কোস্ট গার্ডের স্টেশনে গ্রামবাসীর হামলা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১১ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলায় উপকূল রক্ষী বাহিনী কোস্ট গার্ডের একটি স্টেশনে গ্রামবাসী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার সকালে জয়মনিরঘোল এলাকার গ্রামের নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ছোট ছোট নৌকায় গিয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশনের নৌযানে হামলা চালায়।


বিকালে কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


হামলার কারণ হিসেবে কোস্ট গার্ডের বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, “মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অপতৎপরতা চালানো হয়েছে।”


উপকূল রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।


এলাকাটি মূল সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি হওয়ায় এবং যোগাযোগ সমস্যার কারণে গ্রামবাসী বা স্থানীয়দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


স্থানীয়দের হামলা-ভাঙচুরের পৌনে দুই মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, জয়মনিরঘোল এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা হাতে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে পশুর নদে কোস্ট গার্ডের নৌযানে উঠে পড়েন। তারা কোস্ট গার্ড সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।


কোস্ট গার্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে।


“বিশেষ করে জয়মনিরঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।”


এই পরিপ্রেক্ষিতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার কথা বলে কোস্ট গার্ড বলেছে, হামলায় দায়িত্ব পালনরত তাদের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।


একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।


এতে বলা হয়, “কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, কেউ বাহিনীর চলমান দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।”


এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার ঘবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তারা সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।


তবে এ ঘটনায় কোনো গ্রেপ্তার নেই জানিয়ে ওসি বলেন, এ ব্যাপারে কোস্ট গার্ড থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সকাল থেকে আমরা উত্তেজনার কথা জানতে পারি। গ্রামবাসী সেখানে কোস্ট গার্ডে স্টেশনে হামলা চালিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা তদন্ত করে দেখছে।”




  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

নওগাঁর আত্রাইয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের সার বিক্রির সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানের মোট তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।


আদালত সূত্র জানায়, উপজেলার ব্রজপুর, সিংসাড়া ও ভবানীপুর বাজারে অভিযান চালানোর সময় ভেজাল ও নিম্নমানের দস্তা সার বিক্রি করতে দেখে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ লঙ্ঘনের দায়ে মেসার্স এগ্রীজয়েন্ট এন্টারপ্রাইজকে এক হাজার টাকা, মেসার্স আয়েন উদ্দিন ট্রেডার্সকে পাঁচশ’ টাকা এবং মেসার্স করবেল ইন্টারন্যাশনালকে এক হাজার পাঁচশ’ টাকা জরিমানা করা হয়।


ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মনিরুজ্জামান বলেন, “ভেজাল সার কৃষি উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের এই নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।” কৃষকদের কোনো সন্দেহজনক সার বিক্রি হতে দেখলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।


এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমদাদুল হকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে গ্লোবাল উইনার গ্রুপের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্ট' এর তিন দিনব্যাপী প্রথম বর্ষপূর্তি সম্মেলন ও উদযাপন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায়  কক্সবাজারের একটি ফাইভ স্টার হোটেল থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি লাবণী বিচ পর্যন্ত গিয়ে সেখানে দ্বিতীয় দিনের উদযাপন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেখানে খেলাধুলা ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 


এর আগে শুক্রবার কক্সবাজারের ওই হোটেলে বর্ষপূর্তির প্রথম দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। 


সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইব্রাহিম খলিল, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ফেরদৌসুর রহমান রুমীসহ মূল ৮ জন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা, সম্মানিত পার্টনার এবং শেয়ারহোল্ডারগণ। 


অনুষ্ঠানটিকে আরও মহিমান্বিত করেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ; এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ‘নওরোজ’ পত্রিকার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি। 


তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের মধ্যে ছিল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত স্পেশাল মার্কেটিং ট্রেনিং।


আধুনিক বিপণন কৌশল ও পেশাগত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ সেশনটি পরিচালনা করেন দেশের জনপ্রিয় লার্নিং প্ল্যাটফর্ম স্কিলস রাইডার’ (Skills Rider)-এর ফাউন্ডার ও এমডি রাশেদুল ইসলাম।


সম্মেলনে প্রজেক্টের ভবিষ্যৎ মেগা পরিকল্পনা তুলে ধরে উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে ১৭ একর জমিতে বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।


পর্যায়ক্রমে জমি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রজেক্টটিকে মোট ২০০০ একর জমিতে বিস্তৃত করার এক বিশাল মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের পরিবেশবান্ধব এগ্রো-ট্যুরিজমে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের সুবিধার্থে অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কিছু শেয়ার প্যাকেজ উন্মোচন করা হয়। একই সাথে, যেসকল বিনিয়োগকারী সফলভাবে তাঁদের বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছেন, অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদান রাখায় সেরা পারফর্মকারী প্রতিনিধিদের বেস্ট মার্কেটার’ সম্মাননা ও বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।


সম্মেলনের সমাপনী দিনে সফল পার্টনারদের মাঝে সম্মাননা স্মারক বিতরণ এবং এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে ৩ দিনব্যাপী এই স্মরণীয় উদযাপনের সফল সমাপ্তি ঘটে।


প্রতিমন্ত্রী টুকু

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 


তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে একাধিক পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সে লক্ষ্যেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।


আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিড-ডে মিল একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।




তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা পরে ডিগ্রি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি কার্যক্রমও চালু করেছে। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে সব পর্যায়েই হবে।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কোনোভাবেই টাঙ্গাইলে মাদক চলতে দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। যে মাদক যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।


তিনি বলেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অনেক পরিবার ধান, জমি কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করেও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করে। সেই সন্তান যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিবারের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী মাদক, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে মনোযোগসহকারে লেখাপড়া করার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফুর রহমান মতিন, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান মোল্লা বক্তব্য রাখেন।


বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।


অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, মিড-ডে মিল কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশিত খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।


এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় হোটেল ব্লু পেয়ার এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল আল ইউসুফ খান টিপু।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম মারুফ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুজিবুর রহমান। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম স্বপন, সাংবাদিক এস এম শাহাদাত, পল্লী চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম দুলাল, জাকির হোসেন জুয়েল সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং পল্লী চিকিৎসকরা।


বক্তারা বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার এবং জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। সম্মেলনে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, পল্লী চিকিৎসকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।




  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

নওগাঁর পোরশায় বিষধর সাপের কামড়ে ফৌজিয়া বেগম (৪৬) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ধুলাডাঙ্গা গ্রামের ওসমান আলীর স্ত্রী।


নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে তেঁতুলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ফৌজিয়া বেগম তার শোবার ঘরের মেঝেতে জোহরের নামাজ শেষে জায়নামাজের উপর ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তার ছেলের বউ তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এসময় সেখানে থাকা একটি বিষধর সাপ তাকে ছোবল দেয়। বাড়ির লোকজন সাথে সাথেই তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেন। 


সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৬ পিএম

সিলেটের জৈন্তাপুরে জনসভা শেষ করে নগরীতে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বহন কারীতে গাড়িতে হামলা ও ঢিল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দলটির আহবায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে একটি ভিডিও সহ পোস্ট দেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। 


তিনি লিখেন, ‘তারেক রহমান, আমাকে রক্তাক্ত করে আপনি একটি ভয়াবহ ভুল করেছেন। আপনি সন্ত্রাসের পথে গেলেন। জৈন্তাপুর পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে…’ এরপর রাত ১১টা ১১ মিনিটে একই ভিডিওসহ পোস্ট দেন নাহিদ ইসলাম। 


তিনি লিখেন, ‘সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন আহত হন।’দুটি পোস্টেই চলতি গাড়ির ভিতর থেকে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে গাড়ির কাঁচ ভাঙা দেখা যায় এবং গাড়ির অভ্যন্তরে দুইজন ব্যক্তির রক্তাক্ত হাত দেখা যায়। তবে কারো চেহারা দেখা যায়নি। 


এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় তাদের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এনসিপির গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ পুলিশ প্রটোকলের মধ্যে তাদের গাড়িগুলো উপজেলার শেষ সীমানায় পার্শ্ববর্তী থানার প্রটোকলে তুলে দিয়ে এসেছি। এ সময় যদি তাদের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটতো, তাহলে তারা অবশ্যই আমাদের অবগত করতেন কিংবা গাড়ি হাসপাতালে নেয়ার জন্য থামাতেন। কিন্তু সেরকম কিছু ঘটেনি।’


এদিকে,সিলেটের জৈন্তাপুরে জনসভা শেষে নগরীতে ফেরার পথে হরিপুর এলাকায় এনসিপির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ২জন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে পুলিশ। 


জৈন্তাপুর থেকে নগরীতে ফিরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আজকে আমাদের তিনটি প্রোগ্রাম ছিল। স্টেজ থেকে নেমে গাড়ি কয়েক মিনিট ক্রস করার পর বিকট একটি শব্দ হয়। আমাদের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গিয়েছে, বড় একটি ইট পড়েছে, আমার হাতে ইটের আঘাতের দাগ আছে। মাথায় পড়লে মাথা ফাটতো নিশ্চিত।’ তিনি বলেন, “আজকে ইশরাক উস্কানি দিয়েছেন, রাশেদ খান উস্কানি দিয়েছেন। আমি জীবন নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি, আমি নিরাপদ নয়। তবে আমি দলকে বলে দিয়েছি যে তারেক রহমান আজকে রাজনৈতিক ভাবে একটি মস্তবড় ভুল করেছেন।’ 


তিনি আরো বলেন, “শেখ হাসিনা আমাদের রিমাণ্ডে নিয়েছিলো। তাকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়েছি। তারেক রহমান আপনি মস্তবড় ভুল করেছেন, এজন্য আপনাকে কাফফারা দিতে হবে। এমন কাফফারা যা আপনি এক্সপেক্ট করবেন না। আপনি আমাকে পার্সোনাল রক্ত ঝরিয়েছেন। আপনি আমার বয়সে বড়, ছোট ভাইয়ের রক্ত প্রতিশোধ নিবে। আপনার থেকে আমি পার্সোনালি রক্তের প্রতিশোধ নিবো।’


“যার আসনে গিয়েছিলাম, তাকে বলেছিলাম, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সালাউদ্দিন সাহেবকে বলেছিলাম নিরাপত্তার শঙ্কার কথা, তিনি বলেছেন যে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না। ঠিক আছে, মারা যাবো।" 


পুলিশের অস্বীকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার পিছনে এএসপির গাড়ি ছিল, সামনে পুলিশের গাড়ি ছিল। পাশে মোটরকেড ছিল। এখনো গাড়ি ভাঙা আছে, ইট আছে, আঘাত আছে। আমরা আশা করবো যে পুলিশ ভাইয়েরা তাদের চরিত্র পরিবর্তন করবে। আমরা এসপিকে জানিয়েছি, পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আদালতে বা কোথাও যাবো না, এটাকে পার্সোনালি নিলাম।’