আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধন
২৭তম রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আবারও মহান সাফল্যের সঙ্গে উদ্বোধন করা হয়েছে। মাইল এন্ড রোড, লন্ডন E1- রোববার ১৭ মে জেনেসিস সিনেমায় পূর্ণ দর্শক সমাগমের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
রৌদ্রোজ্জ্বল দিন এবং সত্যিকারের উৎসবমুখর পরিবেশে চলচ্চিত্রপ্রেমী, শিল্পী, অতিথি ও নির্মাতাদের এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। ডালিয়া রহমানের সৌজন্যে একই রকম লাল শাড়ি পরে অনেক নারীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় ও বর্ণিল করে তোলে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সৈয়দা সাইমা আহমেদ। ট্রেইনি পরিচালক সামির কামাল ও অমি খান এ বছরের উৎসবে তাদের অভিজ্ঞতার কথা দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
উৎসব পরিচালক মি. মোস্তফা কামাল সকল অতিথিকে স্বাগত জানান এবং রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দীর্ঘ ২৭ বছরের ইতিহাস ও যাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি আগামী পুরো সপ্তাহব্যাপী চলমান উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সোনালী পে-এর মি. খাজা মাসুম বিল্লাহ এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের BLOC-এর মি. রুপার্ট ড্যানরয়থার। অনুষ্ঠানে এ বছর প্রয়াত রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির ট্রাস্টি মিস জয়স্রী কবিরকেও স্মরণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান “আনন্দলোকে” দলীয়ভাবে পরিবেশন করা হয় এবং পুরো দর্শকও গানে অংশগ্রহণ করেন, যা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “আগন্তুক” প্রদর্শনের মাধ্যমে।
সফল এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে, রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব লন্ডনে বহুসাংস্কৃতিক চলচ্চিত্র, শিল্পচর্চা এবং কমিউনিটি সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২৭তম এবারের এই উৎসবে প্রায় দশটি দেশের ৪০ টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, সাউথ কোরিয়া, কিরগিজস্তান, তাজাকিস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া, চীন, ইরান, আরমেনিয়া এবং ইউক্রেন।
চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে তা হলো- আগন্তুক,নয়া মানুষ,উড়াল,নয়া নোট,দ্য স্টোরি অফ এ রক (বাংলা) ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাংখারপুল’ (বাংলা)।
ভারতের বাংলা সিনেমাগুলো হলো- যত কাণ্ড কলকাতায়,গৃহপ্রবেশ,স্বার্থপর,অংক কি কঠিন,রাগু ডাকাত এবং বিজয় নগরীর হীরে। এছাড়া ইরানের ‘They loved me,Gageriev, He does not sleep, Whispar my name, রাশিয়ার -The Mystery of black hand, চায়নার -The shore of life, সাউথ কোরিয়ার- Drained by dream, কিরগিজস্তানের -Zhara’ এবং ‘KURAK,তাজাকিস্তানের -Mohi Dar,ফিলিপাইনের -Republika ng Pipolipinas এছাড়া থাকছে অনেকগুলো শর্ট ফিল্ম। প্রতিটি সিনেমায় ইংলিশ সাব টাইটেল থাকবে।
সোমবার ১৮ই মে থেকে ২৩শে মে শনিবার পর্যন্ত এই উৎসব চলবে মাইল্যান্ডে অবস্থিত কুইনমারি ইউনিভার্সিটির আর্টস ওয়ান বিল্ডিংয়ের ‘ব্লক’ হলে। প্রতিদিন দুটি করে সিনেমা প্রদর্শিত হবে বিকেল চারটায় এবং সাড়ে পাঁচটায়।
২৩শে মে সমাপনী দিনে কুইনমারি ইউনিভার্সিটির আর্টস ওয়ান ব্লিডিংয়ের 'ব্লক' হলে সন্ধ্যা ৬টায় ভারতীয় বাংলা সিনেমা 'স্বার্থপর' দর্শনীর বিনিময়ে দেখতে হবে, তবে
১৮ই মে থেকে ২৩শে মে (বিকাল চারটা) পর্যন্ত যে সকল চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে তাতে টিকেট লাগবেনা।
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। এখন থেকে কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা (কফিল) আকামা নবায়ন না করলে, সংশ্লিষ্ট কর্মী দ্রুত অন্য কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে সৌদি সরকার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ ঘোষণা দেন সৌদি আরবের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা। বৈঠকে সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরিও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতের শুরুতেই আল-ঈসা বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুখবর দেন। তিনি বলেন, এখন থেকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে বাংলাদেশী কর্মীদের কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করলে, দ্রুততম সময়ে অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উভয় দেশের শ্রম সহযোগিতা জোরদারকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহবান জানানো হয়।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা
পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান এবং গমনপূর্ব ওরিয়েন্টেশন প্রদানের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।
তাছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দক্ষ, উচ্চ-দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের নিয়োগ সহজতর করার লক্ষ্যে কারিগরি, ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট (ওয়ার্ক ভিসা) ও আকামা ইস্যু ও নবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয় এবং ওয়ার্ক পারমিটের বর্ধিত ফি-র দোহাই দিয়ে কিছু নিয়োগকর্তা যে বিলম্ব ঘটাচ্ছে, তা সমাধানে সৌদি সরকারের সহযোগিতার আবেদন করা হয়।
সৌদি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশী কর্মীরা সৌদি আরবের সার্বিক উন্নয়নে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এসময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় বেশ পারদর্শী; তাই তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি বিশেষভাবে আহবান জানান।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্ধিত কর্মী চাহিদায় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ শ্রমিক গ্রহণের আহবান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে গমনকারী নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবের সফর জেলে আটক থাকা বাংলাদেশী কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার আহবান জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবনার জবাবে আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম এবং ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সফর জেলে আটক বাংলাদেশী কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হলে তাদের ক্ষমার বিষয়টি নিয়ে সৌদি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের কুলিম জেলার একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থলে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১২৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। আটক অভিবাসীদের মধ্যে ১০০ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় পরিচালিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের ২০ সদস্যের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দল অংশ নেয়। গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন জানান, অভিযানে মোট ১৫৯ জনের পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং ১২৯ জন বিদেশি ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১২৯ অভিবাসীকেই আটক করা হয়।
আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি বা ওয়ার্ক পাস না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান (ওভারস্টে) এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশি, ১১ জন পাকিস্তানি, ১০ জন ইন্দোনেশীয় এবং আটজন মিয়ানমারের নাগরিক।
ইমিগ্রেশন পরিচালক জানান, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন অবৈধ অভিবাসী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নির্মাণাধীন ভবনের উঁচু অংশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তবে অভিযানকারী সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সবাইকে আটক করা সম্ভব হয়।
মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। পরবর্তী তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাগজপত্র ও কর্মঅনুমতিবিহীন বিদেশি কর্মী নিয়োগ বা আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনদিনের মালয়েশিয়া সফরের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে একাধিকবার ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য হবে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমিয়ে আনা। এজন্য বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় আসা শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, সরকার শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বদ্ধপরিকর। সাধারণ কর্মীরা যেন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতেও দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলমান আলোচনা শুধু নতুন কর্মী পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যোগ্য কর্মীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা অযৌক্তিক খরচ বা দালালচক্রের হয়রানির শিকার হবেন না।
এসময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর ফল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গুলিতে রুহুল আমিন নাসির নামের এক বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে ব্রুকলিনের অ্যবার্ন প্ল্যাস ও ফোর্ট গ্রিনের কাছে নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভেনিউয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ বলছে, সেখানে যাত্রী নামাচ্ছিলেন ৫৩ বছর বয়সি নাসির। এসময় তার ট্যাক্সিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আরেকটি গাড়ি। তাতে ট্যাক্সির বড় ক্ষতি হয়েছে কি না তা দেখতে নামেন নাসির। এসময় ধাক্কা দেওয়া গাড়ির চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান ট্যাক্সি থেকে নামা যাত্রী। তখন তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন নাসির। এ সময় পাশের বাসা থেকে আসা এক ব্যক্তি অতর্কিতে গুলি চালালে তা নাসিরের মুখমুণ্ডলের ডানপাশে বিদ্ধ হয়।
আহতের বন্ধু শাহ আলম শনিবার সন্ধ্যায় জানান, নাসিরকে ঘটনাস্থল সংলগ্ন নিউ ইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার দুদফা অস্ত্রোপচার হয়েছে।
পুলিশ বলছে, নাসিরের শারীরিক অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত।
‘প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি’তে একসময় সেক্রেটারি ছিলেন নাসির।
সংগঠনটির উপদেষ্টা শাহ আলম বলেন, “আমরা হাসপাতালে খোঁজ-খবর রাখছি। তবে একদিন পার হলেও বন্দুকধারী গ্রেপ্তার না হওয়ায় কমিউনিটিতে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।”
নিউইয়র্ক সিটিতে কর্মরত অবস্থায় ট্যাক্সি চালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভারসের মুখপাত্র ফার্নান্দো ম্যাতিও বলেন, “জীবিকার তাগিদে ট্যাক্সি ড্রাইভাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। বন্দুকধারী দুর্বৃত্তরা আক্রমণ চালিয়ে নির্বিঘ্নে কেটে পড়ছে। শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির অবসানে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।”
নিউ ইয়র্কের প্রতিটি ট্যাক্সিতে ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যাতে চালকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়।”
ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, নাসিরের ওপর আক্রমণ গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্বরত চালকের ওপর দ্বিতীয় গুলির ঘটনা। কয়েকদিন আগে ব্রুকলিনে পাকিস্তানি চালক দ্যানিশ সারওয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে প্যারালাইজড হন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের কলচেস্টারের সাগরে জোয়ারের পানিতে ডুবে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তার ১৫ বছর বয়সী কন্যা। সামার হলিডে বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাগরপাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই মারাত্মক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইউকে (যুক্তরাজ্য) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুজন হলেন যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা ডা. মনসুর রহমানের স্ত্রী এবং তাদের ১৫ বছরের কিশোরী কন্যা। নিহত ওই নারী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেটের ছাতক উপজেলার অধিবাসী মুজিবুর রহমানের কন্যা। আর ডা. মনসুর রহমান সিলেটের বিশিষ্ট বিএনপি নেতা শেখ মখন মিয়ার সন্তান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্র সৈকতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তারা সবাই আনন্দমুখর পরিবেশে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ সাগরের প্রচণ্ড স্রোত এসে পরিবারের ছোট একটি শিশুকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। অবোধ শিশুটিকে উদ্ধারের আকুল চেষ্টায় পানিতে ঝাঁপ দেন মা ও তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচাতে পারলেও উত্তাল জোয়ারের টানে তলিয়ে গিয়ে দুজনেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার সময় সৈকতে উপস্থিত থাকা শোকস্তব্ধ পিতা মুজিবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত আর কিছু বলতে পারেননি। এই ঘটনায় গুরুতর আহত পরিবারের অন্য সদস্যদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে দ্রুত লন্ডনের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে যুক্তরাজ্যের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কলচেস্টারের ওয়েস্ট মার্সিতে একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ জনগণকে আপাতত সিভিউ অ্যাভিনিউ এবং এর সংলগ্ন সৈকত এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে দীর্ঘক্ষণ ধরে এইচএম কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) জানিয়েছে, সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়েস্ট মার্সির ইনশোর লাইফবোটের পাশাপাশি ক্লাক্টন-অন-সি কেন্দ্রের দুটি বিশেষ লাইফবোট অবিলম্বে সাগরে নামানো হয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই পরিবারের আরও এক সদস্য। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- নিহতরা হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং তাদের ৫ বছর বয়সী কন্যা সন্তান। তাদের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। হামলায় নিহত কামাল হোসেনের ১৮ বছর বয়সী ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
ইতালির সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়েই রোম পুলিশের বিশেষ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছেন। তবে কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি প্রশাসন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চিরুনি অভিযান ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।