যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
বিশ্বের বহু দেশে এখন চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয় বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এবারই প্রথম এমন ফল পেয়েছে।
জরিপের ফল বলছে, অনেক দেশেই চীনের প্রতি ইতিবাচক বা ভালো ধারণা পোষণের হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ধারণা আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তবে দুজনের মধ্যে তুলনা করলে, ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের ওপর মানুষের আস্থা কিছুটা বেশি।
মানুষ মনে করে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের চাইতে বেশি সম্মান দেখায়; আবার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর ক্ষেত্রেও চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। পিউ গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৬টি দেশে ৪২ হাজার মানুষের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই দুই পরাশক্তি দেশের প্রতি তাদের মনোভাব কেমন? খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক, নাকি খুব নেতিবাচক?
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখতে পেয়েছে, যে ৩৬টি দেশে জরিপ করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৫টি দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি বেশি মানুষের ইতিবাচক বা ভালো ধারণা রয়েছে।
এ গবেষণার অন্যতম গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, পরাশক্তিদের প্রতি মানুষের মনোভাব ২০০২ সাল থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে পিউ। তবে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনের পক্ষে এমন ফল দেখা গেল।
বিবিসি লিখেছে, পিউ রিসার্চ সেন্টার এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা প্রশ্নে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখেছিল। যেমন ২০০৮ সালে জর্জ বুশের প্রশাসনের শেষ সময়ে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে।
তবে সেই সময়েও চীন নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণকারীর হার যুক্তরাষ্ট্রের সমান কিংবা কিছুটা নিচেই ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষক শুলম্যান।
চীনকে বেশি পছন্দ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস ও কানাডায়।
মাত্র ছয়টি দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি পছন্দ করে, যার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র— পোল্যান্ড, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আলাদাভাবে দেখতে পেয়েছে, গড় হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০টি দেশে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ধারাবাহিকভাবে কমেছে; অন্যদিকে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দিন দিন বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জরিপ করা এক-তৃতীয়াংশের বেশি দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণকারীর সংখ্যা বেড়েছে।
বিবিসি লিখেছে, এ বছর জরিপ করা বেশ কিছু দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে; যার মধ্যে ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্ক অন্যতম।
গবেষকরা সার্বিকভাবে দেখতে পেয়েছেন, চীনের প্রতি যেখানে মধ্য আয়ের দেশগুলোর মানুষের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে, সেখানে ধনী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে রয়েছে নেতিবাচক মনোভাব।
এর মধ্যে ব্যতিক্রম দেখা গেছে সিঙ্গাপুরে, জরিপ করা দেশগুলোর মধ্যে সেখানে মাথপিছু জিডিপি সর্বোচ্চ হলেও দেশটির মানুষের মধ্যে চীনের প্রতি উচ্চমাত্রার ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।
বিবিসি লিখেছে, জরিপে চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক এবং সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক—উভয় ধরনের মতামতই এসেছে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যেমন পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে পছন্দ করে, আর জাপানিদের ক্ষেত্রে এই হার মোটে ১১ শতাংশ।
শি ও ট্রাম্প
জরিপে অংশ নেওয়া মানুষদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বৈশ্বিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নে শি জিনপিং ও ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তাদের আস্থা আছে কি না। সার্বিকভাবে দুই নেতার প্রতিই মানুষের আস্থার হার বেশ কম দেখা গেছে; বেশিরভাগ দেশেই এ হার ৫০ শতাংশের নিচে। তবে জরিপ করা অনেক দেশেই ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি দেখা গেছে।
জরিপে শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে কম রেটিং এসেছে পাকিস্তান ও জাপান থেকে; পাকিস্তানে এ হার যেখানে ৮৩ শতাংশ, সেখানে জাপানে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ শির ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন ফিলিপিন্সে, ৬৮ শতাংশ; সবচেয়ে কম রেটিং পেয়েছেন পূর্ব জেরুজালেমে, মাত্র ৪ শতাংশ।
গবেষক শুলম্যান বলেন, তাদের জরিপে দেখা গেছে, সাধারণত অন্য নেতাদের মত শি জিনপিংয়ের ব্যাপারে মানুষের প্রতিক্রিয়া অতটা তীব্র (ইতিবাচক বা নেতিবাচক) নয়।
অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ মতামত দিতে বেশ আগ্রহী ছিল এবং তাদের মতামতগুলো ছিল চরম পর্যায়ের অর্থাৎ, হয় তাকে খুব বেশি পছন্দ করেন অথবা তীব্র ঘৃণা করেন।
জরিপে উঠে এসেছে, চীনের তুলনায় মার্কিন সরকার মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বেশি শ্রদ্ধা করে বলেএখনো বিশ্বাস করে বেশিরভাগ মানুষ। তবে আগের তুলনায় ব্যবধান কমে এসেছে।
পরাশক্তিগুলোর পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে মনোভাব জানতে পিউ মধ্য আয়ের কয়েকটি দেশে অতিরিক্ত প্রশ্ন রেখেছিল।
গড়ে ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘প্রচণ্ড’ বা ‘বেশ ভালো রকমের’ হস্তক্ষেপ করে; যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ।
‘যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালি নীতিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ’
বিবিসি লিখেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের গবেষণা করেছে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালপ দেখেছে, গত বছর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার রেটিংয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০ বছরের মধ্যে চীনের পক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া সোসাইটির বার্ষিক জরিপ বলছে, কোভিডের সময়ে চীনের ভাবমূর্তি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, মহামারী শেষে তা খুব সামান্যই পুনরুদ্ধার হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কার্নেগি চায়না’র অনাবাসিক স্কলার চং জা ইয়ান বলেন, পিউ রিসার্চের এই সাম্প্রতিক ফল ‘মোটেও আশ্চর্যজনক নয়’।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বা সিদ্ধান্তের যে হুটহাট পরিবর্তন, যার মধ্যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং এর কারণে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্বের বহু দেশের মানুষকে চরম দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”
বিবিসি লিখেছে, পিউ রিসার্চের এ জরিপটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছিল, যার কিছুদিন আগেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে কড়া বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছিল। জরিপ চলাকালেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
ড. চং বলেন, “চীন সামগ্রিকভাবে কতটা জনপ্রিয় তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে, তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকে অনেক বেশি স্থিতিশীল মনে হচ্ছে। তাছাড়া বেইজিং বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য কাজ করছে।”
চীনের প্রতি উচ্চ ইতিবাচক মনোভাব থাকার পরও শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কেন কম—এর ব্যাখ্যায় ড. চং বলেন, চীনকে হয়ত কিছুটা স্থিতিশীল মনে হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে, কিন্তু এই সত্য তো আর মুছে ফেলা যাবে না যে শি জিনপিং একজন বড় স্বৈরশাসক।
‘কার্নেগি চায়না’র এ গবেষক বলেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন এখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী। এর অন্যতম নমুনা হল—বাকি বিশ্বকেও চীনের বিশ্বভাবনার সঙ্গে একমত হতে বাধ্য করা। তাছাড়া সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রতি তাদের আচরণ নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ড. চং বলেন, “আমার মনে হয়, চীনের সবধরনের জোরজুলুম এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর নীতিগুলোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিংকে দায়ী করে মানুষ; আর চীনের যত ইতিবাচক দিক রয়েছে, যেমন তাদের প্রযুক্তিগত উন্নতি—সেগুলোকে সামগ্রিকভাবে দেশটির সাফল্য হিসেবে দেখে।”
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি