যুদ্ধে তালেবান বাহিনী বেশিরভাগ গেরিলা কৌশলের উপর মনোনিবেশ করে। এতে তালেবান যোদ্ধাদের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:৪৯ এএম

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন যে, দুই দেশের সীমান্তে পাকিস্তানি চেকপোস্টে হামলা চালানো হয়েছে। 


তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের একাধিক পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। 


এর জবাবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে তালেবানের দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান সরকারের উসকানিহীন গুলিবর্ষণের যথাযথ ও কার্যকর জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে।



পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় আফগান তালেবানের ৩৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে। তিনি সীমান্ত সংঘর্ষে দুই পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান এবং আফগান তালেবানের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানে বিমান হামলায় সাতটি জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছিল পাকিস্তান। সামরিক সূত্র জানায়, এসব অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে।



জবাবে আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে পাকিস্তানি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে যে এসব হামলার 'উপযুক্ত সময়ে পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়া হবে'। ২০২১ সালের অগাস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান এবং এর ফলে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।



পাকিস্তান সরকার ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন টিটিপিকে (তেহরিক-এ-তালেবান পাকিস্তান) সমর্থন দিচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে আফগান তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দেয়। গত বছর দুই দেশের মধ্যে হওয়া সীমান্ত সংঘর্ষের পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের টানাপড়েন কমেনি। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সে তিক্ততা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখন দুই পক্ষের তীব্র সংঘর্ষের পর প্রশ্ন হচ্ছে সামনে কী হবে? আফগান তালেবানদের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু এবং আগামী দিনে কী ঘটতে পারে? পাকিস্তানের সামরিক সূত্র দাবি করেছে, শনিবার রাতে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলায় ৮০ জঙ্গি নিহত হয়েছে, যদিও তালেবান কর্মকর্তারা এ দাবি অস্বীকার করেছে। 



আফগান বিষয়ক বিশ্লেষক এবং সাংবাদিকদের পরিচালিত একটি প্ল্যাটফর্ম খোরাসান ডায়েরির সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র সাংবাদিক ইফতিখার ফিরদৌস মনে করেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রচলিত যুদ্ধ বলতে যা বোঝায় তার আশঙ্কা আপাতত নেই। বিবিসি উর্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তালেবানের পক্ষে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ এর জন্য সামরিক সক্ষমতা, বিমান সক্ষমতা, ধারাবাহিক রসদ সরবরাহ এবং প্রশিক্ষিত সেনা প্রয়োজন। তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, "নিকট ভবিষ্যতে তালেবান অবশ্যই জবাব দেবে, কারণ এটি তাদের সম্মানের বিষয়। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা খুব কম"।



আফগানিস্তানের ভেতরে টিটিপির নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ জাতিসংঘও চিহ্নিত করেছে, বলছেন ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক ড. খুররম ইকবাল। "একবার নয়, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের টানা তিনটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে টিটিপির আফগানিস্তানে নিরাপদ ঘাঁটি রয়েছে। সব শান্তিপূর্ণ উপায় ব্যবহার করার পর পাকিস্তান শক্তি প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে," বলেন তিনি।



তিনিও মনে করেন গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আফগান তালেবান পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বা প্রচলিত যুদ্ধ চালাতে পারবে না। ড. ইকবাল বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রতি দশটি আফগান পরিবারের মধ্যে আটটি পরিবার জীবিকা নির্বাহের জন্য গৃহস্থালির জিনিসপত্র বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। যখন আফগান তালেবান অভ্যন্তরীণ সমস্যা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা বাইরের দিকে মনোযোগ দেয়। পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার করতে এবং সমস্যা থেকে মনোযোগ সরাতে সহায়তা করে। এ কারণেই তারা উত্তেজনা বজায় রাখতে চায়।



তবে এখানে আরেকটি বাস্তবসম্মত যুক্তির কথাও বলেন তিনি, ‘যদি তারা (আফগান তালেবান) টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে টিটিপির যোদ্ধারা আইএসের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে এবং অতীতে এমনটি ঘটেছেও। এ কারণেও তারা টিটিপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অনীহা দেখায়।’



বিশ্লেষক ইফতিখার ফেরদৌসের মতে, যদিও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি 'নতুন কিছু নয়', তবুও তালেবানের হাতে টিটিপির মতো সম্পদ রয়েছে এবং তারা পাকিস্তানের শহরাঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য সে সম্পদ (টিটিপি) পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করতে পারে। তালেবানের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে ইফতিখার ফেরদৌসের সঙ্গে ড. খুররম ইকবালও একমত।



তিনি বলছেন, প্রচলিত যুদ্ধে যেহেতু পাকিস্তানের মোকাবিলা করা আফগান তালেবানের পক্ষে সম্ভব হবে না, তাই তারা অতীতের মতো অপ্রচলিত পদ্ধতি বেছে নেবে। পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে চরমপন্থি হামলার সংখ্যা বাড়তে পারে এবং দেশের শহরাঞ্চলে সহিংসতা বাড়তে পারে। 



ড. খুররম ইকবালের মতে, আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সীমিত সংঘর্ষ হতে পারে, দেখানোর জন্য কিছু হামলা চালানো হতে পারে এবং আরও কঠোর বক্তব্য, দাবি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা যেতে পারে। অতীতেও উত্তেজনা বাড়লে একই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে আফগান তালেবান তাদের স্থানীয় জনগণকে এই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে যে তারা প্রতিশোধ নিয়েছে। তারা সীমান্তে সীমিত পরিসরে কামান ব্যবহার করতে পারে।




আফগানিস্তানের সামরিক শক্তি কতটা?


তালেবান বাহিনীর হাতে থাকা অস্ত্র মূলত তিনটি উৎস থেকে এসেছে- সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র, দেশ ছেড়ে যাওয়া বিদেশি বাহিনীর রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম এবং কালোবাজারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নতুন করে সংগ্রহ করা অস্ত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের সীমান্ত সংঘর্ষের ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান বাহিনী বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে হালকা অস্ত্র ব্যবহার করেছে, ভারী বা দূরপাল্লার অস্ত্র সেভাবে দেখা যায়নি।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষ পরিদর্শক এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ২০ বছরের সময়কালে ১৬ লাখের বেশি হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দেশটির সাবেক সরকারকে সরবরাহ করা হয়েছিল। এর প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখের বেশি অস্ত্র তালেবানের হাতে চলে যায়। বর্তমানে তালেবান সরকারের বাহিনীর হাতে থাকা হালকা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে কালাশনিকভ, আমেরিকান এম-১৬, এম-৪, এম-২৯ হালকা মেশিনগান। এছাড়া পিকে এম-টু ও এম-২৪০ এর মতো ভারী মেশিনগান, গ্রেনেড লঞ্চার, রকেট লঞ্চার, আরপিজি-৭, এটিফোর এর মতো ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।



আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক্তন আফগান সরকারের সেনাবাহিনীকে আমেরিকা যে ভারী সাঁজোয়া যান, বিমান এবং অন্যান্য ভারী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল তাও তালেবানদের হাতে চলে গেছে। সেসব ভারী অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১২২ মিলিমিটার হাউইটজার আর্টিলারি কামান, যা ডি-৩০ নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, এ ধরনের ১০০ থেকে ১২০টি কামান এখনো আফগানিস্তানে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজার মর্টার এবং জেডটি-২-২৩ এর মতো অনেক রাশিয়ান অস্ত্রও তালেবানের কাছে রয়েছে। ২০২৪ সালে তালেবান সরকার বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে তাদের ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। এর মধ্যে ছিল আর-১৭ স্কাড মিসাইল ও আলব্রুস আর-৩০০, যেগুলোর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম।



লুনা মিসাইল যা ফ্রগ-৭ নামেও পরিচিত, গ্র্যাড রকেট লঞ্চার, মিলান অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল, এবং অর্গান মিসাইল ব্যবস্থাও রয়েছে। এর কিছু অস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৬ মাইল, আবার কিছু ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। এই অস্ত্রগুলো অন্তত তিন দশক ধরে আফগানিস্তানে ব্যবহার করা হয়নি। কিছু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এবং কিছু পাহাড়ি এলাকা যেমন পানজশিরে রয়েছে। তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা এসব অস্ত্রের কিছু পুনরায় সক্রিয় করেছে। তবে সেগুলোর প্রযুক্তিগত অবস্থা এবং বাস্তব যুদ্ধে কতটা ব্যবহারযোগ্য, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



২০২৪ সালে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে তালেবান সরকার ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। এর মধ্যে ছিল আর-৭ স্কাড মিসাইল এবং এলব্রাস আর-৩০০, যা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারে। তবে পাকিস্তানের একটি বড় সুবিধার জায়গা পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ও আধুনিক যুদ্ধবিমান। তালেবান সরকারের কাছে এর সমতুল্য বিমানবাহিনী নেই।



তালেবান সরকার সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক হেলিকপ্টার মেরামত করে সচল করেছে এবং কয়েকজন পাইলটকে প্রশিক্ষণও দিয়েছে। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিসমিল্লাহ তাবান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপস্থিতির শেষ বছরগুলোতে আফগান বিমানবাহিনীকে পুরোপুরি সজ্জিত করেনি এবং বহু আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই কারণেই তালেবানের কাছে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপ করার মতো অস্ত্র নেই। তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের কাছে প্রায় ৬০টি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে।



মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬১ হাজার হামভি, রেঞ্জার এবং শত শত সাঁজোয়া যান তালেবান দখল করেছে। তবে সাবেক আফগান সরকারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, এসব সাঁজোয়া যান যুদ্ধের সময় রাবারের টায়ারের কারণে সমস্যায় পড়েছে।



'গেরিলা যুদ্ধের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা'


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নেটো এবং প্রাক্তন আফগান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক ধরে লড়াই করার পর, তালেবানরা গেরিলা যুদ্ধে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিজ্ঞতা এখনো আজও তাদের সামরিক কৌশলের মেরুদণ্ড হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষের পর, আফগান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিসমিল্লাহ তাবান বিবিসিকে বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ভিডিও এবং পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে তালেবানরা এখনো নিয়মিত সেনাবাহিনী হিসেবে নয়, বরং হালকা অস্ত্রে সজ্জিত হয়েও সশস্ত্র গেরিলা গোষ্ঠী হিসেবে লড়াই করছে।


অক্টোবর ২০২৫-এ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিসমিল্লাহ তাবান বিবিসিকে বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ভিডিও ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তালেবান এখনো নিয়মিত সেনাবাহিনীর মতো নয়, বরং হালকা অস্ত্রে সজ্জিত গেরিলা গোষ্ঠীর মতো লড়ছে। এই কৌশলে 'আকস্মিক' হামলার মাধ্যমে আক্রমণ চালানো হয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন তালেবান কমান্ডার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন যে তালেবান বাহিনী, "বেশিরভাগই গেরিলা কৌশলের উপর জোর দিয়েছে, যেখানে আমাদের প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও প্রয়োজনে মাঝে মাঝে নিয়মিত সামরিক ইউনিট ব্যবহার করা হত"।



তিনি বলছিলেন, "প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আমাদের এলাকা ও ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়, তবে স্থানীয় সীমান্ত কমান্ডারদের মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়"। সাবেক আফগান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "সীমান্ত এলাকায় ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় সামঞ্জস্য থাকলে তথ্য সংগ্রহ, গোপন রাখা এবং চলাচলে সহায়তা হয়। অনুপ্রবেশ অভিযানের জন্য এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ"। তিনি বলেন, এই 'সোশ্যাল কোর' বা সামজিক ভিত্তি তালেবানের সক্ষমতা বাড়ায়।



তালেবান বাহিনী ব্যাপকভাবে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার মতো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্যও পরিচিত, যাকে 'ইয়েলো ব্যারেল' বলা হয়। এই বোমাগুলো তৈরি এবং ব্যবহার করা এত সস্তা যে জঙ্গিরা খুব কম সম্পদের মাধ্যমে তাদের বাড়িতে এগুলো তৈরি করতে পারে। এগুলো শত্রু বাহিনী এবং সরবরাহ লাইনের বিশাল ক্ষতি করতে পারে। এ ধরনের বিস্ফোরকের ব্যবহার স্পিন বোলদাক-চামান এলাকাতেও দেখা গেছে।



এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আমির রানা বলেন, তালেবান এখনো গেরিলা গোষ্ঠীকে পূর্ণাঙ্গ নিয়মিত সেনাবাহিনীতে রূপান্তর করতে পারেনি। তাই তারা আজও পুরোনো গেরিলা কৌশল ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের একটি নিয়মিত ও মানসম্মত সেনাবাহিনী রয়েছে, যা ভারতের মতো বড় শক্তির সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।


ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত। 


কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়। 


তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।


অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। 


ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়। 


এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।


সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

সর্বশেষ সব খবর

সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।


প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন। 


প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 


বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়। 


মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন। 


সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি। 


অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।


প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’ 


ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন। 

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।


এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।


ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।


পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।


বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।


তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।


এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।


গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”


নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।


হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।


গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।


তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।


বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।


আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।


তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে।’


এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।


তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।


এর আগে তিনি একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন প্রয়োজন হবে, আমরা প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’


ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তি হবে।


তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।


এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।


সূত্র:  বিবিসি

সর্বশেষ সব খবর