নিহত কিশোর ফতেপুর ৩য় খন্ড গ্রামের আনোয়ার মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া (১৭) পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ এএম

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ফতেপুর ৩য় খন্ড গ্রামে এক পোল্ট্রিফার্মে মুখ বাঁধা অবস্থায় জবাই করা কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহত কিশোর ফতেপুর ৩য় খন্ড গ্রামের আনোয়ার মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া (১৭) পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী।


ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার (১২মার্চ) দিবাগত রাত ১০টার দিকে ফতেপুর ৩য় খন্ড গ্রামের পোল্ট্রিফার্মের মালিক মাওলানা আব্দুল করিমের পুত্র মোস্তাক আহমদ রাত ১০ টার দিকে মেহমান বাড়ী থেকে মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যানকে অবগত করেন যে তাদের মালিকানাধীন পোল্ট্রি ফার্মে মুখবাধা অবস্থায় একজনের জবাই করা মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া আগেই উৎসুক জনতা মরদেহের মুখ খোলে সুমনের পরিচয় সনাক্ত করে। চেয়ারম্যান জানান খুন হওয়া সুমন অত্যন্ত সরল সহজ ও পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী।


এব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, ফতেপুর ৩য় খন্ড গ্রামের পোল্ট্রিফার্মে এক কিশোর হত্যার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলেই পৌছে বিষয়টি পর্যবেক্ষন করি।

 

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান ফতেহপুর ইউনিয়নের ফতেপুর ৩য় খন্ড গ্রামে পোল্ট্রিফার্মে একজন কিশোরের মুখ বাঁধা অবস্থায় জবাই করা মরদেহের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে গোয়াইনঘাট থানাকে অবগত করা হয়েছে। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২৭ পিএম

বড় আশা নিয়ে সিলেটে নির্মান করা হয় সিলেট হাইটেক পার্ক। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিলেট হাইটেক পার্ক নিয়ে চলছে নানা যড়যন্ত্র। সিলেটে ভালো ম্যাগা প্রকল্প হাতে নেয়া হলে শুরু হয় নানা যড়যন্ত্র। এ থেকে রেহাই পায়নি সিলেট হাইটেক পার্কও। 


এ পার্ক নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়, জমি লিজের বিপুল অর্থের হিসাব না থাকা এবং অবকাঠামো নির্মাণের পরও বিনিয়োগ না আসায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্পের কাজ থুবরে পড়েছে।


অভিযোগ রয়েছে, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণযোগ্য একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া পার্কের প্রবেশপথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাবও সামনে এসেছে।




সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নথিপত্র জমি লিজ বাবদ প্রাপ্ত ৫৬০ কোটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ জরুরি।


সিলেট নগর থেকে প্রায় ৩০ কিলো মিটার দূরে কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকায় ১৬৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় এই মেগা প্রকল্প। এ পর্যন্ত এতে প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। 


অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও বাস্তব সম্মত দিকগুলো যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় নির্ধারিত এলাকাটি জলাভূমি ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের সাফল্যের সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবনায় সমীক্ষার আপত্তিগুলো বাদ দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


পরিবেশ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে চাপ থাকতে পারে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ ইআইএ প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে উল্লেখ থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি অর্থের পাশাপাশি পরিবেশ ও সম্ভাবনারও অপচয় হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাবেও রয়েছে নানা প্রশ্ন।


অভিযোগ অনুযায়ী, ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপনে প্রতি কিলোমিটারে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রকৃত দর ছিল ২০ হাজার টাকা। কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণেও প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ খাতে দেড় শ’ কোটি টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হলেও সরেজমিন নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপণের দৃশ্য চোখে পড়েনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রকল্পের প্রবেশ পথের দেয়ালে একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ছিল। সেটি নির্মাণে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।


সরেজমিন পার্কের দুটি দোতলা ভবনে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ভবনের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, কোথাও জমেছে ময়লা-আবর্জনা। ফোয়ারার পানিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সীমানা প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। পার্কের ৪৩ একর জমিতে স্টল বরাদ্দের কথা বলা হলেও র‌্যাংস ইলেকট্রনিক্স ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়নি।


পার্কে কার্যক্রম পরিচালনাকারী র‌্যাংস ইলেকট্রনিক্সের উপমহাব্যবস্থাপক মোরশেদুল আলম জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো গ্যাসের সংযোগ পাওয়া যায়নি। ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সাবস্টেশনে সমস্যা দেখা দিলে কখনো এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।


সিলেট ইলেকট্রনিক সিটির সাবেক উপপরিচালক ও বর্তমানে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী এস এম আল মামুনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজের প্রাক্কলন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।


প্রকল্পটির সাবেক পরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পটি অপরিকল্পিত ছিল বললে বিষয়টি তার বিরুদ্ধেও যেতে পারে। কাজের ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১৮ পিএম

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে পাওয়া টাকা ব্যবহারের নতুন সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। মাজারের ব্যবস্থাপনায় তিনজন কর্মী নিয়োগের পর দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি কার্যকর হবে। 


আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।


এ সময় সাংবাদিকদের ডিসি বলেন, ‘আজকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেওয়া হবে। আনসারের বেতন দেওয়া হবে।’ 


তিনি আরও বলেন, মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য একজন ম্যানেজার, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় এক মাস লাগতে পারে। কর্মী নিয়োগের পর প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে। এর আগে আরও একবার বর্তমান ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা হতে পারে।


গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি নির্ধারণ করা হয়। 


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক চেয়ারম্যান মো. জানে আলম মিয়া (বিরু)

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদসহ দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ ও সব সাংগঠনিক পদ থেকে স্বেচ্ছায় স্থায়ীভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. জানে আলম মিয়া (বিরু)।


গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানে আলম মিয়া কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের কারণ হিসেবে বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁটুর ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এসব কারণে তাঁর পক্ষে আর রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, নিজের জ্ঞান ও বিবেচনায়, স্বেচ্ছায় এবং কারও চাপ ছাড়াই বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পদ-পদবি থেকে স্থায়ীভাবে পদত্যাগ করেছেন।


জানে আলম মিয়া (বিরু) বলেন, এখন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলেও যোগ দেবেন না। জীবনের বাকি সময় আল্লাহর ইবাদত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শান্তিতে কাটাতে চান।

সর্বশেষ সব খবর

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

পঞ্চগড়ে গ্রামীণ সড়কে পাথর বালি পরিবহন করার যানবাহন থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয় হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে নামমাত্র জমা করে বাকী অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল এর বিরুদ্ধে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থাসহ রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের আওতায় কয়েকটি সড়কে নিয়মিত পাথর বালি নিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। তিনটি সড়কে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টি ট্রাক থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও পরিষদে তিনটি সড়কের এক বছরের ইজারা দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। চেয়ারম্যান গোপনে একেকটি সড়ক ইজারা দিয়েছেন ২ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।


জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা সালের বৈশাখ মাস থেকে চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হয়। সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম গোপনে দীর্ঘদিন ধরে মিরগড়, লাঠুয়া পাড়া ও আহমেদ নগর এলাকায় সড়ক ইজারা দিয়ে আসছে। প্রতিবছর কিছু অর্থ পরিষদের হিসাব নম্বরে জমা করলেও ৭ থেকে ৮ লাখ লাখ টাকা প্রতি বছর আত্মসাৎ করেছে চেয়ারম্যান। 


পরিষদের ইউপি সদস্য মোজাহারুল হক জানান, ইজারার সময় আমি ছিলাম না। চেয়ারম্যান আলাদাভাবে করে নেয়, আর শুনানো হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ ইজারা বিষয়ে কিছু জানেননা এবং চেয়ারম্যান কিছু জানায় নাই বলেন তিনি।


পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাইমুল ইসলাম বলেন, কোন সড়ক কত টাকায় চেয়ারম্যান ইজারা দিয়েছেন তা জানিনা। তবে সেটার জন্য ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন রাজস্ব হিসাব নম্বরে জমা করতে, আমি জমা করেছি।


লাঠুয়া পাড়া এলাকায় সড়কের টোল আদায়ের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা এটাতে অনেকজন শেয়ার রয়েছি। ঠিক কত টাকায় ইজারা নিয়েছি তা জানিনা। তবে টোল আদায়কারী আকতারুল বলেন খরচসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার কথা।


ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, সড়কের কর আদায়ের ইজারা ঠিক কত টাকায় দিয়েছি খেয়াল নাই। তবে সবার সম্মুখে পরিষদে খোলা ডাক দেওয়া হয়েছে। ইজারা বাবদ ৪০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আমরা জমা দেই তবে কিছু বেশি নেওয়া হয়। আমাদেরতো বেতন ভাতা নাই। আরো অনেক খরচ রয়েছে।


পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

গাজীপুরের কাশিমপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টুন ও সুতার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার শৈলান এলাকায় কারখানাটির গোডাউনে আগুন লাগে।


ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কারখানার ওই গুদামে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে ওঠে। গোডাউনে মজুদ থাকা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ও কাঁচামালের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনের লেলিহান শিখা ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ায় কারখানাটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে কাশিমপুর মিনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়।বর্তমানে মোট ৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


আরিফুল ইসলাম আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ খালি কার্টন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে গেছে ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। 


আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 


মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।


ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। 


আহত ১৬ জন হলেন- হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫) আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ডামুরহুদা ও কাপাসডাঙ্গায়। এ ছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, ঢাকার আফতাবনগর এবং মাগুরা সদরের বাসিন্দাও রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর