রংপুরঃ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনী ব্রিফিং করেন জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন ।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ পিএম

গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারির পাশাপাশি থাকবে পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরা।

 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনী ব্রিফিং প্যারেড শেষে জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

 

এসপি মারুফাত হুসাইন বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাহিরে ইউনিয়ন পৌরসভা এলাকায় মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সেক্টর ও সাব সেক্টর ভাগ করে ভোটার, ভোট প্রত্যাশী নির্বাচনে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদির নিরাপত্তা দেয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারির পাশাপাশি ৩১৫টি কেন্দ্রে পুলিশের কাছে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা।

 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাঠে পুলিশের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, আনসারসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। রংপুর জেলায় ৮৭৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

 

মারুফাত হুসাইন বলেন, রংপুর জেলার নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত ভাল, এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। আমরা আশা করছি এটি বজায় থাকবে। সেই সাথে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা হবে।

 

রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১৬

জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২১টি আট উপজেলায় ৯৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ সূত্র জানায়, ভোটার সংখ্যা বেশি, ইতোপূর্বে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর না থাকা, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতার বাড়ি সংলগ্ন কেন্দ্র, দূরবর্তী জনবহুল এলাকাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) জানিয়েছে, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৩টি আসনের আংশিক অংশে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এসব স্থানের ২০৪টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বে ৩০টি মোবাইল পেট্রোল টিম ৭৮টি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স কাজ করবে।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, রংপুর জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছে ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বতন্ত্র মিলে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

 

প্রস্তুত সেনাবাহিনীর কমান্ডো গ্রুপ :

এদিকে, রংপুরে যেকোনো ধরনের উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডো গ্রুপ। নির্বাচনের দিন রংপুর বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকার যেকোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঘটলে তারা হেলি ড্রপ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিভাবে কাজ করবেন।

 

চার জেলায় হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়ন :

এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ শান্তি রক্ষায় রংপুর বিভাগের জেলায় হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর সেক্টরের অধীনে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট গাইবান্ধা জেলায় ২৬টি বেজ ক্যাম্পে ৭৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনি এলাকার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা চেকপোস্ট স্থাপনসহ মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে। এসব জেলার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছে বিজিবি।

নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা দিতে বিজিবির তল্লাশি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানে ডগ স্কোয়াড স্থাপন করা হয়েছে।  টহল গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর বিভাগের ৪টি জেলায় হাজার ৫৭২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬০০টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজিবি সমন্বয়ক টিমের প্রতিনিধিরা কাজ করছে।

এদিকে, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ছাড়াও র‌্যাব, আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ করছে।

 

ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, অতিঝুঁকিপূর্ণ ৮২৭টি :

রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে এক কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে চার হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে দুই হাজার ৫৬১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

বিশেষ করে চরাঞ্চল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা কোনো কোনো প্রার্থীর বাড়ির নিকটবর্তী কেন্দ্রগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র জানায়, এসব কেন্দ্রে অতীতে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ, ভয়ভীতি প্রদর্শন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে এরই মধ্যে বসানো হচ্ছে সিসি টিভি। ছাড়া বাড়তি অস্ত্রধারী পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। থাকছে ভিজিলেন্স টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স।

 

পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের আট জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে ৩০টি পৌরসভা ৫৩৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্র চার হাজার ৫৪৬টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে ৮২৭টিকে।

 

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যার লাইভ মনিটরিং করা হবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে।




  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৫ পিএম

ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ দুইজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ডিবি (দক্ষিণ)-এর ওসি মুহাম্মাদ মাহবুবুল হকের নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) বিপুল কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ২৫ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানার রঘুরামপুর ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।


অভিযানকালে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ হাজার টাকা। এ সময় রঞ্জন দাস (৪৮) ও মিঠুন চন্দ্র কর (৩৫) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা উভয়েই রঘুরামপুর ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।


ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত আলামতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।


পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ পিএম

নাটোরের লালপুরে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে দিনে-দুপুরে অটো চার্জার ভ্যান থামিয়ে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ ছিনতাইকারী দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে লালপুর থানা পুলিশ। একই সাথে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামীদের আটক ও ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করা হয়। ​গ্রেফতারকৃতরা হলেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর বটতলা এলাকার মোঃ আলমাছ আলীর ছেলে মোঃ সবুজ আলী (২০) এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ভাদুর বটতলা (বাগানপাড়া) এলাকার মোঃ শরিফুল ইসলামের ছেলে মোঃ সোহাগ আলী (১৯)।


​পুলিশ জানায়, গত ০৪ আগস্ট সকাল ১১ টার দিকে ভুক্তভোগী মোছাঃ জেসমিন নাহার (৪০) ডাচ বাংলা ব্যাংক লালপুর শাখা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ভ্যানিটি ব্যাগে নিয়ে চার্জার ভ্যানযোগে নিজ বাড়ি বৈদ্যনাথপুরে যাচ্ছিলেন। পথে বৈদ্যনাথপুরস্থ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংলগ্ন সাঁকোর পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেলে এসে দুই ছিনতাইকারী তাঁর হাত থেকে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।


​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেসমিন নাহার  ওই দিনই বাদী হয়ে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই  ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ, পরবর্তীতে মেহেরপুর জেলার  বিভিন্ন এলাকার অভিযান পরিচালনা করে দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।


আজ (৬ আগষ্ট) দুপুরে ​লালপুর থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিত্যক্ত একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগাজান চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ওই ব্যক্তিকে বগাজান বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাঁর কথাবার্তা ও চলাফেরা দেখে স্থানীয়দের মনে হয়েছিল, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। এ সময় খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি ওই ব্যক্তির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে তাঁর পরিচয় শনাক্তে সহযোগিতা চান। পোস্টে কেউ তাঁকে চিনে থাকলে বগাজান বাজারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়।


স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে বাজারে অবস্থানকালে ওই ব্যক্তিকে ঘাস টেনে খেতেও দেখা যায়। পরে রাতে তিনি বাজারেই ছিলেন। বগাজান বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী দুলাল বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করার আগে তিনি ওই ব্যক্তিকে একটি রুটি খেতে দিয়েছিলেন।


ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাবিল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি পুকুরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।


তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


এসআই মো. মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। 


বুধবার (৫ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইউএনও রিপামনি দেবীর সভাপতিত্বে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: হুমায়ুন কবির, কৃষি অফিসার মোস্তাক আহমেদ, প্রকৌশলী মো: ফয়সাল, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: রোকনুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: ফজলুল হক, নির্বাচন কর্মকর্তা মো: শাজাহান মানিক, ওসি মো: মতিয়ার রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মাসুদ হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মো: পশিম উদ্দীন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমান জাহেদ, সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আব্দুর রহমান, সহ সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল, অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অত্র উপজেলার আহত পাঁচ জুলাই যোদ্ধা নাঈম উদ্দীন রাব্বু, জুলাই যোদ্ধা মিঠুনের মা হোসনে আরা বেগম, জুলাই যোদ্ধা মাসুদ এর বোন জেসমিন আক্তার, জুলাই যোদ্ধা মুরাদের বাবা মো: লিয়াকত আলী।


দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।


আসামি জাকির হোসেন ও শিশু ফাহিমা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

সিলেটের আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।


মামলার বাকী দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস দিয়েছেন আদালত।




আজ বৃহস্পতিবার সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু ওবায়দা এই রায় ঘোষণা করেন।


তবে মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও কালামকে খালাস দেওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণেই ভেঙে পড়েন ফাহিমার স্বজনরা। তাদের দাবি- মরদেহ গুমের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়ায় বিচার পূর্ণতা পায়নি।


শিশু ফাহিমা ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় রায় প্রদান করা হলো। এরআগে, মামলার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়। এতে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার ২ ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।


নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।


চলতি বছরের ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দু’দিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশি চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। মূলত ধর্ষণ চেষ্টা করে শিশুটি অজ্ঞান হওয়ায় গলাটিপে তাকে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তিতে জানায় জাকির।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেটের আদালতে একটি উদাহরণ সৃষ্টি হলো। এমন ঘৃণ্য অপরাধ করে কেউ ছাড় পায় না, আজকের রায় তারই প্রমাণ।


আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে চার বছরের ফাহিমাকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ধরা পড়ার ভয়ে তার গলা টিপে হত্যা করে জাকির। এরপর মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে দুই দিন নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখে। পরে গভীর রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।


এ ঘটনায় ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই বিচার শুরু হয়। মাত্র এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


রায় ঘোষণার আগে ও পরে আদালতে হাজির করার সময় জাকিরকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত মানুষ। এর আগেও একাধিকবার আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হন।


মামলার সাক্ষী আনসার আহমদ বলেন, যারা মরদেহ গুমে সহযোগিতা করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি, তারা খালাস পেয়েছে। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি।


ফাহিমার চাচা আবদুল হক বলেন, সব দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই বিচার অপূর্ণ থেকে যাবে।


ফাহিমার বাবা রাইসুল হক আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।


ফাহিমার বাবা রইসুল হক বলেন, আমার মেয়েকে আর ফিরে পাবো না। জাকিরের ফাঁসি কার্যকর হলে অন্তত মনে হবে, আমার সন্তানের হত্যার বিচার হয়েছে।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুবিনা বেগম বলেন, আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই কষ্ট কোনো দিন শেষ হবে না। আমি শুধু চাই, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সবাই যেন শাস্তি পায়।


বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান জানান, দুই আসামিকে খালাস দেওয়ার রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর খালাসের অংশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। 


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫০ পিএম

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।


 বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপকারভোগীদের মধ্যে মোট ২৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুদানের চেক বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির।


 অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না।


এ সময় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, চিকিৎসাবঞ্চিত রোগী এবং অসহায়-দুস্থ গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার লক্ষ্যে এই আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্যানসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তায় অনুদান দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


তিনি আরও বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা পরিষদের দায়িত্ব। শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে এবং অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।


অনুদানপ্রাপ্ত কয়েকজন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তি জানান, এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি। দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। জেলা পরিষদের দেওয়া এই অনুদানের টাকা দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তারা জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।


অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে চেক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনুদান কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।