'দুধ
আদর্শ খাদ্য হলেও এর পুষ্টিগুন অনেক
মানুষের অজানা। বর্তমনে পরিকল্পিতভাবে ডেইরী খামার তৈরির ফলে দেশে দুগ্ধখাতের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। আধুুুনিক খামার ব্যবস্থপনা, উন্নতা জাতের গবাদি পশু পালন, প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দুধ উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুন।
বিশ্ব
দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে সোমবার (০১ জুন) দুপুরে
রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এ বছর ‘দুগ্ধ
উৎপাদনে নারী খামারী, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
দিবসের
আলোচনা সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহ. নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
এছাড়া
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ডেপুটি চিফ এপিডেমিওলজিস্ট রফিকুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার মুন্নী, রংপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন, ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন রংপুর বিভাগের সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক
এসএম আসিফুল ইসলাম।
সভায়
বক্তারা বলেন, গরু-ছাগলের খামার ও দুগ্ধ উৎপাদন
বাড়ায় গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্রতা হ্রাস ও নারীদের ক্ষমতায়
নিশ্চিত হয়েছে।
আলোচনা
সভায় খামারিরা পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সহযোগিতা, দুধ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে
নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও খামারীদের সমন্বিত্ব
উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে খামারি, দুগ্ধ ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩-এর পৃথক অভিযানে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মামুন (৪২), মো. ফুরকান আলী (৩১) ও মো. আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুর (৪৫)।
র্যাব জানায়, মামুনকে বেগমগঞ্জের আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের খেমচন্দ্রপুর বড় বাড়ির সামনে থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) হত্যা মামলার আসামি। টাকা-পয়সার বিরোধের জেরে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আব্দুর রহিমকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফুরকান আলীকে সোনাইমুড়ীর বারগাঁও ইউনিয়নের কালারাইতা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী আখি আক্তারকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি। অন্যদিকে, আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুরকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের হানুবাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাজাহানপুরে সোহাগ (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, এসব মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীতে ডিএনসি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ৯ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ মোটরসাইকেলে ইয়াবা পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ। এর আগে, নোয়াখালী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দিবাগত রাত দেড়টা পর্যন্ত বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাস টার্মিনাল ও সোনাইমুড়ী বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল হক ওরফে আব্দুল্লাহ (২৮) ও নুরে আলম ওরফে চৌধুরী (৩০)।
ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও ফেনী থেকে মোটরসাইকেলে করে নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে চৌমুহনী ও সোনাইমুড়ী এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে পৃথক অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা, দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আব্দুল হকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮৭০ পিস এবং নুরে আলমের কাছ থেকে ৩ হাজার ৯২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরও বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা ও সোনাইমুড়ী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে ৭ নিহত পরিবারের লোকজন বিচারের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ায় সারাদেশের মতো সিলেটের গোলাপগঞ্জেও বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা পৌর শহরের চৌমুহনীতে জড়ো হয়ে বিজয় মিছিল করেন, মিষ্টি বিতরণে অংশ নেন। তবে এই বিজয়ের ঠিক আগের দিন, ৪ আগস্ট, গোলাপগঞ্জে ঘটে যায় রক্তাক্ত এক অধ্যায়। শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের, বিজিবির গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন আন্দোলনকারী। পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরের ক্বিন ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গোলাপগঞ্জের আরও একজন। সব মিলিয়ে ওই দুই দিনে প্রাণ হারান উপজেলার সাতজন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, এখনো তারা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। তদন্ত এগোলেও কোনো মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হয়নি। ফলে স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি বিচারহীনতার হতাশাও বহন করে চলেছেন তারা।
এলাকারাসী সুত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকালে ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে।আন্দোলনের একপর্যায়ে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চারজন। একই সময়ে পৌর শহরের কদমতলী এলাকায় গুলিতে নিহত হন আরও দুজন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন। সংঘর্ষে পুরো উপজেলা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরের ক্বিন ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গোলাপগঞ্জ উপজেলার আরেক বাসিন্দা। জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিহত সাতজন হলেন, নিশ্চিন্ত গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম, আমুড়া ইউনিয়নের শিলঘাট গ্রামের কয়ছর আহমদের ছেলে সানি আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোট গ্রামের মকবুল আলীর ছেলে তাজ উদ্দীন, একই ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে মিনহাজ উদ্দিন, ঘোষগাঁও গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে গৌছ উদ্দিন, রায়গড় গ্রামের ছুরাই মিয়ার ছেলে জয় আহমদ এবং কানিশাইল গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলাম পাভেল।
শহীদ গৌছ উদ্দিনের ভাই আবুল কালাম জানান, ‘আমার ভাই গৌছ উদ্দিন শহীদ হয়েছে। তাকে তো আর আমরা ফিরে পাব না। আমার ভাইসহ যারা মারা গেছেন, যারা আহত হয়েছেন আমরা তাদের সঠিক বিচার চাই। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পাইনি।”
শহীদ কামরুল ইসলাম পাভেলের বাবা রফিক উদ্দিন জানান, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন আমার ছেলে হত্যার বিচার পাইনি। মামলারও তেমন অগ্রগতি নেই। আমার ছেলে ও অন্য যারা হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে সরকার যেন বিচার নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালের মতো রক্তক্ষয়ী দিন আর কখনো বাংলাদেশে না আসে।’
শহীদ নাজমুল ইসলামের ভাই ছামিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চৌধুরীর নির্দেশে বিজিবির গুলিতে আমার ভাই মারা যান। আমার ভাইকে কোনো সাধারণ মানুষ হত্যা করেনি। সেখানে বিজিবি, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তার স্ত্রী ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আমার মতে, ওই মামলার সব আসামিই নির্দোষ।’
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছবেদ আলী জানান, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় দুটি, সিআইডিতে তিনটি এবং পিবিআইতে দুটি হত্যা মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবগুলো মামলার তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি।
বক্তব্য দেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল
নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি অফিসারের কার্যালয় এর আয়োজন করে। উপজেলার নিবন্ধিত সার ও বীজ ডিলার, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কৃষক, সাংবাদিক প্রমুখ সভায় অংশ নেন। নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও সরকারি হিসাব সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হুদা বাবুল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে সার ও বীজ সরবরাহ সংক্রান্ত নানান সমস্যা তুলে ধরেন। এসময় এমপি ফজলে হুদা বাবুল অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে মানুষ, প্রাণি, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণির শরীরে নানান প্রতিক্রিয়ার বিষয় উল্লেখ করে আগের আমলের মত জৈব সার, কেঁচো সার প্রভৃতি প্রাকৃতিক সারের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি এলাকার বাড়িতে বাড়িতে আগের মত গরুর গোবর ফেলার জায়গা তৈরি করে জৈব সার উদপাদন, গরুর খামার প্রতিষ্ঠা, কেঁচো সারের কারখানা তৈরির কথা বলেন। আগামীতে এলাকায় প্রয়োজনমত রাসায়নিক সার সরবরাহেরও আশ্বাস দেন তিনি।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্থানীয় পর্যায়ে সার বিক্রি ও দাম সংক্রান্ত নানান সমস্যা সমাথানের কথা বলেন। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা মওসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও ডিজেল বাঁকিতে কেনেন। তিন মাস পর ধান উঠার পর সে বাঁকি শোধ করেন। কিন্তু ডিলারদের প্রতিমাসে নগদ টাকায় মালামাল উঠাতে হয়। অনেক কৃষক অল্প পরিমাণ সার কিনে থাকেন। ইউরিয়া সারের ৫০ কেজির বস্তা খুলে বিক্রি করতে গেলে ৪৮ কেজি হয়। এখানেও তাদের লস হয়।
ইউএনও মানজুরা মুশাররফ ডিলারদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আইন মেনে সার বিক্রির পরামর্শ দেন। কখনো অভিযোগ পেলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা কথা বলেন তিনি।
অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন, এমপির প্রতিনিধি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, সার ডিলার খৈতান ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী অমল কুমার খৈতান, হাজী ট্রেডিং কর্পোরেশনের সত্ত্বাধিকারী ডিএম আবু সাঈদ, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, সাংবাদিক একে সাজু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আব্দুল হান্নান, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, কৃষক দল নেতা জহুরুল ইসলাম, আকতার হোসেন পলাশ প্রমুখ।
এসময় অন্যদের মধ্যে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক, সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী, মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, মহাদেবপুরে এমপি রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, উত্তরগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসান, চাঁন্দাশ ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুন নবী রিপন, এনায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, খাজুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, খাজুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বিশ^াস বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ১১ কেজি গাঁজাসহ মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়ার পোল এলাকার হানুর চা দোকানের সামনে চৌমুহনী-ফেনী পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডিমাতলী গ্রামের চিওরা সিরাজ মেম্বারের বাড়ির মো. আবুল কাশেমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের এসআই অনুপ চক্রবর্তী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় একটি সিএনজি তল্লাশি করে ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরে গ্রেপ্তার আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রওনা হন বাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সব তছনছ হয়ে গেছে জাহাঙ্গীরের। দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরের ছোট মেয়ে জাইফার প্রাণ গেছে। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী নুরুন নাহার। ছোট বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ জাহাঙ্গীরের বড় মেয়ে জান্নাতুল ও ছেলে মোহাম্মদ। হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাতুল ও মোহাম্মদ।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় স্বজনরা ভিড় করে আছেন জাহাঙ্গীরের পাশে। অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা জাহাঙ্গীর কোনো কথা বলতে পারছেন না। তার পাশেই রয়েছেন জাহাঙ্গীরের ১৬ বছর বয়সি মেয়ে জান্নাতুল ও ৭ বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জান্নাতুল বলেন, গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে ইউনিক বাসে রওয়ানা দিই সবাই। আমরা ভাই-বোন বসেছিলাম বাসের বাম পাশে। আর ছোট বোন জাইফাকে নিয়ে ডান পাশে বসে ছিলেন বাবা মা। হঠাৎ দেখলাম একটা মোটরসাইকেল বাসের সামনে এদিক-ওদিক যাচ্ছে। বাসের সামনে বারবার চক্কর দিচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করে একটা খুঁটিতে গিয়ে বাস ধাক্কা খেয়েছে এমনটা মনে হয়েছিল। এরপর আর কিছু বলতে পারি না।
জান্নাতুলের প্রতিবেশী সামিয়া বেগম বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডিপুল এলাকায় গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করেন। শুক্রবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হয়। পরে আহতাবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২) এবং ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩)। দুর্ঘটনার পর তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. অপু মিয়া জানান, দুই বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো শেরপুর হাইওয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।