• প্রকাশ : বুধবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:৪৯ পিএম

মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে আইন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক, ট্রমা সচেতন এবং লিঙ্গ সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারের বক্তারা।


তারা বলেন, মৌলিক আইনগত জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের জন্য অপরিহার্য, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও আইনের শাসন জোরদারে সহায়ক হবে।


“এডুকেটিং ফর জাস্টিস: এমপাওয়ারিং ল’ গ্র্যাজুয়েটস টু ফাইট হিউম্যান ট্রাফিকিং (Educating for Justice: Empowering Law Graduates to Fight Human Trafficking)” শীর্ষক সেমিনারটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের এ কে খান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।


এতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং আইন পেশাজীবীরা অংশ নেন। আলোচনায় মানবপাচার বিরোধী আইন বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে শোষণের মতো নতুন প্রবণতার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে সেমিনারটি আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কুইজ প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং আইওএমের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে রেফারেন্স বই হস্তান্তর করা হয়।


মানবপাচার প্রতিরোধে যুবসমাজ ও একাডেমিয়ার ভূমিকা স্বীকার করে আইওএম তার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা “সেফগার্ডিং লাইভস – হিউম্যান ট্রাফিকিং প্রিভেনশন (Safeguarding Lives – Human Trafficking Prevention)”।


সেমিনারের শেষে আইন অনুষদের সেমিনার হলে আইওএমের সহায়তায় এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)-এর অর্থায়নে আইটি সরঞ্জামসহ একটি বুক কর্নার উদ্বোধন করা হয়, যা মানবপাচার বিরোধী বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়ক হবে।


উদ্বোধনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. জাফর উল্লাহ তালুকদার এবং আইওএমের হেড অব প্রোটেকশন পূজা ভাল্লা একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও বিচার খাতের অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।


মূল প্রবন্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এ.বি.এম. আবু নোমান মানবপাচার বিষয়ক আইনকে স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।


অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (রাজনৈতিক অনুবিভাগ-৩) মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সংক্রান্ত বাস্তব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।


সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক অনুবিভাগ-১) মু. জসীম উদ্দিন খান। তিনি ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের নৈতিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, শুধু আইন ও বিধি সম্পর্কে জ্ঞান থাকলেই চলবে না। একজন পেশাজীবীর জন্য বিশ্লেষণী ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং নৈতিক মানদণ্ড অপরিহার্য। সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাসঙ্গিক তথ্য, প্রমাণ এবং বাস্তব প্রেক্ষাপটের সুপরিকল্পিত মূল্যায়ন জরুরি।


দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত একটি বিস্তৃত সেমিনার সিরিজের অংশ চবি’র এই সেমিনারটি। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিচার খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা জোরদার করা এবং আইওএম কর্তৃক উন্নয়নকৃত মানবপাচার আইন মডিউলকে স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একাডেমিক প্রস্তুতি সৃষ্টি করা।


এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার, ফৌজদারি বিচার এবং মানবপাচার প্রতিরোধে পেশাগত পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি আরও সক্ষম ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক জাতীয় বিচার ব্যবস্থায় অবদান রাখবে।



সর্বশেষ সব খবর

আশা সিমেন্ট: স্বপ্নযাত্রায় নব দিগন্ত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৭ পিএম

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ট্রিপল টেস্টেড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড সিমেন্ট আশা সিমেন্ট বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।


আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে এ উপলক্ষে নোয়াখালী মাইজদীর নোয়া কনভেনশন সেন্টারে “আশা সিমেন্ট: স্বপ্নযাত্রায় নব দিগন্ত” শীর্ষক প্রোডাক্ট লঞ্চিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আশা সিমেন্টের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মো. সজিবুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, আশা সিমেন্টের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মেহেরাজুল ইসলাম, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মাইন উদ্দিন হাসান জুয়েল এবং নোয়াখালী অঞ্চলের রিজিওনাল হেড মো. মুহাইমিনুন হক।


এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা, ডিলার, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আশা সিমেন্ট দেশের নির্মাণ খাতে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের গ্রাহকদের কাছে উন্নতমানের সিমেন্ট ও নির্ভরযোগ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশন, ব্যবসায়িক মতবিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র‍্যাফেল ড্র এবং অতিথিদের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা ছিল। পুরো অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।


প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আশায় গড়ি আগামী” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণসামগ্রী ও সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে আশা সিমেন্ট।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৯ পিএম

তৃণমূলে ভালো খেলোয়ার তৈরি হলে, একদিন তারাই জাতীয় দলে খেলবে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো। 


তিনি বলেন, ক্রীড়া একটি শক্তি। ক্রীড়াই মাদক ও সন্ত্রাস থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে পারে। তাই বর্তমান সরকার খেলাধূলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। ফুটবল বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। তৃণমূলে ভালো খেলোয়ার তৈরি হলে, একদিন তারাই জাতীয় দলে খেলবে। তাই তরুণদের খেলাধূলার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান ইলেন ভূট্টো। 


শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি চায়না মাঠে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি নলছিটি চায়না মাঠ সংস্কারের জন্য নগদ দুই লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা করেন। এ ঘোষণায় খুশি স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা। 


এমপি পুরো সময় উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন। ফাইনাল খেলায় অংশ নেয় বরিশালের মোস্তফা ফুটবল একাডেমি ও নলছিটি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা দল। খেলায় ২-০ গোলে বরিশাল মোস্তফা ফুটবল একাডেমি দল বিজয়ী হয়। পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের মাঝে রঙিন টেলিভিন ও ট্রফি তুলে দেন সংসদ সদস্য ইলেন ভূট্টো। নলছিটি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।


অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান হেলাল, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা ছালু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদুল হক সহিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ, সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত করিম মিশু, সাবেক কাউন্সিলর সরোয়ার হোসেন তালুকদার, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল কবীর মিঠু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা ও যুবদলনেতা হাসিবুল হাসান সবুজ উপস্থিত ছিলেন। শতশত ফুটবল প্রেমী খেলাটি উপভোগ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

গাজীপুরে শুরু হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০১ পিএম

​শহুরে জীবনে গৃহপালিত ও পোষা প্রাণীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে গাজীপুরে শুরু হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা। জেলা শহরের হাক্কানী সোসাইটির আবেদ প্লাজায় স্থাপিত এই বেসরকারি ক্লিনিকটি আজ শনিবার সকালে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।


​উদ্বোধন পরবর্তী এক সুধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, আধুনিক নগরায়ণের যুগে পোষা প্রাণী শুধু শখ নয়, অনেকের পরিবারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে তাদের সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। গাজীপুরে অ্যাপোলো পেট ক্লিনিকের এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রাণীপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাবে এবং পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


​অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক ও মিরার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও রেডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আতাউর রহমান, এনটিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার নাসির আহমেদ, গাজীপুর বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং মিরার এগ্রো লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কাজী মো. মাহফুজুল হক হীরক।


​ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ চিকিৎসকের সমন্বয়ে এখানে পোষা প্রাণীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাদান, সার্জারিসহ যাবতীয় চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে দরিয়ানগর সৈকত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম অক্ষর সৌভিক রায় (৩১)। তিনি খুলনা সদর উপজেলার বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে। একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।


জানা গেছে, শনিবার সকালে ৯ জন বন্ধু খুলনা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। দুপুরে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় অক্ষর সৌভিক রায় প্যারাসেইল থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


৩০০-৪০০ ফুট উঁচু থেকে হঠাৎ নিচে ছিটকে পড়েন: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে অক্ষর শৌভিক তাঁর বন্ধুদের নিয়ে দরিয়ানগর সৈকতে যান। এরপর ২ হাজার টাকায় টিকিট কেটে আকাশে ওড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। দুপুর ১২টার সময় তাঁকে প্যারাসেইলিংয়ে বেঁধে আকাশে ওড়ানো হয়। প্যারাসেইলিং ৩০০-৪০০ ফুট ওঠার পর হঠাৎ শৌভিক রায় নিচে বঙ্গোপসাগরে ছিটকে পড়েন। কিছুক্ষণ পর প্যারাসেইলিং কর্মচারীরা সাগরের পানি থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


শৌভিকের সঙ্গে বেড়াতে আসা একজন যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যারাসেইলিং থেকে যখন শৌভিক সমুদ্রের পানিতে ছিটকে পড়ছিলেন, তখন উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। দরিয়ানগরে কোনো লাইফগার্ড চোখে পড়েনি। একটি স্পিডবোট তখন শৌভিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, ততক্ষণে সব শেষ।’


জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় সমুদ্রে পড়ে ওই পর্যটক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সহেল বলেন, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শৌভিককে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।


তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।


স্থানীয়দের দাবি, দরিয়ানগর এলাকায় মো. ফরিদের মালিকানাধীন ওই প্যারাসেইলিংয়ে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও পরে আবার চালু করা হয়।


দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ আলম বলেন, প্যারাসেইলিংয়ের সময় হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান শৌভিক। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন: দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজন ও সফরসঙ্গীদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় স্বজনরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিচালিত প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা মান, সরঞ্জামের সক্ষমতা এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।


কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহত পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বৈরী পরিবেশে প্যারাসেইলিং পরিচালনা এবং পর্যটকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্যারাসেইলিং করা হচ্ছিল: বৈরী পরিবেশের কারণে তিন দিন আগে দরিয়া নগরসহ সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মো. আ মান্নান। তিনি বলেন, সব ধরনের প্যারাসেইলিং বন্ধ ছিল। এর মধ্যে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্যারাসেইলিং করা হচ্ছিল। আজ এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, যা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্যারাসেইলিং করার জন্য প্রশাসন থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।


সৈকতের  ১১৫ কিলোমিটার এলাকায় কোনো লাইফগার্ড-ডুবুরি নেই:  সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি সি-সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, শহরের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্টের পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে নিরাপত্তার জন্য ২৭ জন লাইফগার্ড কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু কলাতলী থেকে দক্ষিণ দিকে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার সৈকতে কোনো লাইফগার্ড কিংবা ডুবুরি থাকে না।


সর্বশেষ সব খবর

বাঞ্ছারামপুরে জামায়াতের গণমিছিল

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখা।


আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিলটি বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের বড়বাজার, প্রতাপগঞ্জ বাজার ও মোল্লাবাড়ি স্টিল ব্রিজ অতিক্রম করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।


সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আবুল বাশার বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সংগ্রাম চলমান রয়েছে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”


উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শামীম নুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ নকিবুল হুদা। তিনি বলেন, “অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও পৌর আমীর মো. আলাউদ্দিন সাদি, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুফতি কামালউদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. এনামুল হক, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. সাইদুর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।


কর্মসূচি শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে গণমিছিলে শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতের গণমিছিল

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২১ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।


আজ শনিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জুলাই চত্বর হতে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন দলের নেতাকর্মীরা। 


জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর সভাপতিত্বে সমাবেশ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য এবং সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারী মোহাম্মদ আরমগীর, সহকারি জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ।


এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শহর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ শামীম, সদর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, সদর সেক্রেটারী এস.এম আদিউল ইসলাম প্রমুখ।


বক্তাগণ অবিলম্বে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবান এবং জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহব্বান জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে জামায়াত ঘরে থাকবে না বলেও সরকারের প্রতি হুশিয়ারি দেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর