ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:১০ এএম

সোমবার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 


এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য নিজ দেশের বাজারে প্রবেশের পথে বাণিজ্য–বাধা হ্রাস করবে, যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন ধরে করে আসছে। সাধারণত বড় কোনো ঘোষণা দেওয়ার জন্য নিজের মালিকানাধানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের দ্বারস্থ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প। এবারও তা–ই করেছেন তিনি। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ হয়। 


ট্রাম্প বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে; সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা হলো, তারা ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে। 


এর আগে শনিবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারত ইরানের নয়, ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে।


রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যে আরোপিত জরিমানাস্বরূপ ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেননি ট্রাম্প। 


তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের সব ধরনের পণ্য আমদানিতে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাহার করছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিও চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।


ভারতের নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে তিনি সে কথা বলেছেন। সরাসরি জরিমানা মওকুফের প্রসঙ্গ এড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, ভারতকে মোট ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। সেটা হলে তিন প্রতিবেশী পাকিস্তান (১৯%), চীন (৩০-৩৫%) ও বাংলাদেশের (২০) চেয়েও কম হবে ভারতের ওপর আরোপ হতে চলা মার্কিন শুল্ক।


মনে রাখা দরকার, ভারতের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তার মধ্যো ২৫ শতাংশ হলো পাল্টা শুল্ক আর বাকি ২৫ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ার তেল কেনার জরিমানাস্বরূপ।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। ভারতে তৈরি পণ্যের শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে, এটা জেনে আনন্দিত। এই দারুণ ঘোষণার জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনেক ধন্যবাদ। দুটি বৃহৎ অর্থনীতি ও বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে আমজনতা উপকৃত হয়। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র তৈরি হয়।’


নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির জন্য তাঁর প্রচেষ্টার প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন আছে। দুই দেশের অংশীদারি অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছেন।


এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যহারে বেশি পণ্য কিনবে—মোদি সেই অঙ্গীকার করেছেন। এর অংশ হিসেবে ভারত ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি—কয়লাসহ—আমদানি করবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য আগের চেয়ে বেশি করে কিনবে।


ভারত সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক–বাধা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নেবে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় এসে পাল্টা শুল্ক আরোপ করার আগপর্যন্ত বিশ্বে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি ছিল ভারত। সে সময় ভারতের নীতিগত বা কাগুজে গড় শুল্কহার (সিম্পল অ্যাপ্লায়েড) ছিল ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কার্যকর (ইফেকটিভ) শুল্কহার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ।


বিস্তারিত কিছু নেই


ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ট্রাম্পের পোস্টে চুক্তি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ শুল্কহার কার্যকর হওয়ার তারিখ, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে ভারতের সময়সীমা, বাণিজ্যিক বাধা কমানোর রূপরেখা কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি ভারত দিয়েছে—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা নেই।


জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার অন্য বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্যচুক্তিগুলোয় সাধারণত মার্কিন শিল্প খাতে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের ঘোষণায় বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়নি।


এমকে গ্লোবালের অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা বলেন, এই চুক্তি হয়ে গেলে ভারত এশিয়ার অন্যান্য দেশের কাতারে চলে আসবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের গড় শুল্কহার ১৫ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে। ভারতের শুল্কহার হবে ১৮ শতাংশ। তাঁর মতে, এতে ভারতের রপ্তানি ও রুপির ওপর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই কমে যাবে।


আনুষ্ঠানিকতা করা হয়নি


সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে এ পরিবর্তনগুলোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণা বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশ জারি করা হয়নি।


হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্রও রয়টার্সকে এ বিষয়ে বাড়তি তথ্য দেননি। অন্যদিকে অফিস সময়ের পর পাঠানো প্রশ্নের জবাবে ভারতের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাসও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।




গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।


ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত। 


কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়। 


তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।


অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। 


ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়। 


এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।


সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি


সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।


প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন। 


প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 


বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়। 


মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন। 


সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি। 


অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।


প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’ 


ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।


এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।


ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।


পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।


বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।


তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।


এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।


গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”


নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।


হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।


গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।


তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।


বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।


আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।


তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’


এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।


তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।


এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’


ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।


তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।


এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।


সূত্র:  বিবিসি