ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সীমান্তের যে অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির নতুন মন্ত্রীসভা। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটা না করা গেলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সুরক্ষা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শপথ নেওয়ার পরে সোমবারই বসেছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের যেসব অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেই বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করে দেওয়া হবে ৪৫ দিনের মধ্যে।
মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মি. অধিকারী বলেন, "আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষার প্রশ্ন এবং যে ভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আজ প্রথম দিনেই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।"
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তিনি জানান, এর মধ্যে ১,৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া বাকি রয়েছে।
ওই ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে।
নির্বাচনী প্রচারকালে অমিত শাহ-র দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছিল যে, ‘পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ৬০০ একর জমির প্রয়োজন, তা বিএসএফকে দিচ্ছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে’।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগের ক্ষেত্রে বলে আসছিল যে, "সীমান্ত আমাদের বিষয় নয়, কেন্দ্র সরকারের বিষয়।"
নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে বাদ গিয়েছিল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। কঙ্গনা রানাওয়াত-সহ বহু বিজেপি সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন এই বাদ যাওয়া সবাই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী।
প্রথম বৈঠকে ছয় সিদ্ধান্ত
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের মহোৎসব হয়েছে।"
পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলকে কৃতজ্ঞতা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ ছাড়াও আজকের বৈঠকে আলোচিত বিষয়ের উপর মোট ছয়টি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। এর মধ্যেই আছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রায় ছয়শো একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি।
যে সিদ্ধান্তগুলি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রীসভা নিয়েছে, সেগুলি হল:
প্রথম, শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "নির্বাচনের আগে বহু বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। তাদের পরিবারের দায়িত্বভার গ্রহণ করল এই সরকার"।
দ্বিতীয়, পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস 'বদলে যাওয়া' আটকাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে।
তৃতীয়, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, "কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হলো।"
একই সঙ্গে উজ্জ্বলা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, বিশ্বকর্মা যোজনা-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু করা হলো বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে এই প্রকল্পগুলি আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছিল বর্তমান শাসকদল।
চতুর্থ, পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া অফিসারদের কেন্দ্রীয় সরকারের ট্রেনিংয়ে যুক্ত করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "ডব্লুবিসিএস অফিসারদের কোনও রকম কেন্দ্রীয় সরকারি ট্রেনিংয়ে পাঠান হতো না।"
পঞ্চম, মি. অধিকারী ঘোষণা করেন, "ভারতের নতুন আইন 'ভারত ন্যায় সংহিতা' পশ্চিমবঙ্গে চালু করা হলো" তিনি অভিযোগ তোলেন যে ভারত ন্যায় সংহিতা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়া সত্বেও পশ্চিমবঙ্গে পুরোনো আইন অনুযায়ী কাজ চালানো হচ্ছিল।
ষষ্ঠ, রাজ্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বয়সসীমা ছাড় দেওয়া হলো। ২০১৫ সাল থেকে রাজ্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রমাগত অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যার জন্য আবেদনকারীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলো বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সদ্য বিদায় নেওয়া সরকারের সমালোচনা
এই ছয়টি ঘোষণার পরে সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি জনগণনা সংক্রান্ত কাজ আটকে দেওয়ার অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজ শুরু করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বর্ধিত হারে ডিএ নিয়ে তিনি বলেন, "এই সংক্রান্ত আলোচনা পরবর্তী বৈঠকে হবে।"
এ দিন তিনি বলেন, নতুন সরকার সব রকম তথ্য নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেবে। সরকারি তথ্য ছাড়া কোনও রকম প্রশ্নের উত্তর দেবেন না তিনি।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাবেক সরকার 'ফর দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি' হিসেবে কাজ করত, "সংবিধান প্রণেতা ডঃ বাবসাহেব আম্বেদকরের ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল আদর্শকে তুলে ধরা হবে।"
তবে এই ছয়টি সিদ্ধান্ত ঘোষণা হওয়ার পরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।
'পুরোনো জনমুখী প্রকল্পগুলি বন্ধ হবে না'
গত নয়ই মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও আরও পাঁচ জন মন্ত্রী। জানা যাচ্ছে মন্ত্রিসভার আরও অনেকে ধীরে ধীরে শপথ নিয়ে যুক্ত হবেন।
নবান্ন ভবনের সভাকক্ষে আজ মিটিংয়ের আগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর সঙ্গে দেখা করে তার পরে পার্টি অফিসে যান। সেখান থেকে নবান্নে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পার্টি অফিস থেকে বের হওয়ার সময়ে তাকে শঙ্খ বাজিয়ে সম্মান জানানো হয় কর্মীদের তরফে।
এ দিন পার্টি অফিস থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, "সরকার ও পার্টি আলাদা দুটি স্বত্তা, দুটির সমন্বয় থাকবে। কিন্তু যে সরকার তৈরি হয়েছে সেটা বিজেপি সরকার নয়, সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।"
পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে ঢোকার আগে তাকে 'গার্ড অফ অনার' দিয়ে অভিবাদন জানায় কলকাতা পুলিশ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা এবং হাওড়ার দুই পুলিশ কমিশনার।
নবান্ন ভবনে ১৪ তলা, অর্থাৎ যেখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অফিস ছিল, সেই ফ্লোরেই নিজের প্রথম বৈঠক সারলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া।
ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আমি গোটা রাজ্যের মানুষকে জানাই ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আদর্শ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাধ্যমে মানুষের জন্য কাজ করবে।"
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও চালু থাকা সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি
ছবি : সংগৃহীত
সুদানের পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে একটি আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’। খবর আলজাজিরার।
সংগঠনটি জানায়, রোববার (০২ আগস্ট) উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়ায়া গ্রামের একটি স্থানীয় আদালতে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় সেখানে স্থানীয় বিরোধ ও মামলার শুনানি চলছিল। ওই স্থানে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় নেতা ও কমিউনিটি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলায় চারজন উপজাতীয় নেতা এবং দুইজন র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) কমান্ডার নিহত হয়েছেন। হামলায় আদালত ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গারা আল-জাওয়ায়া গ্রামটি বর্তমানে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর সমর্থকদের মধ্যে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত দারফুর অঞ্চল। গত বছর আরএসএফ এল-ফাশের শহর দখলের পর অঞ্চলটির বড় অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এল-ফাশেরে সংঘটিত সহিংসতায় গণহত্যার বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে।
সুদানের চলমান যুদ্ধে উভয় পক্ষই ড্রোন ব্যবহার বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ সুদানের এই সংঘাতকে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় সমুদ্রে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে অনেক যাত্রী সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছেন।
দেশটির আঞ্চলিক সুরাবায়া অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ফেরিটিতে থাকা মোট ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস) জানায়, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকজন যাত্রী সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। পরে কাছাকাছি অবস্থানরত একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ফেরিটির আশপাশে আরও চারটি জাহাজ অবস্থান নিলেও ফেরিতে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির কারণে তারা কাছে যেতে পারেনি।
বাসারনাসের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে আগুন লাগে। এ সময় ফেরির অধিনায়ক কোম্পানিকে ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানান। তবে এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুরাবায়া থেকে একটি বড় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাস্যহুদ বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা জাহাজগুলোর মাধ্যমে যাত্রীরা উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যাত্রী ও নাবিকদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে যাচ্ছি।
১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় নৌ-দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত ঘটনা। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈরী ও অনিশ্চিত আবহাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়।
গত মাসেও দেশটির বৃহৎ সুলাওয়েসি দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট দ্বীপ সেলায়ারের কাছে ৭০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয় এবং উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়া পর্যন্ত আরও ১৪ জন নিখোঁজ ছিলেন।
সূত্র: এএফপি
ছবি : সংগৃহীত
এক সময় আশঙ্কা করা হতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বাস্তাবে রূপ নেয় আশঙ্কা। শুরু হয় হামলা পাল্টা হামলা। এক্ষেত্রে এখন কোনো অংশে পিছিয়ে নেই ইরানও।
প্রথম দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ক্ষেত্রে ইরান কিছুটা সংযত থাকলেও পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। তেহরানের দাবি, তারা মূলত অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তবে এরই মধ্যে ইরানের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর চুপ থাকতে চাইছে না। কোনো কোনো দেশ সামরিক পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানকে মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন ইরান ও সৌদি আরব এক ধরনের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধেও বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনও চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা হচ্ছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানও জবাব দিচ্ছে।
এই সংঘাত এখন আরও বড় আকারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো যেকোনো মূল্যে নিরাপদ বাণিজ্যপথ ফিরিয়ে আনতে চায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু ইরান এ বিষয়ে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না। তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় ইরানে হামলার জন্য যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে, সেসব দেশকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এত দিন সৌদি আরব সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে এখন দেশটিকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব সামরিকভাবে কতটা শক্তিশালী? ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গেলে দেশটি কি টিকে থাকতে পারবে? কিংবা ইরান-সমর্থিত হুথিদের মোকাবিলাই বা কতটা সম্ভব?
সামরিক শক্তিতে ইরান এগিয়ে
২০২৬ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের (জিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তিতে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইরান। বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সামরিক শক্তির তালিকায় ইরানের অবস্থান ১৬তম। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের পরেই ইরানের অবস্থান।
অন্যদিকে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। অর্থাৎ জিএফপি-এর হিসাবে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতায় সৌদি আরবের চেয়ে ইরান এগিয়ে। তবে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলার কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংঘাতে ইরানের সামরিক শক্তি ঠিক কতটা ক্ষয় হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জিএফপি-এর পাওয়ারইনডেক্স অনুযায়ী, ইরানের স্কোর ০ দশমিক ৩১৯৯। সৌদি আরবের স্কোর ০ দশমিক ৪৪৭৩। এই সূচকে স্কোর যত শূন্যের কাছাকাছি, সামরিক শক্তির অবস্থান তত শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামরিক জনবলে বড় ব্যবধান
ইরানের মোট জনসংখ্যা ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৭। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি রয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশ সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযোগী।
অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩১ জন। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার ১০৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ।
সামরিক বয়সে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যাতেও ইরান এগিয়ে। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লাখ ১৪ হাজার মানুষ সামরিক বয়সে পৌঁছান। সৌদি আরবে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ২১ হাজার।
সক্রিয় সেনাসদস্যেও ইরান অনেক এগিয়ে
ইরানের মোট সামরিক সদস্য প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সামরিক সদস্য ৬ লাখ ১০ হাজার এবং রিজার্ভ সদস্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার।
অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সদস্য ২ লাখ ৪৭ হাজার। GFP-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কোনো রিজার্ভ সদস্য নেই। অর্থাৎ সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরান সৌদি আরবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে।
স্থলবাহিনীতেও বড় ব্যবধান
ইরানের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। দেশটির বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩৭ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সদস্য রয়েছেন।
অন্যদিকে সৌদি আরবের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৭৫ হাজার সদস্য রয়েছে। বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ স্থলবাহিনীর জনবলে ইরান সৌদি আরবের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
আধাসামরিক বাহিনীতেও ইরান এগিয়ে
আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যাতেও ইরানের অবস্থান শক্তিশালী। ইরানে এই বাহিনীর সদস্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার। সৌদি আরবে আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। ফলে সামরিক ও আধাসামরিক জনবলের ক্ষেত্রেও ইরানের পরিমাণ সৌদি আরবের চেয়ে বেশি।
তিন দিক থেকে নিরাপত্তা হুমকি সৌদি আরবের
বর্তমানে সৌদি আরবকে একসঙ্গে তিনটি দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়ারা।
সম্প্রতি হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরাক থেকে ড্রোন হামলা এবং ইরানের নতুন হুমকির পর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে বিমান হামলা চালায়।
এ ছাড়া একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্চ মাসের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের ভেতরেও গোপন প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি আরব বা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
বাণিজ্যপথ রক্ষায় সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট
বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।
এই তিনটি জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণা আসে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ একসময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। সেখানে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বা সহযোগিতা করা এবং দেশটিকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া আঞ্চলিক দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।
দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেয় কিংবা ওয়াশিংটনের জন্য ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাকেও যুদ্ধের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এক বক্তব্যে আবদোল্লাহি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘ব্যাপক যুদ্ধংদেহী পথে’ আরও দ্রুত এগোচ্ছে।
ইরানি এই কমান্ডারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির পেছনে রয়েছে পুরো অঞ্চলজুড়ে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার একটি ‘বিপজ্জনক কৌশল’।
মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
আবদোল্লাহি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে যে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ ও সম্পদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিতে তারা পিছপা হবে না।
তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর অর্থ, সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কৌশলগত সম্পদকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর এখন বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়নের সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বা ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
আবদোল্লাহির ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত ‘দূরদর্শিতার সঙ্গে’ কাজ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
ইরানের দাবি, বদলে গেছে শক্তির ভারসাম্য
আবদোল্লাহি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য আর আগের মতো নেই।
তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ডের ‘আড়াল’ থেকে যুদ্ধ ও আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য আঞ্চলিক সরকারগুলোর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরান এখন স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলোকে বুঝতে হবে, তারা কার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং সেই অবস্থানের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে।
‘যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে’
বক্তব্যের শেষ দিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে নিজেকে ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে সেই দেশও যুদ্ধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না।
তার সতর্কবার্তা হলো-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনভাবে অবস্থান নেওয়া যাবে না, যার ফলে কোনো দেশ নিজেই আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হয়ে পড়ে।
ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ফলে তেহরানের এই কঠোর বার্তা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে?
সামগ্রিক সামরিক শক্তিতে ইরান সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে। ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ১৬তম, যেখানে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। সামরিক জনবল, সক্রিয় সেনাসদস্য, রিজার্ভ বাহিনী, স্থলবাহিনী ও আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরানের বড় ব্যবধান রয়েছে।
তবে সামরিক শক্তি শুধু সেনাসদস্যের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্রের মান, আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি, সামরিক জোট এবং সরবরাহব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ইরান ও সৌদি আরব সরাসরি সংঘাতে জড়ালে শুধু র্যাংকিং দিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বরং দুই দেশের শক্তির ধরন ও তাদের মিত্রদের ভূমিকা যুদ্ধের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব একদিকে ইরান ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে সামরিক জোট গড়ে তুলছে। বিপরীতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক করছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরান সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আবার হামলা চালায়, তবে কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে এ হুঁশিয়ারি দেন।
আব্বাস আরাগচির এ হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ইরানের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েতের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলেও জানায় তারা।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাগচি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান দৃঢ় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের’ সম্ভাব্য পরিণতি এবং এর ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি। পরে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হামলা বা এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক কোনো দেশের অংশগ্রহণের জবাবে ইরান ‘সমান প্রতিক্রিয়া’ জানাবে।
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গতকাল ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। যুবরাজ ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে ‘উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান’ বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ গতকাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্র, পাশাপাশি কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাবে।
নূরনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে।’
আগের দিন শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা এখনো ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচক দলে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন।
তবে ট্রাম্প এ–ও বলেছেন, ইরানের প্রতি তাঁর আস্থা ক্রমশ কমছে। তাঁর অভিযোগ, ইরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। প্রয়োজন হলে তিনি তাদের ওপর আবার আঘাত হানবেন।
ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ করে আসছে।