ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:২৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে দেশজুড়ে তেল মজুতের হিড়িক পড়েছে। 


দেশে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আতঙ্কে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন গ্রাহকরা। তবে চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—


লালমনিরহাট


সরেজমিনে লালমনিরহাট সদর ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি। অনেকে ড্রাম ভরে তেল সংগ্রহ করছেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদার তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ক্রেতারা।


শহরের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা ক্রেতা মো. লিয়ন বলেন, ‘ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন তেল শোধনাগারে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবর শুনেছি। এর ফলে তেলের দাম বাড়তে পারে জেনেই পাম্পে এসে তেল মজুত করছি। কয়েকদিনতো ভালোভাবে চালানো যাবে। পরিস্থিতি ঠিক হলে পরে আবার নেওয়া যাবে। এখন না নিলে দাম বাড়লে আমাদেরই লোকসান হবে।’


পাবনা


পাবনা শহরের মেরিল বাইপাস এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশন, অনন্ত বাজার এলাকার মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন, রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকাসহ বেশিরভাগ পাম্পে গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে।


বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এসব পাম্পে দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। পরে আজকের মজুত অনুযায়ী ২০০-৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া বন্ধ করে দেন পাম্প মালিকরা। কয়েক ঘণ্টায় তেল ফুরিয়ে গেছে দাবি করে দু-একটি বড় পাম্প ছাড়া বেশিরভাগই বন্ধ করে দেয়।


রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা সাইমন ও রনি জানান, হঠাৎ শুনেছেন কাল থেকে তেল নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে বাইক নিয়ে এসেছেন। এমনি সময়ে সাধারণত ট্যাংক ফুল লোড না দিলেও পরে পাওয়া যাবে না আশঙ্কায় আজ ফুল লোড দিতে চেয়েছেন তারা। কিন্তু ২০০-৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না।


সাতক্ষীরা


খুলনা ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না হওয়ায় সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বেশিরভাগ পাম্পে মোটরসাইকেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়ার কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।


সাতক্ষীরা শহরের একটি পাম্পে তেল নিতে আসা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ৩০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে দূরপাল্লায় যাতায়াত করা তাদের জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।


এ বিষয়ে সাতক্ষীরার এবি খান পেট্রোল পাম্পের মালিক তাছিন কবীর খান বলেন, চাহিদার তুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনেক কম। তাই যাতে সবাই কিছুটা হলেও তেল পায়, সে কারণে আপাতত মোটরসাইকেলপ্রতি ৩০০ টাকার কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হবে।


রাজশাহী


নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। তবে বেশিরভাগ পাম্পেই একজন গ্রাহককে ৩০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে অনেক গ্রাহকের মধ্যেই ক্ষোভ দেখা গেছে।


নগরীর লতা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল কিনতে আসা মোটরসাইকেলচালক রবিউল ইসলাম খোকন বলেন, আমি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে যাতায়াত করবো। কিন্তু আমাকে তেল দিল মাত্র ৩০০ টাকার। তেলের সংকট নেই, কিন্তু যুদ্ধের আতঙ্কে সবাই হুড়োহুড়ি করে তেল কিনছে।


কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আরেক মোটরসাইকেলচালক সোহেল রানা বলেন, সকালে এসে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তবুও ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। এতে দূরের পথে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে।


ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)


কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহন চালকরা চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। পাম্প মালিকদের দাবি, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চাহিদা মতো তেল দেওয়া যাচ্ছে না।


শুক্রবার সকাল থেকে শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘুরে গেলে দেখা যায়, বাস, পিকআপ ও মোটরসাইকেল চালকরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভিড় করছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ তারা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না।


উত্তরা থেকে যাত্রী নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যাচ্ছিলেন প্রাইভেটকারচালক মো. রাজু। তিনি বলেন, ‌‘পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি। আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে ৪ লিটার। এখন বাকি পথ কীভাবে যাবো সেই চিন্তায় আছি।’


চুয়াডাঙ্গা


চুয়াডাঙ্গায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।


বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। অনেকেই বেশি পরিমাণ তেল নিতে এলেও কম তেল নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প মালিকরা।


চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমি মোড়ের মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্পের সহকারী ম্যানেজার আশাবুল হক বলেন, ‌‘আমরা খুলনার নোয়াপাড়া ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করি। বর্তমানে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোটা সিস্টেম চালু হয়েছে। আগে দৈনিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো। এখন চাহিদা বেড়ে ১০-১২ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে।’


রাজবাড়ী


রাজবাড়ীতে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হচ্ছে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। একজন মোটরসাইকেলচালককে ২০০ এবং প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসকে ৫০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না। শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় হয়তো গ্রাহকরা তেল মজুত করতে পাম্পে ভিড় করছেন। তবে ডিপো থেকে তেল না পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারছেন না পাম্প মালিকরা। ফলে মোটরসাইকেল চালকদের ১০০ থেকে ২০০ এবং প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চালকদের ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


গাইবান্ধা


গাইবান্ধায় হঠাৎ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জেলার কিছু ফিলিং স্টেশনে এরইমধ্যে তেল শেষ হয়ে গেছে। আর কিছু ফিলিং স্টেশনে শেষ পর্যায়ের দিকে। ফিলিং স্টেশনে কর্মচারীদের দাবি, তেল না আসায় ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ ।


বিকেলে গাইবান্ধা শহরে বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ সারি। তেল পাওয়ার আশায় অনেকেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন। যেসব ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে উপচেপড়া ভিড়।


গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে মেমার্স রহমান ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা থেকে সাখাওয়াত হোসেন নামের বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা মোটরসাইকেলের তেল নিতে এসেছেন। দুটি স্টেশনে ঘুরে তিনি তেল পাননি। তিনি বলেন, ‘তেল না পেলে যে সমস্যায় পড়বো, তার কোনো সমাধান নেই। যদি তেল না পাই, তাহলে কীভাবে বাড়িতে যাবো, সেটাইতো বুঝতে পারছি না।’


ময়মনসিংহ


ময়মনসিংহের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো পাম্পে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন, আবার কোনো পাম্পের সামনে রশি টানিয়ে জানান দেওয়া হচ্ছে জ্বালানি নেই। এ অবস্থায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন জ্বালানি নিতে আসা লোকজন। বিকেলে মহানগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পেও একই অবস্থা।


নগরীর চায়নামোড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন। এই পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের সামনে রশি টানিয়ে রাখা হয়েছে। রশি দেখে যানবাহন নিয়ে চালকরা ফিরে যাচ্ছেন।


দিঘারকান্দা ও বাইপাস এলাকায় অবস্থিত পাম্পেও তেল নেই। ফলে অন্য পাম্পে তেলের সন্ধানে যাচ্ছেন চালকরা। অনেকে সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকান থেকে খোলা তেল কিনছেন।


খায়রুল ইসলাম নামের একজন মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘কয়েকটি পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে অবশেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সড়কের একটি দোকান থেকে তেল নিয়েছি। এখানে লিটার প্রতি ১০ টাকা বেশি নিয়েছে দোকানি। তবে কিছুদিনের মধ্যে তেলের দাম বাড়ার এবং সংকট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমার বন্ধু ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি পাম্প থেকে তেলের ট্যাঙ্কি ফুল করেছে।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ এএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।


প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।


তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।


তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।


সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।


জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব। 


তিনি আরও বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ'—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।


এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।


সর্বশেষ সব খবর

সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়েছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ এএম

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরার পৈত্রিক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার কেশব মোড়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার গেটের ওপরের অংশ লক্ষ্য করে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। ফলে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।


মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাড়ির জানালার কয়েকটি কাচ ভেঙে গেছে। এতে কেউ হতাহত হননি। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বাড়ির লোহার গেটের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছিল।


ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটি পেট্রোল বোমা কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।



প্রতিবেশী আহসান হাবিব বলেন, “কয়েকজন যুবক এসে ঢিল দিয়ে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। পর পর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পরে বাড়ির লোহার গেটের ওপরের অংশে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তা নিভিয়ে ফেলেন। অবশ্য এ সময় সাকিবের পরিবারের লোকজন ওই বাড়িতে ছিল না।”



তিনি বলেন, “বাড়িটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর। ওই যুবকরা গেইট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভাঙতে পারেনি। ৫ অগাস্টের পর থেকে ওই বাড়িতে শুধু একজন কেয়ারটেকার আছেন। হামলার পর যুবকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।”


স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সন্ধ্যায় একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাকিব আল হাসান। লাইভ শেষ হওয়ার পর পরই কয়েকজন যুবক এসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।”


ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো। তবে কিছুক্ষণ আগে পুলিশ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৮ এএম

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলবুলের বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। ৪ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে দুর্বৃত্তরা ২টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে।


এসময় যুবদল নেতা পরিবারের সদস্যদের সাথে শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলো। দুর্বৃত্তদের ১টি পেট্রোল বোমা বসত ঘরের গ্রিলে লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। 



ঘটনার পর পর খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে বুধবার সকালে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ যোবায়ের আহমেদ, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোঃ বাছেদ, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বাবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


এব্যাপারে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি শেষে সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত প্রায় ১টার দিকে শয়নকক্ষের বাইরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে সেভেন আপের কাঁচের বোতল সদৃশ দুইটি পেট্রোল বোমা পড়ে থাকতে দেখেন। রাতেই থানা পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করে নিয়ে যায়। 


এবিষয়ে এএসপি সার্কেল আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত এলাকাবাসীকে আতংকিত না হওয়ার আহ্বান জানান। তদন্তপূর্বক দোষীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করেন। 


এঘটনায় যুবদল নেতা ফরিদুল আলম বুলু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


ঘটনার নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।


উল্লেখ্য, এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে উপজেলার ভাকোয়াদী গ্রামে উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানার বসতবাড়িতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সবকিছু ছাই করে দেয়। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।


বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্কে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।




প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি ও তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জুলাই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।


তিনি আরও বলেন, বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।


এর আগে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বিভিন্নচ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জুলাই শহীদ পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২১ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটে জনগণের প্রদত্ত রায় দ্রুত কার্যকর করা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে নাটোরে লালপুরে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


​বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টায় লালপুর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে রামকৃষ্ণপুর চিনিবটতলা থেকে একটি বিশাল গণমিছিল শুরু হয়ে লালপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীসুন্দরী হাইস্কুল মাঠে এসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এসময় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড: মাসুদ রানা, লালপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ মহসিন আলম, নাটোর জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য সাজ্জাদুর রহমান উজ্জল, লালপুর উপজেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওঃ হামিদুল ইসলাম, নাটোর জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদ হাসান, লালপুর পশ্চিম শাখা শিবিরের সভাপতি রাকিবুল ইরলাম রাহী, পূর্ব শাখার সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মিসকাত।


এসময় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এসে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সকল গণহত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় যাদি বাস্তবায়ন করা না হয় তবে আবার নতুন করে জুলাই সংগঠিত হবে। এসময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের  স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বুধবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৯ পিএম

কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্টের বিদায়ের পর একটি পক্ষের গায়েবি মামলা, মামলা নিয়ে ব্যবসা ও মূল অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের অসম্মানিত করেছে। এটা নিয়ে আমাদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি সরকার সঠিক পথে আগাচ্ছে, মূল অপরাধীদের রেখে চার্জশিট দিচ্ছে।  


বুধবার সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে তারাই এখন দেশপ্রেমের দীক্ষা দিচ্ছে। তারাই জনগণকে শিখাচ্ছে দেশপ্রেমের বয়ান।




জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি খুব ব্যাথিত জুলাই যোদ্ধারা। এতো সকালে আমরা তাদের ভুলে যেতে বসেছি। আমরা জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দিতে পারিনি। সকল জুলাই শহীদ, আহত যোদ্ধা, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও আমি জুলাইকে বিশ্বাস করি, স্মরণ করি, যেমনিভাবে বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে। ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বাস করি জুলাই যুদ্ধ আমাদের অর্জন, জুলাই যুদ্ধ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অর্জন৷ 


এর আগে নানা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়।  র‍্যালিটি টাউনহল থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। 


আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের বাবা শাহীন মিয়াসহ জুলাই যোদ্ধা, আহত ও নিহতেদের পরিবারের সদস্যরা। 


অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা তুলে ধরতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

 একাত্তরে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এখন তাদের কাছ থেকে যুদ্ধের দীক্ষা নিতে হচ্ছে

সর্বশেষ সব খবর