সাইফ আল-ইসলাম।
লিবিয়ার সাবেক নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ৫৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার তার রাজনৈতিক দলের প্রধান নিশ্চিত করেছেন, যাকে একসময় ব্যাপকভাবে তার বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে মনে করা হতো।
তার আইনজীবী এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে যে, একটি ‘চার সদস্যের কমান্ডো’ ইউনিট জিনতান শহরে তার বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও এই হামলার পিছনে কে বা কারা থাকতে পারে তা এখনও স্পষ্ট নয়। খবর- লিবিয়ান নিউজ এজেন্সি
এদিকে এই ঘটনার পৃথক আরেকটি বর্ণনায়, তার বোন লিবিয়ান টেলিভিশনে বলেছিলেন যে তিনি লিবিয়া-আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে তার বাবার পরে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং ভয়ঙ্কর ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। তার পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সালে এক বিদ্রোহের সময় ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত লিবিয়া শাসন করেছিলেন।
১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণকারী সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ২০০০ সাল থেকে গাদ্দাফি শাসনের পতন পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তার বাবার ক্ষমতাচ্যুতির পর, সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি - যার বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ নৃশংসভাবে দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগ ছিল - জিনতান শহরের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে প্রায় ছয় বছর ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০১১ সালে বিরোধীদের বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকার কারণে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
এমনকি দেশটির পশ্চিমে অবস্থিত ত্রিপোলি শহর, যার নিয়ন্ত্রণ জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকারের হাতে, সেখানকার একটি আদালত ২০১৫ সালে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পূর্বাঞ্চলীয় শহর টোব্রুকের মিলিশিয়া তাকে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় মুক্তি দেয়।
গাদ্দাফির উৎখাতের পর থেকে, বিভিন্ন মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে লিবিয়া এবং বর্তমানে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের মধ্যে বিভক্ত। তার বাবা দেশটির নেতা থাকাকালীন, সরকারে কোনও আনুষ্ঠানিক ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও উচ্চ-স্তরের আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। যার মধ্যে এমন কিছু ছিল যে কারণে তার বাবা নিজের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিও ত্যাগ করেছিলেন।
এই ধরনের চুক্তির ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশটির উপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং কেউ কেউ গাদ্দাফিকে একজন সংস্কারবাদী এবং পরিবর্তিত লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য মুখ বলে মনে করেছিলেন। সাইফ আল-ইসলাম সবসময় অস্বীকার করেছেন যে তিনি তার বাবার কাছ থেকে ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেতে চান। তিনি বলেছিলেন যে ক্ষমতার লাগাম "একটি খামার নয় যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়।" তবে, ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। পরবর্তীতে ওই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।
রয়টার্সের এক রিপোর্ট বলছে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে পড়া সাইফ আল-ইসলাম অনর্গল ইংরেজি বলেন এবং পশ্চিমা মহলে একসময় তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তবে ২০১১র ঘটনাবলীর সময় পিতার পক্ষ নেবার পর তার সেই ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি এমন দাবি করেন।
প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে এও বলেন, এটিই ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।’ বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করে। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তেও আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।’
‘একটি ভালো চুক্তিতে সই করার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের চূড়ান্ত বিনাশের আগে শেষ সুযোগ দিতে চাই।’
এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। ট্রাম্পের মতে, ‘বলতে গেলে এটি আগামীকালের মধ্যেই’ সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হতে ‘কিছুটা সময় লাগতে পারে’ বলে তিনি জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। যদিও গত কয়েক মাসের দফায় দফায় কূটনৈতিক আলোচনার ফলে বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থেকেছে।
দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষত রয়েছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি থেকে সংকেত পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু এখনো জানানো হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনবহুল সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। এতে দেখা গেছে, একটি খাড়া পাহাড়ের দিকে দ্রুতগতিতে একটি ড্রোন ধেয়ে আসছে। পরে সেটি পাহাড়ের পাশে সৈকতে আগুনের গোলার মতো আছড়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।
কৃষ্ণসাগরের তীরে আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের কাছের একটি সৈকতে এ ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ বলেন, আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৪০–এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক লোকজনের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ। এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তবে রাশিয়া আর ইউক্রেন-দুই পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।
ইউক্রেনের ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু রুশ সমুদ্রসৈকত ছিল কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে ইউক্রেনের কিছু চ্যানেল থেকে দাবি করা হয়েছে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের কারণে ড্রোনটির সংকেত জ্যাম হয়ে যাওয়ায় সেটি সৈকতে বিধ্বস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রাশিয়ার কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোনটি আছড়ে পড়ার আগে তাঁরা গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটি আঘাত হানার আগে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
কৃষ্ণসাগরের এ সৈকত রুশদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে উষ্ণ জলবায়ু, দীর্ঘ সৈকত আর উন্নত পর্যটন পরিকাঠামোর কারণে অনেকে এখানে অবকাশ কাটাতে আসেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রুশদের ভ্রমণ সীমিত থাকায় এ সৈকতে আরও বেশি জনসমাগম হয়।
বছরখানেক ধরে রাশিয়ার সীমানার অনেকটা ভেতরে সফলভাবে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক গুদামগুলো লক্ষ্য করে বেশির ভাগ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের দাবি, এসব স্থাপনা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাশিয়া।
তবে ইউক্রেনের এসব হামলায় বেশ কয়েকবারই বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহান্তেও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও শহরগুলোয় আক্রমণ চালায় রুশ বাহিনী। হতাহত হয়েছেন হাজারো বেসামরিক মানুষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, গত শনিবার দেশটির রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আসন্ন এবং সোমবার আলোচনা হবে। তবে গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না।
আবার একই দিন খবর এসেছে, ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য সামরিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘটনা কোন দিকে গড়াচ্ছে? যুদ্ধ আবার শুরু হবে, নাকি আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ? আর ট্রাম্পই বা কী বলতে চাইছেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ একঘেয়ে ছকে আটকে গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক কাতার থেকে জানান, ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগ দিয়েই অজ্ঞাতনামা এক সূত্র তাকে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর বিষয়ে জানিয়েছেন। সে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে পরোক্ষ আলোচনা হবে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যাওয়া ও কাতারের পক্ষ থেকে দূত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আমরা বিস্তারিত জানি না। তবে কিছু একটা হচ্ছে, তা আন্দাজ করতে পারছি।
তবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমায়েল বাঘায়ি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘আমরা এই সময়ে কোনো দেশ থেকে প্রতিনিধি দল বা অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের বর্তমান জটিলতার কারণে ট্রাম্প দায়ী। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৃদ্ধি ও হামলা বন্ধ করার ঘটনার কারণে এই সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি মনে করি, এ অনেকটা একঘেয়ে ছকে পরিণত হয়েছে।
ত্রিতা পারসি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে আলোচনার সব নির্ভরযোগ্যতা হারিয়ে যাবে। কোনো চুক্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা হবে কি না, সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।’
এখন প্রশ্ন উঠছে, আলোচনা যেহেতু হবে না বলে জানিয়েছে ইরান, তাহলে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করলেন কেন?
এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই তিন দেশের পক্ষ থেকে তাঁকে হামলা বন্ধ করে চুক্তি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে তেলের দাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের অবকাঠামোতে ট্রাম্প হামলা চালানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি কমেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়ে রেখেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।
ইরানকে অভিনব শাস্তি
ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, আমরা নতুন সৃজনশীল ও অভিনব পন্থা খুঁজছি ইরানের ওপর চাপ তৈরি ও তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, গত বুধবার ওই ইমেইল একাধিক সামরিক বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র এ তথ্য জানায়।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এভাবে ইমেইলের মাধ্যমে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ থেকে এটি প্রকাশ পায় যে, ট্রাম্পের হাতে ইরানকে চাপে ফেলার বিকল্প সম্ভবত সীমিত।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিনব পন্থায় চিন্তা করা ও কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অ্যাডমিরাল কুপার, কোনো বিশেষ র্যাং ক ছাড়াই সদস্যদের সঙ্গে এটি নিয়ে যোগাযোগ করেছেন, যাতে এটি থেকে সম্ভাব্য কার্যক্ষমতার সর্বোচ্চটা অর্জন সম্ভব হয়।’
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।