নির্বাচনী জনসভায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী
‘জননেত্রী
শেখ হাসিনা’কে আমরা সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনব। আমাদের নেতা জি এম কাদের
বুক ফুলিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেছেন। জাতীয় পার্টিই একমাত্র দল, যারা সত্য কথা বলেছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার
করা হবে।’
রংপুর-২ আসনে জাতীয়
পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডলের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে
বদরগঞ্জ উপজেলার সাহাপুর মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত
হয়।
মোকাম্মেল
হক চৌধুরী বলেন, যে দলটি স্বাধীনতার
পক্ষে কথা বলেছে, সেই দল আওয়ামী লীগকে
বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। একটি দল ওমুক মার্কায়
ভোট না দিলে সংখ্যালঘুদের
ভয় দেখাচ্ছে। হিন্দু ভাইদের আমরা ভোট চাই, ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা রক্ত দেওয়া জানি, প্রয়োজনে আপনাদের জন্য আমরা রক্ত দেব। তবু হিন্দু ভাইদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। আওয়ামী লীগেরও কোনো ক্ষতি হতে দেব না।
আওয়ামী
লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মোকাম্মেল হক বলেন, আওয়ামী
লীগ ভাইয়েরা, আপনারা ঘরে বসে থাকবেন না, ঘরে বসে থাকলে বেশি ক্ষতি হবে আপনাদের। ওই স্বাধীনতাবিরোধীরা যদি ক্ষমতায়
আসে, তাহলে বেশি ক্ষতি করবে আপনাদের।
তিনি
আরও বলেন, লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেবেন, জাতীয় পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আওয়ামী লীগের সকল মামলা প্রত্যাহার করে নেব।
বক্তব্যের একপর্যায়ে মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডলের দিকে ইঙ্গিত করে মোকাম্মেল হক বলেন, আনিস
ভাই, আপনি মামলা প্রত্যাহার করবেন না? যদিও তার এ প্রশ্নে আনিছুল
ইসলাম মন্ডল কোনো জবাব দেননি।
তা
ছাড়া আনিছুল ইসলাম মন্ডল নিজে তার আধা ঘণ্টার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া সম্পর্কে কিংবা আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি।
এদিকে
মোকাম্মেল হক চৌধুরীর ওই
বক্তব্যকে তার ‘ব্যক্তিগত বক্তব্য’ দাবি করেছে উপজেলা জাতীয় পার্টি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বদরগঞ্জ
উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা
হয়, আনিছুল ইসলাম মন্ডলের নির্বাচনী জনসভায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী যে
বক্তব্য দিয়েছেন তা ভুলবশত, এটি
তার ব্যক্তিগত বক্তব্য।
উল্লেখ্য;
বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা
নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে এবার
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল (লাঙ্গল) ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী (হাতপাখা) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক
দল-জেএসডির আজিজুর রহমান (তারা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এখানে
মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০
হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে ৩
হাজার ১১৬ জন ভোটার পোস্টাল
ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। ১৩৭টি কেন্দ্রের ৮০১টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে।
এই
আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির
প্রার্থীকে হেভিওয়েট হিসাবে দেখছেন ভোটাররা। কারণ এই তিনজনের দু’জনই সাবেক সংসদ সদস্য এবং অন্যজন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা কর্তৃক সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে স্কুল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (৩-আগস্ট) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুখ্য অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (উপমহাব্যবস্থাপক) মোহাম্মদ ইউছুফ খান।
উপস্থিত ছিলেন মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, উপস্থিত ছিলেন বিকেবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন (এজিএম) ও সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুখ্য অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (উপমহাব্যবস্থাপক) মোহাম্মদ ইউছুফ খান বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর। আজ যারা ছোট ছোট সঞ্চয় করছে, তা একদিন দেশের বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।
তরুণ প্রজন্মকে অর্থনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে এই আয়োজনটি প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা জমানো যেকোনো মাটির ব্যাংক বা ঘরে টাকা রাখার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। সন্তানদের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ী হতে শিক্ষকরা ক্লাসে এবং অভিভাবকরা ঘরে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাজেট এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা সন্তানদের দেওয়া জরুরি। তিনি এই চমৎকার ক্যাম্পেইনটি সফলভাবে আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং স্কুল প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিরতন করা হয়।
নওগাঁয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান
নওগাঁয় অবৈধভাবে সুগন্ধি চাল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে দুই চালকল মালিকের জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে শহরের ইয়াদ আলীর মোড় ও জবার মোড়ে অভিযান চালিয়ে বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকের বিরুদ্ধে এই জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় নওগাঁ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিপণন কর্মকর্তা সোহাগ সরকার ও জেলা পুলিশের একটি দল তার সঙ্গে ছিলেন।
রুবেল আহমেদ বলেন, “বাজারে সুগন্ধি ও আতপ চালের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চাল মজুতের সঠিক তথ্য দিতে না পারা এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখায় বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২০ হাজার টাকা ও টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।”
তিনি বলেন, “বাজারে সুগন্ধি চালের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ১৫০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০-২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মিল মালিক ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখতে পারবেন না। কিন্তু এই দুটি মিল কর্তৃপক্ষ তাদের মজুত করা চাল কত দিনের, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ার অজুহাতে মিলগেটে চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
শহীদ মিনহাজ আহমদ ও মিনহাজের মা-বাবা
সিলেটে জুলাই আন্দোলনে নিহত মিনহাজ আহমদ হত্যার বিচার নিয়ে দীর্ঘ সুত্রিতা দেখা দিয়েছে। মিনহাজের বৃদ্ধ পিতা তার পুত্র হত্যার বিচার চান। তিনিসহ মিনহাজের মাতা পুত্রকে হারিয়ে পাগল প্রায়। পুত্র হত্যার বিচার দেখতে চান মিনহাজের মা-বাবা, “আমার ছেলের কোন অপরাধ ছিল না। সে গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে গুলিবিদ্ধ হওয়া আহত লোকজনের উদ্ধার করতে গিয়ে সেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আমরা আমার পুত্র হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই।”-এমন কথাগুলো বলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শহীদ মিনহাজ আহমদের মা সিতাই বেগম।
ছেলে মিনহাজ আহমদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ মিনহাজ আহমদ পেশায় ছিলেন সিএনজিচালিত (অটোরিকশা) মেকানিক। এই ঘটনার ২বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই বলে তারা দাবি করেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উপজেলার পৌর শহরে শত শত ছাত্র-জনতার মিছিলে যখন উত্তাল, ঠিক তখনই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন অসংখ্য মানুষ। আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন সিএনজি (অটোরিকশা) ওয়ার্কশপের মেকানিক মিনহাজ আহমদ। তখন মুহুর্মূহ গুলি ছোড়ার কারণে তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শহীদ মিনহাজ আহমদের বাড়ি উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামে।
এ ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। শুরুও হয়নি বিচারকার্য। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন মিনহাজ আহমদের পরিবার।
সরোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল মালেক
ঝালকাঠির নলছিটিতে দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে দপদপিয়া ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক এবং কুলকাঠি ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নলছিটি উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. রফিকুল ইসলামকে বরগুনার তালতলীতে বদলি করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রশাসনিক তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব মারযুক রহমান রিফাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শোকজপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজভী আহমেদ সবুজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি দায়িত্বে কোনো অবহেলা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে শরীয়তপুরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি সহায়তার অর্থ তুলে দেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন।
এ সময় শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল হক মোল্লা, শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হলেন মোঃ আহম্মেদ রেজা আল মামুন, শরীয়তপুর জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি আলী আজগর কাজী, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. এনামূল হক এনাম, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ), শরীয়তপুর সদর-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত পরিবারগুলো সাময়িকভাবে হলেও উপকৃত হবে।
জব্দ করা নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল
নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের অভিযানে এক লক্ষ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের গণেশপুর বিল থেকে এসব জব্দ করে সেখানেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় এসময় তার সঙ্গে ছিলেন। স্থানীয়রা তাদেরকে সহযোগিতা করেন।
মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়ভাবে "শয়তান জাল" বা "রিং জাল" নামে পরিচিত চায়না দুয়ারী জাল হলো এক ধরণের বিশেষ মাছ ধরার ফাঁদ, যা বাংলাদেশে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি লোহার চারকোনা বা গোলাকার রিং এবং মশারির মতো সূক্ষ্ম সুতার জাল দিয়ে তৈরি একটি দীর্ঘ ক্ষতিকারক ফাঁদ। এই জাল ব্যবহার করায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) বলেন, এক হাজার দুইশ’ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে কাউকে না পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা বা অন্য কোন শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়নি। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।