হরিশ রানার শয্যাপাশে বাবা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ এএম

দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বা ‘নিষ্কৃতি মৃত্যুর’ (প্যাসিভ ইউথানেশিয়া) অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস) তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হরিশের মা–বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে তাঁর ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি দেন। মৃত্যু কার্যকরের জন্য ১৪ মার্চ ৩১ বছর বয়সী হরিশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ১১ দিনের মাথায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।


হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর পর কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ দান করে হরিশের মা–বাবা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।


১৩ বছর কোমায়


২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে একটি ছাত্রাবাসের চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান হরিশ। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর জীবন থমকে যায়। দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। বিছানায় শয্যাশায়ী হরিশের শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ট্রাকোস্টমি টিউব এবং কৃত্রিমভাবে খাবার দেওয়ার জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউব ব্যবহার করা হতো। ছেলের সুস্থ হওয়ার আশা একেবারে ক্ষীণ হয়ে আসার পর তাঁর মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর আকুতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর মা–বাবা।


ঐতিহাসিক রায়


১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে হরিশ রানাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেন। ভারতে এটিই ছিল প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি। আদালত বলেন, ১৩ বছরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। যখন কোনো রোগীর ফিরে আসার আশা থাকে না, তখন তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা চিকিৎসকের ওপর থাকে না। একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ নিয়ে সরকারকে দ্রুত আইন করারও আহ্বান জানান শীর্ষ আদালত।


আদালতের নির্দেশে হরিশকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আদালতের নির্দেশ মেনে এইমসের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সীমা মিশ্রর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হরিশের কৃত্রিম খাবার ও লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।


এর আগে ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। তবে অরুণার ক্ষেত্রে হাসপাতালের কর্মীদের আপত্তির কারণে সে সময় আবেদনটি নাকচ হয়েছিল। ফলে হরিশ রানাই হলেন ভারতের প্রথম ব্যক্তি, যাঁর ক্ষেত্রে আইনত এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হলো।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:২৭ পিএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।


তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামের ২৫টি জেলায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।


প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।


চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে

এবার আরও ভয়াবহ এল নিনোর সংকেত জাতিসংঘের


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৮ পিএম

ইতোমধ্যেই তাপদাহ ও দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত। এর মধ্যেই আরও এক বড় দুসংবাদ শোনাল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে জলবায়ুর রূপ বদলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া তৈরি করতে যাচ্ছে দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব ‘এল নিনো’।


জাতিসংঘের এই আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপদাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে যেখানে আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তা এল।


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ‘এল নিনো শুধু যে আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে তা নয়, এটি এখন আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে এবং উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি তো কেবল শুরু। এল নিনো যত শক্তিশালী হবে, আগেই জ্বলতে থাকা এই পৃথিবীর অবস্থা ততটাই ভয়াবহ রূপ নেবে।’


প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থাপনাকে ওলটপালট করে দেবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা একলাফে অনেক বাড়িয়ে দেবে।


মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এবার এল নিনোর প্রভাব এক হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত জলবায়ু রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। তিনি সরাসরি কয়লা, তেল এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির (ফসিল ফিউয়েল) ব্যবহার ও নতুন প্রকল্প সম্প্রসারণকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন এবং এগুলো অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।


বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় সব স্থলাঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যেতে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওপর দিয়ে।


সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এল নিনোর ওপর নজর রাখা হলেও কেবল পূর্বাভাস দিয়ে বিপদ রোখা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোকে সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু পূর্বাভাস দুর্ঘটনা থামাতে পারে না, মানুষই পারে তা প্রতিরোধ করতে। আজ আমরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামীকালের পরিণতি কেমন হবে।’


বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে যখন এই এল নিনো তার চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের হিসাবগুলো নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।


সূত্র: আল-জাজিরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) তাদের নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে এফডিএ আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংক্ষিপ্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।


কোম্পানির প্রথম এমআরএনএ-ভিত্তিক ফ্লু টিকা (এম ফ্লুসিভা) ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী সব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে ।


প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মডার্না আশা করছে ২০২৬-২০২৭ শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এই টিকা সরবরাহ করা যাবে।


মডার্না ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, ফেডারেল ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রকরা তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করে নতুন টিকার আবেদন পর্যালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে এক সপ্তাহ পর এফডিএ তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসে, যা মডার্না ‘গঠনমূলক’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছে।


নতুন টিকা ব্যবহৃত এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে টিকা সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য প্রধান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে এমআরএনএ উন্নয়নে অর্থায়ন করা ফেডারেল গবেষণা অনুদান বন্ধ করেছিলেন।


কেনেডি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এফডিএ কিছু টিকার অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাও রয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প এমআরএনএ প্রযুক্তিকে ‘আধুনিক যুগের অলৌকিক আবিষ্কার’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত টিকা তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করে।


কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে। এগুলো সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর রূপ থেকে সুরক্ষা দেয়।


হরমুজ প্রণালী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত এ জলপথ যৌথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তেহরান বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। 


তেহরান আরও জানায়, নতুন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো কাটেনি।


এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে, ইরানের গণমাধ্যমকে ব্রিফ করা সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।


তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে তাদের অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইরান সমঝোতা চায়। তবে, ইরান এ দাবি নাকচ করে জানায়, তারা এ বিষয়ে প্রণালীর অপর পাড়ের প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ব্যবস্থা করবে।


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই’র বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘দুই পক্ষ যে রুট নির্ধারণ করেছে, তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কে একমত হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, যাতে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ও সমঝোতার দিকগুলো থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও খসড়া প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’


ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকাই সাংবাদিকদের জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে সমঝোতা হলেও এর অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য পথ নিরাপদ হয়ে যাবে।


তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।’


এই ঝুঁকিরই প্রতিফলন হিসেবে বুধবার ওমানের কুমজার থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজ ও নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।


এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর এটি অষ্টম ও নবম হামলা।


হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবুর কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে ‘ডেইজি’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।


এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


-‘বিভক্ত কাঠামো’-

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির ধীরগতিতে ওয়াশিংটন হতাশ। তবে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় সময় লাগবে।


বুধবার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হবে এবং সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।’


হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধ আরোপের পর থেকে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলছে।


তবে অনেক জাহাজই প্রণালীর অপর পাশে ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এ পথে চলাচলকারী কিছু জাহাজ মাঝেমধ্যেই হামলার মুখে পড়েছে।


ইরান এখন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টোল আদায় করতে চায়। যুদ্ধের আগে তারা এ ক্ষমতা প্রয়োগ করত না।


সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, সমঝোতা খুব কাছাকাছি।


তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।


ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৪ পিএম

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খবর এএফপির।


রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে তভার অঞ্চলে হামলার সময় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।


ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, তার অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


রাশিয়ার অভিযোগ, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে।


চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো স্থবির। এদিকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে চলেছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও বাড়ছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।


মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সারাঙ্গানি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।


প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে। এ ঘটনার পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, কম্পনটি বেশ শক্তিশালী ছিল। মানুষ চিৎকার করতে করতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যায়। তবে সবাই নিরাপদে আছে।


তিনি আরও জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।


গত ৮ জুনও ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় বহু ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।


দুই মাসের ব্যবধানে নতুন এই ভূমিকম্প দেশটির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।


সূত্র: খালিজ টাইমস