রংপুর-৪ আসনে ইলেকশন
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের করে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ায় অভিযোগ এনে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
করেছে পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা
বিএনপি। কর্মসূচি থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
ভোট পুনর্গণনার ব্যবস্থা করা না হলে পুরো
রংপুর অচল করে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার
(১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ও পীরগাছা উপজেলা
শহরে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে বিএনপি প্রার্থীর বিক্ষুদ্ধ কর্মী-সমর্থকরা।
দুপুরে
পীরগাছা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান শেষে ইউনিয়ন পরিষদ মোড়ে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।
সমাবেশে
পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা অভিযোগ করে বলেন, রংপুর জেলায় ইঞ্জিনিয়ারিং করে জেলার ৬টি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর-৪ আসনে আমাদের
প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত থাকলেও
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সুকৌশলে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।
তিনি
বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে
ভোট পুনর্গণনা করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে
বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত ডিসিকে অপসারণ করবে না এবং ভোট
পুনর্গণনার ব্যবস্থা নেবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকবো।
সংখ্যালঘু
সম্প্রদায় ও স্থানীয়দের আশ্বস্ত
করে রাঙা বলেন, পীরগাছার সর্বস্তরের মানুষ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের
জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিএনপির। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা জমি দখলকে
কেন্দ্র করে কেউ যেন রাজনীতির নাম ব্যবহার না করে।
এসময়
দাবি আদায়ে আগামীকাল রোববার সকাল ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে পুনরায় সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে
আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও ছাত্রদলের আহবায়ক
লোকমান হোসেন প্রমুখ।
এর
আগে পীরগাছার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের
নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রধান সমাবেশে যোগ দেন।
এ
বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে আমি একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এছাড়াও
কাউনিয়া উপজেলায় ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ
শেষে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ
সময় কাউনিয়ায় বিক্ষুদ্ধ জনতার কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে এমদাদুল হক ভরসাকে সাথে
কথা বলে তার খোঁজখবর নেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। তিনি
অভিযোগ করেন, নীল নকশার মাধ্যমে ভোট কারচুপি করে নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে এনসিপির আখতার হোসেন। যা জনগণ মেনে
নিতে পারছেন না, এ কারণে ভোট
পুনর্গণনা করতে হবে।
এর
আগে, সকাল থেকে হারাগাছ পৌর এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রেখে অঘোষিত হরতাল কর্মসূচি পালন করে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তারা হারাগাছে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে
অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান।
‘ইলেকশন
ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর অভিযোগ তুলে
ধরে শুক্রবার রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার
কাছে ফলাফল পুনর্গণনার আবেদন জমা দেন এমদাদুল হক ভরসা।
তিনি
অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহায়তায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ১১-দলীয় নির্বাচনী
ঐক্য সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
ভরসা
জানান, তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন মব সৃষ্টি করে
এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
ভরসা
অভিযোগ করেন, প্রায় ৮ হাজার ৫০০
ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা
করলে প্রকৃত ফলাফল বেরিয়ে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর
আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
অন্যদিকে,
রংপুর-৪ আসনে হারাগাছ,
পীরগাছা ও কাউনিয়ার বিভিন্ন
এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন
বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন।
শনিবার
দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আখতার
হোসেন লিখেছেন, ‘হারাগাছে এখন ভরসার ভাড়া করা লোকেরা যা করছে তা
নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রশাসনের কর্তারা আলোচনার মাধ্যমে আইনগতভাবে এই সমস্যার সমাধান
করুন। সময়ক্ষেপন করার সুযোগ নাই। যেসব মানুষদের ভাড়া করে আনা হয়েছে তারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
আখতারের
দাবি, ‘ভরসার নেতাকর্মী তাদেরকে লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত
করছে। এই আইন লঙ্ঘনের
পরিস্থিতির দায়ভার বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। এখানে অধিকাংশ মানুষ কোনও কিছু না বুঝে, আইনের
বিষয়ে অবগত নয় জন্য, দিনহাজিরার
বিনিময়ে এসেছে।’
তিনি
আরও লিখেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ কোনওভাবেই ভরসার লোকদের দ্বারা জোর করে ধরে নিয়ে এসে মিছিল করানো এইসব জিম্মি থাকা নিরীহ মানুষদের প্রতি কোনরুপ ফোর্স এপ্লাই করা যাবে না। আলোচনা করে আইনি পন্হায় সুরাহা করুন। যারা ভাঙচুর লুটপাট আহত করছে শুধু সেসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষরা নিরাপদ থাকবে।’
এর
আগে সকালে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে আখতার হোসেন লিখেছেন ‘ওরা আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর ভেঙে লুটপাট
করছে। অনেককে রক্তাক্ত করেছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এইসব সন্ত্রাসীদের শাস্তি চাই। ন্যায়বিচার চাই। সবাইকে শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলার অনুরোধ।’
গত
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনে জেলা
রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র প্রার্থী আখতার
হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯
হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯ হাজার ৪০২
ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি।
বিএনপি
প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন
১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪
ভোট। এই আসনে জাতীয়
পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪
ভোট।
পীরগাছা
ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট
ভোটার ৫ লাখ ৯
হাজার ৯০৬ জন। দুই উপজেলার ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮
হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ
৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৮ হাজার ২৬৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৬ দশমিক ৩৫
শতাংশ।
কাশিমপুর ভূমি অফিস
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাদের বরখাস্ত করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি ভূমি কর্মকর্তা ও সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিমসহ চারজনকে বরখাস্ত করেন। পরে তিনি সফিপুরে অপর একটি ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান।
ঝালকাঠির নলছিটিতে নাচনমহল বাজারে ভোক্তা অধিকারে অভিযানে ৫ টি দোকানে মোট ১৮০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রোজ সোমবার (৩ আগষ্ট) সকাল ১১ টায় নলছিটির নাচন মহল বাজারে এই জরিমানা করা হয়৷
এসময়ে মা মেডিকেল হল এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ১২০০০ টাকা, বিশ্বাস মেডিকেল হল এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ১০০০, লাইভ বেকারী এর মূল্য তালিকায় না থাকার কারনে ৩০০০, রাকিব ষ্টোর এর মূল্য তালিকা না থাকার কারনে ১০০০, শাহালম ষ্টোর এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ১০০০, মোট ৫ টি দোকানে ১৮০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানা পরিচালনা করেন সাফিয়া সুলতানা সহকারী পরিচালক ভোক্তা অধিকার ঝালকাঠি।
এসময়ে সাফিয়া সুলতানা বলেন নাচন মহল বাজারে কয়েকটি দোকানে মূল্য তালিকা না থাকার কারনে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ৫ টি দোকানে মোট ১৮০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাফিয়া সুলতানা বলেন এই অভিযান আমাদের অব্যাহত থাকবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের গনিপুর এলাকার চান মিয়া বাড়ির চাপরাশিয়া রাস্তার পাশে মাছের প্রজেক্টের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ৩ থেকে ৪ দিন পানিতে থাকায় হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে গেছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করায় সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল চক্রান্ত ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা,মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাভারে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারসহ বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এসআই নিয়ামত উল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে তার ধারাবাহিক তৎপরতায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।অভিযোগ রয়েছে,চিহ্নিত অপরাধী, মাদক কারবারি ও সুবিধাবঞ্চিত স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী সংগঠিত হয়ে এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে এসআই নিয়ামত উল্লাহ বলেন,“আমি সবসময় আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে আসছি।অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্ত শুরু করেছে।তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায় এবং আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি,এমন কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করা হোক।”
এদিকে,এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনায় সাভার মডেল থানার সহকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সচেতন মহলের দাবি,দায়িত্বশীল ও অপরাধ দমনে সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পরিকল্পিতভাবে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না,তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
"খেলা হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ বড়মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করেই একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে জাতীয় নেতৃত্ব খেলাধুলার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেনকে রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর এত দর্শকে ভরা একটি গ্রামীণ মাঠ তিনি প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি বলেন, যারা খেলাধুলা করে তারা তুলনামূলকভাবে ধৈর্যশীল, দেশপ্রেমিক ও সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। বর্তমান সময়ে তরুণদের মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরীর এ উদ্যোগকে তিনি একটি মডেল হিসেবে উল্লেখ করে দিনাজপুর জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম বলেন, মানুষের বিনোদনের পরিসর কমে যাওয়ায় অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে সমাজ থেকে মাদক অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। তিনি উপস্থিত সকলকে মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং বলেন, শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে মাদক নির্মূলে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান এবং বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোচাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আহ্বায়ক মো. মোকসেদ আলী মঙ্গোলিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুমন চৌধুরী, সদস্য সচিব মো. রায়হান রুবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহমুদুর রহমান ফেরদৌস, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হারেসুল ইসলাম, মো. জামাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. উজ্জ্বল, থানা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক, মো. আসাদুল চৌধুরী, যুবদল নেতা মো. ফাহীমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্যা মোছা. রাশেদা খানম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি বলেন, "যে যুবক মাঠে ঘাম ঝরায়, সে কখনো মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে যায় না।"অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে রংপুরের পীরগঞ্জ একাদশের মুখোমুখি হয় চিরিরবন্দরের রানীর বন্দর ফুটবল একাডেমি। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হওয়ায় খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রানীর বন্দর ফুটবল একাডেমি, চিরিরবন্দর। বিজয়ী দলের গোলরক্ষক সাজু ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। মাঠে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বক্তব্য, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং সার্বিক আয়োজন পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয় থেকেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খালগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল (২ আগস্ট) রবিবার উপজেলার সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটসংলগ্ন খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, নেট পাটা এবং পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ দখল অপসারণ করা হয়। ফলে খালগুলোতে যেমন স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে এনে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে পাশাপাশি পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা প্রশাসনের বেশ তৎপরতা দেখা যায়।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বটিয়াঘাটা উপজেলার সকল খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং খালগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি এবং প্রতি রবিবার নতুন দুটি খালে অভিযান শুরু করবো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে সপ্তাহজুড়ে এ সমস্ত অবৈধ দখল ও নেট পাটা উচ্ছেদ করা হবে। আজ এরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটের খালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে” বলে জানান তিনি।
অভিযান পরিচালনাকালের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান, ভূমি অফিসের কানুনগো রিয়াজ উদ্দিন, সার্ভেয়ার মো. মাহতাব হোসেন, নাজির সাইফুল্লাহ, পেশকার প্রসেনজিৎ দাস এবং জলমা ভূমি অফিসের নায়েব মো. কামরুজ্জামান।এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সহ অনেকেই অভিযানে অংশ নেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন যেকোনো অবৈধ স্থাপনা বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।