আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। আল জাজিরায় প্রকাশিত একটি মতামতে পুরস্কারজয়ী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক দাউদ কুতুব এমন মন্তব্যই করেছেন। মতামতটিতে তিনি লিখেছেন, যুদ্ধের একটি জনপ্রিয় কৌশল হলো শত্রুর নেতৃত্বকে নির্মূলের চেষ্টা করা। এই কৌশল নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ভালো হতে পারে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে এই কৌশল অতীতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। যুদ্ধে প্রধান শত্রুকে হত্যা করে কেউ তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারেন। নিশ্চিতভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যা করে এখন 'সাফল্যের' সাগরে ভাসছেন। কিন্তু ৮৬ বছর বয়সী এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা অসুস্থতার কারণে উত্তরাধিকারের কথা ভাবছিলেন। এ অবস্থায় তাকে হত্যা করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত শক্তির হিসেবে খুব বড় কোনো বীরত্বের ঘটনা নয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খামেনিকে হত্যা করার মানে এই নয় যে, এখনই ইরানে এমন কোনো নেতৃত্ব বা শাসনব্যবস্থা আসছে যা ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থের পক্ষে কাজ করবে। এর কারণ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা কোনো শান্তিপূর্ণ ফলাফল আনে না। বরং এর কারণে অনেক বেশি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতা ও অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যায়। সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যখনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের হত্যার পাশাপাশি নেতৃত্ব উপড়ে ফেলার ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে, ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ।
ইরাকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দেশটির নেতা সাদ্দাম হোসেনকে মার্কিন বাহিনী আটক করে তাদের ইরাকি মিত্র বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল। মৃত্যুদণ্ডের পর সাদ্দামের শাসনের অবসান হয়। এতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য শত্রু নেতৃত্ব শেষ হয়ে গেলেও ইরাকে ইরানপন্থী শক্তির ক্ষমতায় আসার পথও খুলে দিয়েছিল। এর ফলে পরের দুই দশকে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীগুলোর উর্বর ক্ষেত্র হয়ে ওঠে ইরাক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শত্রুজ্ঞান করা এই বাহিনীগুলো ইরাকজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন আগ্রাসনের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ আইএসের উত্থান। সিরিয়া থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে যাওয়া আইএস মার্কিন নাগরিকসহ হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এক পর্যায়ে এ অঞ্চল থেকে ইউরোপে শরণার্থীর ঢল নামে।
এমন আরেকটি উদাহরণ হামাস। এ শতাব্দীর প্রথম থেকেই ইসরায়েল বারবার হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যার চেষ্টা করছে। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন, তারপর তার উত্তরসূরি মধ্যপন্থী হিসেবে বিবেচিত আবদেল আজিজ রানতিসিকে হত্যা করতে সফল হয় ইসরায়েল। কয়েক দফা হত্যাকাণ্ডের পর ইয়াহিয়া সিনওয়ার গাজায় হামাসের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করেন।
হিজবুল্লাহর ইতিহাসও প্রায় একই রকম। এর সাবেক নেতা হাসান নাসরুল্লাহ সফলভাবে হিজবুল্লাহকে শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করেন। তার পূর্বসূরি আব্বাস আল-মুসাভিকেও হত্যা করেছিল ইসরায়েল। আড়াই বছর ধরে ইসরায়েল হামাস, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই দুই গোষ্ঠীর নেতাদের একে একে হত্যা করছে। এতে উভয় দলই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু তাদের আদর্শ, লক্ষ্য বা মূল উদ্দেশ্যকে 'হত্যা' করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল। 'আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ'—এই মূলমন্ত্রে হয়তো পরবর্তী কোনো বড় ঝড়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তারা।
ইরানের ক্ষেত্রে বলা যায়, যিনিই খামেনির স্থলাভিষিক্ত হোক না কেন, তার সঙ্গে আলোচনায় বসা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য অবশ্যই সহজ হবে না এবং এটার সম্ভাবনা খুবই কম। মাস্কাট ও জেনেভায় আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকারী ওমানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খামেনির অধীনে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু খামেনির উত্তরসূরির রাজনৈতিকভাবে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে মনে হয় না। যদি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযান অব্যাহত রাখে এবং ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়, তবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
এর ফলাফল কী হবে, তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না। কিন্তু ইরাক ও লিবিয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ইরানের নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়া মানে এ অঞ্চলে ও ইউরোপে মার্কিন মিত্রদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করবে। এ মুহূর্তে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন এই যে, ইরানকে নেতৃত্ব শূন্য করার কৌশলের মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী অর্জন করবে?
নেতানিয়াহুর জন্য খামেনির হত্যাকাণ্ড একটি বিশাল সাফল্য। সামনে ইসরায়েলে নির্বাচন। নির্বাচনে তার রাজনৈতিক জীবনের অবসান হতে পারে এবং দুর্নীতির মামলায় তার জেলও হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে ভোটে জয় তার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি লাভ। ইসরায়েলি নেতারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা খুব কমই করেন এবং সর্বোপরি, ইসরায়েলি সমাজ এর পক্ষেই থাকে। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে অর্জন ততটা স্পষ্ট নয়। যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ নেই এমন নাগরিকদের সামনে দূর দেশের ৮৬ বছর বয়সী এক ‘অসুস্থ’ নেতাকে হত্যার বড়াই করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে যখন মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সংকটের মধ্যে আছে, তখন করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ট্রাম্প ব্যয় করছেন এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে, যারা প্রকৃতপক্ষে সরাসরি কোনো হুমকি ছিল না। এমনকি এ যুদ্ধকে অনেক মার্কিন নাগরিকই 'ইসরায়েলের যুদ্ধ' হিসেবে চিহ্নিত করছে।
ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে ট্রাম্পের 'বোকা' বনে যাওয়ার ঝুঁকিও আছে। তিনি এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে গণ্য হতে পারেন যিনি অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর টিকে থাকা নিশ্চিত করতে ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করেছেন। এখন এটা পরিষ্কার যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের মাটিতে সেনা নামাচ্ছেন না। কোনো এক সময়ে তাকে অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু, পেছনে পরে থাকবে এমন এক বিপর্যয় যার ধাক্কা সামলাতে হবে এ অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আঞ্চলিক জোটগুলো অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একইসঙ্গে এই অভিযান এ অঞ্চলে মার্কিন করদাতাদের অর্থ, সেনাদের জীবন ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রভাব নষ্ট করবে, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই দেবে না। আশা করা যায় যে, ওয়াশিংটন এক সময় এই শিক্ষা নেবে যে হত্যাকাণ্ড এবং নেতৃত্ব উপড়ে ফেলার কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে দেয় না।
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি