পুলিশ একাডেমি সারদায় শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট না। সুতরাং যাতে আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত যেকোনো একটি পোশাক ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শনিবার দুপুরে পুলিশ একাডেমি সারদায় ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে এই অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এরপর শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও পুরস্কার প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। এই সংস্কার কমিশনের একমাত্র উদ্দেশ্য পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা।
এ সময় তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে আজ এই পর্যায়ে ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে পুলিশ কোনো গোষ্ঠী বা বিশেষ রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়।
তিনি বলেন, পুলিশ হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও ঘোষণা করেছি, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে আধুনিক, মানবিক ও সেবাধর্মী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে পুলিশের মনোবল বৃদ্ধিসহ দক্ষ জনবল বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। এ সময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।
"তালাকের পরেও আমাদের জীবনে ভয় রয়ে গেছে। আমরা আমাদের দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে চাই। কিন্তু সাবেক স্বামী ও তার সহযোগীদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে আমরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
এভাবেই অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মিতু শারমিন।
রবিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বরগুনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন মহিমা আক্তার।
লিখিত বিবৃতিতে মিতু শারমিন অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিয়ের শুরু থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পরে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে তালাক দেওয়ার পর স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন যে, বিয়ের সময় তিনি স্বামীর দেওয়া ভরণপোষণের টাকা জমিয়ে তার দুই ছেলের নামে প্রায় ২৫০ একর জমি কিনেছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, সেই জমি নিয়েও একটি বিবাদ তৈরি হয়েছিল।
মিতু শারমিন অভিযোগ করেন যে, তালাকের পর তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে অপমান করার উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি তার প্রাক্তন স্বামী ও তার সহযোগীরা পাথরঘাটা থানার সামনে তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর তিনি ও তার বোন চিকিৎসার জন্য যান।
তিনি বলেন, "আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে চাই। কিন্তু আমাকে প্রতিনিয়ত ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।"
এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনকে তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বা তার পরিবারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মিতু শারমিনের মা, বোন, খালা ও সন্তানরাও উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘দূর্বার-১৮’ এসএসসি ব্যাচের উদ্যোগে পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হক সানু।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এবং পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব।বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য সাদৎ-আল-হারুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিয়াচান।
বক্তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। যারা ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাদের কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে আর কোনো রাস্তা কাঁচা রাখা হবে না। জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য।
রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের সিদ্দিকীয়া বিশ্ব ইসলাম মিশন, সালন্দরে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি। অনেক নেতা-কর্মীকে বছরের পর বছর আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। আল্লাহ আবার সুদিন ফিরিয়ে দিয়েছেন। এখন মানুষের জন্য কাজ করে তাদের ভালোবাসাকে স্থায়ী করতে হবে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারে আছেন বলে কেউ যেন ক্ষমতার অপব্যবহার না করেন। কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়, দখলদারিত্ব কিংবা দাম্ভিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ দাম্ভিকতা ও সীমালঙ্ঘন পছন্দ করেন না। সবাইকে বিনয়ী হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং মানুষের বিপদ-আপদে সহযোগিতা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা চেয়ারম্যান ও মেম্বার হতে চান, তারা আগে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "দেখেশুনে সৎ ও যোগ্য মানুষকে ভোট দেবেন, যারা আপনাদের জন্য কাজ করবে।"
তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাদের সহযোগিতা করতে হবে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনো রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোববার হঠাৎ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে গিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (সেকমো) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে অভিযোগকারী রোগীকে ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) হিসেবে কর্মরত। এছাড়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুুর রহমানকে ওয়ার্নিং লেটার (সতর্কতা পত্র) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিল। এমনকি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও ছুটিতে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে শামসুন্নাহার নামে কুকুরের কামড়ে আহত এক রোগী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী (সেকমো) তাকে বাইরে থেকে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন কিনতে বলেন। পরে তিনি ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে তা গ্রহণ করেন।
এ অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দকে ফোন করে ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে সেকমো হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিকেলে ফেরার পথে বরখাস্তের আদেশপত্র দেখবেন বলেও জানান। এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করবেন বলে জানান মন্ত্রী।
ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, 'আমরা জানতাম না মন্ত্রী মহোদয় পরিদর্শনে আসবেন। আমি বগুড়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম। মন্ত্রী মহোদয় আসার খবর পেয়ে শুধু হাজিরা দিয়ে চলে আসি। পরে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরের। রোগী অফিস সময়ের পর, অর্থাৎ দুপুর ২টার পরে এসেছিলেন। তাই দায়িত্বরত সেকমো তাকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।'
তিনি জানান, যাওয়ার পথে মন্ত্রী মহোদয় অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে অভিযোগকারী রোগীর ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। টাকা পরিশোধ করলে তাকে আর সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না বলেও মন্ত্রী মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টার সময় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে তিনি গোটা হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে কথাবার্তা বলেন। এসময় মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীদের ভালোভাবে চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দেন।
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১–এর বিচারক আব্দুল মান্নানের আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন দেন।
গত ৩০ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলাটি করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।
ওই মামলায় আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, ৩০ জুলাই মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহর কয়েক দফা আটকে দেয় পুলিশ। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে দলের নেতারা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, আগের দিন হবিগঞ্জ শহরে দলের পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। ওই ঘটনায় কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। এনসিপির অভিযোগ ছিল, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তবে জেলা পুলিশ বলেছিল, এনসিপি ১৪৪ ধারা অমান্য করে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কামাইছড়া এলাকায় অবস্থান নেওয়া হয়।
রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান এক বছর ১১ মাস অর্থাৎ ২৩ মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িত ছিলো সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পটপরিবর্তনের পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হতে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. শহিদা আক্তার বানু ২৫ আগস্ট হতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আ.ত.ম মকছুদার রহমানকে (দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন রংপুরের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান। মাকছুদার রহমান ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল অবসরে গেলে কিছুদিন সিনিয়র শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ প্রতিষ্ঠানটির অফিস কক্ষে সিনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ চলতি বছরের ১৮ মে এক পত্রের মাধ্যমে ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ হতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে দায়িত্বে পুনরায় বহাল করেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওই পত্র অনুযায়ী গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার স্মারকমূলে অধ্যক্ষ শাহজাহান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় উক্ত শিক্ষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয়পদে বহাল হওয়ায় অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বীয়পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মোস্তফা জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি।
তবে ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা স্কুলের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের দাবি, অধ্যক্ষ শাহজাহান প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত অবস্থায় আছেন। কোন মিটিংয়েই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাকডেটে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে বরখাস্ত দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো তাকে পুনর্বহাল করেছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ। ম্যানেজিং কমিটির মতামত না নিয়ে একক ক্ষমতাবলে তিনি অধ্যক্ষ শাহজাহানকে পুনর্বহাল করেছেন।
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করেই অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত বেতন সাবমিট করে নাই। কোনো কারণ ছাড়াই বেতন বন্ধ করে দিয়ে এটিকে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি অধ্যক্ষ শাহজাহান।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের সারে তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা স্বেচ্ছায় ছুটি ছাড়াই আসেনি প্রতিষ্ঠানে। ক্লাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাড়িতে চলে গেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, গত তিন চার মাস থেকে স্কুলে ক্লাস ভালভাবে হচ্ছে না। আমরা শুনেছি আমাদের যে অধ্যক্ষ রয়েছেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি তো গত দুই বছর থেকেই স্কুলেই আসে না। শিক্ষকরাও আসে, আসে না।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, অনেকে উপবৃত্তির টাকা পেলেও আমরা উপবৃত্তির টাকা পাইনি। এজন্য স্যারদের কাছে গিয়েছিলাম। তারা বলছেন কলেজের অধ্যক্ষ পাসওয়ার্ড নিয়ে রাখার কারণে তারা সাবমিট করতে পারে নাই। আর অধ্যক্ষ স্কুলে আসে না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জুলি বলেন, অধ্যক্ষ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক গত দুই বছর থেকে প্রতিষ্ঠানে আসেন না। স্যার ম্যাডাম এর যখন যার ইচ্ছা আসে যায় তেমন একটা ক্লাস হয় না আমাদের তাই আমরাও দুপুর হলেই চলে যাই। অনেকে আবার স্কুলেই আসে না।
সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ বলেন, ডিসি অফিসের মিটিংয়ে আমরা যখন যাই। তখন এডিসি স্যার উপস্থিতির স্বাক্ষর নেন। দুই একটা কথা বলি মিটিং শেষ করেন। পরবর্তীতে রেজুলেশনে উনি কি লেখেন, না লেখেন আমরা কিছুই জানি না। যে ১৬ তারিখের মিটিংয়ের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে তারিখে গভর্নিং বডির কোন মিটিং হয়নি। তার আগে ১২ তারিখ মিটিং হয়েছে। কিন্তু সেদিন কোনো ডিসিশন হয়নি। অধ্যক্ষকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, কবে বহাল করা হয়েছে আমরা কিছুই জানি নাহ।
সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, অধ্যক্ষের বরখাস্ত হওয়া এবং বহাল হওয়ার বিষয়টি আমরা জানি না। মিটিংয়ের পরে কি লিখেছে সেটাও জানি না।
সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ শাহজাহান স্যার এখনো অনুপস্থিত। উনি আসেন না। উনাকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান বলেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর মিনিস্ট্রি অডিটের সময় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চলতি বছরের ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে পাঠানো এক পত্রে জানতে পারি আমাকে অব্যাহতি প্রদান করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এরপরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করে অনুপস্থিত থেকেই এমপিওসহ সকল ধরনের পাসওয়ার্ড নিজের কাছে নিয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান আমার ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও বেতন সাবমিট করে নাই।
গত ২ মাস থেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার বেতন বন্ধ করে রাখছে অনুপস্থিত থাকা অধ্যক্ষ। আজ পর্যন্ত আমি জানি না কি কারণে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমি কোন সমাধান পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও অনুপস্থিত অধ্যক্ষের কাছে পাসওয়ার্ড থাকায় ষষ্ঠ, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ফরম যথাসময়ে সাবমিট করতে না পারায় ২০০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হয়েছে। পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পরে একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুপস্থিত অধ্যক্ষ শাহজাহান সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের নামে একটি নোটিশ ইস্যু করে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে আসছেন না। ক্লাসগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না গত দুই মাস থেকেই।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। মোস্তফা জামান মুকুল মাস্টার হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখে। সেখানে আমার আস্থাভাজন কোনো লোক নেই। আমি চাকরি করি, সবাই আমার লোক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান মুকুলের বেতন কেনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন আমার বিলটা বন্ধ ছিলো, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বিল প্রদানের আদেশ প্রদান করার পরেও আমার বিল না করায় মন্ত্রণালয় মোস্তফা জামান মুকুলের বিল বন্ধ করে দিছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কেন হলো না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মোস্তফা মাস্টার উপবৃত্তির ফরম তুলে নিজের কাছে রাখায় উপবৃত্তি ফরম সাবমিট করা সম্ভব হয়নি। এজন্য বাচ্চাদের উপবৃত্তি হয়নি। এখানে আমার কোন অপরাধ নেই। প্রতিষ্ঠানটা নষ্ট করি ফেলছে মুকুল মাস্টারসহ কিছু স্থানীয়রা।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন জানান, সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনার জন্য দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে স্বীয় পদে বহাল করা হয়। যদি প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে থাকে সেটি আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তাকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিবো। অবশ্যই নিয়মিত অফিস করতে হবে।
এনায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন উপবৃত্তি পায়নি। এর পিছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল জানান, আমি কয়েকদিন থেকে এডিসি রাজস্ব স্যারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আগের এডিসি স্যার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু বলতে পারতো। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।