ছবি : সংগৃহীত
আটলান্টিক মহাসাগরে এক প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ সংক্রমণে জাহাজের তিনজন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত সন্দেহে আরও তিনজনকে জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বলেছেন, ‘এমভি হন্দিয়াস’ নামের জাহাজটি থেকে উদ্ধারকৃত ওই তিন ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই হান্টাভাইরাস আসলে কী?
হান্টাভাইরাস কী?
হান্টাভাইরাস হচ্ছে একগুচ্ছ ভাইরাসের সমষ্টি, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ইঁদুরের লালা, মল-মূত্র বা এদের বাস স্থানের ধুলিকণার সংস্পর্শে মানুষ এলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দেহে গুরুতর রোগ তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’ প্রতিবেদনে লিখেছে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ধরন ও লক্ষণে ভিন্নতা দেখা যায়।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এ ভাইরাসের কারণে ‘হান্টাভাইরাস কার্ডিওপালমোনারি সিনড্রোম’ বা এইচসিপিএস নামের রোগ হয়, যা সরাসরি শ্বাসতন্ত্র বা ফুসফুসকে আক্রমণ করে। এ নির্দিষ্ট ধরনে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকই মারা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে হান্টাভাইরাস ‘হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম’ বা এইচএফআরএস তৈরি করে। এ রোগটি দেহের রক্তনালী, বিশেষ করে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। অঞ্চল যেটাই হোক না কেন দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এ সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস’-এর তথ্য অনুসারে, ওই জাহাজ থেকে নামা দুই ব্যক্তির দেহে ‘আন্দেস ভাইরাস’-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
‘আন্দেস ভাইরাস’ হান্টাভাইরাসেরই একটি রূপ যা, এইচসিপিএস বা শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ তৈরি করে। এ নির্দিষ্ট ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হান্টাভাইরাসের লক্ষণ কী?
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত জ্বর, পেশিতে ব্যথা ও প্রচণ্ড মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
মানুষ সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের লালা, মল-মূত্র বা এদের বসবাসের স্থানের ধুলিকণার সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাসটি নিশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে।
হান্টাভাইরাস মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত না হলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দিতে পারে।
কীভাবে ছড়ায়?
সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের লালা, মল বা মূত্র থেকে নির্গত ভাইরাস নিশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করলে এ সংক্রমণ ঘটে। সরাসরি স্পর্শ ছাড়াও কেবল আক্রান্ত প্রাণীর বর্জ্য মিশ্রিত ধূলিকণা বা বাতাস ফুসফুসে প্রবেশের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটে।
‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’-এর বিশেষজ্ঞ রজার হিউসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ঠিক এ কারণে কোনো ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ দেখা দিলে তদন্তের ক্ষেত্রে একটি বিষয়েই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তি ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে এমন কোনো পরিবেশ, খাদ্য গুদাম, জাহাজের কেবিন, স্টোরেজ এরিয়া বা অন্য কোনো বদ্ধ জায়গার সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না। সাধারণত হান্তাভাইরাস একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের দেহে সহজে ছড়িয়ে পড়ার মতো ভাইরাস হিসেবে বিবেচিত নয়।”
ইঁদুরের কামড়ের মাধ্যমেও হান্টাভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে। তবে এমনটা সচরাচর ঘটে না। সাধারণত এমন সব কাজ, যা ইঁদুরের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়ায়, যেমন বদ্ধ বা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই এমন ঘর পরিষ্কার করা, কৃষিকাজ, বনায়নের কাজ বা ইঁদুর উপদ্রুত স্থানে বসবাস বা ঘুমানোর মতো বিষয়গুলো মানুষের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষ থেকে মানুষে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা এখন পর্যন্ত কেবল আমেরিকা মহাদেশের 'আন্দেস ভাইরাস'-এর ক্ষেত্রে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যা বেশ বিরল। এ ধরনের সংক্রমণ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে ঘটে থাকে, বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা জীবনসঙ্গীদের মধ্যে।
এ ছাড়া রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাইরাসের বিস্তার ঘটানোর সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে তখনই একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রাদুর্ভাব কতটা উদ্বেগের?
‘ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটি’র বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম টেইলর বলেছেন, “এ প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
“হান্টাভাইরাস সাধারণত মানুষের মাধ্যমে নয়, বরং প্রাণীর শারীরিক বর্জ্যের সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। বর্তমানে জাহাজে ঝুঁকি কমানোর জন্য যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেগুলো কেবল সতর্কতামূলক পদক্ষেপ মাত্র।”
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ হিউসন বলেছেন, প্রমোদতরিতে এই সংক্রমণ পাওয়া গেছে বলেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না।
“একই জাহাজের একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার মানে এই নয় যে, তারা জাহাজের ভেতরেই সংক্রমিত হয়েছেন। তারা জাহাজে ওঠার আগে, যাত্রাপথে কোনো দ্বীপে নামার সময় বা পরিবেশগত অন্য কোনো কারণেও আক্রান্ত হতে পারেন। ঠিক এ কারণেই জনস্বাস্থ্য তদন্ত, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা জরুরি।”
জাহাজটি কোথায় ছিল?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২ মে এমভি হন্দিয়াস জাহাজে বেশ কয়েকজন যাত্রীর তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার খবর মেলে। এ প্রাদুর্ভাবে এরইমধ্যে দুইজন মারা গেছেন এবং একজন যাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভ্রমণসূচি অনুসারে, জাহাজটি ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এরপর দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ জর্জিয়া, নাইটিংগেল দ্বীপ, ট্রিস্টান দা কুনহা, সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশন দ্বীপে যাত্রা বিরতি নেয়।
এদিকে, সুইজারল্যান্ডের এক ব্যক্তির দেহেও হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি ওই জাহাজে না থাকলেও এপ্রিলের শেষদিকে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছিলেন।
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি