আয়াতুল্লাহ রুহল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর এক শোক সভায় অন্যান্য জেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি (ডান থেকে তৃতীয়)
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় নিহত হয়েছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। আজ রোববার ভোর সকালে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করে জানায়, গতকাল শনিবার তার কম্পাউন্ডে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনির মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, গতকাল শনিবার খামেনির কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, “ইরানি জনগণের কাছে ঘোষণা করা হচ্ছে যে তাদের মহামান্য আয়াতুল্লাহ ইমাম সৈয়দ আলি খামেনি, ইসলামি বিপ্লবের নেতা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আমেরিকা ও জায়োনিস্ট শাসনের চালানো যৌথ হামলায় শহীদ হয়েছেন।”
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার কন্যা, কন্যার স্বামী ও নাতি নিহত হয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প জানান, খামেনি ও অন্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম এড়াতে পারেননি’।
১৯৮৯ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ইরানের ক্যারিশম্যাটিক নেতা খোমেনি এর এক দশক আগে ১৯৭৯ সালে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, খোমেনি ছিলেন ইরানের বিপ্লবের পেছনে আদর্শিক শক্তি। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন হয়। খোমেনির পরে নেতৃত্বে আসা খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীগুলো গড়ে তোলেন। এই বাহিনীগুলো শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন করে এবং নিজ ভূখণ্ডের বাইরেও তাদের প্রভাব বিস্তার করে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-র দশকে প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে প্রাণঘাতী যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির নেতৃত্ব দেন।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তীব্র, ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো ইরাকের নেতা সাদ্দাম হুসেইনকে সমর্থন দেওয়ায় অনেক ইরানির মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তীব্রতর হয়েছিল আর তা পশ্চিমাদের বিষয়ে খামেনির অবিশ্বাসকে গভীর করে তুলেছিল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে।
এই মনোভাব তার ৩৭ বছরের শাসনের মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এই ধারণাকে দৃঢ় করেছে যে ইরানকে বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে নিরন্তর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকতে হবে।
ইরান সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ও ‘ইরান গ্রান্ড স্ট্র্যাটেজি: অ্যা পলিটিক্যাল হিস্টোরি’ বইয়ের লেখক ওয়ালি নাসর বলেন, “মানুষ (ইরানকে) একটি ধর্মতন্ত্র মনে করে, কারণ তিনি (খামেনি) পাগড়ি পড়েন আর রাষ্ট্রটির ভাষা ধর্মের ভাষা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এই ধারণা নিয়ে যে ইরান দুর্বল আর এর নিরাপত্তা প্রয়োজন।
“যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন; আর বিপ্লব, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র আর জাতীয়তাবাদ পৃথক না।”
আর তাই তাদের রক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করতেন খামেনি।
এই দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক আধাসামরিক বাহিনী থেকে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের বিস্তৃত প্রভাবের কেন্দ্রীয় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
শাস্তিমূলক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে খামেনি স্বনির্ভরতা বাড়াতে একটি ‘প্রতিরোধ অর্থনীতির’ পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে তিনি দৃঢ় সংশয় বজায় রেখেছিলেন এবং যারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে প্রতিরক্ষার ওপর তার মনোযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলিকে বাধাগ্রস্ত করছে, সেই সব সমালোচকদের কঠোর জবাব দিয়েছিলেন।
কিন্তু তার শাসন ২০০৯ সালে গুরুতর পরীক্ষার মুখে পড়ে যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। নির্মমভাবে ওই প্রতিবাদ দমন করা হয়। এরপর ২০২২ সালে নারী অধিকার নিয়ে আবার ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা দেয়। এবারও কঠোরভাবে প্রতিবাদ দমন করা হয়।
কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও অস্থিরতা শুরু হলে সম্ভবত খামেনি তার শাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। বহু প্রতিবাদকারী সরাসরি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের উচ্ছেদের আহ্বান জানাতে শুরু করে। এই প্রতিবাদ দমন করতে গিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে হিংসাত্মক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।
সমালোচকদের দৃষ্টিতে, তিনি দেশটির তরুণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অনেক বাইরে ছিলেন আর ওই তরুণরা বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চিরকালের ছায়া যুদ্ধের চেয়ে সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন।
নাসর বলেন, “জাতীয় স্বাধীনতার উপর এই মাত্রার জোরের জন্য ইরানিরা অনেক বেশি মূল্য দিয়েছে- এ প্রক্রিয়ায় তিনি ইরানি জনগণকে হারিয়েছেন কারণ তারা আর এই স্বাধীনতার জীবনদর্শন ও নৈতিক দায়িত্বকে বিশ্বাস করেনি।”
খামেনি ১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুসলিম নেতা যিনি প্রতিবেশী ইরাক থেকে আসা আজারবাইজানি জাতির মানুষ ছিলেন। মার প্রেরণায় খামেনির মধ্যে সাহিত্য ও কবিতার গভীর আগ্রহ তৈরি হয় আর পরবর্তীতে পাহলভি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হন।
১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যের এমআইসিক্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ গোয়েন্দা সংস্থার সাজানো ছকে হওয়া অভ্যুত্থানে ওই সময় ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ক্ষমতাচ্যুত হন। মোসাদ্দেক ইরানের তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করার উদ্যোগ নিয়ে এ পরিস্থিতির শিকার হন। তার পরিবর্তে আবার সর্বময় ক্ষমতা নিয়ে ইরানের ক্ষমতায় বসে পাহলভি পরিবার।
রাজনৈতিক আন্দোলনকারী হিসেবে খামেনিকে বারবার গ্রেপ্তার করেছিল রেজা শাহ পাহলভির গোপন পুলিশ ‘সাভাক’। গ্রেপ্তারের পর তাকে ইরানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত শহর ইরানশাহরে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৮ সালে ফিরে তিনি পাহলভি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন আর এই প্রতিবাদের পথ ধরে ইসলামিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রেজা শাহর পতন হয়।
ইসলামি বিপ্লবের পর খামেনি নতুন ইরানের কর্তৃপক্ষের একজন প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ১৯৮০ সালে তিনি অল্প সময়ের জন্য ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নেতৃত্ব দেন। অনলবর্ষী বক্তা খামেনি তেহরানের জুমার নামাজের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রভাবশালী পদটিতেও ছিলেন।
১৯৮১ সালে তিনি মোজাহেদিন-ই-খালক (এমইকে) নামের একটি সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হত্যা চেষ্টা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান, কিন্তু তার ডান হাত চিরকালের মতো অকেজো হয়ে যায়। একই বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে দেশটির প্রথম মৌলভী প্রেসিডেন্ট হন। এরপর ১৯৮৯ সালে খোমেনেরি মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে পরবর্তী ৩৭ বছর ধরে দেশটিকে নেতৃত্ব দেন।
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।
আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি