মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন
ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দা হান্ড্রেডে নিলামের প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছেন বাংলাদেশের দুই জন ক্রিকেটার। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে তালিকায় আছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। নিলামের জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন মোট ৭১০ ক্রিকেটার। বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন করেছিলেন ২৩ জন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চাহিদার কথা বিবেচনায় চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ২৪৭ জন।
প্রাথমিক তালিকা দেওয়ার পরই জানা গিয়েছিল, এক লাখ পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে আছেন মুস্তাফিজ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যে রিশাদ।
প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দলে নিতে আগ্রহী খেলোয়াড়দের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। আট ফ্র্যাঞ্চাইজির আগ্রহের ভিত্তিতে করা হয়েছে চূড়ান্ত তালিকা।
ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, নাম নিবন্ধন করা পাকিস্তানের ৬৩ ক্রিকেটারের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে নিলামের ১০ মার্কি খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন হারিস রউফ।
চূড়ান্ত তালিকায় থাকা পাকিস্তানের অন্যরা হলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান তারিক, সাইম আইয়ুব, আবরার আহমেদ, মোহাম্মদ নাওয়াজ, নাসিম শাহ, মোহাম্মদ আমির, জামান খান, উসামা মির, ইমাদ ওয়াসিম, আকিফ জাভেদ ও সালমান মির্জা।
গত সপ্তাহে এই লিগে খেলার আশা প্রকাশ করা পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি। পাকিস্তান চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠতে না পারলেও, ব্যাট হাতে বেশ ভালো করেন ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। ছয় ইনিংসে ৩৮৩ রান করে সুপার এইট পর্যন্ত তিনি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি।
দা হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার ব্যাপারটি উঠে আসে সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদনে। সেখানে তুলে ধরা হয়, ক্রিকেটারদের এজেন্টদেরকে জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নেওয়া হবে না।
দা হান্ড্রেডের আট ফ্র্যাঞ্চাইজির চারটিই ভারতীয় মালিকানাধীন।
১০ মার্কি খেলোয়াড়ের তালিকায় ইংলিশ ক্রিকেটার পাঁচ জন- জনি বেয়ারস্টো, আদিল রাশিদ, জেমস ভিন্স, জর্ডান কক্স ও জো রুট। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এই তালিকায় রউফের সঙ্গে আছেন এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, সুনিল নারাইন ও ড্যারিল মিচেল।
নিলাম হবে আগামী ১২ মার্চ লন্ডনে। আর এই বছরের ২১ জুলাই থেকে ১৬ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে টুর্নামেন্ট।
রোনালদো–জর্জিনা
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।
এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।
আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।
সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’
গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।
ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’
এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’
‘ভুল ব্যক্তি’
গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।
চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত
নেইমার
ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে এক তরুণ ফুটবলারের অভিষেক হয়। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ১৮ বছরের সেই তরুণ সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে নেন অনন্য উচ্চতায়। হলুদ জার্সিতে নানান গল্প লিখে হয়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।
১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন, আর কখনও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবেন না। নিউইয়র্কের যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একই মাঠে তাঁর শেষ। অর্থাৎ শুরু আর শেষের গল্প একই। মাঝে ফুটবলে এমন কিছু করেছেন নেইমার, যা ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে নেই ব্যালন ডি’অর, নেই বিশ্বকাপ, নেই কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের জার্সিতে শুধু জিতেছেন ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ।
অবসরের ইঙ্গিতটা বিশ্বকাপের সময়ই দিয়েছিলেন নেইমার। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে বুট জোড়া তুলে রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। গতকাল ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।’ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান ঘটল এবং দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন থেকে তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার দক্ষতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক।
নিজ ক্লাব সান্তোসেও খুব একটা ভালো নেই নেইমার। ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বিবাদের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেইমার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি বলেছেন, আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে হবে।
তবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দাবি করেন, বিভাজন তৈরি করার জন্য একটি ‘কুচক্রী’ মহল এই মিথ্যা কাহিনি বানিয়েছে, ‘বিষয়টি দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। তবে এতে আমার কোনো দোষ নেই। এ ধরনের খবর অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি কথা বলেছিলাম, আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমরা এতটা গাফিলতি মেনে নিতে পারি না। চ্যাপেকোয়েনসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে ড্র উপহার দেওয়া যায় না। আমি শুধু এতটুকুই বলেছিলাম।’