ্ঠ নির্বাচন করুন
এবার পূর্বের পেজে ফিরে এসে ভয়েস নির্বাচন অপশনে ক্লিক করুন। সার্চ বারে ইংরেজিতে ‘Bunty’ লিখে সার্চ করুন। সার্চ রেজাল্টে ‘Bunty Punchy’ অপশনটি এলে সেটি সিলেক্ট করুন এবং নিচে থাকা ‘সিলেক্ট ভয়েস’ বাটনে চাপ দিন। এতে আপনার কাঙ্ক্ষিত ভয়েসটি সেট হয়ে যাবে।
ধাপ ৫: টেক্সট ইনপুট দিন
যে লেখাটিকে অডিওতে রূপান্তর করতে চান, সেটি নির্দিষ্ট টেক্সট বক্সে লিখুন অথবা আগে থেকে লেখা থাকলে কপি করে পেস্ট করে দিন। লেখা সম্পন্ন হলে ভয়েস জেনারেট বা তৈরি করার বাটনে ক্লিক করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে তৈরি হওয়া অডিও প্লে করে শুনে নিন।
ধাপ ৬: অডিও ফাইলটি ডাউনলোড করুন
জেনারেট হওয়া ভয়েস পছন্দ হলে স্ক্রিনে থাকা ‘ডাউনলোড’ আইকনে ক্লিক করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী অডিও বা ভিডিও ফরম্যাট নির্বাচন করে ফাইলটি আপনার ফোনে সেভ করে নিন। পরবর্তীতে এটি যেকোনো ভিডিও এডিটিং বা কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবেন।অ্যাপের সংস্করণ পরিবর্তনের কারণে এসব অপশনের নাম বা অবস্থানে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া ফ্রি বা প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টের ওপর ভিত্তি করে ভয়েস জেনারেট ও ডাউনলোডের দৈনিক সীমার কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
নিবন্ধিত ব্যবহারকারী নন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিধি আরও সহজ করতে নতুন ফিচার আনছে হোয়াটসঅ্যাপ।
মেটা মালিকানাধীন এ যোগাযোগ মাধ্যমটি ‘গেস্ট কলিং’ নামের নতুন ফিচার যোগের ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট না থাকলেও যে কেউ ভয়েস বা ভিডিও কলে যোগ দিতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপের ‘গেস্ট কলিং’ সুবিধাটি অ্যাপলের ফেইসটাইমে অ্যাপল অ্যাকাউন্ট বা ডিভাইস ছাড়া যোগ দেওয়ার ফিচারের মতোই কাজ করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নিয়মিত ব্যবহারকারীদের সব সুবিধা অতিথিরা পাবেন না, কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। যেমন, গেস্ট হিসেবে কেউ নিজে থেকে কোনো কল শুরু করতে পারবেন না, কেবল অন্যদের পাঠানো আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কলে যুক্ত হতে পারবেন। এ ছাড়া, কলে যোগ দেওয়ার আগে যিনি কল শুরু করেছেন বা হোস্ট, তাকে অতিথিকে যোগ দেওয়ার অনুমোদন দিতে হবে।
গেস্ট হিসেবে যোগ দেওয়া ব্যক্তি কলে থাকা অন্য ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর দেখতে, কোনো বার্তা বা মেসেজ পাঠাতে ও নতুন কোনো সদস্যকেও কলে যোগ করতে পারবেন না। তবে তারা যে কোনো ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে দ্বিপাক্ষিক বা গ্রুপ কলে যোগ দিতে পারবেন। অনুমতি মেলার পর স্ক্রিন শেয়ারিং, হাত তোলা ও থাম্বস আপ বা হার্ট ইমোজি ব্যবহারের মতো প্রয়োজনীয় টুলগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।
পাশাপাশি, গেস্টদের কলে যোগ থাকার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা থাকবে না।
মেটা বলেছে, কলিং সুবিধাকে আরও সহজ করার লক্ষ্যে শিগগিরই তারা নতুন প্লাগইন চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নিজস্ব ক্যালেন্ডার সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যোগ করা যাবে।
‘এ বছরের শেষদিকে’ ফিচারটি চালু হলে গুগল বা আউটলুক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ কল করার সুবিধা মিলবে।
বছর জুড়ে একের পর এক নতুন নতুন ফিচারের আপডেট নিয়ে এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে বেশিরভাগ সুবিধাই প্ল্যাটফর্মটিকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও ব্যবসায়িক ব্যবহারের লক্ষ্যে করেছে মেটা।
ইউজারনেইম বা ব্যবহারকারীর নাম যোগের সুবিধার ফলে ফোন নম্বর গোপন রেখেই যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের অন্যান্য সাম্প্রতিক সংযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে এনক্রিপ্টেড ওয়েব কলিং ও আইপ্যাড থেকে সরাসরি অ্যাকাউন্ট খোলার মতো ফিচার।
এ ছাড়া, আগে থেকেই মেসেজ সিডিউল বা বার্তা পাঠানোর সময় নির্ধারণ করে রাখার মতো বহুমুখী সুবিধাও দ্রুত যোগ দিতে পারে বলে আভাস মিলছে।