ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কের শুরুতে, যার প্রতিটি কথা বা কাজকে মিষ্টি ও আকর্ষণীয় মনে হতো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কি সেই চেনা মানুষের সাধারণ কোনও কথা বা সামান্য আচরণেও বিরক্তি বা জেদ তৈরি হচ্ছে?


সঙ্গী হয়ত খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন করলেন, ‘আজ রাতের খাবারে কী রান্না হবে?’ বা ভালোবেসে বললেন, ‘তোমাকে আজ খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।’ অথচ এই সাধারণ কথাগুলোও মনের ভেতর অনাকাঙ্ক্ষিত রাগ বা সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেকেই মনে করেন সম্পর্কের ইতি ঘটেছে, যা একটি ভুল ধারণা। মনস্তত্ত্ব-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত সম্পর্কের একটি জটিল তবে নিরাময়যোগ্য মানসিক অবস্থা।


মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, ইসরায়েল-ভিত্তিক নিবন্ধিত পারিবারিক ও সম্পর্ক বিষয়ক প্রশিক্ষক এবং ‘দ্য রিম্যারেজ রোডম্যাপ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. আসায়েল রোমানেলি বলেন, “যখন একটি সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন মস্তিষ্ক একে অপরের সমস্ত কথাকে নেতিবাচকভাবে পড়তে শুরু করে।”


‘নেগেটিভ সেন্টিমেন্ট ওভাররাইড’ বা ‘এনএসও’


মার্কিন মনস্তত্ত্ববিদ ও গবেষক ডা. জন গটম্যান এবং ডা. জুলি গটম্যান দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর দীর্ঘকাল গবেষণা করে এই মানসিক অবস্থার নাম দিয়েছেন— ‘নেগেটিভ সেন্টিমেন্ট ওভাররাইড’ বা ‘এনএসও’।


ডা. আসায়েল রোমানেলির মতে, “যখন একটি সম্পর্কের রোমান্টিক বা ভালোবাসার আধার ধীরে ধীরে খালি হয়ে যায় এবং প্রশংসার চেয়ে অনবরত অভিযোগ বা অবহেলার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন মানুষের চোখে এক ধরনের নেতিবাচক চশমা বা ফিল্টার বসে যায়। ফলে সঙ্গীর সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বা ইতিবাচক কোনও কথা বললেও, মস্তিষ্ক সেটিকে নিজের সুরক্ষার স্বার্থে নেতিবাচক বা ক্ষতিকর হিসেবে ব্যাখ্যা করে।”


যেমন, সঙ্গী যখন বলেন, ‘আমি দুঃখিত’, তখন অন্য পক্ষের মনে হতে পারে— ‘সে নিশ্চিত কোনও দোষ লুকাতে এটি বলছে’।


এই মানসিক ফাঁদটি সাধারণত দুজনের মধ্যেই পারস্পরিকভাবে তৈরি হয় এবং সম্পর্ককে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।


মুক্তির ৩টি মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পদক্ষেপ


ডা. আসায়েল রোমানেলি এবং গবেষক গালিত রোমানেলি, যুগলদের এই নেতিবাচক চক্র থেকে বের করে আনতে ৩টি কার্যকর পদক্ষেপের কথা জানান।


মানসিক চক্রটি চিহ্নিত করা


সবার আগে দুজনকে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝতে হবে যে, তারা একটি পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির চক্রে আটকে গেছেন। যেমন— স্ত্রী বা সঙ্গীনি যখন মনে করেন স্বামী বা সঙ্গী দায়িত্বজ্ঞানহীন, তখন তার মনে ক্ষোভ ও একাকিত্ব জন্মায়। আর তিনি সরাসরি কথা না বলে বাঁকা বা খোঁটাযুক্ত প্রশ্ন ছুড়ে দেন।


অন্যদিকে, স্বামী বা সঙ্গী যখন দেখেন স্ত্রী বা সঙ্গীনি সবসময় তার পরীক্ষা নিচ্ছেন বা আগে থেকেই অসন্তুষ্ট হয়ে আছেন, তখন তিনি নিজেকে অসহায় মনে করেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেন।


এই মনস্তাত্ত্বিক আচরণগুলো কাগজে লিখে বা চিহ্নিত করে নিলে অবচেতন মন সতর্ক হতে শুরু করে।


নিজের ভেতরের নেতিবাচকতা স্বীকার করা


বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ প্রায়ই সঙ্গীর আচরণকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি নেতিবাচক বলে বাড়িয়ে ধরে।


মার্কিন মনোবিদ ও সেক্স থেরাপিস্ট ডা. ডেভিড স্নাচ-এর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় একে ‘স্বাভাবিক বৈবাহিক নিষ্ঠুরতা’ বলা হয়েছে, যেখানে অবচেতনভাবেই যুগলরা মাঝেমধ্যে সঙ্গীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেন।


এর থেকে মুক্তির উপায় হল, নিজের ভুল বা নেতিবাচক আচরণটি সঙ্গে সঙ্গে বা পরে হলেও সঙ্গীর কাছে অকপটে স্বীকার করা।


যেমন, ‘গতকাল যখন আমি চোখ উল্টে তোমার কথার অবজ্ঞা করেছিলাম, তখন আমি সত্যিই মনে মনে তোমাকে ‘জাজ’ করছিলাম। আমি দুঃখিত।’


এই স্পষ্ট স্বীকারোক্তি সঙ্গীর মস্তিষ্ককে আসল অন্যায় এবং কাল্পনিক সন্দেহের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।


একটি মজার ‘কোড ওয়ার্ড’ বা সংকেত ব্যবহার করা


তীব্র মানসিক উত্তেজনার সময় মস্তিষ্কের যুক্তিবাদী অংশ বা ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে বড় কোনও ভালো বাক্য বা বোঝাপড়া মনে থাকে না।


এই অবস্থায় রাগ বা ভুল বোঝাবুঝি তাৎক্ষণিক থামাতে দম্পতি বা যুগলরা নিজেদের মধ্যে দুটি সহজ ও মজার কোড ওয়ার্ড ঠিক করে নিতে পারেন।


যেমন— সঙ্গী যখন অতিরিক্ত অভিভাবকসুলভ আচরণ করবেন, তখন অন্য পক্ষ রেগে না গিয়ে শুধু একটি শব্দ বলতে পারেন (যেমন- ‘কিন্ডার’ বা ‘বুয়েনো’)। এই সংকেতটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুজনেরই উচিত হবে, কথা বলা বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেওয়া এবং নিজের মানসিক অবস্থাকে শান্ত করার জন্য সামান্য বিরতি বা ‘টাইম-আউট’ নেওয়া।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত দেয়ালগুলো আসলে নিজ থেকে তৈরি হয় না; বরং দুজনের মনের ভেতর জমে থাকা পুরানো জমাটবদ্ধ নেতিবাচকতাগুলো সত্যকে দেখতে বাধা দেয়।


এই মনস্তাত্ত্বিক চশমা নিয়মিত পরিষ্কার করার মাধ্যমেই দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ পিএম

ফ্যাশনে জামদানি শাড়ির জনপ্রিয়তা এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি বরং আরও বেড়েছে। যুগ যুগ ধরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান থেকে শুরু কয়ে ঘরোয়া আয়োজনেও অনেকেই জামদানি পরেন। শুধু শাড়িই বা কেন জামদানির সালোয়ার কামিজ, কুর্তি থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া এমনকি ছোটদের পোশাকও এখন পাওয়া যায়।


তবে বাজারে এখন নকল সব জামদানির মাঝে যেন আসলটি হারাতেই বসেছে। যেহেতু আর দুদিন পরেই পহেলা বৈশাখ আবার আসছে ঈদুল ফিতর, এ সময় কমবেশি সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত আছেন। যদি কেউ জামদানি শাড়ি বা পোশাক কিনতে চান তাহলে তার আগে অবশ্যই তা আসল কি না যাচাই করে নেবেন।


যদিও ডিজাইন আর রং দেখে আসল-নকল শাড়ি বিচার করা কিন্তু বেশ কঠিন। বাজারে এখন সফট জামদানি, ঢাকাই জামদানি, বাংলা জামদানিসহ হরেক রকম জামদানিতে ভরে গেছে। এসবের দামেও হেরফের আছে। আসল ভেবে আবার অনেকেই নকলটি বেশি দাম দিয়ে কিনছে।


জামদানি শাড়িতে জলপাড়, জবাফুল, করোলা, তেরছা, দুবলা, বলিহার, পান্না হাজার, পানসি, বটপাতা, কটিহার ইত্যাদি নকশা থাতে। যে জামদানিতে ছোট ফুল বা লতাপাতার ডিজাইন তেরছাভাবে থাকে তাকে তেরছা জামদানি বলা হয়। ছোট ছোট ফুল, লতাপাতার পুটি এগুলো যদি শাড়ির জমিনে থাকে তাহলে তাকে বলে জালার নকশা।


আসল জামদানি শাড়ি হয় হাতে বোনা। তাই এর ডিজাইন হয় খুব সূক্ষ্ম ও নিখুঁত। ডিজাইনগুলো খুব মসৃণ হয়। তাঁতিরা একটি সুতোর সাহায্যেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বুনন করেন জামদানি। এই শাড়ির সুতার কোনো অংশ বেরিয়ে থাকে না।


জামদানি শাড়ির সামনের দিক ও পিছনের দিকের বুনোট কিন্তু একই রকমের হয়। আসল জামদানি শাড়িতে সুতি ও সিল্ক সুতো ব্যবহার করা হয়। সুতার কাউন্ট দিয়ে সুতোর মান বোঝা যায়।


সুতা যত বেশি চিকন হবে ততই কিন্তু কাজ সূক্ষ্ম হবে। তবে শাড়ি কতটা সূক্ষ্ম ও সুন্দর হবে তা কিন্তু নির্ভর করে তাঁতির দক্ষতার উপর। সুতো বেশি চিকন হলে তা যেমন বুনতে বেশি সময় লাগে তেমনই কিন্তু দাম বেশি হয়।


একটি জামদানি তৈরি করতে একজন তাঁতিকে গড়ে ১২-১৪ ঘণ্টা কিন্তু কাজ করতে হয়। শাড়ির ডিজাইনের উপরই কিন্তু সব নির্ভর করে। তাই একটা জামদানি শাড়ি বুনতে সময় লাগে ১ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত। আর মেশিনে বোনা শাড়ি সপ্তাহে ৮-১০টি তৈরি করা হয়। তাই এর দামও কিন্তু অনেক কম হয়।


আসল জামদানি শাড়ির শুরুতে সাড়ে পাঁচ হাত পর্যন্ত কোনো পাড় থাকে না। অর্থাৎ শাড়ির যেটুকু অংশ কোমরে গোঁজা থাকে সেখানে কোনো পাড় নেই।


তবে মেশিনে বোনা শাড়িতে পুরোটাই পাড় থাকে। হাতে বোনা জামদানির ওজন যেমন হালকা হয় তেমনই পরেও আরামদায়ক। অন্যদিকে মেশিনে বোনা জামদানি খসখসে হয়। নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি হয় বলে একটু ভারিও লাগে।


আসল জামদানি শাড়ি তৈরির সময়, সুতার মান ও কাজের ধরন অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে ৩০০০-১,২০০০০ টাকা বা তার বেশি পর্যন্তও একটি জামদানি শাড়ির দাম হতে পারে। তাই দাম দিয়ে জামদানি কেনার আগে আসল না কি নকল তা দেখে শুনে ও বুঝে কিনুন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

সকালে এক কাপ চা পান করা অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। চা মন সতেজ করার পাশাপাশি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমাতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা রয়েছে। তবে চায়ের উপকারিতা শুধু কতটা পান করছেন, তার ওপর নির্ভর করে না। চা কীভাবে তৈরি করছেন এবং কতটা গরম অবস্থায় পান করছেন, সেটিও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উঠে এসেছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায়।


সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই গবেষণার ফলাফল এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চায়ের প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিয়ানা ওয়েন।


গবেষণায় চীনের ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ৪ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা সপ্তাহে কত দিন চা পান করেন, কোন ধরনের চা পছন্দ করেন, চা কতটা কড়া করে তৈরি করেন এবং কী পরিমাণ গরম অবস্থায় পান করেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষকেরা প্রায় নয় বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ১৪ হাজার ৮০০টির বেশি রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়। এসব রোগের মধ্যে ছিল হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (হাত ও পায়ে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিগুলো সরু হয়ে যায়)।


নিয়মিত চা পানে ঝুঁকি কমার ইঙ্গিত


ডা. লিয়ানা ওয়েনের ভাষ্য, গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, যারা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চা পান করেন, তাদের রক্তনালির রোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম। বয়স, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রম, শরীরের ওজন এবং আগে থেকে থাকা অন্যান্য রোগের বিষয়গুলো হিসাবের মধ্যে নেওয়ার পরও এই পার্থক্য দেখা গেছে।


তবে শুধু চা পান করাই ঝুঁকি কমার একমাত্র কারণ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ধূমপান করেন না, নিয়মিত চা পান করেন এবং শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয়, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম।


চায়ের ঘনত্বের সঙ্গেও ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। মাঝারি মাত্রার কড়া চা পানকারীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কম দেখা গেছে। একইসঙ্গে গ্রিন টির তুলনায় লিকার চা বা ব্ল্যাক টি বেশি ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।


তবে গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া গেছে চায়ের তাপমাত্রা নিয়ে। যারা ‘জিভ পুড়ে যাওয়ার মতো’ অতিরিক্ত গরম চা পান করেন বলে জানিয়েছেন, নিয়মিত চা পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের রক্তনালির রোগের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ বেশি দেখা গেছে।


অন্যদিকে, স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সহনীয় গরম চা পানকারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি নিয়মিত চা পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।


গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়েন। গবেষকেরা চায়ের তাপমাত্রা সরাসরি না মেপে এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করেছেন। ফলে একজনের কাছে যে চা অতিরিক্ত গরম মনে হয়, অন্যজনের কাছে সেটি স্বাভাবিক মনে হতে পারে। এ ছাড়া যারা খুব গরম চা পান করেন, তাদের খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপনের অন্য কোনো বিষয়ও হৃদরোগের ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


চা কীভাবে হৃদযন্ত্রের উপকার করে


চায়ের সম্ভাব্য উপকারিতার পেছনে রয়েছে এতে থাকা প্রাকৃতিক কিছু উপাদান। ওয়েন জানান, চায়ে ‘পলিফেনল’ নামের যৌগ থাকে, যার মধ্যে ফ্ল্যাভোনয়েডও রয়েছে। এসব উপাদানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী গুণ আছে।


এই উপাদানগুলো রক্তনালির ভেতরের কোষকে সুরক্ষা দিতে এবং ধমনির প্রসারণক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ কমে।


বিভিন্ন গবেষণাতেও নিয়মিত চা পানের সঙ্গে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা উন্নত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এ কারণে নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের হার তুলনামূলক কম দেখা যায়।


চিনি ছাড়া চা পান করলে আরও একটি উপকার পাওয়া যেতে পারে। ফলের জুস, সোডা বা কোমল পানীয়ের পরিবর্তে চা পান করলে শরীরে বাড়তি চিনি প্রবেশ করে না। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুবিধা হয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।


ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টির মধ্যে কোনটি ভালো


ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি তৈরি হয় একই উদ্ভিদ ‘ক্যামেলিয়া সিনেনসিস’ থেকে। তবে চা-পাতা প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় দুই ধরনের চায়ে পলিফেনলের গঠনে পার্থক্য তৈরি হয়।


সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের বিভিন্ন গবেষণায় ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি, দুই ধরনের চায়েরই স্বাস্থ্যগত উপকারিতা পাওয়া গেছে। নতুন গবেষণাতেও গ্রিন টির উপকারিতা দেখা গেছে। তবে ব্ল্যাক টির ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক আরও ধারাবাহিকভাবে পাওয়া গেছে।


তবে এ কারণে গ্রিন টি ছেড়ে ব্ল্যাক টি পান করার কিংবা ব্ল্যাক টি ছেড়ে গ্রিন টি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ওয়েন। তার মতে, চিনি ছাড়া পান করলে দুই ধরনের চা-ই হৃদযন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।


দিনে কত কাপ চা পান করা উচিত


গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা সপ্তাহে অন্তত একবার চা পান করেন, তাদের দৈনিক চা পানের পরিমাণের সঙ্গেও রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক দেখা হয়েছে। এতে দেখা যায়, যারা দিনে প্রায় ছয় থেকে আট কাপ চা পান করেন, তাদের রক্তনালির রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম ছিল। তবে এই পরিমাণের চেয়ে বেশি চা পান করলে ঝুঁকি আবার বাড়তে শুরু করে।


কিন্তু এই ফলের অর্থ এই নয় যে সবার দিনে ছয় থেকে আট কাপ চা পান করা উচিত। ওয়েন এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, গবেষণায় কাপের নির্দিষ্ট কোনো মাপ নির্ধারণ করা হয়নি। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই চা পানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই দিনে ছয় থেকে আট কাপ চাকে চা পানের আদর্শ পরিমাণ হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।


চা পানের পরিমাণ ঠিক করার ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। আট আউন্স বা প্রায় ২৪০ মিলিলিটার ব্ল্যাক টিতে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। গ্রিন টিতে এর পরিমাণ কিছুটা কম।


যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে গর্ভবতী নারীদের দিনে ২০০ মিলিগ্রামের মধ্যে ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিশুদের ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করা উচিত নয়।


চা পানের সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন


চা পান করার সময় সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে এর তাপমাত্রার দিকে। ওয়েনের পরামর্শ, মুখ বা গলা পুড়ে যাওয়ার মতো গরম চা পান করা উচিত নয়। কারণ, বারবার অতিরিক্ত গরম পানীয় পান করার সঙ্গে খাদ্যনালির ক্যানসার বা ইসোফেজিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।


তাই চা তৈরি করার পর কিছুটা ঠান্ডা হতে দেওয়া ভালো। এমন তাপমাত্রায় চা পান করা উচিত, যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চুমুক দেওয়া যায় এবং মুখ বা গলা পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে। এতে অতিরিক্ত গরম পানীয়ের ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি চায়ের হৃদযন্ত্রের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতাও পাওয়া যেতে পারে।


চিনি ছাড়া ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের চা বেছে নিতে পারেন। তবে যাদের ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ বা বুক ধড়ফড় করার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্যাফেইন গ্রহণের ব্যাপারে থাকা প্রয়োজন।


আর যারা একেবারেই চা পান করেন না, তাদের নতুন করে চা পান শুরু করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন ওয়েন। তার মতে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান থেকে দূরে থাকা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমেও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ এএম

চাকরির বাজার প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। ভালো ফলাফল, ডিগ্রি কিংবা অভিজ্ঞতা থাকার পরও অনেক চাকরিপ্রার্থী একটি ভালো সিভির অভাবে পিছিয়ে পড়েন। একজন প্রার্থী কে, তিনি কী জানেন এবং কী করতে পারেন—এসব তথ্য নিয়োগদাতার কাছে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হলো সঠিকভাবে তৈরি ও পেশাদার সিভি।


সিভি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন ‘করপোরেট আস্ক’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পেশাদার সিভি লেখক নিয়াজ আহমেদ। তার পরামর্শ অনুযায়ী, একটি ভালো সিভি তৈরির ক্ষেত্রে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক। 


সিভিতে যা যা থাকা আবশ্যক


ফ্রেশারস চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই একটি সাধারণ প্রশ্নের মুখোমুখি হন—‘আপনার কি কোনো অভিজ্ঞতা আছে?’ বিষয়টি অনেকের কাছেই বিব্রতকর মনে হতে পারে। তবে অভিজ্ঞতা মানেই শুধু ফুলটাইম চাকরি নয়। ইন্টার্নশিপ, খণ্ডকালীন কাজ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, ক্লাব বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা কিংবা সিএসআর প্রোগ্রামে অংশগ্রহণও অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে।  


নিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সিভিতে কোনো রং, টেবিল, বক্স, শেপ বা অতিরিক্ত ডিজাইন ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি দেখতে হবে প্রফেশনাল। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য না দিয়ে কাজ, দক্ষতা ও অর্জনের ওপর জোর দিতে হবে।’ 


যাদের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের সিভিতে অর্জনভিত্তিক বিবরণ দেওয়া জরুরি। আগের কর্মস্থলে তারা কীভাবে অবদান রেখেছেন, কোন সমস্যার সমাধান করেছেন কিংবা কতটা গ্রোথ অর্জিত হয়েছে—এসব বিষয় সংক্ষিপ্ত ও পরিমিতভাবে তুলে ধরতে হবে।


একটি ভালো সিভি সাধারণত দুই পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। এটি হতে হবে সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল ও প্রাসঙ্গিক। 


সিভি বাদ পড়ার সাধারণ কারণ


চমৎকার যোগ্যতা থাকার পরও অনেকের সিভি প্রাথমিক বাছাইয়েই বাদ পড়ে যায়। নিয়াজ আহমেদের মতে, এর পেছনে কিছু সাধারণ ভুল কাজ করে। যেমন—


> কভার লেটার না থাকা


> মেইলের সাবজেক্ট লাইনে কিছু না লেখা


> ফোল্ডারের নাম ভুলভাবে দেওয়া


> একই সিভি দিয়ে সব জায়গায় আবেদন করা


> সার্কুলার ভালোভাবে না পড়ে আবেদন করা


> বানান ও ব্যাকরণগত ভুল থাকা


> অ্যাচিভমেন্ট ও স্কিল উল্লেখ না করা


> সিভি অযথা দীর্ঘ করা


> পুরোনো, দোকান থেকে বানানো সিভি ব্যবহার করা


> ডিজাইনে অতিরিক্ত নজর দিয়ে কনটেন্ট উপেক্ষা করা


> সিভি ফরম্যাট নয়, কনটেন্টই আসল


বর্তমানে সিভির ‘লুক’ বা ডিজাইনের চেয়ে এর কনটেন্ট বা উপস্থাপন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কোথায় কাজ করেছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি সেখানে কী করেছেন। 


সিভিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে—


> আগের প্রতিষ্ঠানে আপনার অবদানে কী কী উন্নতি হয়েছে


> কোন সমস্যার সমাধান করেছেন


> কতটুকু ব্যবসায়িক বা কার্যকর পরিবর্তন এসেছে


এসব বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরলে সিভি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। প্রয়োজনে ‘initiated’, ‘led’, ‘achieved’, ‘developed’, ‘solved’, ‘managed’-এর মতো শক্তিশালী ও প্রাসঙ্গিক শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ফাঁকা বুলি বা অহেতুক গ্ল্যামারার্স শব্দ এড়িয়ে চলতে হবে।


রেফারেন্স নিয়ে সতর্কতা 


ফ্রেশারসদের ক্ষেত্রে দুজন রেফারেন্স রাখা যেতে পারে। তাদের একজন হতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যজন কোনো সিনিয়র বা কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি। তবে কাউকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করার আগে অবশ্যই তার অনুমতি নিতে হবে।  


রেফারেন্সে যেসব তথ্য থাকা জরুরি, সেগুলো হলো—নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম, ই-মেইল ও ফোন নম্বর। তবে দীর্ঘ সময় চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে রেফারেন্স না দিলেও চলে। কারণ তখন আপনার কাজই আপনার সবচেয়ে বড় রেফারেন্স। 


সিভি লেখার সময় যেগুলো খেয়াল রাখবেন


কপি-পেস্ট নয়: অন্যের সিভি দেখে অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতে পারে। তবে সিভি নিজের তথ্য ও নিজের ভাষায় লিখতে হবে।


ভুল তথ্য নয়: সিভিতে দেওয়া যেকোনো তথ্য যাচাইযোগ্য হতে হবে। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য পরবর্তী সময়ে বিপদে ফেলতে পারে।


ভুল বানান বা গঠন নয়: সিভি ইংরেজিতে হলে গ্রামার ও বানান ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেল চেকার ব্যবহার করা যেতে পারে।


পজিশন অনুযায়ী কাস্টমাইজ: প্রতিটি আবেদনপত্রের জন্য সিভির ‘অবজেকটিভ’, ‘স্কিলস’ ও কি-ওয়ার্ড সামান্য পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। 


প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা: নিজে সিভি গুছিয়ে লিখতে না পারলে পেশাদার সিভি লেখকের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।


চাকরির বাজারে আপনি নিজে পৌঁছানোর আগেই পৌঁছে যায় আপনার সিভি। তাই সিভি এমন হওয়া উচিত, যা আপনার হয়ে কথা বলবে এবং আপনাকে একজন আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও প্রফেশনাল কর্মী হিসেবে তুলে ধরবে। শুধু তথ্য দিয়ে সিভি ভরাট না করে প্রাসঙ্গিক, সাবলীল ও প্রভাবসঞ্চারী উপস্থাপনকেই এর মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ এএম

মানবদেহে কোষ গঠন, হরমোন তৈরি এবং অন্যান্য মৌলিক শারীরিক কাজ পরিচালনার জন্য কোলেস্টেরল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধমনিতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।


স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক পোর্টাল ‘ভেরিওয়েল হেলথ’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের ধরন পরিবর্তন করে শরীর থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ছেঁকে বের করে দেওয়া সম্ভব।


যুক্তরাষ্ট্রের জেএম নিউট্রিশনের রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান অ্যালেক্সান্ডার লেরিটজ জানান, মানবদেহে কোলেস্টেরল প্রতিনিয়ত তৈরি, পুনর্ব্যবহৃত ও নিঃসৃত হয়। দৈনন্দিন খাদ্যভ্যাস এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলে; পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে আটকে ফেলা থেকে শুরু করে লিভার বা যকৃৎ থেকে রক্তপ্রবাহের এলডিএল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।


নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ইন্টারডিসিপ্লিনারি হেলথ সায়েন্সেসের চেয়ার ড. মিন্ডি হার এবং অন্যান্য ডায়েটিশিয়ানদের মতে, প্রধান ৫টি খাবার শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দিতে ও এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভুমিকা পালন করে।


১. ওটস ও হোল গ্রেইন (জব ও বার্লি)


ওটস এবং বার্লির মতো শস্যজাতীয় খাবারে বিটা-গ্লুকান নামক এক বিশেষ ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার থাকে। পরিপাকতন্ত্রে তরলের সাথে মিশে এটি জেলের মতো একটি ঘন পদার্থ তৈরি করে, যা চর্বি হজমে ব্যবহৃত পিত্ত এসিডকে আটকে ফেলে। সাধারণত শরীর পিত্ত এসিডকে পুনরায় শোষণ করে ব্যবহার করে, কিন্তু দ্রবণীয় ফাইবার একে আটকে মলের মাধ্যমে বের করে দেয়। ডায়েটিশিয়ান লেরিটজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেহেতু পিত্ত এসিড তৈরি করতেই কোলেস্টেরলের প্রয়োজন হয়, তাই শরীর নতুন পিত্ত এসিড তৈরি করতে রক্তে থাকা অতিরিক্ত এলডিএল কোলেস্টেরল ব্যবহার শুরু করে, যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।


২. শিম, ডাল ও ডালজাতীয় খাবার (লেগিউমস)


ছোলা, কালো শিম, মসুর ডাল ও কড়াইশুঁটির মতো লেগিউমস দ্রবণীয় ফাইবারের অন্যতম বড় উৎস। ওটসের মতোই এসব খাবারের ফাইবার পিত্ত এসিডের পুনর্শোষণ কমিয়ে লিভারকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ব্যবহারে বাধ্য করে। এছাড়া ড. মিন্ডি হারের মতে, পরিপাকতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া এসব ফাইবারকে ফারমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শর্ট-চেইন ফ্যাটি এসিডে রূপান্তর করে, যা লিভারকে কম কোলেস্টেরল উৎপাদনের সংকেত পাঠায়।


৩. তাজা ফলমূল ও শাকসবজি


তাজা ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরল হ্রাসে বিশেষ অবদান রাখে। বিশেষ করে আপেল ও সাইট্রাস জাতীয় ফলে (লেবু, কমলা) প্রচুর পরিমাণে পেকটিন নামক ফাইবার থাকে, যা পরিপাকতন্ত্র থেকে কোলেস্টেরল নিষ্কাশন দ্রুত করে। পাশাপাশি ফল ও সবজিতে প্ল্যান্ট স্টেরল ও স্ট্যানল থাকে।


লেরিটজ জানান, কেমিক্যাল গঠনের দিক থেকে এগুলো কোলেস্টেরলের মতো দেখতে হওয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে খাবারে থাকা কোলেস্টেরল রক্তে না মিশে সরাসরি মল আকারে নির্গত হয়।


৪. নানা পদের বাদাম ও বীজ


কাঠবাদাম, আখরোট, পিস্তা, চিয়া সিড ও তিসির বীজে রয়েছে অসম্পৃক্ত ফ্যাট ও ফাইবারের চমৎকার সমন্বয়। খাবারে থাকা সম্পৃক্ত ফ্যাট এলডিএল বৃদ্ধি করে; কিন্তু তার জায়গায় বাদাম ও বীজের অসম্পৃক্ত ফ্যাট গ্রহণ করলে রক্ত থেকে খুব দ্রুত এলডিএল অপসারণে লিভারকে সাহায্য করে। নাশতা হিসেবে বা ওটমিলের সঙ্গে বাদাম ও বীজ যোগ করা হৃদযন্ত্রের জন্য বেশ উপকারী।


৫. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ওমেগা-৩ যুক্ত সামুদ্রিক মাছ


অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল এবং চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ (স্যামন, ট্রাউট, সার্ডিন) স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অনন্য উৎস। মাখনের বদলে অলিভ অয়েল ব্যবহার কিংবা লাল মাংসের পরিবর্তে মাছ গ্রহণ করলে সম্পৃক্ত ফ্যাট খাওয়ার পরিমাণ কমে আসে। সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রক্তের আরেক ধরনের চর্বি ‘ট্রাইগ্লিসারাইড’-এর মাত্রা কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী, যা কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

বর্তমান সময়ে একসঙ্গে অনেক কাজ করতে পারাকে দক্ষতার পরিচয় বলে মনে করা হয়। হাঁটতে হাঁটতে বার্তার উত্তর দেওয়া, কাজের ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখা, টেলিভিশন দেখতে দেখতে ই–মেইল পাঠানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় পরের দিনের পরিকল্পনা করা— এসব যেন স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে।


অর্থাৎ একসঙ্গে অনেক কিছু সামলাতে পারলেই তিনি সফল ও উৎপাদনশীল ধরে নেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য- বাস্তবে এই অভ্যাস মনোযোগ, মানসিক শান্তি ও কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


মানুষের মস্তিষ্ক আসলে একসঙ্গে অনেক কাজ করার জন্য তৈরি নয়।


ব্যস্ততা সবসময় উৎপাদনশীলতা নয়


অনেক সময় মনে হয় একই সময়ে অনেক কাজ করা মানে সময় বাঁচানো। তবে এর ফলে কাজের মান কমে যায় এবং মানসিক ক্লান্তিও বাড়ে।


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থেরাপিস্ট’ ‘পাশ কো.’র প্রতিষ্ঠাতা এরিন পাশ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “যখন এক কাজ থেকে আরেক কাজে দ্রুত যাওয়া হয়, তখন মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে এক ধরনের উদ্দীপনা অনুভব করে। এতে মনে হয় যেন অনেক কাজ হচ্ছে। তবে দিনের শেষে দেখা যায়, অনেক কিছু শুরু হলেও খুব কম কাজই সম্পূর্ণ হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “মস্তিষ্ক আসলে একই সময়ে দুটি কাজ পুরো মনোযোগ দিয়ে করতে পারে না। বরং খুব দ্রুত এক কাজ থেকে আরেক কাজে সরে যায়। আর প্রতিবার মনোযোগ বদলানোর সময় মস্তিষ্ককে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করতে হয়।”


মনোযোগ বদলানোর অদৃশ্য ক্লান্তি


সুখ ও অভ্যাস নিয়ে কাজ করা মার্কিন লেখক গ্রেচেন রুবিন এই প্রক্রিয়াকে ‘সুইচিং কস্ট’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, “প্রতিবার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর সময় মস্তিষ্ককে নতুনভাবে পরিস্থিতি বুঝতে হয়। এতে অতিরিক্ত মানসিক শক্তি ব্যয় হয়।”


একসময় ক্লান্ত, বিরক্ত ও অমনোযোগী হয়ে পড়া স্বাভাবিক। আর সেটা বোঝা যায় না যে, এর পেছনে ছোট ছোট অসংখ্য মনোযোগ পরিবর্তনই দায়ী।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস চলতে থাকলে মানুষের মনোযোগের স্থায়িত্ব কমে যায়। এমনকি অবসর বা বিশ্রামের সময়ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি শান্তও হতে পারে না।


সবসময় ব্যস্ত থাকার সংস্কৃতি


এই বিশেষজ্ঞদের মতে, সবসময় ব্যস্ত থাকাকে অনেক সময় সফলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এরিন পাশ মন্তব্য কনে, “ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় ব্যস্ত থাকা মানেই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া। ফলে অনেকেই ধীরে চলা বা বিরতি নেওয়াকে অলসতা মনে করেন।”


তবে অতিরিক্ত ব্যস্ততা অনেক সময় নিজের জীবন থেকেই বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কাজের তালিকা পূরণ করতে গিয়ে মুহূর্ত উপভোগ করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়।


একসঙ্গে অনেক কাজ বন্ধ করার অভিজ্ঞতা


এক সপ্তাহের জন্য একসঙ্গে অনেক কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমে অস্বস্তি অনুভব হতেও পারে। মোবাইল ফোন না দেখে শুধু একটি কাজ করা বা টেলিভিশন দেখতে দেখতে অন্য কিছু না করা অস্বাভাবিক মনে হয়। এমনকি প্রথম দিকে ধীরগতির জীবন উদ্বিগ্নও করে তুলতে পারে।


তবে এই অনুভূতি স্বাভাবিক। কারণ দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্ককে দ্রুত উদ্দীপনা ও ব্যস্ততার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে।


ছোট ছোট পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলে


প্রথমে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি কাজেই মনোযোগ দিতে হবে। সেই সময়ে ফোন দূরে রাখা, অপ্রয়োজনীয় ট্যাব বন্ধ করা এবং অন্য কোনো কাজ না করার চেষ্টা করা জরুরি। ধীরে ধীরে মনোযোগ ধরে রাখা আগের তুলনায় সহজ হবে।


এছাড়া কাজের বৈঠকের সময়ও শুধু বৈঠকেই মনোযোগ দিতে শুরু করতে হবে। আগে যেখানে একই সঙ্গে বার্তা দেখা বা অন্য কাজ করার অভ্যাস ছিল, এখন সেটি বন্ধ করা সহায়ক হবে।


সকালের বিশৃঙ্খলা কমানোর গুরুত্ব


দিনের শুরুতেই অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ মানুষের মানসিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। তাই এই বিশেষজ্ঞরা, সকালের প্রস্তুতি আগের রাতে গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। যেমন- পোশাক প্রস্তুত রাখা, ব্যাগ গুছিয়ে রাখা বা দুপুরের খাবারের পরিকল্পনা আগে করে রাখা।


এতে দিনের শুরুতে মানসিক চাপ কমে এবং মস্তিষ্কও তুলনামূলক শান্ত থাকে।


মনোযোগ ফিরলে জীবনের আনন্দও বাড়ে


একসঙ্গে অনেক কাজ না করলে শুধু উৎপাদনশীলতাই বাড়ে না, মানসিক শান্তিও ফিরে আসে। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় আগের তুলনায় বেশি উপস্থিত থাকা, টেলিভিশন দেখা, রান্না করা কিংবা হাঁটার মতো সাধারণ কাজও বেশি উপভোগ্য লাগা শুরু হয়।


এরিন পাশা’র মতে, “মনোযোগ যখন সবসময় বিভক্ত থাকে, তখন বাস্তব মুহূর্তের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত থাকা যায় না।”


ফাঁকা সময়ও প্রয়োজন


এরিন পাশ মনে করেন, জীবনে কিছু ফাঁকা সময় থাকা জরুরি। কারণ পুরো সময়সূচি ভরে ফেললে মানসিক চাপ আরও বাড়ে।


তিনি বলেন, “মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম প্রয়োজন। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করলে সেই সুযোগ আর থাকে না।”

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ এএম
  • আপডেট : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ এএম

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তিও কিছুটা কমতে শুরু করে। মস্তিস্কের এই ক্ষয় বা ‘ডিমেনশা’ পুরোপুরি প্রতিরোধ করার কোনও জাদু বা নিশ্চিত উপায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনও আবিষ্কৃত না হলেও, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু সাধারণ অভ্যাস মস্তিস্ককে দীর্ঘকাল সতেজ ও তীক্ষ্ণ রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।


হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অন্তর্গত বোস্টনের ‘ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটাল’-এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ড. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “জীবনধারার ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন বয়সজনিত মস্তিস্কের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।”


নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম


শারীরিক ব্যায়াম কেবল হৃদ্-রোগ রোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিই কমায় না, এটি মস্তিস্কের কোষগুলোকে সচল রাখতেও সাহায্য করে।


বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে ‘এপিওইফোর’ নামক বিশেষ জিন বৈশিষ্ট্য রয়েছে (যা আলঝাইমার’স  বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ায়), তাদের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা উপকারী। এটি অনিদ্রা ও বিষণ্নতা দূর করতেও কাজ করে।


ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট


খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মস্তিস্কের স্বাস্থ্য সরাসরি যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস বা ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ অনুসরণ করলে মৃদু মানসিক অবক্ষয় এবং ডিমেনশা’র গতি  ধীর হয়ে আসে। এই খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, শিম বা মটরশুঁটি, বাদাম, জলপাই তেল এবং পরিমিত মাছ ও মুরগির মাংস রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


অ্যালকোহল বর্জন বা সীমিত করা


গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত বা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে আলঝাইমার’স বা স্মৃতিভ্রম রোগের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি থাকে। চিকিৎসকেরা মস্তিস্কের সুরক্ষায় যেকোনও ধরনের তামাক ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পরামর্শ দেন।


পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম


মস্তিস্কের দৈনন্দিন কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য ঘুম জরুরি। ঘুমের সময় মস্তিস্ক সারাদিনের শেখা তথ্য ও স্মৃতিগুলোকে স্থায়ী রূপ দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার কম ঘুমান, তারা স্মৃতিশক্তি ও মানসিক দক্ষতার পরীক্ষায় অন্যান্যদের চেয়ে অনেক কম নম্বর পান।


মানসিক উদ্দীপনা বা মস্তিস্কের ব্যায়াম


মস্তিস্ককে সচল রাখতে হলে তাকে অলস বসিয়ে না রেখে নিয়মিত কাজ দিতে হবে। ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সিদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বই পড়া, লেখালেখি, শব্দছক মেলানো, দাবা বা তাস খেলা, দলগত আলোচনায় অংশ নেওয়া বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে প্রায় অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমে যায়।


সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা


অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগ মস্তিস্কের জন্য এক ধরনের সুরক্ষাকবচ। সামাজিক ক্রিয়াকলাপে অংশ নিলে মনোযোগ ও স্মৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়াগুলো সক্রিয় হয়, যা স্নায়ুতন্ত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।


বিপরীতে, একাকিত্ব থেকে তৈরি হওয়া বিষণ্নতা মস্তিস্কের ক্ষয়কে আরও দ্রুত করে তোলে। একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ হরমোন কমাতেও সরাসরি সাহায্য করে।

বিষয় :