১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন আর তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসন। এর তিনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র), আর বাকি তিনটিতে জামায়াত এগিয়ে আছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপির নেতাকর্মীদের অপকর্ম, আধিপত্য বিস্তার, আচার আচরণে দলটির ইমেজ অনেকাংশে কমেছে। তেমনি জামায়াতের প্রতি সাধারণ ভোটারদের বেড়েছে আগ্রহ।
এক সময়ের বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনগুলো উদ্ধারে মরিয়া হয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজ দল আর উপদলীয় কোন্দলে একদমই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি। বোদ্ধারা বলছেন শেষ মূহুর্তে দলীয় কোন্দল ঠেকাতে না পারলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নওগাঁর ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন, যা ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন পুরুষ ভোটারের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২১ জন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বিএনএফ ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি মূলত: নারী ভোটাররা। ছয়টি আসনেই পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।
জামায়াত এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে সুক্ষ্মভাবে। তাদের নারী কর্মীরা দল বেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৪ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধরাও নিয়ামক শক্তির একাংশ হতে পারে বলে বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন। তাদের মতে দল, মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সন্তানেরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুবাদে জুলাই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।
জুলাই চেতনা যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য এরা দশ দলকেই ভোট দেবে। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিএনপির একাংশের ভোট ছাড়াও নিয়ামক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে টানলেও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্রদের উপরই ভরসা রাখছেন এমনটাই বলছেন তারা।
নওগাঁ-১
জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৬ নওগাঁ-১ আসন। এখানে ভোটের মাঠে লড়ছেন পাঁচজন। তবে লড়াই হবে মূলত: ত্রিমুখী, বিএনপি-স্বতন্ত্র আর জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।
গত নির্বাচনেও তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। দলীয় মনোনয়ন পাবার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন চুড়ান্ত হবার আগে থেকেই তিনিও মাঠে আছেন। এই হেভিওয়েট প্রার্থী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর পর তিন বার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল) প্রার্থী হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির একটি পক্ষ এখনও তার পক্ষে কাজ করছেন-এই অভিযোগে তিন উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির ভোট ব্যাংকে তিনি একটা বড় ফ্যাক্টর।
তবে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সে কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে বর্তমানে কোনো বিভক্তি নেই। ডা: ছালেক চৌধুরী অনেক আগে থেকেই দল থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি প্রার্থী থাকায় ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।’ আর ডা: ছালেক চৌধুরী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি লড়াই করে যাবো। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই আমার অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে চাই।’
এই আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম এগোচ্ছেন ভিন্ন কৌশলে। নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী কালু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। তবে তা জেতার মত পরিস্থিতি তৈরি করতে যথেষ্ঠ নয় বলে অভিমত অভিজ্ঞদের।
নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৫ জন। এর মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ জন, পোরশা উপজেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন ও সাপাহার উপজেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৩ জন। ২০০৮ থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।
নওগাঁ-২
পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ৪৭ নওগাঁ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সামসু্েজ্জাহা খান, জামায়াতের এনামুল হক ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম। এখানে মূলত: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সামসুজ্জোহা খান পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক।
তিনি ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এই আসন আওয়ামী লীগের দখলে যায়। এই হেভিওয়েট প্রার্থী এবার এই আসন পুনরুদ্ধারে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপিতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাঙ্খিত প্রচারণায় না থাকায় বিজয় ছিনিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি নওগাঁ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর। দলীয় কৌশলী শৃঙ্খলে ডোর টু ডোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে এবার তারাই বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন।
তবে সামছুজ্জোহা খান দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এবি পার্টির মতিবুল ইসলামও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এই আসনে মোট ভোটার তিন লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৭৭ জন, নারী এক লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৫৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ দুই জন।
নওগাঁ-৩
মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন আর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৮ নওগাঁ-৩ আসন। সর্বোচ্চ আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনে। এরা হলেন, ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি), মাহফুজুর রহমান (জামায়াত), নাছির বিন আছগর (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মাসুদ রানা (জাপা), কালিপদ সরকার (বাসদ), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (বিএনএফ), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (স্বতন্ত্র)।
এখানে মূলত: লড়াই হবে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি আর জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের মধে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী অন্যদের চেয়ে অনেক গুন এগিয়ে থাকলেও দলীয় দ্বন্দ্বে আশানুরুপ ফল পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ট্যক সো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল অনেক আগে থেকেই মাঠে রয়েছেন। বদলগাছীতে উপজেলা বিএনপি আর মহাদেবপুরে উপজেলা কৃষক দলের ব্যানারে তিনি প্রচার চালান। এই আসনে আরো দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বয়কট, বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট আন্দোলন করেন।
এখন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ধানের শীষের প্রচারে নামলেও তা অনেকটাই লোক দেখানো এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তিনি যাতে বিজয়ী হতে না পারেন সেজন্য তারা গোপনে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথা বলছেন এমনটাও ভাবছেন অনেকে। নিজ দলেই যেন কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলছেন, এবার বিএনপির জোয়ার এসেছে। জনতা বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন।
মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার পিতা জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু ১৯৯১ থেকে এই আসনে পরপর চার বার এমপি নির্বাচিত হন।
এসময় তিনি এলাকায় প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। গত নির্বাচনেও পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পাতানো নির্বাচনে সেবার তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। একারণে মানুষ তাকে জনতার এমপিই মনে করেন। এবারও তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
এছাড়া এখনও বিএনপির একটা অংশ তার জন্য কাজ করছেন। বহিস্কার হবার ভয়ে প্রকাশ্যে কাজ না করলেও আড়ালে তার ভোট করছেন। আঞ্চলিকতার টানেও মহাদেবপুর উপজেলার মানুষ তাকেই বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এদিক থেকে তার ভোটের পাল্লা অনেকটাই ভারি।
বিএনপি আর বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুবাদে শুরু থেকেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাজনক স্থানে। ডানপন্থীদের নানা কার্যক্রমে তারা যুক্ত থেকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। এখন তাদের বৃহৎ নারী দলকে মাঠে নামিয়েছেন। মূলত: এই নারীকর্মীরা ভোটারদের মনের কোণে ঢুকতে সক্ষম হয়েছেন। এরাই হবেন জামায়াত প্রার্থীর জয়ের নিয়ামক শক্তি।
নওগাঁ-৪
মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪৯ নওগাঁ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় জন। এরা হলেন, বিএনপির ডা. ইকরামুল বারি টিপু, জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাকিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন, সিপিবির ডা. ফজলুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফান বেগম ফেন্সি (কলস)।
এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে। তবে নানা কারণে বিএনপিতে বিভক্তির সুযোগ নিয়ে জামায়াত এগিয়ে যেতে পারে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। এখানে বিএনপিতে বিভক্তি থাকায় তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। ডা. ইকরামুল বারি টিপুকে মনোনয়ন দেয়ায় দীর্ঘদিন অন্যরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এতে দলের ভোট ব্যাংকে মারাত্মক চির ধরেছে। তবে ডা. ইকরামুল বারি টিপু বলেন, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিব। ২০০৯ সালে এই দুই প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে। সেবার ডা. ইকরামুল বারি টিপু বিজয়ী হন। তবে ১৯৯১ এর নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদি এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বিএনপির বিভক্তিতে জামায়াতের অবস্থান হয়েছে শক্ত।
এরশাদ আমলে এই আসনে জাতীয় পার্টির কফিল উদ্দিন সোনার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার জাপা, সিপিবি, ও অন্যান্য দলের সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি একাই কলস প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৩ জন ও নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
নওগাঁ-৫
নওগাঁ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৫০ নওগাঁ-৫ আসন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন। এরা হলেন, বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতের এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলুকে গতবারও ধানের শীষ দেয়া হয়েছিল। তিনি ছাড়াও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন।
মনোনয়ন ঘোষণার পর তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এখানে বিএনপির অন্তরদ্বন্দ্বে প্রাণহীন প্রচারণা চলছে বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা। এর সুযোগ নিচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম। জামায়াতে কোন গ্রুপিং না থাকায় দিন দিন তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান নওগাঁ সফর করে ভোটারদের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দু'দলই জিততে মরিয়া। দু'দলের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এই দু'দলই এখন আলোচনায়।
এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১ জন ও নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৪ জন। ভোটকেন্দ্র ১১৮টি।
নওগাঁ-৬
বাংলা ভাই খ্যাত উত্তরের রক্তাক্ত জনপদ আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৫১ নওগাঁ-৬ আসন। এই আসনে এবার পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতের খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি বিআরপি এর আতিকুর রহমান রতন মোল্লা ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবির।
এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক চারদলীয় জোটের গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। পঞ্চম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত: আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর। গতবারও তিনিই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু আলমগীর কবিরের ছোট ভাই হওয়ায় বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে যাবে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। অপরদিকে অতীতের নানা কারণে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকও গড়াতে পারে স্বতন্ত্রের দিকেই। আলমগীর কবির বলেন, ‘আমার লড়াই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই।’ বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় জামায়াতও এগুচ্ছে কৌশলী খেলায়। তারাও জয়ের জন্য আশাবাদী।
এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ জন ও মহিলা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫ টি।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খালগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল (২ আগস্ট) রবিবার উপজেলার সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটসংলগ্ন খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, নেট পাটা এবং পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ দখল অপসারণ করা হয়। ফলে খালগুলোতে যেমন স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে এনে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে পাশাপাশি পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা প্রশাসনের বেশ তৎপরতা দেখা যায়।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বটিয়াঘাটা উপজেলার সকল খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং খালগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি এবং প্রতি রবিবার নতুন দুটি খালে অভিযান শুরু করবো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে সপ্তাহজুড়ে এ সমস্ত অবৈধ দখল ও নেট পাটা উচ্ছেদ করা হবে। আজ এরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটের খালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে” বলে জানান তিনি।
অভিযান পরিচালনাকালের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান, ভূমি অফিসের কানুনগো রিয়াজ উদ্দিন, সার্ভেয়ার মো. মাহতাব হোসেন, নাজির সাইফুল্লাহ, পেশকার প্রসেনজিৎ দাস এবং জলমা ভূমি অফিসের নায়েব মো. কামরুজ্জামান।এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সহ অনেকেই অভিযানে অংশ নেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন যেকোনো অবৈধ স্থাপনা বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুরের শিবচরে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে টানাপড়েন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে উপজেলার সাংবাদিকদের অন্তত তিনটি গ্রুপ নিজেদের সংগঠনকে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ হিসেবে দাবি করছে। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএ টিভির প্রতিনিধি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ, দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার প্রতিনিধি আবুল খায়ের খানের নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপ এবং দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি বিএম হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপ পৃথকভাবে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করছে।
এর মধ্যে জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ ইতোমধ্যে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে একটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে আবুল খায়ের খানের পক্ষের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে তাদের সংগঠনই বৈধ এবং একই নামে অন্য কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
জাকির হোসেন বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেছি সবাইকে এক করে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে। কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। যারা একসঙ্গে সাংবাদিক পরিবার হয়ে থাকতে চায়, তাদের নিয়েই শিবচর প্রেস ক্লাবের নির্বাচন আয়োজন করে।
আবুল খায়ের খান বলেন, শিবচর প্রেস ক্লাব নামে ২০০৯ সাল থেকে সরকারি নিবন্ধন রয়েছে। কেউ চাইলেই এই নাম ব্যবহার করতে পারবে না। যারা শিবচর প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নির্বাচন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিএম হায়দার আলী বলেন, খুব শিগগিরই মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের একত্র করে শিবচর প্রেস ক্লাব গঠন করা হবে। তখন আর কেউ এই নাম ব্যবহার করে ভুয়া সংগঠন করতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে যারা আওয়ামী লীগের দালালি করেছে এবং দলীয়ভাবে কাজ করেছে, তাদের বাদ দিয়ে সব সাংবাদিককে নিয়ে শিবচর প্রেস ক্লাব গঠন করা হবে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, আমরা চাই শিবচর উপজেলার সব গণমাধ্যমকর্মী এক কাতারে আসুক। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে তারা শিবচরের উন্নয়নে একত্রিত হয়ে কাজ করুক। তাদের কাছ থেকে আমরা মুক্ত ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একই নামে একাধিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো না গেলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, বিভেদ তৈরি করে ও বিভাজন সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে সেই বিভাজন দেখতে চাই না। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতিতে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। “শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে তোমারি সুরটি আমার মুখের ’পরে বুকের ’পরে” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী-কর্মীরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে বসে চা খেতেন, গল্প করতেন। রাজনৈতিক মঞ্চে গিয়ে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকত। সেই সম্প্রীতির সমাজই আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।
তরুণ প্রজন্মকে নাটক, সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলা তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক করে তোলে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। যখন ছেলেমেয়েরা মাঠে খেলাধুলা করে, নাটক করে কিংবা সাংস্কৃতিক অনুশীলনে ব্যস্ত থাকে, তখন সেখানে মাদকের কোনো স্থান থাকে না।
সাংস্কৃতিকর্মীদেরও পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেক নাট্যকর্মী ও শিল্পী রয়েছেন যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সাংস্কৃতি চর্চা করলেও আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করেন। তাদের সহযোগিতা করা এবং শিল্প-সাংস্কৃতির বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার তাগিদ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন কুঁড়ি ও যে সাংস্কৃতিক চর্চার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোতোষ কুমার দে, ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির সভাপতি ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী সহ অনেকে।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অফিস সময় মেনে কার্যক্রম পরিচালনা না করা, দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিস পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মুক্তাগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সাইফুল বারী নিয়মিতভাবে সপ্তাহে মাত্র ২ থেকে ৩ দিন অফিস করেন। ফলে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এতে এসএটি লাল মিয়া, অফিস সহকারী মো. মাসুদুর রহমানসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধনে বিলম্ব, অযথা জটিলতা সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবস অফিস চালু থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে মুক্তাগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তার ব্যত্যয় ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার সাইফুল বারী, এসএটি লাল মিয়া ও অফিস সহকারী মো. মাসুদুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগ অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এসব অভিযোগের কিছু ক্ষেত্রে তদন্তও হয়েছে।
রাস্তার নামে খাস জমি লীজ নিয়ে সেটিকে ব্যক্তিগত দখলে রাখা এবং বহুতল ভবনের মালিক হয়েও ১৩ শতাংশ জমি লীজ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর নগরীর আবু শামীম গংএর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা বলেন সরকারি জমি রাস্তা হিসেবে লীজ নিয়ে সেখানে দেয়াল ও লোহার গেট নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে জমিটি বর্তমানে অভিযুক্তের দখলে। সেই জমি বন্ধ থাকায় আশেপাশের বেশ কয়েক পরিবারের মানুষকে জীর্ণশীর্ণ সরু পথ ও মানুষের বাড়ির উঠান দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
এ নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী শাহিনুর খাতুন বলেন, জুন মাসের ৭ তারিখ হঠাৎ কিছু ছেলেরা এসে ঘর-দুয়ার ভেঙে দেয়। কোনো সরকারি লোক ভেঙে দেয়নি। রাস্তার জন্য ঘর সরাইছি, রাস্তা তো আমরা পাইনি।
আরেক স্থানীয় ভুক্তভোগী বলেন, একদিন দেখি মাহিগঞ্জ থেকে তফসিলদার আসছে, এডিসি আসছে। তারা এসে পরিস্থিতি দেখতেছে আর জিজ্ঞাসা করতেছে, রাস্তার কথাই বলছে। তখন আমি বলি স্যার, রাস্তায় যদি হয় তাহলে গেট লাগানো কেনো।
উক্ত জমির এস. এ. রের্কড অনুযায়ী রংপুর জেলার আলমনগর মৌজায় জে.এল. নং ৯৬, এস.এ. খতিয়ান নং ১৭৯৭ এ ৩৭৪৩ দাগের ৫শতক এবং ৩৭৪৬ দাগের ৫২ শতক মোট ৫৭ শতকের মূল মালিক সেলিনা বেগম। যিনি একজন অবাঙ্গালীনি এবং বিগত স্বাধীনতা যুদ্ধে তার জমি পতিত অবস্থায় ফেলে রেখে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেলে রাষ্ট্রীয় বিধি মোতাবেক উক্ত ৫৭ শতক জমি পরিত্যাক্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে বিভিন্ন সময় সেই জমি জেলা প্রশাসন রংপুর থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে লীজ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত আবু শামীম, তার মা মৃত আফরোজা বেগমের পরিবার তারাও এই মোট জমির ১৩ শতাংশের লীজ গ্রহণকারী। তারা তাদের জমির সামনের আংশে থাকা বাকি দুই শতক জমি লীজের আবেদন করলে তৎকালীন জেলাপ্রশাসক তার আবেদন বাতিল করেন। লীজ আবেদন বাতিল করলে আফরোজা বেগম বাদি হয়ে জেলা প্রশাসক ও শাহিনুর খাতুনের নামে উর্দ্ধতন জজ আদালত, সদর, রংপুরে শাহিনুর খাতুনের টিনের চালা অপসারণ ও খাস দখলের মামলা করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার জবাব দেওয়া হয়। সেই মামলায় বাদীপক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ এ মামলাটি খারিজ করে দেন। জবাবে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট উল্লেখ করেন বাদিনী আফরোজা বেগমের আরজীর অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন কারণ পরিত্যাক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী শহরের গৃহহীন অসচ্ছল পরিবারকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এক সনা মেয়াদি লিজ প্রদান করা হয়। যেহেতু বাদিনি সচ্ছল ও একাধিক বহুতল ভবনের মালিক গৃহহীনকে লিজ প্রদানের উদ্দেশ্যে বাদিনীর লিজ বাতিল করা হয়।
লীজের অনুমোদন বাতিল হলেও পরে কৌশলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে ২ শতক খাস জমি লীজ নেওয়া হয়। শর্ত ছিল, জমিটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু লীজ পাওয়ার পর সেখানে দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেন আবু শামীম গং। এতে আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ অন্যের বাড়ির উঠান ও সরু গলিপথ ব্যবহার করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন স্থানীয় কামরুল হাসান টিটু এবং আলমগীর হোসেন অপু । সেই দায়েরকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, রংপুর মহানগর রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসের অধীন আলমনগর মৌজা, জে.এল. নং-৯৬, এস.এ খতিয়ান নং-১৭৯৭-এর ৩৭৪৩ ও ৩৭৪৬ দাগভুক্ত মোট ০.৫৭ একর সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তির মধ্যে ০.১৩ একর জমি (এপি কেস নং-৪/৮৫-৮৬) আবু শামীম, পিতা মৃত ওয়াজেদ আলী, নিজ নামে, বেনামে এবং ভাই-বোনদের নামে বেআইনিভাবে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ভূমিহীনরা সরকারি জমির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং তাদের উচ্ছেদ, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আলমনগর মৌজার এস.এ খতিয়ান নং-১৭৯৭-এর ৩৭৪৩ ও ৩৭৪৬ দাগে ২৫.৫ শতক জমির মালিকানা দাবি করে আবু শামীমের মা মৃত আফরোজা বেগম ১২ আগস্ট ২০১৪ তারিখে সহকারী জজ আদালত, সদর, রংপুরে অন্য মামলা নং-১৫৫/১৪ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি জমি দখলের উদ্দেশ্যে ওই মামলা করা হয়েছিল।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর, রংপুর ১০ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে স্মারক নং-৮৩২ এর মাধ্যমে মাহিগঞ্জ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তৎকালীন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান ৪ মে ২০১৬ তারিখে স্মারক নং-১২১ এর মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে আফরোজা বেগমের পরিবারকে একাধিক বহুতল ভবন ও জমিজমার মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এপি কেস নং-৪/৮৫-৮৬-এর আওতাভুক্ত একই জমি নিয়ে আবু শামীমের করা উচ্ছেদ মামলা নং-০৮/২০১৫ তদন্ত শেষে ১৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে জেলা প্রশাসক খারিজ করে দেন এবং মোছা. শাহিরুন বেগমের লিজ পুনর্বহাল করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর পর আবু শামীম একই জমি ও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবারও উচ্ছেদ মামলা নং-০১/২০২৩ দায়ের করেন, যেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগেও এক ব্যক্তির আবেদনের পর মৃত আফরোজা বেগম ও তার ছেলে আবু শামীমের নামে দেওয়া লিজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী আরো বলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় লীজ বাতিলের পর আবারও লীজ পান।
স্থানীয় ও অভিযোগকারীদের দাবি বেআইনিভাবে খাস জমি লীজ গ্রহণ, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ব্যক্তিগত দখলে নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়। রাস্তা বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ পুরো এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় অভিযোগকারী জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আবু শামীম ও তার স্বজনদের নামে, বেনামে প্রাপ্ত কথিত বেআইনি লিজ বাতিল করে সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি প্রকৃত ভূমিহীন ও যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বিধি অনুযায়ী লিজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিচিল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কোন অদৃশ্য শক্তিতে সরকারি লীজের রাস্তা নিজের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাবহার করছেন এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।আর অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্মে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অর্ধশত পরিবার।
"তালাকের পরেও আমাদের জীবনে ভয় রয়ে গেছে। আমরা আমাদের দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে চাই। কিন্তু সাবেক স্বামী ও তার সহযোগীদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে আমরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
এভাবেই অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মিতু শারমিন।
রবিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বরগুনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন মহিমা আক্তার।
লিখিত বিবৃতিতে মিতু শারমিন অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিয়ের শুরু থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পরে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে তালাক দেওয়ার পর স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন যে, বিয়ের সময় তিনি স্বামীর দেওয়া ভরণপোষণের টাকা জমিয়ে তার দুই ছেলের নামে প্রায় ২৫০ একর জমি কিনেছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, সেই জমি নিয়েও একটি বিবাদ তৈরি হয়েছিল।
মিতু শারমিন অভিযোগ করেন যে, তালাকের পর তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে অপমান করার উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি তার প্রাক্তন স্বামী ও তার সহযোগীরা পাথরঘাটা থানার সামনে তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর তিনি ও তার বোন চিকিৎসার জন্য যান।
তিনি বলেন, "আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে চাই। কিন্তু আমাকে প্রতিনিয়ত ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।"
এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনকে তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বা তার পরিবারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মিতু শারমিনের মা, বোন, খালা ও সন্তানরাও উপস্থিত ছিলেন।