তারেক রহমান ও শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ এএম

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।


মকবুল হোসেন বলেন, আশা করি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শহিদদের আত্মত্যাগের ফল হিসেবে একটি উন্নত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্বপ্ন পূরণ হবে।


এদিকে, আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের আগে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান।


মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় অংশ নেন তিনি।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৪ পিএম

সিলেটের চা দোকানের আড্ডায় বসে বন্ধুদের দিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ১ বস্তা খাতা জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।


গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চা দোকান থেকে উত্তরপত্রগুলি জব্দ করা হয় বলে জানান শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।


খাতাগুলির পরীক্ষক সিলেটের মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি শাবিপ্রবি বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।


একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চা দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন প্রভাষক ইকবাল হোসেন। এ সময় তার দুই বন্ধুকেও খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। খাতাগুলি একটি চালের বস্তায় রাখা ছিল। খবর পেয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে খাতাগুলি জব্দ করেন এবং ওই শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় থানায় যান।


সিলেট জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়াম্যান থানায় আসছেন। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করছেন। পরে আমরা ওই শিক্ষককে তাদের (শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা) হেফাজতে দিয়ে দিয়েছি।”


এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন সোহান বলেন, “সেখানে কোনো খাতা মূল্যায়ন করা হয়নি। সেগুলো আগেই দেখা হয়েছে। মূল্যায়ন করা খাতাগুলি কুরিয়ার করতে নিয়ে যাবার পথে সেখানে বসে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম।”


তবে নাম না প্রকাশের শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শুক্রবার রাতেও সাড়ে ১০টার দিকে একই দোকানে বসে প্রভাষক ইকবালসহ চারজন উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন। এই বিষয়ে হাতে আসা এক ভিডিওতেও তাই দেখা গেছে।


ইকবাল হোসেন সোহানের সঙ্গে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা।


তিনি বলেন, “যার খাতা ওনিই শিক্ষক। তিনি আমার বন্ধু-ব্যাচমেট। আমিসহ এক্স সাস্টিয়ানরা সেখান ছিলাম তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”


খাতা জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।


তিনি বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ব্যস্ত আছি। আমি পরে কথা বলছি। আমি এখন অনেক ব্যস্ত।”

সর্বশেষ সব খবর

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল সদর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৭ এএম

টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে গোপালপুর উপজেলা একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা একাদশ।

 

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেন প্রায় লক্ষাধিক দর্শক।

 

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। উদ্বোধক ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল হক, এমপি, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হক।

 

খেলার শুরুতে দুই দলই কিছুটা অগোছালো ফুটবল খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ছন্দ ফিরে আসে। উভয় দলই রক্ষণভাগ সামলে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয়। ফলে প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।

 

দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সুমন রেজা ও সৌরভ দেওয়ানের আক্রমণে ম্যাচে গতি আসে। খেলার ৫৮তম মিনিটে গোপালপুরের ডি-বক্সের বাইরে থেকে সুমন রেজার নেওয়া জোরালো শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় টাঙ্গাইল সদর।

 

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য গোপালপুরের রবিউল, মামুন ও সিবি একাধিক আক্রমণ চালান। বিশেষ করে প্রায় ৩২ গজ দূর থেকে স্যামুয়েলের নেওয়া দুর্দান্ত শট টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক মজনু ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

 

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন টাঙ্গাইল সদরের অধিনায়ক সুমন রেজা। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন গোপালপুরের মারুফ।

 

ম্যাচ পরিচালনা করেন রেফারি সায়মন। ধারাভাষ্য দেন আব্দুল আলিম ও অনীক রহমান বুলবুল।

সর্বশেষ সব খবর

শনিবার ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ পিএম

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।


শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।


ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে এমপি বলেন, এমন জঘন্য ও পাশবিক অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধী যেই হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব।


এরপর দুপুর ৩টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দেন।


এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রনি বেপারিকে (১৮) গ্রেপ্তার করে।


উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে ১০-১৫ জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল বাড়ি ঘেরাও করে জানালা ভেঙে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় দুর্বৃত্তরা। কিশোরীকে পাশের গ্রামের এক পুকুরপাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাত ৩টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে নিজ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।


এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে মোটরসাইকেলসহ ২ দুর্বৃত্তকে আটক করে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে তাদের। আটককৃতরা হলেন- ওই গ্রামের হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।


সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

রংপুর শিশু হাসপাতাল

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

নির্মাণের সাত বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।


আরিফ আহমদ বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়, জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সকল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।


আরিফ আহমদ বলেন, হাসপাতালে আসবাবপত্রের জন্য এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন স্যাম্পল যাচাই বাছাই চলছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারব। প্রধানমন্ত্রী দু’এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে।


এরপর অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত সাত বছর আগে রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির মধ্যে নির্মাণ করা হয় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। এটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার সেই কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং কর্পোরেশন। 


ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করা হয়। এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জনবল সংকট-অর্থ বরাদ্দে আটকা রংপুরের শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। 


নবনির্মিত এই হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এ ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। আছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুইতলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার। নিচে দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভবন।


শিশু হাসপাতালের মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড এবং কেবিন।


হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে দেওয়া যাবে এবং ভোগান্তি কমে আসবে বলে মনে করছেন রংপুরবাসী।

সর্বশেষ সব খবর

গ্রেপ্তার তিন আসামি হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭) । ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ পিএম

ফরিদপুরের সদরপুরে গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয়দের হাতে আটক দুজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। শনিবার (০১ আগস্ট) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুরে অভিযানে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭)।


ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, ঘটনার রাতে আমার মায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলাম। সঙ্গে ভাবিও ছিল। বাড়িতে ছিল দুই ভাতিজি আর ভাতিজা। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে ভাতিজিকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।


তিনি আরও বলেন, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে ভাতিজিকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। পরে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক দুজন হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।


ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় জুয়া, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা বিরত হয়নি। দীর্ঘদিনের সেই উত্ত্যক্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।


আরেক প্রতিবেশী বলেন, অভিযুক্তরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ছাড়াও ওই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে মনির খান, মিঠুন সরদার, ইমন বেপারীসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে।


ভুক্তভোগীর মা বলেন, শাশুড়ির অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনায় জড়িতরা নিয়মিত মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে।


সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। দুপুরের দিকে রনি বেপারী নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।


 জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অপরাধীদের শাস্তির আশ্বাস এমপির

সর্বশেষ সব খবর

মাহমুদা মিতু

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০১ পিএম

জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু। আজ শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। 


ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, বিএনপি কথায় কথায় আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে- জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। তারা এগুলো বলে অপমান করতে চায়। এগুলো বলে বলে হাদিকে কিন্তু নিউজ ফিড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 


তিনি বলেন, জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের নিয়েও আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।


সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি বলেন, জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে? ১১ দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল কতক্ষণ বলে? বরং তারা দমায়ে রাখে, যাতে ওরা না বলে। এসব অপমান গায়ে মাখবেন না। 


মাহমুদা মিতু বলেন, জুলাইয়ের ব্যবসা করবেন। বিএনপি যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কী? আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, এটা স্নেহ, মায়া, মমতা, এটা দরদ। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখবো।


বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি এরপর বলেন, যেই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজকে সরকার গঠন করেছেন, তাদের মায়েরা তো আপনাদের কথা বলে না। তারা সংস্কারের কথা বলে, সংবিধান সংস্কারের কথা বলে, পুলিশ কমিশন, গুম কমিশন গঠনের কথা বলে। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই। ভালো রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার লড়াই। 


হাজার বেকার তরুণ ভাইয়ের হাতে চাকরি তুলে দেওয়ার লড়াই। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই নারীর সম্মানের লড়াই। আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। এই পরিবর্তনগুলোই আমরা আনতে চাই। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।


মাহমুদা মিতু বলেন, আপনারা একটা লাঠি দিয়ে বারি দেবেন, একটা চোখ অন্ধ করে ফেলবেন; এগুলোর ভয় করি আমরা? আপনাদের মনে হয়, এই ছেঁচড়া গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে, ওই জিয়া সাইবার ফোর্সের গুন্ডাগুলা লেলিয়ে দিয়ে, নোংরা নোংরা ছবি এডিট করে, নোংরা কমেন্ট করে আমাদেরকে দামিয়ে রাখবেন। আমরা এসব পরোয়া করি না। 


এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও  শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ। 


আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। 


অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব, জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলার আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর