নির্বাচনী খরচের জন্য তরুণীর কাছ থেকে মাটির ব্যাংক ভর্তি টাকা ও ডিম উপহার পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল
চারপাশে উপচে পড়া ভিড়। মঞ্চে বসে আছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। মাঝে দাঁড়িয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় জনতার ভিড় ঠেলে আসেন এক তরুণী। হাতে একটি মাটির ব্যাংক ও একটি থলে। আনিছা আকতার নামের ওই তরুণী বললেন, ‘স্যার আপনার জন্য বাড়ির পোষা মুরগির কয়েকটি ডিম আর কিছু পয়সা এনেছি। নির্বাচনের জন্য এই সামান্য উপহারটুকু গ্রহণ করবেন।’
তরুণীর কাছ থেকে মাটির ব্যাংক আর ডিম উপহার পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় আনিছার বাড়ি। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় কাজীপাড়া এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে গণসংযোগ করেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম। তখন আনিছা তাঁকে মাটির ব্যাংক ও ডিম উপহার দেন।
আনিছার কথা শেষে ব্যাংকটি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। পরে বলেন, ‘ওরা আমাকে একটা মাটির ব্যাংকে তাঁর যে সঞ্চিত অর্থ দিয়েছে নির্বাচনের খরচের জন্য। ডিমও দিয়েছে।’ বলতে বলতে গলা ধরে আসে তাঁর। এক সময় কেঁদে ফেলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। এই মেয়েটার আকুতিকে কবুল করুন।’ এ সময় মঞ্চে মির্জা ফখরুলের পাশে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আল মামুন আলম। তিনি বলেন, ‘এটি এই এলাকার মানুষের প্রচলিত একটি রীতি। নির্বাচনে তাঁরা যাঁকে যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন, তাঁকে তাঁরা ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এমন উপহার দেন। কেউ দেন মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা, কেউ পরিয়ে দেন টাকার মালা। আবার কেউ কেউ বাড়ির ডিম, মুরগি, ছাগলও উপহার দেন।’
শনিবার সদর উপজেলার আকচা ও চিলারংয়ে গণসংযোগ করেন মির্জা ফখরুল। আকচার নীমবাড়ি এলাকায় গণসংযোগের সময় এক শিশু তাঁর হাতে ৫০০ টাকা গুঁজে দেয়। টাকা পেয়ে মির্জা ফখরুল দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। পরে তিনি শিশুটিকে দেখিয়ে সবার উদ্দেশে বলেন, ‘এ বাচ্চাটি আমার নির্বাচনী খরচের জন্য ৫০০ টাকা দিয়েছে। আমি এই টাকা খরচ করব না। আজকের তারিখ লিখে রেখে দেব।’
পরে দেবীগঞ্জ বাজারে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন তিনি। সভায় তাঁকে দুজন কিছু টাকা উপহার দেন। বিকেলে চিলারং ইউনিয়নের মানু বাবুর মন্দির চত্বরে গণসংযোগে যান মির্জা ফখরুল। তখন স্থানীয় লোকজন বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা মির্জা ফখরুলকে টাকার মালা উপহার দেন। পরে সনাতন সম্প্রদায়ের এক নারী তাঁর হাতে একটি মাটির ব্যাংক তুলে দেন।
চিলারং ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকায় নির্বাচনী সভা চলছিল। মাইক হাতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে একদল নারী উলুধ্বনি দিতে দিতে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন। তাঁদের হাতে ছিল টাকার মালা। মঞ্চের কাছে এসে মির্জা ফখরুলের গলায় তা পরিয়ে দিলেন। মির্জা ফখরুলও দুই হাত একত্র করে তাঁদের ভালোবাসার জবাব দেন।
কিছুক্ষণ পর এক নারী বাড়ির পোষা হাঁসের কয়েকটি ডিম উপহার দেন। তখন ওই নারী মির্জা ফখরুলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। সন্ধ্যায় আখানগর উচ্চবিদ্যালয়ের নির্বাচনী সভা চলাকালে আরেক নারী মির্জা ফখরুলকে টাকাভর্তি একটি মাটির ব্যাংক উপহার দেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বিএনপির মহাসচিবকে উপযুক্ত প্রার্থী বলে মনে করেন। সে কারণে এলাকার লোকজন মহাসচিবের প্রচারণা সহজ করতে টাকা, ডিমসহ নানা উপহার দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এটি স্থানীয় রীতি, যার মাধ্যমে মানুষ তাঁদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী সভা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি এই এলাকা থেকে বারবার নির্বাচন করি। কখনো জিতেছি, আবার কখনো হেরেছি। কিন্তু কেউ কাউকে ছেড়ে যাইনি। এলাকার মানুষের ভালোবাসার টানেই আমি তাঁদের কাছে সব সময় ফিরে আসি। এই ভালোবাসা কি ভোলা যায়?’
সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসির সঙ্গে বাদানুবাদের ঘটনায় কোনো মামলা হলে প্রধান আসামি হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে তার এ-সংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রুমিন ফারহানা এ প্রতিক্রিয়া জানান।
লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে গত ২৩ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি সম্মান রেখে তিনি অপেক্ষা করছেন, এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসির বিরুদ্ধে কী ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ার জেরে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা। এছাড়া রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন।
এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের চোর।’
তপন চন্দ্র দাস ও লিখন চন্দ্র দাস
গাজীপুরের টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তপন চন্দ্র দাস (৫০), লিখন চন্দ্র দাস (২০) নামে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন মহাসড়কে বাবা ও ছেলে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ আহত দুজনকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছেলে লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তাঁর বাবা তপন চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত বাবা ছেলে শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কৈবর্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইস চৌরাস্তা এলাকায় জনৈক মিজানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুল আলম বললেন, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
খুলনায় পুলিশের আইজিপি
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেছেন, জন-আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং খুলনা এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
কেএমপি কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, বিগত সতেরো বছরে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসন করাই আমাদের লক্ষ্য। ৫ আগস্টের পর পুলিশ দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পুলিশ কাজ করছে। জনগণের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই, জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই। বর্তমান সরকার মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" ঘোষণা করেছে; যাতে সমাজে কোন মাদক না থাকে, চাঁদাবাজ না থাকে, কিশোর গ্যাং না থাকে।
আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপরাধ নির্মূল করবো। বর্তমানে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে। বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানান। পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনাস্থ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
ঠাকুরগাঁও এর আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে শুক্রবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহৌউৎসব। ঠাকুরগাঁওয়ে বছরের পর বছর ধরে হেমন্তের শুরুতেই বুড়ির বাঁধে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সম্প্রীতি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম এখানে তৈরি করেছেন একটি দৃষ্টিনন্দিত মৎস চত্বর। যা স্থানীয় অদূরান্তের দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। এই বাঁধে অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জালের বিরুদ্ধে নিয়েছেন ব্যবস্থা। অবমুক্ত করা হয়েছে মাছের পোনাও।ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে আজ শনিবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় পুরোদমে চলছে মাছ ধরার উৎসব। আর এখানকার শুক নদীর 'বুড়ির বাঁধ' এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উন্মুক্ত উৎসব। রীতিমতো প্রতিযোগিতার আমেজে চলে এ মাছ শিকার, যা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। শীতের আগমনী বার্তায় বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর সবার জন্য মাছ ধরার এ সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে এখানে বসেছে তিন দিনের এক গ্রামীণ মেলাও।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকেই বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয়। এর পরেই শত সৌখিন শিকারি ও সাধারণ মানুষ বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে নামেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামীণ জনপদ ও শহর থেকে শত শত মানুষ বুড়ির বাঁধে ভিড় করেছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত বাঁধের চারপাশ। সবাই যার যার মতো করে জাল, পলো (খলুই), খোচা ও লাফি জাল নিয়ে নেমে পড়েছেন কাদা-জলে। এমনকি সরঞ্জামহীন অনেকেই খালি হাতেও নেমেছেন মাছ ধরতে। সব মিলিয়ে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহা উৎসব।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত ১৯৮২ সালে শুকনো মৌসুমে এ অঞ্চলের জমি চাষাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে শুক নদীর ওপর বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি এখানে আটকে রাখা হয় সেচের জন্য। এ সময়ে ঠাকুরগাঁও মৎস্য অধিদপ্তর বাঁধের পানিতে বিভিন্ন মাছের পোনাও অবমুক্ত করে। আর শীতের শুরুতেই যখন পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন বাঁধের মাছ ধরার জন্য সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে আসছে মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
ঠাকুরগাঁও সদরের চিলারং ইউনিয়ন অম্বারু থেকে আসা কামরুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার জন্য এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আমি খুব খুশি। কারণ দেশি মাছের স্বাদ আলাদা। এখানে রুই, পাবদা, ষোল ও বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
পীরগঞ্জের আমতলী থেকে আসা আলআমিন হকের মতে, বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে এসে মনে হচ্ছে যেন এক বিশাল লোকমেলা, যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ।
মাছ শিকারি ছাড়াও মেলায় ভিড় বাড়ে মাছের ক্রেতাদেরও। শহর থেকে আসা মাছ ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশি মাছ পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন, কিন্তু এসে দেখেন শহরের বাজারের চেয়েও এখানকার মাছের অনেক সস্তা ও টাটকা।
ভুল্লী বাজার থেকে আসা সুজন ইসলাম জানান, এখানে টেংরা, গোচি, শিং, টুনা মাছ প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ থেকে টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর শোল ও রুই-কাতলা মাছের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। পুঁটি মাছও বিক্রি হচ্ছে ১২০-২০০ টাকায়।
শহরের কলেজপাড়া থেকে আসা সৌখিন মাছ শিকারি রফিকুল ইসলাম বলেন, কত মাছ পেলাম সেটা বড় কথা নয়। সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে আসার জন্য।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সভা আলী জানান, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয় এবং শীতের শুরুতেই মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
উৎসবে যোগ দেয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রাজা শহিদুল আসলাম বলেন, মনে হচ্ছে যেন এক গ্রামীণ মেলায় এসেছি। মাছ ধরা এখানে উপলক্ষ মাত্র, আসলে এটা মিলনমেলা। এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে শত শত মানুষের মিলনমেলা ও মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
যুবদল নেতা রামিম
প্রতিনিয়ত খুলনায় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা কেন্দিক গুলি করে হত্যার খবর নতুন না হলেও এবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) খুলনা সফরের মধ্যেও প্রকাশ্যে রামিম (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আহত রামিম বিশ্বাস পারহাজী গ্রামের হাবিবুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ বিল্লাল মোল্লা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ভ্যানে করে কোলাবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রামিম। পথে গ্রামের আইনাল মোল্লার বাড়ির সামনে প্রধান সড়কে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ আলী বিশ্বাস জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ অক্টোবর মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা নগরীতে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিন ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামের এক যুবককে প্রতিপক্ষ গ্রুপের দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। একই দিন সন্ধ্যায় লবণচরার জিন্নাপাড়া বউবাজার এলাকায় খুশি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে তার মায়ের সামনেই মাথায় গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
জৈন্তাপুর পৌরসভা
সিলেটের জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত পল্লী এলাকাকে পৌরসভা ঘোষণা করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর আগে পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও পত্র প্রদান এবং শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিও পত্র দেন। পরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ২৮১-আইন/২০২৬ নম্বরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এটি ১৪ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত এলাকাগুলোকে শহর ঘোষণার অভিপ্রায় জানানো হয়েছিল।
পাশাপাশি, গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।পরবর্তী সময়ে উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (৪)-এর ক্ষমতাবলে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ৩৭০-আইন/২০২৬ নম্বরে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়।
এর মাধ্যমে তফসিলে উল্লেখিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার, পিএইচডি। সরকারি গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো-ডিবি হাওর, ঘিলাতৈল, গৌরিশংকর, নিজপাট, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ও গুয়াবাড়ী।
অন্যদিকে, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো-কেন্দ্রী হাওড়, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর ও ভিত্রিখেল। সব মিলিয়ে দুই ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত ভূমি পৌরসভা ঘোষণার আওতায় এসেছে। গেজেটের তফসিলে মৌজাভিত্তিক জে.এল. নম্বর ও দাগ নম্বরের পরিসরও উল্লেখ রয়েছে। পৌরসভা বাস্তবায়নের উদ্যোগে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
পৌরসভা প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম চালু হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানো, স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জনসেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর।