মানবপাচার, অপহরণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে লিবিয়ায় অপহৃত এক বাংলাদেশি যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং তাদের ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জব্দ করা হয়েছে। পিবিআই মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছে।
মামলার বাদী উর্মি বেগমের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি মো. আলাউদ্দিন কবিরাজ বাদীর আত্মীয় ও পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তার মাধ্যমে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইতালি প্রবাসী ১ নম্বর আসামি রিয়াজুল মাদবরের সঙ্গে ভিকটিম সোহেলের পরিচয় হয়। রিয়াজুল মাদবর ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে ইতালি পাঠানোর নিশ্চয়তা দেয়। পরবর্তীতে রিয়াজুলের স্থানীয় ম্যানেজার পরিচয়ে টিটু মীরের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। পরে রিয়াজুল, আলাউদ্দিন ও টিটু মীরের সঙ্গে ভিকটিমের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয় এবং মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে তারা ভিকটিমকে ইতালি পাঠানোর বিনিময়ে মোট ২৪ লক্ষ টাকা দাবি করে। তাদের কথামতো প্রথমে ৪ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধাপে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আরও ৬ লক্ষ, ৫ লক্ষ ও ৮ লক্ষ টাকাসহ মোট বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। কিন্তু ভিকটিমকে ইতালি পাঠানোর পরিবর্তে প্রতারণার মাধ্যমে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে নিয়ে গিয়ে অপহরণকারীদের নিকট বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা ভিকটিমের স্ত্রী উর্মি বেগমের মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাকাউন্টে ভিকটিমকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠায়। ভিডিওতে ভিকটিমকে রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত অবস্থায় দেখা যায়।
পরে অপহরণকারীরা জানায়, ভিকটিমকে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে বাংলাদেশি টাকায় ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। শুধু বাদীকেই নয়, ভিকটিমের ভাই, বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ইমো নম্বরে কল করে মারধর ও নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ বিষয়ে বাদী আসামী রিয়াজুল, আলাউদ্দিন ও টিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ভিকটিমকে দ্রুত মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে আরও ২০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন ধাপে ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রহণ করে। একইসঙ্গে তারা বাদী ও তার স্বজনদের মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ভিকটিমকে উদ্ধার করা না হলে বাদী পুনরায় আসামী রিয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, টিটু মীর ও হিমেল নামে আরও দুই ব্যক্তি রিয়াজুলের স্থানীয় ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে এবং তারা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করেছে। এছাড়া তদন্তে উঠে আসে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শতাধিক ব্যক্তিকে লিবিয়ায় পাচার করে প্রতারণা ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছিল।
পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ইমো আইডির নাম পরিবর্তন করে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করে এবং দাবি করে যে, টিটুদের দেওয়া অর্থের কোনো অংশ তারা পায়নি। তারা ভিকটিমের ওপর আরও অমানবিক নির্যাতন চালাতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ভিকটিমকে দীর্ঘদিন অনাহারে ও অর্ধাহারে আটকে রাখা হয়। তার হাতের নখ প্লাস দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করা হয় এবং বৈদ্যুতিক তার দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি নগ্ন করে হাত-মুখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আরও ১৯ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানো, মুক্তিপণ, ডলার ভাঙানোসহ বিভিন্ন অজুহাতে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের স্ত্রী উর্মি বেগম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় মামলা মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) উদ্যোগে মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্ত চলাকালে গত ২১ এপ্রিল মামলার এজাহারনামীয় আসামি টিটু মীর ও রহিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন বার্তা, ভয়েস কল ও লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বাদীর নিকট মুক্তিপণের টাকা দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রদান, বিদেশে অবস্থানরত রিয়াজুলের নির্দেশনা এবং আলাউদ্দিন ও হিমেলের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়| এছাড়া গোয়েন্দা তথ্য ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানা এলাকা হতে আসামী ইসমাইল দেওয়ানকে আটক করা হয়| তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও লিবিয়ায় অবস্থানরত তার ভাই ইকবালের সঙ্গে মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বার্তা পাওয়া যায়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানব পাচার চক্রের ব্যবহৃত একাধিক ব্যাংক হিসাব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর সহায়তায় ফ্রিজ করা হয়েছে। পিবিআই’র ধারাবাহিক অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রমের ফলে চক্রটির সদস্যরা চাপে পড়ে লিবিয়ায় অবস্থানরত ভিকটিম সোহেলকে ত্রিপলীর একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় তিনি নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পিবিআই, ইউএনওডিসি, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম (ইউএন মাইগ্রেশন)-এর সমন্বয়ে ভিকটিমকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়। ৩ মে তাকে লিবিয়ার ত্রিপলীতে আইওএম-এর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে ভিকটিম সোহেলকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিবিআই হেফাজতে গ্রহণ করে। তিনি ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। মানব পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশগামী সাধারণ মানুষকে দালালচক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, আমরা ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি। আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত জামিন বাতিল করতে পারব এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ঘিরে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অগাস্ট মাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু পাওয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আগস্ট মাসে পুলিশ সারাদেশে সতর্কতা জারি করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী, যেটা নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী- তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম আগস্ট মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।’
এদিকে, ঢাকায় গত কয়েকদিনে বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে শনিবার দুপুরে মিরপুর - ১০ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সেটিতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য নেই বলে জানিয়েছে। তবে, প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে শনিবার, পুলিশ সদর দপ্তর পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সারাদেশে সতর্কতা জারি করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যায়ের সকল ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আওতায় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার। আজ রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তাই মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশ আগ্রহী। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আকারেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরোনো প্রস্তাবও নতুন করে আলোচনায় আসে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগ আবারও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
বিষয়টি এগিয়ে নিতে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানান।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, চীন মিয়ানমার বাংলাদেশ করিডোর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ করিডোর বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ও বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মত দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক পুনরায় শুরু করে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে এ রোগে ৮৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ১১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। আর ৯৬ জন মারা গেছে, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১১ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, ময়মনসিংহে ৭১, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১২ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ২২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৪৬ জন।
ঢাকা বিভাগে ভর্তি ২৮৩ জন, রাজশাহীতে ২৬, সিলেটে ৬৩, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ১৪২, ময়মনসিংহে ৬৫, খুলনায় ২২, রংপুরে ৪৫ জন।
এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ১২ হাজার ৬২০। যার মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩০ সহাজার ৮৩। শনাক্ত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২৯৫।
ছবি : সংগৃহীত
ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা দাম বাড়ার আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।রোববার বিইআরসি এ-সংক্রান্ত পৃথক আদেশ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধি, জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, আগস্ট মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেনের মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৬৪০ মার্কিন ডলার। গড়ে সৌদি আরামকোর কন্টাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৩৩ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এই কেজিপ্রতি দর অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩২ টাকা। এছাড়া ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৩০ টাকা এবং ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩৯৭ টাকায় বিক্রি হবে। তুলনামূলক বড় আকৃতির সিলিন্ডারের মধ্যে ২০ কেজির দাম ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির দাম ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির দাম ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং সর্ববৃহৎ ৪৫ কেজি ধারণক্ষমতার সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৯২ টাকা।
সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি রেটিকুলেটেড ও অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। বাসা-বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি রেটিকুলেটেড এলপিজির মূল্য প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। আর গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির মূল্য প্রতি লিটার ২৮ টাকা ৭৫ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।
তবে বেসরকারি খাতের গ্যাসের দাম বাড়লেও সরকারি এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিইআরসির পূর্বের নির্দেশনানুযায়ী সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য পূর্বের ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাতেই অপরিবর্তিত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এলপিজি মজুদকরণ, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক কিংবা খুচরা বিক্রির কোনো ধাপেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া যাবে না। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনজীর আহমেদ
বাংলাদেশের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেদকের কথাও হয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়।
জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছে, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
বেনজীরের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে কালবেলা লিখেছে, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত আরোপ করলেও সাবেক এই পুলিশ প্রধান দুবাই থেকে ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন।
এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এখনো বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কিছু জানে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি তিনি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
“তারা আমাকে বলেছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।"
আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়।
সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।
এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বেনজীরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার।
সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ‘নীতিগত সম্মতি’র পাশাপাশি আরো কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ।
এই নথি চালাচালির মধ্যেই বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর এল, যা তার প্রত্যাপর্ণের বিষয়টিই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।
পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।
প্রাথমিক-গণশিক্ষা-মন্ত্রণালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দিনক্ষণ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
এতে আরও বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের পর পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। বিষয়টি সকলের অবগতির জন্য পাঠানো হলো।
এদিকে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ের পদায়ন চান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে তাদের।
এদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জডড়ো হতে শুরু করেন প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।