সি চিন পিং
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ টানাপোড়েন চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে চীনের শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউকসিয়া এবং আরেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল লিউ ঝেনলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা দেশটির অভিজাত মহলে ক্ষমতার লড়াই নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এ ঘটনার নেপথ্য কারণ কী? চীনের যুদ্ধক্ষমতা, বিশেষ করে তাইওয়ান দখল বা অন্য কোনো বড় আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে জড়ানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষার ওপর এর প্রভাব কী পড়তে পারে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
৭৫ বছর বয়সী ঝাং ছিলেন কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান। দেশটির নেতা সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির এই গ্রুপই সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে।
সাধারণত সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সিএমসি এখন মাত্র দুজন সদস্যে নেমে এসেছে। তাঁদের মধ্যে এখন আছেন সি চিন পিং নিজে ও জেনারেল ঝাং শেংমিন।
আগের কয়েক দফা আটক করার পর চলমান ‘দুর্নীতিবিরোধী’ অভিযানে বাকি সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিএমসি লাখ লাখ সামরিক সদস্যকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি এতটাই শক্তিশালী যে চীনের একচ্ছত্র শাসক হিসেবে দেং জিয়াওপিংয়ের হাতে থাকা একমাত্র পদ ছিল সিএমসির চেয়ারম্যানের।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের লাইল মরিসের মতে, সিএমসিতে এখন কেবল শি ও একজন জেনারেলের অবশিষ্ট থাকা অভূতপূর্ব এক ঘটনা বটে।
মরিস বিবিসিকে বলেন, পিএলএ এখন বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনীতে এখন একটি বিশাল নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে।
এত বড় বড় জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মরিস বিবিসিকে বলেন, ‘বাজারে অনেক গুজব ছড়িয়েছে। আমরা এখনো জানি না, এর মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। তবে এটি নিশ্চিতভাবে সি চিন পিংয়ের নেতৃত্ব এবং পিএলএর ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা।’
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক চং জা ইয়ানও বলেন, ঝাংয়ের পতনের সঠিক কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে এটি নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।
ইয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল—সবকিছুই শোনা যাচ্ছে। এমনকি বেইজিংয়ে গোলাগুলির গুজবও রটেছে।
তবে ঝাং ও লিউয়ের পতন এবং এসব জল্পনা দুটি বিষয়কে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রথমত, সি চিন পিং এখনো অপরাজেয় এবং দ্বিতীয়ত, বেইজিংয়ে তথ্যের প্রবাহ অত্যন্ত সীমিত, যা অনিশ্চয়তা ও গুজবকে বাড়িয়ে তুলছে।
ঝাং ও লিউয়ের বিষয়ে ‘তদন্ত’ চলছে বলে বেইজিং সরকার ঘোষণা দিয়েছে। এতে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মূলত দুর্নীতির একটি মার্জিত পরিভাষা।
এরপর ‘পিএলএ ডেইলি’ তাদের এক সম্পাদকীয়তে বিষয়টি একদম পরিষ্কার করে লিখেছে, এই পদক্ষেপ ‘দুর্নীতি দমনে’ কমিউনিস্ট পার্টির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই প্রকাশ। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি যে–ই হোন বা তাঁর পদমর্যাদা যত ওপরেই হোক না কেন।
এসব জেনারেলের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। হয়তো কখনো প্রকাশ করা হবেও না। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার অর্থই হচ্ছে নিশ্চিতভাবে তাঁদের অন্তত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
‘পিএলএ ডেইলি’র সম্পাদকীয়তে ইতিমধ্যেই ঝাং ও লিউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাঁরা ‘কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্বাস ও প্রত্যাশার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন এবং ‘কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনকে পদদলিত ও অবমাননা’ করেছেন।
জেনারেলদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি দুর্নীতির কারণে হতে পারে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, এর পেছনে ক্ষমতার রাজনীতিও থাকতে পারে।
সি চিন পিং যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন চীনে দুর্নীতির সমস্যা অবশ্যই ছিল। তবে চীনের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর অনুগত নন এমন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বা সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিতে দলের ভয়ংকর ‘শৃঙ্খলা পরিদর্শক দল’ ব্যবহার করে এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং এমন এক স্তরের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছেন, যা চেয়ারম্যান মাওয়ের পর আর দেখা যায়নি।
তবে এ ধরনের নেতৃত্ব হিতে বিপরীতও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সামরিক বাহিনীতে সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হলে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা, এমনকি দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঝাংয়ের বাবা ছিলেন সির বাবার বিপ্লবী কমরেড। সির সঙ্গে এই জেনারেলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক এই বিশৃঙ্খলার আগে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে গণ্য করা হতো। তাঁদের এই বিচ্ছেদ হয়তো পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। কারণ, এখন ধারণা করা হচ্ছে যে চীনে কেউই নিরাপদ নন।
ঝাং পিএলএর হাতেগোনা কয়েকজন যুদ্ধ-অভিজ্ঞ শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া সামরিক বাহিনীর জন্য এক বড় ক্ষতি।
লাইল মরিসের মতে, ঝাংকে সরিয়ে দেওয়া দীর্ঘ মেয়াদে সির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। সি হয়তো আবারও তাঁর কর্তৃত্ব জাহির করেছেন। কিন্তু এই বিশৃঙ্খলা পিএলএর ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে।
সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের বহিষ্কারের ফলে পরবর্তী স্তরের কর্মকর্তাদের মনেও এখন প্রশ্ন জাগছে, এরপর কার পালা? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিণতি দেখে তাঁরাও হয়তো সেই ‘বিপজ্জনক অঞ্চলে’ পদোন্নতি পেতে চাইবেন না, যেখানে সির দুর্নীতিবিরোধী নজরদারি যেকোনো সময় তাঁদের ওপর পড়তে পারে।
এসব কিছু এমন সময়ে ঘটছে, যখন বেইজিং তাইওয়ানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে এবং যেকোনো সময় পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চালিয়ে স্বশাসিত দ্বীপটি দখলের হুমকি দিচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা খতিয়ে দেখছেন, এসব অপসারণ তাইওয়ান দখলের সম্ভাবনাকে কতটা ব্যাহত করবে। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন যে বেইজিংয়ের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষায় এর বিশেষ প্রভাব পড়বে না।
ইয়ান বলেন, এঁদের বহিষ্কার তাইওয়ানকে চীনের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, এটি পুরো সিসিপি এবং বিশেষ করে সির সিদ্ধান্তের বিষয়। যেখানে প্রভাব পড়তে পারে, তা হলো সামরিক কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ। শীর্ষ সামরিক পেশাদারদের অনুপস্থিতিতে বা তাঁরা ভীতসন্ত্রস্ত থাকলে, তাইওয়ানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সির ব্যক্তিগত পছন্দ ও মেজাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি