যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা

ইরানের ১২০০ কোটি ডলার ছাড় হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ এএম

জব্দ হওয়া সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এর মাধ্যমে ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের পথ তৈরি হয়েছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির সুযোগ দিতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। তারা বলেছে, সুইজারল্যান্ডে টানা ১৮ ঘণ্টার আলোচনার ফল হিসেবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শক দলকে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান—এমন কথাও বলা হয়েছে। খবর আল–জাজিরা


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ছাড় হওয়া অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কিনতে হবে। তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ মন্তব্য নাকচ করেছে। তাদের ভাষ্য, তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা নেই।


মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফল হিসেবেই জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের সিদ্ধান্ত এসেছে।


গালিবাফের ভাষ্য, ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ৬০০ কোটি ডলারের দুটি কিস্তিতে ছাড় হবে। এই অর্থ ছাড় করানোই তেহরানের জন্য অন্যতম বড় সাফল্য। গতকাল সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অর্থছাড়ের চুক্তি সুইজারল্যান্ডেই চূড়ান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতেও ছাড় আসবে বলে জানান তিনি।


এ সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হবে—এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই খুশি। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক হেনরি এনশার বলেছেন, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল আবার শুরু হওয়া—এ দুই বিষয় থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছে।


হেনরি এনশার আল–জাজিরাকে বলেন, দুই পক্ষই এমন বার্তা দিতে চাইছে যে আলোচনায় তারা পিছিয়ে নেই; বরং তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পেরেছে। অন্তত তারা এমন অবস্থায় নেই যে প্রতিপক্ষ তাদের সুযোগ নিতে পেরেছে।


এনশার বলেন, বাস্তবে যখন অর্থের প্রবাহ শুরু হবে, তখনই বোঝা যাবে, ঘটনা প্রকৃত অর্থেই ঘটছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে তেলবাহী জাহাজও রয়েছে।


এনশার ভাষায়, এর অর্থ হচ্ছে অর্থের প্রবাহ শুরু হয়েছে এবং দুই পক্ষই নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী কিছু না কিছু পেয়েছে—এটাই তাদের অর্জন।


একনজরে ইরানের সম্পদ জব্দ


১৯৭৯ সালে ইরানি শিক্ষার্থীরা তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দখল করে মার্কিন কূটনীতিকদের জিম্মি করে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্য দিয়ে ইরানের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয় এবং ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়।


১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ১৯৯৬ সালে মার্কিন কংগ্রেস ইরানের তেল খাতে বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইন পাস করে। তবে ইউরোপের বিরোধিতার কারণে আইনটি ২০১০ সাল পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।


ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ না করায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরবর্তীকালে পারমাণবিক কর্মসূচি–সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার পরিসর আরও বিস্তৃত করা হয়।


২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর জবাবে তেহরান তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানি তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।


২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলো জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন স্বাক্ষর করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতে আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।


২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বৃদ্ধি করেন। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে—এমন তৃতীয় পক্ষও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসে। যেমন চীনের ছোট স্বাধীন তেল শোধনাগার এবং ইরানি তেল কেনা জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলো।


কত সম্পদ জব্দ


ইরানের মোট কত সম্পদ এখনো জব্দ অবস্থায় আছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সরকারি হিসাব নেই বলে বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে।


২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কয়েকটি দেশের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার বাস্তব আশা তৈরি হয়। সেই সময় থেকেই বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নানা ধরনের, এমনকি পরস্পরবিরোধী হিসাব সামনে আসে।


এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, ইরানের জব্দ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার হতে পারে। পরে অবশ্য তিনি সেই হিসাব কমিয়ে ৫ হাজার কোটি থেকে ৬ হাজার কোটি ডলারে নামিয়ে আনেন।


একই বছরের আগস্টে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর জানান, সে সময় জব্দ সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।


এর মধ্যে ২৩ বিলিয়ন ডলার ছিল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। বাকি ৬০০ কোটি বিলিয়ন ডলার ছিল ভারতের কাছে, তেল বিক্রির রাজস্ব হিসেবে।


২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির ফলে ইরান তাদের জব্দ থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল। তবে এর বড় অংশ ছিল বিশেষ হিসাবের মধ্যে আটকে। ফলে পুরো অর্থ হাতে পাওয়ার সুযোগ ছিল না।


কিন্তু সেই স্বস্তি বেশি দিন টেকেনি। ২০১৮ সালের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যান। তখন আবারও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলে কয়েক বছর আগে ইরান যে সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল, সেই সম্পদের বড় অংশ আবার জব্দ হয়ে যায়।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৪ পিএম

কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।


সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।


২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।


অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।


তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।


তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।


কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।


কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।


উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।


নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।


কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।


সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।


আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: আল জাজিরা



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।


চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।


মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।


সূত্র: এনডিটিভি


চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।


চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।


চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।


শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।


ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।