যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা
জব্দ হওয়া সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এর মাধ্যমে ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের পথ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির সুযোগ দিতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। তারা বলেছে, সুইজারল্যান্ডে টানা ১৮ ঘণ্টার আলোচনার ফল হিসেবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শক দলকে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান—এমন কথাও বলা হয়েছে। খবর আল–জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ছাড় হওয়া অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কিনতে হবে। তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ মন্তব্য নাকচ করেছে। তাদের ভাষ্য, তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা নেই।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফল হিসেবেই জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের সিদ্ধান্ত এসেছে।
গালিবাফের ভাষ্য, ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ৬০০ কোটি ডলারের দুটি কিস্তিতে ছাড় হবে। এই অর্থ ছাড় করানোই তেহরানের জন্য অন্যতম বড় সাফল্য। গতকাল সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অর্থছাড়ের চুক্তি সুইজারল্যান্ডেই চূড়ান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতেও ছাড় আসবে বলে জানান তিনি।
এ সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হবে—এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই খুশি। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক হেনরি এনশার বলেছেন, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল আবার শুরু হওয়া—এ দুই বিষয় থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছে।
হেনরি এনশার আল–জাজিরাকে বলেন, দুই পক্ষই এমন বার্তা দিতে চাইছে যে আলোচনায় তারা পিছিয়ে নেই; বরং তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পেরেছে। অন্তত তারা এমন অবস্থায় নেই যে প্রতিপক্ষ তাদের সুযোগ নিতে পেরেছে।
এনশার বলেন, বাস্তবে যখন অর্থের প্রবাহ শুরু হবে, তখনই বোঝা যাবে, ঘটনা প্রকৃত অর্থেই ঘটছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে তেলবাহী জাহাজও রয়েছে।
এনশার ভাষায়, এর অর্থ হচ্ছে অর্থের প্রবাহ শুরু হয়েছে এবং দুই পক্ষই নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী কিছু না কিছু পেয়েছে—এটাই তাদের অর্জন।
একনজরে ইরানের সম্পদ জব্দ
১৯৭৯ সালে ইরানি শিক্ষার্থীরা তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দখল করে মার্কিন কূটনীতিকদের জিম্মি করে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্য দিয়ে ইরানের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয় এবং ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়।
১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ১৯৯৬ সালে মার্কিন কংগ্রেস ইরানের তেল খাতে বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইন পাস করে। তবে ইউরোপের বিরোধিতার কারণে আইনটি ২০১০ সাল পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ না করায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরবর্তীকালে পারমাণবিক কর্মসূচি–সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার পরিসর আরও বিস্তৃত করা হয়।
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর জবাবে তেহরান তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানি তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলো জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন স্বাক্ষর করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতে আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বৃদ্ধি করেন। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে—এমন তৃতীয় পক্ষও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসে। যেমন চীনের ছোট স্বাধীন তেল শোধনাগার এবং ইরানি তেল কেনা জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলো।
কত সম্পদ জব্দ
ইরানের মোট কত সম্পদ এখনো জব্দ অবস্থায় আছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সরকারি হিসাব নেই বলে বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কয়েকটি দেশের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার বাস্তব আশা তৈরি হয়। সেই সময় থেকেই বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নানা ধরনের, এমনকি পরস্পরবিরোধী হিসাব সামনে আসে।
এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, ইরানের জব্দ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার হতে পারে। পরে অবশ্য তিনি সেই হিসাব কমিয়ে ৫ হাজার কোটি থেকে ৬ হাজার কোটি ডলারে নামিয়ে আনেন।
একই বছরের আগস্টে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর জানান, সে সময় জব্দ সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।
এর মধ্যে ২৩ বিলিয়ন ডলার ছিল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। বাকি ৬০০ কোটি বিলিয়ন ডলার ছিল ভারতের কাছে, তেল বিক্রির রাজস্ব হিসেবে।
২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির ফলে ইরান তাদের জব্দ থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল। তবে এর বড় অংশ ছিল বিশেষ হিসাবের মধ্যে আটকে। ফলে পুরো অর্থ হাতে পাওয়ার সুযোগ ছিল না।
কিন্তু সেই স্বস্তি বেশি দিন টেকেনি। ২০১৮ সালের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যান। তখন আবারও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলে কয়েক বছর আগে ইরান যে সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল, সেই সম্পদের বড় অংশ আবার জব্দ হয়ে যায়।
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি