যুক্তরাষ্ট্রে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষের পর প্যারাস্যুট নিয়ে বেরিয়ে আসেন চার ক্রু।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম আইডাহোর ‘মাউন্টেন হোম এয়ারফোর্স বেজ’-এ গতকাল রোববার এয়ার শো চলাকালে নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনার শিকার যুদ্ধবিমানের চারজন ক্রুই নিরাপদে প্যারাস্যুট দিয়ে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার অ্যামেলিয়া উমায়াম এক বিবৃতিতে জানান, যুদ্ধবিমান দুটি যখন আকাশে কসরত দেখাচ্ছিল, তখনই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই বিমানের চারজন ক্রু নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছেন এবং দুর্ঘটনাটির তদন্ত চলছে। বিমানঘাঁটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রুদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
এয়ার শোর অন্যতম পরিকল্পনাকারী সংস্থা সিলভার উইংস অব আইডাহোর বিপণন পরিচালক কিম সাইকস বলেন, সামরিক ঘাঁটিতে থাকা অন্য কেউ এ ঘটনায় আহত হননি। বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই পুরো ঘাঁটি লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয় এবং এয়ার শোর বাকি অংশ বাতিল করা হয়।
দর্শনার্থীদের অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বোইসি শহর থেকে প্রায় ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার) দক্ষিণে ঘাঁটির কাছে বিমান দুটি যখন মাটিতে আছড়ে পড়ছিল, তখন আকাশে চারটি প্যারাস্যুট খুলছে।
‘ইএ-১৮জি গ্রোলার’ হলো আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ ‘এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট’ ফাইটার জেটের একটি উন্নত সংস্করণ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ
শেন অগডেন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, যুদ্ধবিমান দুটি যখন কাছাকাছি আসছিল, তখন তিনি ভিডিও করছিলেন। তাঁর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমান দুটির একটির সঙ্গে অন্যটির সংঘর্ষ হয়। এরপর একসঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে নিচে নামতে থাকে। ঠিক তখনই ক্রু সদস্যরা বিমান প্যারাস্যুট নিয়ে থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর বিমান দুটি একসঙ্গে মাটিতে আছড়ে পড়ে বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয়। আর ক্রু সদস্যরা পাশেই মাটিতে নেমে আসেন।
টেক্সট বার্তায় অগডেন বলেন, ‘আমি ভাবছিলাম বিমান দুটি আলাদা হয়ে যাবে, তাই ভিডিও করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ওটা ঘটে গেল এবং আমি বাকি অংশটুকুও ভিডিও করলাম।’ দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীদের কাজে যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
আয়োজকেরা জানান, এই জনপ্রিয় এয়ার শোতে বিমান চালনা ও প্যারাস্যুট জাম্পের প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিমান চালনার ইতিহাস এবং আধুনিক সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরা হচ্ছিল। দুই দিনব্যাপী এই শোর মূল আকর্ষণ ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘থান্ডারবার্ডস’ স্কোয়াড্রন।
মার্কিন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আকাশ পরিষ্কার ছিল এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯ মাইল (৪৭ কিলোমিটার)।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
মাঝ আকাশে সংঘর্ষের পরও দুই বিমানের সব ক্রুর বেঁচে ফেরাটা এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বিমানের নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জেফ গুজেত্তি বলেন, বিমান দুটি যেভাবে সংঘর্ষের পর মাঝ আকাশে আটকে ছিল এবং একসঙ্গে মাটিতে আছড়ে পড়েছে, সম্ভবত সে কারণেই ক্রুরা বের হওয়ার সময় পেয়েছেন। সাধারণত মাঝ আকাশে সংঘর্ষ হলে ক্রুদের বের হওয়ার সুযোগ থাকে না।
গুজেত্তি বলেন, ‘এটি সত্যিই দেখার মতো দৃশ্য। মনে হচ্ছে, বিমান দুটি ভিন্নভাবে একে অপরকে আঘাত করেছিল, যার ফলে বিমান দুটি ভেঙে টুকরা না হয়ে একসঙ্গে আটকে ছিল। আর এটাই হয়তো তাদের জীবন বাঁচিয়েছে।’
গুজেত্তি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এটি পাইলটের কোনো ভুলের কারণে হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নয়। ফরমেশন ফ্লাইটে (একসঙ্গে দল বেঁধে ওড়ার সময়) অন্য বিমানের কাছাকাছি যাওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এটি নিখুঁতভাবে করতে হয়।’
আরেক বিমান নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ এবং সেফটি অপারেটিং সিস্টেমের সিইও জন কক্স বলেন, এয়ার শোতে যাঁরা অংশ নেন, তাঁরা সেরা পাইলটদের অন্যতম। এখানে ভুলের কোনো সুযোগ থাকে না। তিনি আরও বলেন, ‘এয়ার শোতে বিমান চালানো খুবই কঠিন কাজ। এখানে সামান্য ভুলের মাশুল অনেক বড়। আমি খুশি যে সবাই নিরাপদে বের হতে পেরেছেন।’
অতীত দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
২০১৮ সালের পর এই ঘাঁটিতে এটিই প্রথম ‘গানফাইটার স্কাইস’ ইভেন্ট ছিল। ২০১৮ সালের ওই শোতে হ্যাং গ্লাইডার দুর্ঘটনায় একজন পাইলট মারা যান। এর আগে ২০০৩ সালে একটি থান্ডারবার্ডস বিমান কসরত দেখানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেবার পাইলট অক্ষত ছিলেন এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার মাত্র এক সেকেন্ড আগে বিমানটিকে দর্শকদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিজে বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ২০০টি এয়ার শো হয় এবং কয়েক বছর ধরে এর নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব এয়ার শোজ’-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন কুডাহি বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মার্কিন এয়ার শোগুলোয় বছরে গড়ে ৩ দশমিক ৮ জন মানুষের মৃত্যু হতো। সেই সংখ্যা এখন অনেক কমে এসেছে।
কুডাহি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে মৃত্যুর গড় সংখ্যা বছরে মাত্র ১ দশমিক ১ জনে নেমে এসেছে, যার মধ্যে ২০২২ সালে ডালাসের একটি দুর্ঘটনাও রয়েছে। সেখানে দুটি পুরোনো বিমানের সংঘর্ষে ছয়জন মারা গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৩ বা ২০২৫ সালে এয়ার শোতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং ১৯৫২ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এয়ার শো দেখতে এসে কোনো দর্শকের মৃত্যু হয়নি।
কুডাহি বলেন, ‘নিরাপত্তার দিক থেকে আমরা সত্যিই একটি চমৎকার সময় পার করছি, যেখানে দুর্ঘটনা অনেক কম।’
তদন্তের অগ্রগতি
গতকালের দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তকারীরা হয়তো দ্রুতই জানতে পারবেন। যেহেতু দুই বিমানের সব ক্রু বেঁচে আছেন, তাই তাঁরা সংঘর্ষের ঠিক আগে কী দেখেছিলেন এবং কী ঘটেছিল, তা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তদন্তের দায়িত্বে থাকবে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে সামরিক তদন্ত হওয়ায় বেসামরিক দুর্ঘটনার মতো এর সব তথ্য হয়তো জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে না।
ইরান যুদ্ধের কারণে এই বছর বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে এয়ার শো বাতিল করা হয়েছে। কারণ, সেখানকার সামরিক ইউনিটগুলো ওই যুদ্ধের মিশনে ব্যস্ত রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা কিছু বলেছেন, ভারত সরকার তা অনুমোদন করে না। আজ শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত (ডিউলি কনস্টিটিউটেড) সরকারের বিরুদ্ধে, তা ভারত সরকার অনুমোদন করে না।
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন। ওই আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আপত্তির কথা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল। এ কথাও বলেছিল যে ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে তা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সেই আপত্তির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ওই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো লেনাদেনা নেই।
কিন্তু বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও ওই অনুষ্ঠান হয়। হাসিনা অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রশ্নের উত্তরও দেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারতের মাটিতে হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এরপর বিষয়টি নিয়ে আজ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়াল বলেন, ‘ওই আয়োজন শুরুর আগেই ওই বিষয়ে আমরা আমাদের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম। সেই কথা আরও একবার বলেছি। আয়োজনটি ছিল একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার উদ্যোগ। তাতে সরকারের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, তার কোনো কিছুই ভারত অনুমোদন বা সমর্থন করে না।’
আগের দিনও এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল ঠিক এ কথাই বলেছিলেন। তবে আজ তিনি ওই বক্তব্যের সঙ্গে বাড়তি সংযোজন করে বলেন, ‘বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা অনুমোদন (এনডোর্স) করে না।’ একই কথা তিনি ইংরেজির পর হিন্দিতেও বলেছেন।
নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেছিলেন, বাংলাদেশ দ্রুত আরেকটা পাকিস্তান হতে চলেছে। আজকের ব্রিফিংয়ে তাঁর সেই বক্তব্য উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, ওই অভিযোগ ভারত অনুমোদন করে কি না এবং বাংলাদেশের অবস্থা ভারতের কাছে কতটা উদ্বেগের। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের যেকোনো ঘটনা বা গতিবিধির ওপর সর্বদা তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। ভারত তার রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়। যেকোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি অনুযায়ী উচিত পদক্ষেপ নেয়।’ সজীব ওয়াজেদর অভিযোগ অনুমোদন বা সমর্থন করা বা না করা নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য করেননি।
ছবি : সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে নবম শ্রেণির এক ছাত্র তার দাদা-দাদিকে গুলি করে মেরে স্কুলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে, তাতে প্রাণ গেছে আরো পাঁচজনের।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারী শিক্ষার্থী নিজেও মারা গেছে। তবে সে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার সকালে ব্যাংককের কাছে ননতাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার ‘দেবসিরিন ননতাবুরি স্কুলে’ এ ঘটনার পর আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষক একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোশাল মিডিয়ায় আসা ছবিতে দেখা যায়, একজন আহতকে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আরেকজনকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসাকর্মী।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার কথা বলেছেন থাইল্যান্ড পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান।
ননতাবুরির প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান দেচরাপি কংডি জানান, হামলাকারী বন্দুকধারী ছিল নবম শ্রেণির ছাত্র। থাইল্যান্ডে এই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স ১৪ বছরের কাছাকাছি হয়ে থাকে।
থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত জানান, স্কুলে হামলা করার আগে ওই শিক্ষার্থী। বাড়িতে নিজের দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
হামলায় ব্যবহৃত নাইন মিলিমিটার বোরের পিস্তলটি ছিল তার দাদার, তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন।
এরপর স্কুলে হামলার ঘটনায় যে পাঁচজন মারা গেছেন, তারাও সবাই শিক্ষক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্কুলে হামলা চলাকালে থাই পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে এক জরুরি বার্তায় বলা হয়, “ভবনের ভেতরে যারা আটকে আছেন, সবাই নিরাপদে লুকিয়ে থাকুন, দরজা-জানালা শক্ত করে বন্ধ করুন এবং উদ্ধারকারী দল না পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”
পরে পুলিশ সতর্ক করে জানায়, হামলাকারী স্কুলের কম্পিউটার রুমে অবস্থান করছে।
১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলেন, প্রথমে তিনি গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ বা কোনো কিছুতে জোরে ধাক্কা দেওয়ার আওয়াজ বলে মনে করেছিলেন।
“প্রথমে আমি ভাবিনি এটা বন্দুকের গুলি। টানা অনেকগুলো শব্দ হল–ব্যাং, ব্যাং, ব্যাং। কিছুক্ষণ থেমে আবার শুরু হল।”
ভয়াবহ এই ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
তিনি বলেছেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, এমন ঘটনা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমাদের দেশে কীভাবে এটা ঘটল! এ কারণেই সরকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা অনুমোদন করে না।”
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের কাছে অস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি হলেও দেশটিতে অস্ত্র আইন বেশ কঠোর। অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তার পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ব্যাংককের একটি ফুড মার্কেটে গুলিতে ৫ জন নিহত হন।
এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের স্কুলে ঢুকে গুলি চালালে এক শিক্ষক ও এক ছাত্রী গুলিবিদ্ধ হন, যার মধ্যে শিক্ষক পরদিন হাসপাতালে মারা যান।
দেবসিরিন স্কুল থাইল্যান্ডের অত্যন্ত নামকরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সারা দেশে যার শাখা রয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, ১৮৮৫ সালে থাই রাজা চুলালংকরন এর মূল শাখাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের বহু শীর্ষ কূটনীতিক, অ্যাথলেট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী চার বছরের মধ্যেই ইউরোপে কিছু স্বল্প দূরত্বের রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। নতুন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর ইউরোনিউজের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণকে আরও পরিবেশবান্ধব করবে। এতে আমদানি করা জেট জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বাড়ায় এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যেসব রুটে চলতে পারে
ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এতে ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ স্বল্প দূরত্বের আকাশপথে এ ধরনের বিমান চালানো সম্ভব হতে পারে।
সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—
লন্ডন–ডাবলিন
এথেন্স–সান্টোরিনি
বার্সেলোনা–ইবিজা
নিস–কর্সিকা
রোম–সার্ডিনিয়া
এসব রুটের অনেকগুলোই দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় ট্রেনের বিকল্প নেই। তাই সেখানে বৈদ্যুতিক বিমান কার্যকর হতে পারে।
কবে আসবে?
জার্মানির স্টার্টআপ ভ্যারিডিয়ন ৯ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট ৯০ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রান্সের অরা অ্যারো ১৯ আসনের হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০২৯ সালের শেষ দিকে এর অনুমোদন পাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরিবেশের জন্য কতটা ভালো?
বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলার সময় কার্বন নিঃসরণ করে না এবং শব্দ ও বায়ুদূষণও কমায়। তবে এগুলো চার্জ দিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, তবেই পরিবেশগত সুবিধা সবচেয়ে বেশি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কম দূরত্বের আকাশপথে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ কমানোও প্রয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামের ২৫টি জেলায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইতোমধ্যেই তাপদাহ ও দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত। এর মধ্যেই আরও এক বড় দুসংবাদ শোনাল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে জলবায়ুর রূপ বদলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া তৈরি করতে যাচ্ছে দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব ‘এল নিনো’।
জাতিসংঘের এই আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপদাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে যেখানে আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তা এল।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ‘এল নিনো শুধু যে আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে তা নয়, এটি এখন আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে এবং উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি তো কেবল শুরু। এল নিনো যত শক্তিশালী হবে, আগেই জ্বলতে থাকা এই পৃথিবীর অবস্থা ততটাই ভয়াবহ রূপ নেবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থাপনাকে ওলটপালট করে দেবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা একলাফে অনেক বাড়িয়ে দেবে।
মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এবার এল নিনোর প্রভাব এক হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত জলবায়ু রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। তিনি সরাসরি কয়লা, তেল এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির (ফসিল ফিউয়েল) ব্যবহার ও নতুন প্রকল্প সম্প্রসারণকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন এবং এগুলো অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় সব স্থলাঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যেতে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওপর দিয়ে।
সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এল নিনোর ওপর নজর রাখা হলেও কেবল পূর্বাভাস দিয়ে বিপদ রোখা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোকে সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু পূর্বাভাস দুর্ঘটনা থামাতে পারে না, মানুষই পারে তা প্রতিরোধ করতে। আজ আমরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামীকালের পরিণতি কেমন হবে।’
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে যখন এই এল নিনো তার চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের হিসাবগুলো নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) তাদের নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে এফডিএ আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংক্ষিপ্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
কোম্পানির প্রথম এমআরএনএ-ভিত্তিক ফ্লু টিকা (এম ফ্লুসিভা) ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী সব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে ।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মডার্না আশা করছে ২০২৬-২০২৭ শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এই টিকা সরবরাহ করা যাবে।
মডার্না ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, ফেডারেল ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রকরা তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করে নতুন টিকার আবেদন পর্যালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে এক সপ্তাহ পর এফডিএ তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসে, যা মডার্না ‘গঠনমূলক’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নতুন টিকা ব্যবহৃত এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে টিকা সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য প্রধান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে এমআরএনএ উন্নয়নে অর্থায়ন করা ফেডারেল গবেষণা অনুদান বন্ধ করেছিলেন।
কেনেডি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এফডিএ কিছু টিকার অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাও রয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প এমআরএনএ প্রযুক্তিকে ‘আধুনিক যুগের অলৌকিক আবিষ্কার’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত টিকা তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করে।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে। এগুলো সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর রূপ থেকে সুরক্ষা দেয়।