মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানই প্রথমে হামলা চালাতে পারে এ ধারণা থেকে তিনিই মার্কিন বাহিনীকে ইরানে ইসরায়েলি হামলায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ আগেরদিনই তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে ভিন্ন ভাষ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত সোমবার মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তেহরানে ইসরায়েলের পরিকল্পিত আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপরও পাল্টা হামলা চালাতে পারে এই ভয় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র হামলায় যোগ দেয়।
“আমরা জানতাম ইসরায়েল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপরও পাল্টা আঘাত আসতে পারে, এবং আমরা জানতাম যদি তাদের (ইরান) ওই হামলা শুরুর আগে আমরা আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে না যাই তাহলে আমরা অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হব,” বলেছিলেন তিনি।
ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে নিয়ে গেছে- ট্রাম্প মঙ্গলবার এ ধারণাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইরানে যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে তার প্রশাসনের এমন আলাদা আলাদা মত রিপাবলিকান সমর্থকগোষ্ঠীর ভেতর যুদ্ধ নিয়ে দ্বিধাবিভক্তিকেই স্পষ্ট করছে। প্রেসিডেন্ট যে ‘অকারণে নিজের পছন্দে এ যুদ্ধ শুরু করেছেন’, ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের অনেক সমর্থকও এখন এ কথা বলা শুরু করেছেন।
“আমিই হয়তো তাদের (ইসরায়েল) বাধ্য করেছি। আমরা এই পাগলাটে লোকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, এবং আমারই মত ছিল যে তারা আমাদের ওপর প্রথম আক্রমণ করতে যাচ্ছে। আমরা যদি (হামলা শুরু) না করতাম, তারাই আমাদের ওপর হামলা করতে যাচ্ছিল। আমি এটা দৃঢ়ভাবে অনুভব করছিলাম,” ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য নানান যুক্তি খুঁজলেও ইরান শুরু থেকেই তাদের ওপর আক্রমণকে ‘বিনা উসকানিতে হামলা’ বলে আসছে। যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের নয়, ইসরায়েলের- রুবিওর এ ভাষ্যকে সামনে এনে রক্ষণশীল অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকারই ইরানে হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন।
“তার কথার সোজাসাপ্টা মানে দাঁড়াচ্ছে, আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছি, কারণ ইসরায়েল আমাদের বাধ্য করেছে। তিনি কার্যত সবচেয়ে খারাপ কথাটাই বলেছেন,” রুবিওর ভাষ্য প্রসঙ্গে এক্সে ৪০ লাখ অনুসারীকে এমনটাই বলেছেন রক্ষণশীল পডকাস্টার ম্যাট ওয়ালশ।
আরেক রক্ষণশীল পডকাস্টার মেগান কেলি বলছেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
“ইরান বা ইসরায়েলের খোঁজখবর করা আমাদের সরকারের কাজ নয়। তাদের কাজ হচ্ছে আমাদের খোঁজখবর নেওয়া। এটাকে স্পষ্টতই ইসরায়েলের যুদ্ধ মনে হচ্ছে আমার,” রুবিরও মন্তব্যের আগেই এ কথা বলেছিলেন কেলি।
এমন এক সময়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে এ বিরোধ দেখা যাচ্ছে যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা যাবে কিনা, তা নিয়ে দলটির ভেতরেই সন্দেহ ক্রমশ বাড়ছে।
‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ হোয়াইট হাউস
যুদ্ধে জড়ানোর কারণ নিয়ে বিতর্কে শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসকেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ‘ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে’ উদ্যোগী হতে হয়। তেহরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা শুরুর তিন দিন পর মঙ্গলবার প্রথম ট্রাম্প জনসমক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এর আগে তিনি হামলা নিয়ে দুটি ভিডিও বার্তা, বাছাই করা কয়েক সাংবাদিককে একান্ত সাক্ষাৎকার এবং হোয়াইট হাউসে সোমবার অল্প কয়েকটি মন্তব্য করেছিলেন।
কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট এখন বলছেন, ইরান হামলা চালানোর দ্বারপ্রান্তে ছিল বলে তার ধারণা। অথচ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলার আগে বৃহস্পতিবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় ওই আলোচনা ‘ইতিবাচক দিকে যাচ্ছিল’ এবং সামনের দিনগুলোতে আরও আলোচনার পরিকল্পনা হচ্ছিল বলে ভাষ্য ইরানের।
“এটা (হামলা) এমন কিছু, যেটা করাই লাগতো,” বলছেন ট্রাম্প।
এদিকে গত মঙ্গলবার রুবিও ক্যাপিটল হিলে এসে তার আগের মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “মোদ্দাকথা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে কোনোভাবেই আমাদের ওপর প্রথম আঘাত হানতে দেওয়া যাবে না। এটাই আসল ব্যাপার, বন্ধুরা।”
মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে কোন কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষ করে জেনিভায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পজামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনার পরও কেন সামরিক অভিযান শুরু করতে হল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তারা বলেছেন, উইটকফ ও কুশনার বারবার ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে তাগাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানিরা তা না মেনে তাদের দেশের উত্তরাঞ্চলে তেহরান গবেষণা চুল্লিতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সুযোগ চেয়ে প্রস্তাব দেয়।
এর মাধ্যমে ইরানিরা কার্যত সময়ক্ষেপণের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মার্কিন দূতদের মনে হয়, বলেন ট্রাম্প প্রশাসনের ওই দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
“(পরমাণু) বোমা বানাতে যা যা দরকার, সেসব উপকরণ হাতছাড়া করতে কোনোমতেই রাজি হচ্ছিল না,” বলেন এক কর্মকর্তা। ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি একেবারেই শান্তিপূর্ণ, এবং তারা বোমা বানাতে কাজ করছিল না।
জেনিভা আলোচনা থেকে ফিরে উইটকফ ও কুশনার ট্রাম্পকে জানান, ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অন্য বিশ্ব শক্তিগুলো ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল সেরকম একটা চুক্তি হয়তো করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে পৌঁছাতেও কয়েক মাস লেগে যাবে।
পরদিনই ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন, যার ধারাবাহিকতায় শনিবার থেকে হামলা শুরু হয়।
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি