যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ এএম

ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে তেহরানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন কথা বলেছেন।


তবে ইরান ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে রাজি হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর তাদের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না।


রয়টার্সকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এ কাজ করব। আমরা ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ইরানের ভেতরে ঢুকব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খননকাজ শুরু করব…এরপর আমরা সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’


ট্রাম্প ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, শিগগিরই তা উদ্ধার করা হবে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলতে মূলত সেসব অবশিষ্টাংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা তাঁর ভাষ্যমতে গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হয়েছে।


ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তবে ইরানের দাবি, শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে।


ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, চুক্তিটি খুব দ্রুতই হবে। আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালোভাবে এগোচ্ছি।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে। সম্ভবত সপ্তাহান্তে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তি হলে ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তবে ইসলামাবাদ সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কাজ করছে।


ইরানের কাছে ৯০০ পাউন্ডেরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার সবচেয়ে জটিল ইস্যুগুলোর একটি হলো তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।


এদিকে ২ হাজার কোটি ডলার নগদ অর্থের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম চুক্তির যে খবর ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো অর্থের লেনদেন হচ্ছে না।’


ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর হবে না: ইরান


তবে ইরান ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে রাজি হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করাটা আমাদের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না।’


ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।


বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা কখনো ভাবা হয়নি। ইরানের মাটি যেমন পবিত্র, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।


বাঘাই উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কোনো ভার্চ্যুয়ালজগতে নেওয়া হয় না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা ইরানের। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির পর ইরান ঘোষণা করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বেসামরিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।


মুখপাত্রটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো নৌ-অবরোধের চেষ্টা করা হলে ইরান তার উপযুক্ত জবাব দেবে। এ ধরনের অবরোধ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।


এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।


ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।


পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।


বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।


তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।


এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।


গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”


নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।


হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।


গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।


তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।


বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।


আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।


তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’


এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।


তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।


এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’


ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।


তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।


এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।


সূত্র:  বিবিসি


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৫ এএম

সুদানের পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে একটি আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’। খবর আলজাজিরার।


সংগঠনটি জানায়, রোববার (০২ আগস্ট) উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়ায়া গ্রামের একটি স্থানীয় আদালতে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় সেখানে স্থানীয় বিরোধ ও মামলার শুনানি চলছিল। ওই স্থানে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় নেতা ও কমিউনিটি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলায় চারজন উপজাতীয় নেতা এবং দুইজন র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) কমান্ডার নিহত হয়েছেন। হামলায় আদালত ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গারা আল-জাওয়ায়া গ্রামটি বর্তমানে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর সমর্থকদের মধ্যে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত দারফুর অঞ্চল। গত বছর আরএসএফ এল-ফাশের শহর দখলের পর অঞ্চলটির বড় অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এল-ফাশেরে সংঘটিত সহিংসতায় গণহত্যার বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে।


সুদানের চলমান যুদ্ধে উভয় পক্ষই ড্রোন ব্যবহার বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।


জাতিসংঘ সুদানের এই সংঘাতকে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪১ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় সমুদ্রে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে অনেক যাত্রী সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছেন।


দেশটির আঞ্চলিক সুরাবায়া অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ফেরিটিতে থাকা মোট ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়।


ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস) জানায়, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকজন যাত্রী সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। পরে কাছাকাছি অবস্থানরত একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে।


সংস্থাটি আরও জানায়, ফেরিটির আশপাশে আরও চারটি জাহাজ অবস্থান নিলেও ফেরিতে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির কারণে তারা কাছে যেতে পারেনি।


বাসারনাসের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে আগুন লাগে। এ সময় ফেরির অধিনায়ক কোম্পানিকে ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানান। তবে এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুরাবায়া থেকে একটি বড় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে।


পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাস্যহুদ বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা জাহাজগুলোর মাধ্যমে যাত্রীরা উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।


এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যাত্রী ও নাবিকদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে যাচ্ছি।


১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় নৌ-দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত ঘটনা। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈরী ও অনিশ্চিত আবহাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়।


গত মাসেও দেশটির বৃহৎ সুলাওয়েসি দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট দ্বীপ সেলায়ারের কাছে ৭০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয় এবং উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়া পর্যন্ত আরও ১৪ জন নিখোঁজ ছিলেন।


সূত্র: এএফপি