নোয়াখালী জেলা জজ আদালত।

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ এএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।


তার নাম মো.বেলায়েত হোসেন। তিনি রুপালী ব্যাংক পিএলসি সোনাইমুড়ী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন।  


বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো.শওকত আলী এ রায় দেন।  


দন্ডিত বেলায়েত সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামের আনছার আলী বেপারী বাড়ির মৃত আব্দুর রবের ছেলে।  


আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলায়েত ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত রুপালী ব্যাংক পিএলসি সোনাইমুড়ী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় ৫৬জন গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে নগদ তিন কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯৪ টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাত করে। যাহা দুদকের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে দুদকের তৎকালীন সহকারি পরিচালক মো.হোসাইন শরীফ অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন নোয়াখালী দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহির উদ্দিন।


দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, আদালত ৫৬ গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায়ে তিন ধারায় আসামিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিন কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯৪ টাকা জরিমানা করেন। আসামি বেলায়েত হোসেন পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে।  




  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে টানাপড়েন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে উপজেলার সাংবাদিকদের অন্তত তিনটি গ্রুপ নিজেদের সংগঠনকে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ হিসেবে দাবি করছে। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএ টিভির প্রতিনিধি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ, দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার প্রতিনিধি আবুল খায়ের খানের নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপ এবং দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি বিএম হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপ পৃথকভাবে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করছে।


এর মধ্যে জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ ইতোমধ্যে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে একটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে আবুল খায়ের খানের পক্ষের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে তাদের সংগঠনই বৈধ এবং একই নামে অন্য কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।


জাকির হোসেন বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেছি সবাইকে এক করে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে। কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। যারা একসঙ্গে সাংবাদিক পরিবার হয়ে থাকতে চায়, তাদের নিয়েই শিবচর প্রেস ক্লাবের নির্বাচন আয়োজন করে।


আবুল খায়ের খান বলেন, শিবচর প্রেস ক্লাব নামে ২০০৯ সাল থেকে সরকারি নিবন্ধন রয়েছে। কেউ চাইলেই এই নাম ব্যবহার করতে পারবে না। যারা শিবচর প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নির্বাচন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অন্যদিকে বিএম হায়দার আলী বলেন, খুব শিগগিরই মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের একত্র করে শিবচর প্রেস ক্লাব গঠন করা হবে। তখন আর কেউ এই নাম ব্যবহার করে ভুয়া সংগঠন করতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে যারা আওয়ামী লীগের দালালি করেছে এবং দলীয়ভাবে কাজ করেছে, তাদের বাদ দিয়ে সব সাংবাদিককে নিয়ে শিবচর প্রেস ক্লাব গঠন করা হবে।


এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব  সোহেল রানা বলেন, আমরা চাই শিবচর উপজেলার সব গণমাধ্যমকর্মী এক কাতারে আসুক। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে তারা শিবচরের উন্নয়নে একত্রিত হয়ে কাজ করুক। তাদের কাছ থেকে আমরা মুক্ত ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করি।


স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একই নামে একাধিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন,  আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো না গেলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

‘রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, বিভেদ তৈরি করে’

সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের


বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ পিএম

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, বিভেদ তৈরি করে ও বিভাজন সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে সেই বিভাজন দেখতে চাই না। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে।



রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতিতে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। “শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে তোমারি সুরটি আমার মুখের ’পরে বুকের ’পরে” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী-কর্মীরা অংশ নেন।


মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে বসে চা খেতেন, গল্প করতেন। রাজনৈতিক মঞ্চে গিয়ে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকত। সেই সম্প্রীতির সমাজই আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।


তরুণ প্রজন্মকে নাটক, সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলা তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক করে তোলে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। যখন ছেলেমেয়েরা মাঠে খেলাধুলা করে, নাটক করে কিংবা সাংস্কৃতিক অনুশীলনে ব্যস্ত থাকে, তখন সেখানে মাদকের কোনো স্থান থাকে না।


সাংস্কৃতিকর্মীদেরও পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেক নাট্যকর্মী ও শিল্পী রয়েছেন যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সাংস্কৃতি চর্চা করলেও আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করেন। তাদের সহযোগিতা করা এবং শিল্প-সাংস্কৃতির বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার তাগিদ জানান তিনি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন কুঁড়ি ও যে সাংস্কৃতিক চর্চার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোতোষ কুমার দে, ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির সভাপতি ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী সহ অনেকে।

মুক্তাগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

সপ্তাহে ২–৩ দিন অফিস, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অফিস সময় মেনে কার্যক্রম পরিচালনা না করা, দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিস পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মুক্তাগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সাইফুল বারী নিয়মিতভাবে সপ্তাহে মাত্র ২ থেকে ৩ দিন অফিস করেন। ফলে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এতে এসএটি লাল মিয়া, অফিস সহকারী মো. মাসুদুর রহমানসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধনে বিলম্ব, অযথা জটিলতা সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবস অফিস চালু থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে মুক্তাগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তার ব্যত্যয় ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।


এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


প্রতিবেদকের বক্তব্য: উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার সাইফুল বারী, এসএটি লাল মিয়া ও অফিস সহকারী মো. মাসুদুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগ অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এসব অভিযোগের কিছু ক্ষেত্রে তদন্তও হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৮ পিএম

রাস্তার নামে খাস জমি  লীজ নিয়ে সেটিকে ব্যক্তিগত দখলে রাখা এবং বহুতল ভবনের মালিক হয়েও ১৩ শতাংশ জমি লীজ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর নগরীর আবু শামীম গংএর বিরুদ্ধে। 


স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা বলেন সরকারি জমি রাস্তা হিসেবে লীজ নিয়ে সেখানে দেয়াল ও লোহার গেট নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে জমিটি বর্তমানে অভিযুক্তের দখলে। সেই জমি বন্ধ থাকায় আশেপাশের বেশ কয়েক পরিবারের মানুষকে জীর্ণশীর্ণ সরু পথ ও মানুষের বাড়ির উঠান দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।


এ নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী শাহিনুর খাতুন বলেন, জুন মাসের ৭ তারিখ হঠাৎ কিছু ছেলেরা এসে ঘর-দুয়ার ভেঙে দেয়। কোনো সরকারি লোক ভেঙে দেয়নি। রাস্তার জন্য ঘর সরাইছি, রাস্তা তো আমরা পাইনি। 


আরেক স্থানীয় ভুক্তভোগী বলেন, একদিন দেখি মাহিগঞ্জ থেকে তফসিলদার আসছে, এডিসি আসছে। তারা এসে পরিস্থিতি দেখতেছে আর জিজ্ঞাসা করতেছে, রাস্তার কথাই বলছে। তখন আমি বলি স্যার, রাস্তায় যদি হয় তাহলে গেট লাগানো কেনো।


উক্ত জমির এস. এ. রের্কড অনুযায়ী রংপুর জেলার  আলমনগর মৌজায় জে.এল. নং ৯৬, এস.এ. খতিয়ান নং ১৭৯৭ এ ৩৭৪৩ দাগের ৫শতক এবং ৩৭৪৬ দাগের ৫২ শতক মোট ৫৭ শতকের মূল মালিক সেলিনা বেগম। যিনি একজন অবাঙ্গালীনি এবং বিগত স্বাধীনতা যুদ্ধে তার জমি পতিত অবস্থায় ফেলে রেখে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেলে রাষ্ট্রীয়  বিধি মোতাবেক উক্ত ৫৭ শতক জমি পরিত্যাক্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে বিভিন্ন সময় সেই জমি জেলা প্রশাসন রংপুর থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে লীজ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত আবু শামীম,  তার মা মৃত আফরোজা বেগমের পরিবার তারাও এই মোট জমির ১৩ শতাংশের লীজ গ্রহণকারী। তারা তাদের জমির সামনের আংশে থাকা বাকি দুই শতক জমি লীজের আবেদন করলে তৎকালীন জেলাপ্রশাসক তার আবেদন বাতিল করেন। লীজ আবেদন বাতিল করলে আফরোজা বেগম বাদি হয়ে জেলা প্রশাসক ও শাহিনুর খাতুনের নামে উর্দ্ধতন জজ আদালত, সদর, রংপুরে শাহিনুর খাতুনের টিনের চালা অপসারণ ও খাস দখলের মামলা করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার জবাব দেওয়া হয়। সেই মামলায় বাদীপক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ এ মামলাটি খারিজ করে দেন। জবাবে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট উল্লেখ করেন বাদিনী আফরোজা বেগমের আরজীর অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন কারণ পরিত্যাক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী শহরের গৃহহীন অসচ্ছল পরিবারকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এক সনা মেয়াদি লিজ প্রদান করা হয়। যেহেতু বাদিনি সচ্ছল ও একাধিক বহুতল ভবনের মালিক  গৃহহীনকে লিজ প্রদানের উদ্দেশ্যে  বাদিনীর লিজ বাতিল করা হয়। 


লীজের অনুমোদন বাতিল হলেও পরে কৌশলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে ২ শতক খাস জমি লীজ নেওয়া হয়। শর্ত ছিল, জমিটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু লীজ পাওয়ার পর সেখানে দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেন আবু শামীম গং। ‎এতে আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ অন্যের বাড়ির উঠান ও সরু গলিপথ ব্যবহার করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।


এ বিষয়ে গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন স্থানীয় কামরুল হাসান টিটু এবং আলমগীর হোসেন অপু । সেই দায়েরকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, রংপুর মহানগর রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসের অধীন আলমনগর মৌজা, জে.এল. নং-৯৬, এস.এ খতিয়ান নং-১৭৯৭-এর ৩৭৪৩ ও ৩৭৪৬ দাগভুক্ত মোট ০.৫৭ একর সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তির মধ্যে ০.১৩ একর জমি (এপি কেস নং-৪/৮৫-৮৬)  আবু শামীম, পিতা মৃত ওয়াজেদ আলী, নিজ নামে, বেনামে এবং ভাই-বোনদের নামে বেআইনিভাবে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ভূমিহীনরা সরকারি জমির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং তাদের উচ্ছেদ, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আলমনগর মৌজার এস.এ খতিয়ান নং-১৭৯৭-এর ৩৭৪৩ ও ৩৭৪৬ দাগে ২৫.৫  শতক জমির মালিকানা দাবি করে আবু শামীমের মা মৃত আফরোজা বেগম ১২ আগস্ট ২০১৪ তারিখে সহকারী জজ আদালত, সদর, রংপুরে অন্য মামলা নং-১৫৫/১৪ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি জমি দখলের উদ্দেশ্যে ওই মামলা করা হয়েছিল।


অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর, রংপুর ১০ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে স্মারক নং-৮৩২ এর মাধ্যমে মাহিগঞ্জ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তৎকালীন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান ৪ মে ২০১৬ তারিখে স্মারক নং-১২১ এর মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে আফরোজা বেগমের পরিবারকে একাধিক বহুতল ভবন ও জমিজমার মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।


অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এপি কেস নং-৪/৮৫-৮৬-এর আওতাভুক্ত একই জমি নিয়ে আবু শামীমের করা উচ্ছেদ মামলা নং-০৮/২০১৫ তদন্ত শেষে ১৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে জেলা প্রশাসক খারিজ করে দেন এবং মোছা. শাহিরুন বেগমের লিজ পুনর্বহাল করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর পর আবু শামীম একই জমি ও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবারও উচ্ছেদ মামলা নং-০১/২০২৩ দায়ের করেন, যেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ করা হয়।


অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগেও এক ব্যক্তির আবেদনের পর মৃত আফরোজা বেগম ও তার ছেলে আবু শামীমের নামে দেওয়া লিজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছিলেন। 


এ ঘটনায় অভিযোগকারী আরো বলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় লীজ বাতিলের পর আবারও লীজ পান। 


স্থানীয় ও অভিযোগকারীদের দাবি বেআইনিভাবে খাস জমি লীজ গ্রহণ, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ব্যক্তিগত দখলে নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়। রাস্তা বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ পুরো এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় অভিযোগকারী জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আবু শামীম ও তার স্বজনদের নামে, বেনামে প্রাপ্ত কথিত বেআইনি লিজ বাতিল করে সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি প্রকৃত ভূমিহীন ও যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বিধি অনুযায়ী লিজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


‎এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিচিল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


‎‎প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কোন অদৃশ্য শক্তিতে সরকারি লীজের রাস্তা নিজের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাবহার করছেন এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।আর অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্মে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অর্ধশত পরিবার।

মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির পর

সুরক্ষার আবেদন জানালেন পাথরঘাটার দুই বোন


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

"তালাকের পরেও আমাদের জীবনে ভয় রয়ে গেছে। আমরা আমাদের দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে চাই। কিন্তু সাবেক স্বামী ও তার সহযোগীদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে আমরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"


এভাবেই অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মিতু শারমিন।


রবিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বরগুনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন মহিমা আক্তার।


লিখিত বিবৃতিতে মিতু শারমিন অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিয়ের শুরু থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।  পরে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে তালাক দেওয়ার পর স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।


তিনি আরও বলেন যে, বিয়ের সময় তিনি স্বামীর দেওয়া ভরণপোষণের টাকা জমিয়ে তার দুই ছেলের নামে প্রায় ২৫০ একর জমি কিনেছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, সেই জমি নিয়েও একটি বিবাদ তৈরি হয়েছিল।


মিতু শারমিন অভিযোগ করেন যে, তালাকের পর তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে অপমান করার উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি তার প্রাক্তন স্বামী ও তার সহযোগীরা পাথরঘাটা থানার সামনে তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর তিনি ও তার বোন চিকিৎসার জন্য যান।


তিনি বলেন, "আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে চাই। কিন্তু আমাকে প্রতিনিয়ত ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।"


 এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনকে তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


তবে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বা তার পরিবারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


সংবাদ সম্মেলনে মিতু শারমিনের মা, বোন, খালা ও সন্তানরাও উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫৭ পিএম

টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘দূর্বার-১৮’ এসএসসি ব্যাচের উদ্যোগে পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হক সানু।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এবং পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব।বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য সাদৎ-আল-হারুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিয়াচান।


বক্তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।