• প্রকাশ : শনিবার ১১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪০ এএম

অনেক কারণেই ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায় হয়ে উঠেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দলের অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে যৌথভাবে তিন আয়োজক দেশ ৩৯ দিনের এ টুর্নামেন্টকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো আসর করে তুলেছে। তবে কেবল জাঁকজমকই নয়, মাঠে দর্শকদের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য ও খেলোয়াড়দের জন্য খেলাকে আধুনিক করতে এবার প্রযুক্তির অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ।


বিশ্বকাপে প্রযুক্তি নতুন চমকগুলো নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। সেখানে একটু নজর বুলানো যাক-



১. সেন্সরওয়ালা অফিশিয়াল বল


এ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রায়োন্ডা’। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ ‘তিন তরঙ্গ’। অ্যাডিডাসের তৈরি এ বলটির বিশেষত্ব হচ্ছে এ বলের ভেতরে বসানো হয়েছে নিখুঁত ও ক্ষুদ্র ‘ইনারশিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট’ বা আইএমইউ সেন্সর চিপ।


চিপটি বলের প্রতিটি নড়াচড়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তথ্য সরবরাহ করে। সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে, যা ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি অবস্থানে বলের গতি ও সূক্ষ্ম বিভিন্ন ঘূর্ণনকে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে।


এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, “প্রযুক্তিটি রিয়াল-টাইম বা লাইভে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর সিস্টেমে একদম সঠিক ডেটা পাঠাবে। ফলে অফসাইডের মতো জটিল বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।”


ফিফার ‘হেড অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস’ নিকোলাস এভান্স বলেছেন, সেন্সরটি জানাবে ‘থ্রিডি অবস্থানে বলটি ঠিক এই মুহূর্তে কী করছে’।


২. এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার


প্রযুক্তির ছোঁয়া কেবল ম্যাচ বলেই আটকে নেই, এর বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন খোদ খেলোয়াড়রাও। পার্সোনাল কম্পিউটার নির্মাণে বিশ্বে বৃহত্তম কোম্পানি ‘লেনোভো’র সঙ্গে ফিফার অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বছরের শুরুতে এআইচালিত বেশ কিছু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার।


এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রত্যেক খেলোয়াড়ের দেহ ডিজিটালি স্ক্যান করে নিখুঁত এক থ্রিডি মডেল বা অ্যাভাটার তৈরি হবে। প্রতিটি স্ক্যান সম্পন্ন করতে সময় লাগবে কেবল এক সেকেন্ডের মতো।


ফিফার ভাষ্য অনুসারে, এ স্ক্যান খেলোয়াড়দের দেহের প্রতিটি অংশের নিখুঁত পরিমাপ ধারণ করবে। ফলে মাঠে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলা বা অন্য খেলোয়াড়দের আড়ালে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তেও সিস্টেমটি খেলোয়াড়দের অবস্থান নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে পারবে।


জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা বলেছিল, “সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার এক যুগান্তকারী উন্নয়ন।


“ভিএআর সিস্টেমের মাধ্যমে নেওয়া অফসাইডের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক ও বিশ্বজুড়ে থাকা টেলিভিশন দর্শকদের সামনে আরও বাস্তবসম্মত উপায়ে দেখাতে এসব থ্রিডি মডেল ব্রডকাস্ট বা সরাসরি সম্প্রচারে যোগ হবে।”


বিশ্বের বড় বড় ফুটবল লিগগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর এবার বিশ্বকাপের সবকটি (১০৪টি) ম্যাচেই রেফারিদের দেহে বিশেষ ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দর্শকরা একদম মাঠের ভেতরে থাকা রেফারির চোখ দিয়ে খেলা দেখার মতো এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।


৩. রোবট কুকুর


বিশ্বকাপের সময় যে কোনো ধরনের অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মেক্সিকান পুলিশ এবার কুকুরের ওপর ভরসা রাখছে। তবে তা কোনো সাধারণ চারপেয় জীব নয়, বরং যান্ত্রিক বা রোবট কুকুর!


চার পায়ের এসব রোবটকে যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে তা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পাঠাবে এসব রোবট, যা দেখে মাঠের পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।


মেক্সিকোর মন্তেরেই মেট্রো অঞ্চলের গুয়াদালুপে সিটি কাউন্সিল প্রায় ২৫ লাখ পেসো বা ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ব্যয়ে এসব অ্যানিম্যালয়েড বা প্রাণীর মতো দেখতে রোবট সংগ্রহ করেছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় মেয়র হেক্টর গার্সিয়া বলেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাঠে ‘যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে’ এগুলো মোতায়েন হবে।


“এসব রোবট কুকুরের মূল উদ্দেশ্য হল, প্রাথমিক হস্তক্ষেপে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তা ও মাঠকর্মীদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


৪. উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি


লাইন্সম্যানের দেরিতে অফসাইড ফ্ল্যাগ তোলার কারণে যারা বিরক্ত হন তাদের সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ফিফা এবার আরও উন্নত ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’ চালু করেছে, যা মাঠের অফিশিয়ালদের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।


আগের সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিটি রিয়াল-টাইমে অফসাইড শনাক্তের জন্য ডিজাইন করা হলেও কোনো খেলোয়াড় কেবল ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইডে থাকলেই তা অফিশিয়ালদের সতর্ক করত।


তবে এর নতুন ও পরিমার্জিত সংস্করণে কেবল ১০ সেন্টিমিটার বা তার কাছাকাছি অফসাইড হলেও সিস্টেমটি সংকেত দেয়, যা ম্যাচ অফিশিয়ালদের আরও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।


এ ছাড়া, ভিএআর রুম থেকে যোগাযোগের অপেক্ষা না করে এবার মাঠের রেফারিরা সরাসরি তাদের ইয়ারপিস বা হেডফোনে রিয়াল-টাইম অডিও অ্যালার্ট পেয়ে যাবেন।


তবে এ প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রযুক্তিটি কেবল খেলোয়াড়ের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে অফসাইড ধরতে পারবে, কোনো সাবজেক্টিভ বা পরিস্থিতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।


পাশাপাশি একদম কাছাকাছি থাকা সূক্ষ্মতম বিভিন্ন কলও আলাদা করতে পারবে না। কোনো খেলোয়াড় মাঠের খেলায় বাধা বা হস্তক্ষেপ করছিলেন কি না তা এ প্রযুক্তি বিচার করতে পারবে না। খেলোয়াড়রা মাটিতে পড়ে থাকলে বা একাধিক শরীর খুব কাছাকাছি ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকলেও প্রযুক্তিটি অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হতে পারে।


এরপরও ফিফার দাবি, নতুন প্রযুক্তি দর্শক ও খেলোয়াড়দের বিরক্তি কমানোর পাশাপাশি অফসাইড থাকার পরও অপ্রয়োজনে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের চোট বা ইনজুরির ঝুঁকিও অনেকখানি কমিয়ে আনছে।


৫. ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি


খেলোয়াড়দের দেহের সুস্থতা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ফিফা এবার বিশ্বকাপের প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের নির্ধারিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি চালু করেছে।


এর জন্য আবহাওয়া বা তাপমাত্রার কোনো বাধ্যবাধকতা বা শর্ত থাকবে না। প্রতি অর্দ্ধের মাঝামাঝি সময়ে বা ২২তম মিনিটের কাছাকাছি এই বিরতি দেওয়া হচ্ছে।


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইউএসএ’র চিফ টুর্নামেন্ট অফিসার মানোলো জুবিবিয়া বলেছেন, “যে কোনো ম্যাচের জন্যই এটা প্রযোজ্য। খেলা যেখানেই হোক না কেন, স্টেডিয়ামে ছাদ থাকুক বা না থাকুক বা তাপমাত্রা যেমনই হোক উভয় অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক থাকবে। রেফারির বাঁশি বাজার পর থেকে আবার খেলা শুরু হওয়া পর্যন্ত পুরো তিন মিনিট সময় দেওয়া হবে।


“অবশ্যই, যদি ২০ বা ২১তম মিনিটে মাঠে কোনো খেলোয়াড় চোট পান ও তার চিকিৎসা চলতে থাকে তবে রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই অনুসোর বিরতির সময় সমন্বয় করবেন।”


তবে পানি পানের বিরতি বা হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে খুব।



সর্বশেষ সব খবর

মোবাইল ফোনের দাম বাড়ছে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২৭ পিএম

নতুন স্মার্টফোনের দাম কেবল মেমোরি চিপ বা র‌্যামের আকাশচুম্বী দামের কারণেই বাড়ছে না, এর পেছনে যোগ হচ্ছে নতুন আরেক ধাক্কা। চিপ নির্মাতা কোম্পানি কোয়ালকম তাদের সব ধরনের প্রসেসরের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট ভার্জ।


সিএনবিসির এক প্রতিবেদন বলছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কোয়ালকমের সব ডিভাইসের দাম বাড়ছে বলে বুধবার নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্তিয়ানো আমন।


দাম কতটা বাড়তে পারে তা নিয়ে নির্দিষ্ট অংক না জানালেও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাম বৃদ্ধি হতে পারে ‘দুই ডিজিটের শতাংশে’, মানে ১০ শতাংশের বেশি।


চলতি প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের পরই দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দিল কোয়ালকম। কোম্পানিটি বলেছে, তাদের হ্যান্ডসেট ব্যবসা থেকে আয় বছরে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন।


আয় কমার পেছনে প্রধান কারণ মেমোরি চিপ বা র‌্যামের দামবৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকট। এ ঘাটতির কারণে এরইমধ্যে গেইমিং কনসোল, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে ‘রাসবেরি পাই’ বোর্ডের মতো সব ডিভাইসের দামই ঊর্ধ্বমুখী।


এ পরিস্থিতির কারণে নিজেদের মুনাফায় কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় কোয়ালকম। মেমোরি সংকটের কারণে তৈরি ক্ষতি পোষাতেই তারা এবার নিজস্ব প্রসেসরের দাম বাড়াতে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ক্রেতাদের ওপর।


অ্যাপল পণ্য থেকেও কোয়ালকমের আয় কমার হার আরও বাড়তে যাচ্ছে। কোম্পানিটি বলেছে, আসন্ন আইফোন সংস্করণে তাদের মডেম চিপ সরবরাহের পার্টনারশিপ ‘ব্যাপকহারে কমে যেতে পারে’। তবে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় তারা দু’বার জোর দিয়ে বলেছে, অন্যান্য খাত থেকে আসা আয় দিয়ে এ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।


স্মার্টফোন খাত থেকে আয় কমতে থাকায় কোয়ালকম এখন ব্যবসা প্রসারে বহুমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। হ্যান্ডসেটের পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও অটোমোটিভ বা গাড়ি শিল্পকে তারা নিজেদের ব্যবসার মূল তিনটি স্তম্ভ বানাতে চায়।


কোয়ালকম বলেছে, খুব শিগগিরই তাদের আয়ের কেবল অর্ধেক আসবে ফোন থেকে। আর নতুন এই দুটি ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকায় ২০২৯ সালের মধ্যে ফোন খাত থেকে আসা আয়ের পরিমাণ নেমে আসবে কেবল এক-তৃতীয়াংশে।


এ লক্ষ্য পূরণে বড় পদক্ষেপে এরইমধ্যে সাফল্য এসেছে। জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিএমডব্লিউ-এর গাড়িতে চিপ সরবরাহের জন্য বুধবার ১০ বছর মেয়াদি এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে কোয়ালকম। এদিকে, চিপের দামবৃদ্ধির কারণে স্মার্টফোন নির্মাতা বিভিন্ন কোম্পানির কৌশলও বদলে যাচ্ছে।


কোয়ালকমের শীর্ষ কর্মকর্তা আকাশ পালকিওয়ালা বলেছেন, বাড়তি খরচ সামাল দিতে কিছু মূল পার্টস নির্মাতা কোম্পানি তাদের নতুন ডিভাইসে আধুনিক চিপের বদলে ‘আগের প্রজন্মের’ কোয়ালকম প্রসেসর ব্যবহার শুরু করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সার্চ সুবিধা এআই মোডে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিভিন্ন অ্যাপ যুক্ত করার সুযোগ চালু করেছে গুগল। নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি অ্যাপের লিংক গুগলের এআই মোডের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে ব্যবহারকারীরা এআই মোড থেকেই বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে কেনাকাটা, নকশা তৈরি বা গানের তালিকা সংরক্ষণের মতো কাজ করতে পারবেন।


গুগল জানিয়েছে, এআই মোড আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা তথ্য খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজও সম্পন্ন করতে পারবে। 


নতুন সুবিধা চালুর ফলে কেউ যদি বারবিকিউ আয়োজনের জন্য এআই মোডে বাজারের তালিকা তৈরি করেন, তবে ইনস্টাকার্ট থেকে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেনাকাটার ঝুড়িতে যুক্ত হবে। এরপর ইনস্টাকার্টের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে সহজে অর্ডার সম্পন্ন করা যাবে। আবার কোনো পোস্টার বা ফ্লায়ারের নকশা তৈরির জন্য ধারণা প্রয়োজন হলে এআই মোড ক্যানভায় থাকা উপযুক্ত টেমপ্লেট দেখাবে। একইভাবে কোনো অনুষ্ঠান বা পার্টির জন্য গানের তালিকা তৈরি করলে সেটি সরাসরি ইউটিউব মিউজিকে সংরক্ষণ করা যাবে।


গুগলের তথ্যমতে, নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে পরিকল্পনা, কেনাকাটাসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি এআই মোড ব্যবহার করবেন। একই সঙ্গে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ও অ্যানথ্রপিকের ক্লডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় গুগলের অবস্থান আরও শক্ত হবে। প্রাথমিকভাবে সুবিধাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন।


গুগল জানিয়েছে, প্রথম ধাপে এআই মোডে ইনস্টাকার্ট, ক্যানভা ও ইউটিউব অ্যাপ যুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এআই মোডে আরও অনেক অ্যাপ যুক্ত করা হবে। এ বছরের শুরুতে গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন গুগল আই/ওতে নিজেদের জেমিনি অ্যাপে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি অ্যাপ যুক্ত করার সুবিধা চালু করেছে গুগল। এবার একই ধরনের সুবিধা এআই মোডে সম্প্রসারণ করল প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

ফেসবুকে নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এত দিন মূলত পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অর্থের বিনিময়ে মেটা ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীদের জন্যই পরিচিত ছিল। তবে এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও একটি নতুন ভেরিফিকেশন সুবিধা চালু করছে মেটা।


প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফেসবুকে একটি নতুন ফেসবুক ভেরিফায়েড (Facebook Verified) ব্যাজ চালু করছে। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এবং এর উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছেন।


কী এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’?

নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ হলো এমন একটি পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। মেটা সেই ভিডিওটি অ্যাকাউন্টে থাকা বিদ্যমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে।


পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেটা।


কারা এই ব্যাজ পাবেন?

এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।


> ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।


> অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে।


> প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না।


> পরিচয় যাচাই সফল হতে হবে।


পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন - প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিং।


মেটা ভেরিফাইড (Meta Verified) থেকে এটি কীভাবে আলাদা?


অনেকেই ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ এবং ‘মেটা ভেরিফাইড’-কে একই বিষয় মনে করতে পারেন। কিন্তু দুটি সেবা এক নয়। মনে রাখবেন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এবং এতে অতিরিক্ত কোনো প্রিমিয়াম সুবিধা নেই।


মেটা ভেরিফাইডের ক্ষেত্রে মাসিক সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন, নীল টিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত গ্রাহক সহায়তা, পরিচয় চুরি থেকে সুরক্ষার মতো বাড়তি সুবিধা ও বিভিন্ন প্রিমিয়াম ফিচার পাওয়া যায়।


কেন এই উদ্যোগ?

মেটা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ভুয়া ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা যাচ্ছে। এসব ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে।


নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি কিনা। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি শুধু পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ।


মেটা জানিয়েছে, ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফিচারটি সম্প্রসারণ করা হবে। কোন কোন দেশে প্রথমে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।


এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অনলাইনে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সব সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিষয় : ফেসবুক

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ এএম

আইফোনের নতুন আপডেটে ‘লুকানো’ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ফিচার এসেছে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল।


এ সপ্তাহে আইওএসের নতুন বিটা সংস্করণ ‘আইওএস ২৬.৬’ প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। ব্লক করা কনট্যাক্টের সংখ্যা পরিবর্তনের সুবিধা ছাড়া এতে দৃশ্যমান বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আসতে যাওয়া অ্যাপলের বড় আপডেট ‘আইওএস ২৭’-এর জন্য আইফোনের ভিত তৈরি করতে পারে এ নতুন আপডেট।


এ সফটওয়্যার আপডেটটি ইনস্টলের পর ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রি-ইনডেক্সিং’ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বড় আপডেটের জন্য আইফোনকে প্রস্তুত করে তুলবে বলে প্রতিদবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।


আপডেটের বিবরণীতে অ্যাপল বলেছে, “এ আপডেটে সিস্টেমের ত্রুটি সংশোধন বা বাগ ফিক্স, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পরবর্তীতে আসতে যাওয়া আইওএস ২৭-এর প্রস্তুতি হিসেবে স্পটলাইট ইনডেক্সকে অপটিমাইজ করার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”


জুনে অ্যাপলের বার্ষিক সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্স’ বা ডব্লিউডব্লিউডিসি’তে উন্মোচিত হওয়া আইওএস ২৭ আগামী সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।


নতুন এ আইওএসে ভিজুয়াল ডিজাইনে পরিবর্তন আনা ও শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় নতুন বিভিন্ন টুল যোগের মতো বেশ কিছু আপডেট থাকছে। তবে এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে, ‘সিরি এআই’, যা অ্যাপলের ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহকারীকে এখানে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছে।


ডিজিটাল সহকারী হিসেবে সিরিকে আরও বেশি কার্যকর করে তুলতে এ নতুন সংস্করণে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়েছে অ্যাপল।


যেমন, কোনো ব্যবহারকারী যদি এক বছর আগে কোনো বন্ধুর সুপারিশ করা কোনো রেস্তোরাঁ সম্পর্কে জানতে চান, তবে নতুন সিরি আইফোনের পুরানো সব তথ্য বিশ্লেষণ করে সেই বার্তাটি খুঁজে বের করতে পারবে।


ব্যবহারকারী সরাসরি সেই নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার না করে ইঙ্গিত দিলেও বার্তাটি শনাক্ত করে সে অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সিরি।


নতুন ফিচারটি কার্যকর করতে ‘সিরি’র নতুন সংস্করণটিকে ফোনের সংরক্ষিত সব ডেটার একটি নতুন ‘ইনডেক্স’ বা তালিকা তৈরি করতে হবে। ফলে ছবি বা বার্তার মতো প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্যে এআইচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই অনুসন্ধান চালাবে নতুন সিরি।


আসন্ন আইওএস ২৭-এর প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা বলেছেন, ডেটা পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। ফলে ফোনের ব্যাটারি লাইফ ও পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি নতুন আপডেট ইনস্টলের পর বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত সিরির নতুন সংস্করণটি ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।


অ্যাপল বলেছে, আইফোন ব্যবহারকারীরা নতুন আপডেটটি ইনস্টলের পর এ পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে কাজ করবে। সেপ্টেম্বরে আপডেটটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই ডেটা রি-ইনডেক্সিংয়ের কাজ শেষ হবে এবং আপডেট ইনস্টলের পরই সিরির নতুন সংস্করণটি ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।


বর্তমানে আইওএস ২৬.৬ সংস্করণটি বিটা সংস্করণ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। খুব শিগগিরই তা ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, যা সেটিংসে গিয়ে সাধারণ সফটওয়্যার আপডেট হিসেবে ইনস্টল করে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।


গ্রীষ্মকালে অ্যাপল সাধারণত তাদের সফটওয়্যারে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনে। তবে বর্তমানে অ্যাপলের মূল মনোযোগ আগামী আইওএস ২৭ আপডেটের দিকেই। সেপ্টেম্বরের আগে বর্তমান সংস্করণে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।


এদিকে, অ্যাপলের আইওএস ২৭-এর পাবলিক বিটা সংস্করণ উন্মুক্তের প্রায় এক সপ্তাহ পর আইওএস ২৬.৬ প্রকাশ হল, অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা চাইলে নতুন এ সফটওয়্যারটির প্রাথমিক সংস্করণ এখনই ব্যবহার করতে পারবেন।


এক্ষেত্রে বিটা সংস্করণ হওয়ায় আপডেটটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিস্টেমে ত্রুটি বা বাগ থাকা, ফোনের পারফরম্যান্স ধীর হওয়া বা বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবায় জটিলতা তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছে অ্যাপল।

বিষয় : আইফোন

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ এএম

গুগলের পরবর্তী স্মার্টওয়াচ পিক্সেল ওয়াচ ৫ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের আগেই নতুন একটি তথ্য ফাঁস হয়েছে। এবার প্রকাশিত উচ্চ রেজল্যুশনের রেন্ডার ছবিতে স্মার্টওয়াচটির সম্ভাব্য নকশা, একাধিক রঙের সংস্করণ, নতুন ওয়াচ ফেস এবং স্ট্র্যাপের সমন্বয় দেখা গেছে। পাশাপাশি জানা গেছে, আগের মতো এবারও দুটি আকারে বাজারে আসতে পারে ডিভাইসটি। তবে দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।


ফাঁস হওয়া তথ্যটি প্রকাশ করেছে দ্য টাইট চার্ট নামের একটি ওয়েবসাইট। রেন্ডারগুলো শেয়ার করেছেন পরিচিত প্রযুক্তি টিপস্টার স্টিভ এইচ. ম্যাকফ্লাই, যিনি @OnLeaks নামে বেশি পরিচিত। অতীতে তার প্রকাশ করা অনেক তথ্যই পরবর্তীতে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।


চারটি রঙে আসতে পারে

ফাঁস হওয়া রেন্ডার অনুযায়ী, পিক্সেল ওয়াচ ৫ চারটি রঙে পাওয়া যেতে পারে। এগুলো হলো- কালো স্ট্র্যাপসহ, হালকা ধূসর স্ট্র্যাপসহ, অলিভ রঙের স্ট্র্যাপসহ, কোরাল রঙের স্ট্র্যাপসহ। তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ম গোল্ড রংটি আপাতত শুধু ৪১ মিলিমিটার সংস্করণে দেখা গেছে। তবে ভবিষ্যতে ৪৫ মিলিমিটার মডেলেও এই রং আসতে পারে।


ডিজাইনে বড় পরিবর্তন নেই

রেন্ডারগুলো থেকে বোঝা যায়, পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি গুগল। এটি অনেকটাই আগের পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর মতো দেখতে হবে। এতে থাকবে পরিচিত গম্বুজাকৃতির ডিসপ্লে, পাশে চার্জিং কনট্যাক্ট এবং গুগলের নিজস্ব ব্যান্ড সংযুক্তির ব্যবস্থা। এর অর্থ, আগের পিক্সেল ওয়াচের স্ট্র্যাপ নতুন মডেলেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে পুরোনো ব্যবহারকারীদের নতুন করে স্ট্র্যাপ কিনতে নাও হতে পারে।


নতুন ওয়াচ ফেসে থাকবে জেমিনি শর্টকাট

ফাঁস হওয়া ছবিতে একটি নতুন ওয়াচ ফেসও দেখা গেছে। এতে অ্যানালগ ঘড়ির ডায়াল, ঢেউখেলানো ব্যাকগ্রাউন্ড এবং জেমিনি এআই-এ দ্রুত প্রবেশের জন্য একটি আলাদা শর্টকাট রয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা হাতের কব্জি থেকেই দ্রুত গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহার করতে পারবেন।


দুটি আকার, দুটি সংযোগ সুবিধা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিক্সেল ওয়াচ ৫ আগের মতোই ৪১ মিলিমিটার ও ৪৫ মিলিমিটার এই দুই আকারে আসবে। প্রতিটি সংস্করণেই থাকবে দুটি সংযোগ সুবিধা- শুধু ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই + এলটিই। এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশন (ফিএসএস)-এর নথিতেও পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর চারটি মডেল নম্বর দেখা গেছে। সেখান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু মডেলে এলটিই, স্যাটেলাইট জরুরি এসওএস, আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (ইউডব্লিউবি) এবং ওয়াই-ফাই ৬-এর মতো আধুনিক সংযোগ প্রযুক্তি থাকবে।


বাড়তে পারে দাম

সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি হলো সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধি। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের তুলনায় পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর দাম প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। সম্ভাব্য দাম হতে পারে- ৪১ মিমি ওয়াই-ফাই ৩৯৯ ডলার, ৪৫ মিমি ওয়াই-ফাই ৪২৯ ডলার, ৪১ মিমি এলটিই ৪৯৯ ডলার, ৪৫ মিমি এলটিই ৫২৯ ডলার। তবে এগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।


কবে আসবে?

গুগল আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য মেড বাই গুগল ইভেন্টে পিক্সেল ওয়াচ ৫ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেই নতুন পিক্সেল স্মার্টফোনের পাশাপাশি এই স্মার্টওয়াচেরও ঘোষণা আসতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত সব তথ্যই ফাঁস হওয়া রেন্ডার ও বিভিন্ন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে, তবুও এগুলো থেকে ধারণা মিলছে গুগল এবার বড় ধরনের ডিজাইন পরিবর্তনের বদলে সফটওয়্যার, এআই সুবিধা এবং সংযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ এএম

হঠাৎ করেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন অনেক ব্যবহারকারী। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে সম্পূর্ণ অচল অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। মোবাইল অ্যাপে সমস্যা না থাকলেও ওয়েব ভার্সনে বার্তা পাঠানো, নিউজফিড দেখার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সমস্যা।


দুপুর ১টা ৪০-এর পর থেকেই অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে শুরু করেন। অনেকের ক্ষেত্রে ফেসবুক খুললেও নতুন পোস্ট লোড হচ্ছে না, আবার মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তা যাচ্ছে না বা দীর্ঘ সময় ধরে ‘সেন্ডিং’ দেখাচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। তবে এই সমস্যা ফেসবুক ওয়েব ভার্সনে দেখা যাচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সেবা বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বর্তমানে অনেক ছোট ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা, সংবাদমাধ্যম ও ফ্রিল্যান্সাররা ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক ঘণ্টার সমস্যাও তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ফেসবুক-মেসেঞ্জারের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে সাময়িক সমস্যা তৈরি হলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্যার কারণ বা সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের অপেক্ষা করা ছাড়া তেমন কোনো বিকল্প নেই।

সর্বশেষ সব খবর